আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ দেখবে, সে যেন তা নিজ হাতে প্রতিহত করে। যদি সে তা করতে না পারে, তাহলে যেন তার মুখ দিয়ে উপদেশ দিয়ে প্রতিহত করে। আর যদি তাও করতে না পারে, তা হলে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করে। আর এটিই হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর।’ (মুসলিম, ৪৯)
আমর বিল মারুফ (সৎ কাজের আদেশ) এবং নাহি আনিল মুনকার (অসৎ কাজে) বারণ ইসলামের এক মহান স্তম্ভ, এক মৌলিক ভিত্তি। এটি ইসলামের এমন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যার ওপর নির্ভর করে সমাজ-দেহের সুস্থতা ও পরিশুদ্ধি। ‘মুনকার’ (অসৎ কাজ) শব্দের অর্থ ঘৃণা করা। এখানে ‘মুনকার’ বলতে বোঝানো হয়, সেসব কথা, কাজ ও আচরণ, যা থেকে আল্লাহ ও তার রাসুল নিষেধ করেছেন। একে ‘মুনকার’ বা মন্দ বলা হয়।
কারণ, সুস্থ বিবেক ও পবিত্র প্রকৃতি একে ঘৃণা করে। আর ‘মারুফ’ শব্দের অর্থ জানা। আর এখানে মারুফ বলতে বোঝানো হয়েছে সেই সব কাজ, যা আল্লাহ ও তার রাসুল আদেশ করেছেন। একে ‘মারুফ’ বা উত্তম বলা হয়, কারণ সুস্থ বিবেক ও পবিত্র প্রকৃতি একে উত্তম বলে জানে।
আল্লাহতায়ালা বলেন, আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই তো সফলকাম। (সুরা আলে ইমরান, ১০৪)
আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মাহ, মানবজাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দেবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। (সুরা আলে ইমরান, ১১০)।
এই দায়িত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কারণেই তো বনি ইসরাইলের ওপর তাদের নবি দাউদ ও ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালামের মুখ দিয়ে অভিসম্পাত করা হয়েছিল।
আল্লাহতায়ালা বলেন, বনি ইসরাইলের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল, তাদের ওপর দাউদ ও ঈসা ইবনে মারইয়ামের মুখ দিয়ে অভিসম্পাত করা হয়েছিল। কারণ, তারা অবাধ্যতা করেছিল এবং সীমা লঙ্ঘন করত। তারা যে মন্দ কাজ করত, তা থেকে পরস্পরকে নিষেধ করত না। (সুরা মায়িদা, ৭৮-৭৯)
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক