ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্যারাগুয়ে ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে পরিবর্তনের আভাস ফ্রান্সে দাবদাহে ৬৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন ৪৬ বছর বয়সে ফুটবল পায়ে ফিরছেন রোনালদিনহো নারীর জীবনে ইমপোস্টার সিন্ড্রোমের প্রভাব ‘না’ বলার শক্তি: সীমা নির্ধারণেই মানসিক স্বাধীনতার শুরু শিক্ষামন্ত্রীর গ্রামের সড়ক সংস্কার কাজ ঝুলে আছে, ভোগান্তিতে পথচারীরা রৌমারী সীমান্তে পুশইনের পর ২ জন নিখোঁজ, জানে না বিজিবি ফেনীতে গাছের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কা, প্রাণ গেল কিশোরের মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ হোক দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুরে বিজিবির হাতে পুশব্যাক করা ৪ বাংলাদেশি বাগাতিপাড়ায় বাবা-মায়ের সামনেই রিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল সন্তানের জয় পেলেও শিষ্যদের উন্নতির তাগিদ ক্রোয়াট কোচের চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউ মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড শরীয়তপুরে চাঁদাবাজি ও লুটপাটের মামলায় ছেলেসহ কারাগারে বিএনপি নেতা ব্যবস্থাপনার ধারণা অধ্যায়ের ১৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র সীতাকুণ্ডে চিরকুট লিখে মসজিদের ইমামের আত্মহত্যা চাকরি দেবে অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার, সপ্তাহে ২ দিন ছুটি স্কুল-কলেজের অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে চীনের দখলে বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটার সমর্থকদের আস্থা রাখতে বললেন ইংল্যান্ড কোচ নরসিংদীতে মৃত ভেবে গুমের চেষ্টা, মাইক্রোবাসচালক আটক ২০২৮ সাল থেকে শিক্ষা কারিকুলাম পরিবর্তন করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ১ মণ পেঁয়াজের দামে মিলছে না ১ কেজি গরুর মাংস নৌবাহিনীকে পরমাণু অস্ত্রে সাজাচ্ছেন কিম, আসছে দানবীয় যুদ্ধজাহাজ চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প তাত্ত্বিক গবেষক অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক পপ গানে নিউ অরলিন্সের জ্যাজ ফিউশন, ‘ক্লাউডসেভ’ এর বাজিমাত আখতার-উল-আলম: সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও জাতীয় চেতনার অগ্রসেনানী

মা-বাবাকে গালি দেওয়া কবিরা গুনাহ

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
মা-বাবাকে গালি দেওয়া কবিরা গুনাহ
ছবি: সংগৃহীত

কথায় কথায় ঝগড়া করা। কথা কাটাকাটি ও তর্ক করা; এসব মানুষের চিরাচরিত অভ্যাস। কারও ক্ষেত্রে বিপরীত পক্ষকে ঘায়েল করতে গালি দেওয়া এটাই হলো তার একমাত্র হাতিয়ার। অথবা উপস্থিত বুদ্ধি ও যুক্তিতর্কে না পেরে কাউকে গালি দেওয়া। মা-বাবার নাম তুলে, বংশের কথা বলে, গোষ্ঠী ও বর্ণের খোঁচা দিয়ে গালমন্দ করা। এগুলো হচ্ছে মানুষের সাধারণ স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য।

তবে নিঃসন্দেহে এসব নিকৃষ্ট ও মন্দলোকের কাজ ছাড়া আর কিছু নয়। কেননা, কোনো সৎলোক, ভালো মানুষ কখনো কাউকে গালি দেন না। বকাঝকা করা, গালমন্দ করে ছোট করা এসব তাদের অভ্যাস নয়। বরং এসব হচ্ছে নিচু শ্রেণির লোকদের কাজ। কথিত আছে, হজরত আলি (রা.) বলেন, নিচু লোকের হাতিয়ার হচ্ছে কাউকে গালি দেওয়া। প্রকৃত শিক্ষা দীক্ষা অর্জনকারী মানুষ কখনো কাউকে গালি দিতে পারেন না। মতের অমিল হলেই গালি দিতে হবে, এটি অত্যন্ত নিন্দিত কাজ। এমনকি হাদিসে গালি দেওয়াকে ফাসেকি কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, হে মুমিনরা! কোনো পুরুষ যেন অপর কোনো পুরুষকে (গালমন্দ, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে) উপহাস না করে। কেননা যাকে উপহাস করা হয়, হতে পারে সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম। কোনো নারী যেন অপর কোনো নারীকেও যেন উপহাস না করে; কেননা যাকে উপহাস করা হয়, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না; ঈমান আনার পর মন্দ নামে ডাকা গর্হিত কাজ। যারা এ ধরনের আচরণ থেকে নিবৃত্ত না হয় তারাই জালিম। (সুরা হুজুরাত, ১১)

আর জালিম, অত্যাচারী তার অন্যায় ও জুলুমের মাধ্যমে সমাজে, রাষ্ট্রে এমনকি পুরো পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। ঘরের পরিবেশ নষ্ট করে। সমাজের শৃঙ্খলা ভেঙে ফেলে। রাষ্ট্রের অধীনস্থ প্রজাদের ওপর নির্যাতন করে শৃঙ্খলা নষ্ট করে। অশান্তি সৃষ্টি করে সর্বত্র। কোরআনের ভাষায়—আর যারা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে, তাদের জন্য আছে অভিসম্পাত এবং আছে মন্দ আবাস। (সুরা রাদ, ২৫)

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কবিরা (মারাত্মক বড়) গুনাহগুলোর একটি হলো—বাবা-মাকে গালি দেওয়া। (উপস্থিত সাহাবিদের মধ্য থেকে) জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! আপন বাবা-মাকে কি কেউ গালি দেয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ, সে (কোনো ব্যক্তি, যেকোনো একজন) লোকের বাবাকে গালিগালাজ করে, তখন সেও তার বাবাকে গালিগালাজ করে থাকে এবং সে (যে ব্যক্তি) অন্যের মাকে গালি দেয়। সুতরাং সেও (কেমন যেন) তার (আপন) মাকেই গালি দেয়।’ (বুখারি ও মুসলিম)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকি (আল্লাহর অবাধ্যাচরণ) এবং তার সঙ্গে লড়াই-ঝগড়া করা কুফরি।’ (বুখারি) যেকোনো মানুষকে গালমন্দ করা নিঃসন্দেহে নিকৃষ্ট আচরণ, যা মহান আল্লাহতায়ালার অবাধ্য হওয়ারও নামান্তর। আমরা এ জাতীয় মন্দ আচরণ করা থেকে বিরত থাকব। একইভাবে কাউকে গালি দিয়ে, তুচ্ছ করে নিজেকেই অপমান অপদস্থ হেয় করব না।

 

লেখক: খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর

সৌদিতে শুটিংয়ের মাঝেই হলিউড অভিনেতার ইসলাম গ্রহণ

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:২২ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
সৌদিতে শুটিংয়ের মাঝেই হলিউড অভিনেতার ইসলাম গ্রহণ
ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেতা জিয়ানকার্লো এসপোসিতো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। সৌদি আরবে একটি চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কালেমায়ে ‘শাহাদাত’ পাঠ করে মুসলিম হন।

সৌদি আরবের জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির (GEA) চেয়ারম্যান তুর্কি আলে শায়খ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তুর্কি আলে-শায়খ জানান, সৌদি আরবে সিনেমাটির শুটিংয়ের মাঝেই জিয়ানকার্লো এসপোসিতো ইসলাম গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে তিনি কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করেন এবং একটি স্থানীয় মসজিদে প্রযোজনা দলের অন্য মুসলিম সদস্যদের সঙ্গে নামাজও আদায় করেন। তুর্কি আলে-শায়খ তাঁর পোস্টে এই মুহূর্তের একটি ভিডিও চিত্রও শেয়ার করেছেন, যা ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে।

৬৮ বছর বয়সী এই হলিউড তারকা বর্তমানে সৌদি আরবে অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র ‘৭ ডগজ’ (7 Dogz)-এর শুটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদিতে অবস্থানকালে সেখানকার মানুষের আতিথেয়তা, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতা এসপোসিতোর মনে গভীর রেখাপাত করে। ইসলাম ধর্মের অনুশাসন ও মুসলিমদের জীবনযাত্রায় মুগ্ধ হয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। জিয়ানকার্লো সৌদির জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং শুটিংয়ের এই অভিজ্ঞতাকে তার জীবনের অন্যতম ইতিবাচক অধ্যায় বলে উল্লেখ করেছেন।

ইতালীয় ও আফ্রো-আমেরিকান বংশোদ্ভূত জিয়ানকার্লো এসপোসিতোর অভিনয় জীবন দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত। মাত্র আট বছর বয়সে ব্রডওয়ে থিয়েটারের ‘ম্যাগি ফ্লিন’ মিউজিক্যালে অভিনয়ের মাধ্যমে শিশুশিল্পী হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে হলিউডের অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও টিভি সিরিজে (যেমন: ব্রেকিং ব্যাড, দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান) অভিনয় করে তিনি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন।

উল্লেখ্য, জিয়ানকার্লো এসপোসিতো যে ‘৭ ডগজ’ সিনেমায় অভিনয় করছেন, তাতে মিসরের জনপ্রিয় অভিনেতা আহমেদ ইজ ও করিম আবদেল আজিজসহ আরও বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক তারকা যুক্ত রয়েছেন।

এর আগেও বিশ্বের বহু নামি-দামি লেখক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, ক্রীড়াবিদ ও অভিনয়শিল্পী ইসলামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এই ধর্ম গ্রহণ করেছেন। হলিউডের এই শক্তিমান অভিনেতার ইসলাম গ্রহণের খবরটি এখন বিশ্বের অন্যতম আলোচিত বিষয়।

 

২৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২৪ জুন ২০২৬, বুধবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৪ মিনিট

আসর

৪.৪০ মিনিট

মাগরিব

৬.৫৩ মিনিট

এশা

৮.১৯ মিনিট

 

ফজর (২৫ জুন)

.৪৫মিনিট

 

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত?

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত?
ছবি: সংগৃহীত

সুরা বাকারার শুরুতেই আল্লাহতায়ালা সেই দোয়ার উত্তর দিয়েছেন, যা সুরা ফতিহার শেষ অংশে প্রার্থনা করা রয়েছে। এরশাদ হয়েছে: এটি সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। আয়াতের শুরুতে জালিকা (সেটি) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাধারণত দূরবর্তী বস্তুকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। অথচ কোরআন আমাদের সামনেই রয়েছে। এখানে দূরবর্তী ইশারা ব্যবহারের রহস্য হলো–এই কিতাবটি আমাদের সেই প্রার্থিত ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’-এর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা।

আল্লাহ যেন আমাদের বলছেন, তোমরা যে হেদায়েত চেয়েছিলে, এই সেই উজ্জ্বল সূর্যসম কিতাব; যার জ্ঞান ও গাম্ভীর্য সাধারণের নাগালের অনেক ঊর্ধ্বে। এতে কোনো সন্দেহ নেই–এই ঘোষণাটি এক অকাট্য সত্য। কারও বুদ্ধির স্বল্পতার কারণে মনে সংশয় জাগতে পারে, কিন্তু কিতাবের সত্যতায় বিন্দুমাত্র খামতি নেই।

পবিত্র কোরআন যদিও গোটা মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক, তবুও আয়াতে বলা হয়েছে এটি ‘মুত্তাকিদের জন্য হেদায়েত’। এর কারণ হলো, হেদায়েতের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। এক স্তর সবার জন্য উন্মুক্ত, কিন্তু পরকালীন মুক্তি ও আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভের যে উচ্চতর স্তর, তা কেবল তারাই পায় যারা আল্লাহকে ভয় করে চলে। হেদায়েত কেবল তথ্যের নাম নয়, বরং তা আমলের বিষয়। তাই যারা সত্যকে গ্রহণ করার মানসিকতা রাখে (মুত্তাকি), কোরআন তাদের জীবনকেই আমূল বদলে দেয়।

আল্লাহতায়ালা মুত্তাকিদের বিশেষ তিনটি গুণের কথা উল্লেখ করেছেন, যা একজন মুমিনের ঈমান ও আমলের মূল ভিত্তি:

আল্লাহ, ফেরেশতা, পরকাল ও জান্নাত-জাহান্নাম–যা আমরা চর্মচক্ষে দেখি না, কিন্তু আল্লাহর বাণীর ওপর ভিত্তি করে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি। এটিই ঈমানের আসল পরীক্ষা।

কেবল নামাজ পড়াই নয়, বরং নামাজের নিয়মকানুন ও একাগ্রতা বজায় রেখে তা জীবনে প্রতিষ্ঠিত করা। এটি আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সরাসরি সংযোগ তৈরি করে।

আল্লাহ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন, তা থেকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে খরচ করা। এটি মানুষের মনে ত্যাগের মানসিকতা তৈরি করে এবং সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করে।

যাদের মধ্যে এই গুণগুলো বিদ্যমান, তাদের সম্পর্কে আল্লাহর ঘোষণা হলো: তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে সঠিক পথে রয়েছে এবং তারাই সফলকাম। অর্থাৎ প্রকৃত সফলতা কেবল জাগতিক অর্থ বা ক্ষমতায় নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া পথে অবিচল থেকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করার মধ্যেই নিহিত।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

বিধান পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি?

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি?
ইসলামি শরিয়তে ইবাদতের প্রধান শর্ত হলো পবিত্রতা। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি শরিয়তে ইবাদতের প্রধান শর্ত হলো পবিত্রতা গোসল হলো শরীরকে পূর্ণাঙ্গভাবে পবিত্র করার একটি মাধ্যম তবে অনেক সময় মুসল্লিদের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন জাগে যদি কেউ একান্ত ব্যক্তিগত স্থানে (যেমন- বাথরুমে) সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে গোসল করেন, তবে কি সেই গোসলের মাধ্যমে ওজু সম্পন্ন হবে? নাকি নামাজের জন্য তাকে পুনরায় নতুন করে ওজু করতে হবে? ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে এর একটি সুস্পষ্ট সমাধান রয়েছে

ইসলামি ফিকহ বা আইনশাস্ত্রের মৌলিক নীতি অনুযায়ী, সতর বা শরীর উন্মুক্ত থাকা পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধক নয় অর্থাৎ, নির্জনে বা গোসলখানায় কেউ যদি কাপড় ছাড়া গোসল করেন, তবে তার অপবিত্রতা দূর হয়ে যাবে এবং তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে পবিত্র বলে গণ্য হবেন

বিখ্যাত ফাতাওয়া গ্রন্থ ফাতাওয়া হিন্দিয়া (/৩৬৩) এবং ফাতাওয়া সিরাজিয়া (পৃষ্ঠা: ৭৩)- উল্লেখ করা হয়েছে যে, গোসলের স্থানে প্রয়োজনবশত কাপড় সরানো বা বিবস্ত্র হওয়ায় কোনো বাধা নেই সুতরাং কেউ যদি ফরজ বা সাধারণ গোসল সম্পন্ন করেন, তবে সেই গোসলের মাধ্যমেই তার ওজু সম্পন্ন হয়ে যায়

গোসল শেষ করার পর নামাজের জন্য আলাদাভাবে ওজু করা বাধ্যতামূলক নয় কারণ, গোসলের সময় ওজুর অঙ্গগুলো (মুখমণ্ডল, হাত, পা ইত্যাদি) স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধোয়া হয়ে যায় সতর খোলা থাকা ওজুকে বাতিল করে না সুতরাং গোসলের পর ওজু ভঙ্গের কোনো কারণ (যেমন- বায়ু ত্যাগ বা অন্য কোনো কারণ) না ঘটলে ওই গোসল দিয়েই নামাজ আদায় করা সম্পূর্ণ বৈধ সহিহ

যদিও বিবস্ত্র হয়ে গোসল করলে পবিত্রতা অর্জিত হয়, তবুও শরিয়তের আদব হলো নির্জনেও সতর ঢেকে রাখা বা অন্তত একটি লুঙ্গি বা গামছা ব্যবহার করা উত্তম তবে কেউ যদি একান্ত প্রয়োজনে কাপড় ছাড়াই গোসল করেন, তবে তার ইবাদতে কোনো ত্রুটি হবে না

দ্বীন ইসলাম অত্যন্ত সহজ যুক্তিপূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পানি পৌঁছানো কাপড় থাকা বা না থাকা এখানে মুখ্য নয় তাই গোসলের পর নতুন করে ওজু না করলেও আপনার নামাজ অন্যান্য ইবাদত কবুল হবে ইনশাআল্লাহ

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

হাদিসের কথা নিজেকে শ্রেষ্ঠ করে তোলার গুণটি কী?

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
নিজেকে শ্রেষ্ঠ করে তোলার গুণটি কী?
ছবি: সংগৃহীত

মাটির নিচে যেমন লুকিয়ে থাকে স্বর্ণ বা হীরার খনি, মানুষের ভেতরেও কি তেমন কোনো গোপন খনি রয়েছে যা কেবল সঠিক আলো পেলেই জ্বলে ওঠে?মানবচরিত্রের মনস্তত্ত্ব সমাজবিজ্ঞানের এক অনন্য রূপরেখা এঁকেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনি মানুষকে তুলনা করেছেন খনির সাথে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা খনিজ যেমন পরিশোধন করলে মূল্যবান হয়ে ওঠে, মানুষের সুপ্ত প্রতিভাও তেমনি দ্বীনি জ্ঞান সত্যের ছোঁয়ায় বিকশিত হয় ইসলামপূর্ব অন্ধকার যুগে যারা নৈতিকভাবে উত্তম মর্যাদাবান ছিলেন, ইসলামের আলো পেয়ে দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের পর তারাই সমাজের সবচেয়ে খাঁটি শ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত হন

তবে এই শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ ঘটে দুটি জায়গায়, নেতৃত্বের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে এবং  জীবনযাপনের সততায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পরিভাষায়, শাসনক্ষমতা নেতৃত্বের পদের জন্য তারাই সবচেয়ে যোগ্য, যারা ক্ষমতার লোভ রাখে না, বরং এর গুরুদায়িত্বকে ভয় পায় এবং পদকে অপছন্দ করে আর সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ হলোদু-মুখোবা সুবিধাবাদীরা, যারা পরিস্থিতি অনুযায়ী একেক দলের কাছে একেক রূপ ধারণ করে

চরিত্রের এই খাঁটিত্ব ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি হলোসত্যবাদিতা সত্য কেবল একটি গুণ নয়, এটি মানুষের ভেতরের খনিকে হীরার মতো উজ্জ্বল করার মাধ্যম নিয়মিত সত্য বলার অভ্যাস মানুষকে পুণ্যের পথে চালিত করে, আর পুণ্য তাকে পৌঁছে দেয় জান্নাতে এভাবে চলতে চলতে একপর্যায়ে আল্লাহর দরবারে সেই ব্যক্তিসিদ্দীকতথা সত্যবাদী হিসেবে অমরত্ব পায়

বিপরীতে, মিথ্যার পথটি অত্যন্ত পিচ্ছিল একটি ছোট মিথ্যা মানুষকে ক্রমান্বয়ে নির্লজ্জতা পাপাচারের অতলে তলিয়ে দেয়, যার অবধারিত পরিণতি হলো জাহান্নাম আর যে ব্যক্তি ক্রমাগত মিথ্যা বলতে থাকে, সে আল্লাহর খাতায়কাজজাবতথা মিথ্যাবাদী হিসেবে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়

এই দুটি হাদিসের মেলবন্ধন আমাদের শেখায় যে, নেতৃত্ব বা সামাজিক মর্যাদা কোনো বাহ্যিক অলংকার নয় ক্ষমতার লোভ বর্জন, দ্বিমুখী আচরণ পরিহার এবং কথার সততাই মানুষের ভেতরেরখনিজকেখাঁটি সোনায় রূপান্তর করে আল্লাহর দেওয়া খনিকে আমরা সত্য দিয়ে সাজাব নাকি মিথ্যা দিয়ে পুড়িয়ে ছাই করব, সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরই

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক