খালাতো ভাই আনিসের ফোন রিসিভ করতেই ও-প্রান্ত থেকে আনিস বলল, হ্যালো ভাইয়া কাল বাড়ি যাব, আমার সঙ্গে তোকেও যেতে
হবে, মাস্ট।
আমি বললাম, হঠাৎ বাড়ি যাবি! তুই তো সহজে বাড়ি যাস না, ব্যাপারটা কী?
আনিস বলল, আরে বিরাট ব্যাপার ঘটে গেছে। আম্মা আর বড় আপু আমার জন্য সুন্দরী একটা পাত্রী দেখেছে। শিক্ষিত মেয়ে, বংশও ভালো। মেয়ের ফ্যামিলি নাকি আমাকে সরাসরি দেখতে চায়। তাই বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। তোকে আমার সঙ্গে যেতেই হবে ভাইয়া।
আমি বললাম, বেশ ভালো। তুই-ই যা ভাই। আমার অফিসে প্রচুর কাজের চাপ। এখন তুই গিয়ে দেখাদেখির কাজটা সেরে আয়। আমি পরে যাব, তোর বিয়েতে।
আনিস নাছোড়বান্দা, তার সঙ্গে যেতেই হবে। কী আর করা! পরদিন আমরা দুই খালাতো ভাই একসঙ্গে ঢাকা ছাড়লাম। আনিসদের গ্রামের বাড়ি উঠলাম। আনিসের মা অর্থাৎ আমার খালা পাত্রী আর তার ফ্যামিলির তারিফ করতে করতে আমাদের কান প্রায় ঝালাপালা করে ফেললেন! আমরা শুধু মাথা নাড়াই আর বলি, হ্যাঁ, গিয়ে দেখে আসি।
যাওয়ার সময় খালা আমাদের সঠিক লোকেশন দিয়ে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে দিলেন। প্রায় সাত কিলো যাওয়ার পর একটা মোড়ে অটোরিকশা থামল। সেখানে দুয়েকটা ছোটখাটো চা, মুদি দোকান আছে। আনিস একটা দোকান ঢুকে দোকানদার মুরব্বিকে জিজ্ঞেস করল, আঙ্কেল এখানে বাদুড় বাড়ি কোনটা, বলতে পারেন?
মুরব্বি বললেন, বুঝি নাই আবার বলেন।
আনিস বলল, আমরা বাদুড় বাড়ি যাব। বাদুড়দের বাড়ি কোনটা যদি বলতেন, আশপাশেই তো একটা বাদুড় বাড়ি আছে, তাই না?
মুরব্বি এবার তেলেবেগুনে রেগে উঠলেন, ওই মিয়া আপনেরা কোইত্তে আইছেন, কন তো? দেইখ্যা তো শিক্ষিত মনে হয়। বারবার শুধু বাদুড়, বাদুড় করতাছেন, সমস্যা কী! আমাগো বাড়ির নাম বাদুড় না বাহাদুর বাড়ি। আমারে দেইখ্যা কী বাদুড় মনে হয়? ওলিউল্যা বাহাদুর বাড়ির একটা ইজ্জত আছে, আপনেরা সব শ্যাষ করছেন! ওইডা আমগো বাড়ি!
আনিস আর আমি লজ্জায় হেঁট হয়ে গেলাম। দ্রুত স্থান ত্যাগ করে অটোরিকশায় উঠলাম। আনিসকে বললাম, খালা আমাদের স্পষ্ট করে বাহাদুর বাড়ি না বলে ভুলে বাদুড় বাড়ি বলেছে, কী একটা অবস্থা!
আনিস বিড়বিড় করে বলল, ধুর, বাদুড় বাড়ির মেয়ে বিয়েই করব না।