রমজান মাসে রোজা পালন ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম। এই পবিত্র মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার ও কামাচার থেকে বিরত থাকা ফরজ। কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর সহবাসের মতো সংশয়জনক বিষয়ে অনেকেরই প্রশ্ন জাগে: সহবাস করলে কি রোজা ভেঙে যায়? শরিয়তের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আসুন জেনে নিই।
কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা
পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন, *“রমজানের রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করা হালাল করা হয়েছে।”* এ আয়াত দ্বারা স্পষ্ট যে, রোজার দিনে সহবাস নিষিদ্ধ, তবে রাতের বেলা তা বৈধ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসে এ নিষেধাজ্ঞার পরিণতি বর্ণিত হয়েছে। সাহল ইবনে সাদ (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি রোজা অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করলে রাসুল (সা.) তাকে প্রথমে একজন দাস মুক্ত করার, অতঃপর দুই মাস সিয়াম পালনের এবং যদি সেটিও না পারে তবে ৬০ জন মিসকিনকে খাওয়ানোর নির্দেশ দেন (বুখারি: ১৯৩৬, মুসলিম: ১১১১)। এ থেকে প্রতীয়মান হয়, ইচ্ছাকৃত সহবাস রোজা ভঙ্গের পাশাপাশি কাফফারার কারণ হয়।
ফিকহি বিধান ও করণীয়
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃত সহবাস করলে রোজা ভঙ্গ হয় এবং এর জন্য কাজা (পরে রোজা পূরণ) ও কাফফারা আদায় করা আবশ্যক। কাফফারা হলো পর্যায়ক্রমে দাসমুক্তি, ৬০ দিন রোজা বা ৬০ জনকে খাদ্যদান। (বুখারি ১৯৩৬)
রমজানের রোজা আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের মাস। ইবাদতের এই সময়ে শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন থেকে বিরত থাকা ঈমানের দাবি। সহবাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধান মেনে চলা তাই অপরিহার্য। আল্লাহতায়ালা আমাদের তাঁর নির্দেশিত পথে চলার তওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক