ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে কেএনএফ, বিদেশি ইন্ধন খতিয়ে দেখার পরামর্শ

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০:০৮ এএম
চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে কেএনএফ, বিদেশি ইন্ধন খতিয়ে দেখার পরামর্শ
কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)

সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করে পরপর দুই দিন বান্দরবানে ব্যাংক ডাকাতিকে নিছক ‘ডাকাতি’ হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন এর মাধ্যমে পার্বত্য এলাকার সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) সরকারকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। এর পেছনে বিদেশি ইন্ধন থাকার বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা। পার্বত্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন এবং কৃষি খাতে যে বিপ্লব ঘটতে চলেছে অশান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে তার গতিরোধ করতেই এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। 

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রুমা উপজেলায় গত মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাতে সোনালী ব্যাংকে ডাকাতির পর বুধবার (৩ এপ্রিল) দিনের বেলা থানচি উপজেলার দুইটি ব্যাংক ডাকাতি করে কেএনএফ। আগের দিন অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া ব্যাংক ম্যানেজারকে উদ্ধারে চলমান যৌথ অভিযানের মধ্যে দিনেদুপুরে ফের একই ধরনের ঘটনার জন্য গোয়েন্দা ব্যর্থতাকেও দায়ী করা হচ্ছে।

এদিকে গত ৫ মার্চ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার পর হঠাৎ করে কেএনএফের ইউটার্ন নেওয়ার জন্য সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ বিভেদকেই দায়ী করা হচ্ছে। মতবিরোধের কারণে সংগঠনটিতে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। এমন আলোচনা বান্দরবানের সচেতন মহলে আছে। একটি অংশ অপর অংশকে মানতে চাইছে না। যে কারণে চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার আগেই তা ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য কেএনএফের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শান্তি কমিটির কেউই কেএনএফের বিভেদের বিষয়ে কথা বলতে রাজি নন।

২০১৭ সালে নাথান বম এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠা করলেও এটি আলোচনায় আসে ২০২২ সালে। রাঙামাটির সাজেকের বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, বান্দরবানের রুমা রোয়াংছড়ি, থানছি, লামা ও আলীকদম এই ৯টি উপজেলা নিয়ে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত একটি পৃথক রাজ্য দাবি করে আলোচনায় এলেও সংগঠনটির সন্ত্রাসী কার্যক্রম এখনো বান্দরবানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পাহাড়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণে মদদ, ব্যাংক লুট এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে একাধিক সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সরকারকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে কেএনএফ: কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা খবরের কাগজকে বলেন, ‘কেএনএফের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে সরকারে। এখন তারা সেই চুক্তি ভঙ্গ করে সরকারি ব্যাংকের টাকা লুট করেছে, ম্যানেজারকে তুলে নিয়ে গেছে। তাদের এই কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে তারা সরকারের সঙ্গেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। তাদের কার্যক্রমে আমার কাছে এমনটিই মনে হয়। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রুমা ও থানছি গেছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

তারা এত শক্তি পেল কোথায়? জবাবে তিনি বলেন, তাদের এত শক্তি থাকার কথা না। এত শক্তির উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বিষয়টি নিয়ে।

পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক মতাদর্শগত লক্ষ্য: ড. মাহফুজ পারভেজ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মাহফুজ পারভেজ খবরের কাগজকে ‘বলেন, ২৪ ঘণ্টার কম সময়ে বড় আকারের দুটি ব্যাংকে হামলা ও অস্ত্রশস্ত্র লুট নিঃসন্দেহে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ঘটনাটিকে ‘ব্যাংক ডাকাতি’ আখ্যা দেওয়া হলেও তা নিছক চোর-ডাকাতের অপরাধকর্ম নয়। এসব আক্রমণের পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শগত প্রণোদনা ও লক্ষ্য, যার ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) এসব সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড করছে। এসব কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় তাদের বিশ্বাস নেই। তাদের উদ্দেশ্য আরও বড়। স্বায়ত্তশাসন কিংবা বাংলাদেশের সীমান্তের পাশের ভারত ও মায়ানমার অংশের কুকি-চিন জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে বড় আকারের ঐক্য গড়া ও বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করা।

তিনি বলেন, মায়ানমারে যে জাতিগত সশস্ত্র সংঘাত চলছে, সেখানে কুকি-চিন বা তাদের সমগোত্রীয় পক্ষগুলো সক্রিয়। এসব পক্ষকে দেশি-বিদেশি নানা শক্তি ইন্ধন দিয়ে রাজনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী করছে। মিয়ানমারে তারা সরকারি সামরিক বাহিনীকে পর্যুদস্ত করছে। ভারতের মণিপুর ও নাগাল্যান্ডকে সংঘাতময় করে তুলছে। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অংশের বান্দরবানে অবাধে সশস্ত্র হুমকি দিচ্ছে। এবার বান্দরবানে ডাকাতিকালে নির্বিঘ্নে অপকর্ম করেছে। 

বিদেশি ইন্ধন রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা উচিত: মেজর এমদাদ
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রায় এক দেড় ঘণ্টা ধরে ব্যাংক ডাকাতি করা হয়েছে। রুমা এলাকায় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কেন ব্যাংক খোলা রাখা হলো এটিও একটি প্রশ্ন। এখন তো মোবাইলের যুগ, দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাংক লুট করা হলো কেউ তো ফোন করে আর্মিকে জানাতে পারত। অথবা পুলিশ আছে, বিজিবি আছে তাদের জানাতে পারত।’ 

এর বাইরে কেএনএফের সঙ্গে গত ১৬ তারিখ একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। সেই সমঝোতাকে বানচাল করার জন্য বিদেশি কোনো ইন্ধন আছে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ করার যথেষ্ট অবকাশ হয়। তিনি বলেন, ব্যাংকের বিষয়টিও সন্দেহজনক। 

তিনি বলেন, সমঝোতার মধ্যেই ব্যাংক লুটের জন্য কেউ দুষ্টু বুদ্ধি দিতে পারে। তাই হয়ত তারা এ কাজ করেছে। অথবা বিদেশি কোনো ইন্ধন থাকতে পারে যারা হয়তো চায় পাহাড়ে অস্তিরতা থাকুক। উন্নয়নের ছোঁয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামের আমূল পরিবর্তন ঘটছে। সংযোগ সড়ক হচ্ছে, পাহাড়ে বিভিন্ন ফলফলাদি উৎপাদন হচ্ছে, একটি বিপ্লব ঘটছে কৃষিতে। টুরিজমের বেশ অগ্রগতি হচ্ছে। সব মিলিয়ে এসব উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিদেশি চক্রান্ত থাকতে পারে। 

কেএনএফএর কাছে তেমন কোনো শক্তি নেই। তাদের এক দেড়শ বা দুইশ সদস্য রয়েছে। তাদের থেকে বড় সংগঠন ছিল শান্তিবাহিনী, তারা ধীরে ধীরে ঝিমিয়ে গেছে। কেএনএফ এত বড় সংগঠন হলে চোরাগোপ্তা হামলা করত না। তিনি বলেন, ভারতের মণিপুরে মেইথি ও কুকিদের মধ্যে সংঘাত চলছে। ভারতের সংঘাতের ঘটনার ছোটখাটো প্রভাব এখানেও পড়তে পারে। পাহাড়ে বিদেশি বিভিন্ন এনজিও কাজ করে। তাদেরও চক্রান্ত থাকতে পারে।

তাদের সঙ্গে আলোচনার আর সুযোগ নেই: মুখপাত্র শান্তি কমিটি
কেএনএফের সঙ্গে আলোচনার জন্য গঠিত শান্তি কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কাঞ্চন জয় ত্রিপুরা খবরের কাগজকে বলেন, ‘কেএনএফ সদস্যদের সঙ্গে আমরা কয়েক দিন আগে বসেছিলাম। দুই পক্ষ মিলে একটা সমঝোতা হয়েছে। আমরা তাদের দাবি মেনে নিয়েছি, তারা আমাদের দাবিও মেনে নিয়েছে। এতে বান্দরবান এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হওয়ার কথা। কিন্তু হঠাৎ করে কেএনএফ সরকারি ব্যাংক লুট করল, ম্যানেজারকে ধরে নিয়ে গেল। এখন আমরাও সমঝোতার শর্ত মেনে চলতে পারব না। অ্যাকশনে যেতে হবে।’ 

তিনি বলেন, ‘সামনে তাদের সঙ্গে আমাদের বসার বা বৈঠক করার আর কোনো সুযোগও নেই। বিদেশি কোনো ইন্ধনের তথ্য নেই। তবে তারাও তাদের ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশ মানছে না সে ধরনেরও কোনো তথ্য তার জানা নেই। এর মধ্যে কেএনএফ কেনই বা এ ঘটনা ঘটাল আমার বুঝে আসছে না।’

ময়মনসিংহের সড়ক ফাঁকা

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৫৭ পিএম
ময়মনসিংহের সড়ক ফাঁকা
ময়মনসিংহ নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ। ছবি: খবরের কাগজ

ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে ময়মনসিংহে যানবাহনের চাপ বেড়ে বিভিন্ন স্থানে যানজটের সৃষ্টি হলেও বুধবার (১০ এপ্রিল) দুপুর থেকেই সড়কে গাড়ির চাপ কমে যায়। যৎসামান্য গাড়ি চলাচল করায় সড়ক একেবারেই ফাঁকা ছিল। 

পুলিশ বলছে, গত কয়েকদিনে প্রায় সব যাত্রী বাড়ি ফিরে যাওয়ায় ঈদের একদিন আগেই সড়কে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ মোড়ে যানজটে গত কয়েকদিন ঘরমুখো যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। 

বুধবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে ব্রিজ মোড়ে শ্যামলছায়া পরিবহনের একটি বাস যাত্রীর জন্য দাঁড়িয়েছিল। পরে যাত্রী না পেয়ে চলে যাওয়ার আগ মুহুর্তে কথা হয় বাসের চালক আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে মঙ্গলবারই প্রায় সব যাত্রী বাড়িতে চলে গেছে। যারা যানজটের ভয় কিংবা ছুটি পাননি তারা আজকে বাড়ি ফিরছেন। যাত্রী কম হওয়ায় অনেক মালিক ঈদের আগের দিন বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন।’

বাসের ভেতরে থাকা যাত্রী লিটন মিয়া বলেন, ‘বেসরকারি একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। এতদিন ছুটি না পাওয়ায় আজকে বাড়ি যাচ্ছি। একেবারেই যানজট না থাকায় দুর্ঘটনার আশংকাও কম। ফলে নিশ্চিতে স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি যেতে পারছি।’

জেলা মোটর মালিক সমিতির মহাসচিব মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যাত্রী থাকলে সড়কে ঠিকই সব বাস চলাচল করতো। যেহেতু যাত্রীর সংখ্যা কম, তাই গাড়ি চালালে তেলের খরচও উঠবে না। ফলে অনেক বাস মালিক গাড়ি বন্ধ রেখেছেন।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক (প্রশাসন) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সকালে ময়মনসিংহের কোথাও যানজট না থাকলেও ব্রিজ মোড়ে কিছুটা ছিল। তবে দুপুর থেকে একেবারেই যানজটমুক্ত। গত কয়েকদিন সব স্থানে যানজটমুক্ত রাখতে পুলিশ যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে দ্বায়িত্ব পালন করেছে। তবে আজকে গাড়ি চলাচল কম থাকায় সড়কে পুলিশের পরিশ্রম অনেকাংশেই কমেছে।’

কামরুজ্জামান মিন্টু/অমিয়/

ভোগান্তির পরও দুই মহাসড়কে স্বস্তিতে ঈদযাত্রা

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ১০:২৪ এএম
ভোগান্তির পরও দুই মহাসড়কে স্বস্তিতে ঈদযাত্রা
ফাঁকা মহাসড়ক। মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরের চোরাস্তা এলাকা থেকে তোলা ছবি। খবরের কাগজ

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়াসহ আশপাশের কারখানাগুলো সোমবার দুপুরে একসঙ্গে ছুটি ঘোষণা করা হয়। ছুটি ঘোষণার পর ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজট ও জনজট সৃষ্টি হলেও পরদিন মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যায়। এখন এ দুই মহাসড়কে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছেন ঘরমুখো যাত্রীরা।

গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ি, কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে শ্রীপুর উপজেলার মাওনা, জৈনা বাজার ও গাজীপুর মহাগরের চান্দনা-চৌরাস্তা, স্টেশন রোড, চেরাগ আলী, বোর্ড বাজার, সাইনবোর্ড এলাকায় গতকাল সোমবার দুপুর থেকে সারারাত যানবাহনের চাপ ছিল। এতে কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হলে ভোগান্তি বাড়ে ঘরমুখো মানুষের। 

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) ভোর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। ১২টার পর থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের চাপ অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে যায়। 

নাওজোড় হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক মো. শাহাদত হোসেন খবরের কাগজকে জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় সোমবার দুপুর থেকে রাতভর যানবাহনের ধীরগতি থাকলেও মঙ্গলবার সকালে কিছুটা কমতে শুরু করে। সকাল সাড়ে ১২টার দিকেও আশেপাশে যানবাহনের সারি থাকলেও থেমে থেমে যানবাহন চলে। এরপর থেকে পুরো পরিবেশ স্বাভাবিক হয়, বলা চলে কোনো ধরনের যানজট ছাড়াই চলাচল করছে গণপরিবহনসহ বিভিন্ন পরিবহন।

ঢাকার একটি কোম্পানির কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘ভোরের দিকে ঢাকা থেকে কাপাসিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হই। আমাদের বাসটি মহাসড়কের কয়েকটি অংশে যানজটে আটকে যায়। বেলা ১২টার দিকে বাসটি কাপাসিয়ায় পৌঁছে। ১২টার পর ঢাকা থেকে আমার আরেক স্বজন কাপাসিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলেও তার সড়কে খুব বেশি একটা সময় লাগেনি।’ 

পরিবার নিয়ে টঙ্গী থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন একটি গার্মেন্টস্ কারখানার শ্রমিক মোতাহার হোসেন। তিনি বলেন, ‘সকালে ভিড় থাকায় আমরা যাত্রা বাতিল করেছিলাম। পরে দুপুরের দিকে ভিড় কমে যাওয়ায় আমরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছি। পুরো সড়কে এখনো কোথাও খুব বেশি সময়ের জন্য বা যানজটের জন্য বাস দাঁড়ায়নি।’

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক রুটে চলাচলকারী আল-আমিন পরিবহনের সুপারভাইজার বলেন, ‘ঈদে ময়মনসিংহ বাইপাস থেকে গাজীপুর বাইপাস বা গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রতিনিয়ত চলাচল করেছি। গতকালের তুলনায় মঙ্গলবার সকালে ভিড় থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমতে শুরু করে।’

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘মহানগরের ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্পটে সোমবার দুপুরের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গাড়ির প্রচণ্ড চাপ ছিল। কিন্তু কোনো যানজট ছিল না। মঙ্গলবার সকালে চান্দনা-চৌরাস্তা ফ্লাইওভারের নিচে ঢাকামুখী গাড়ি মাঝে মধ্যেই কিছুটা জটলা তৈরি হলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে ময়মনসিংহগামী গাড়ি চলাচলে কোনো সমস্যা নেই।’

পলাশ প্রধান/অমিয়/

লক্কড়ঝক্কড় গাড়িতেই ঝুঁকি নিয়ে ঈদযাত্রা

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:১৩ এএম
লক্কড়ঝক্কড় গাড়িতেই ঝুঁকি নিয়ে ঈদযাত্রা
ময়মনসিংহ নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ মোড় এলাকা থেকে তোলা ছবি। খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের সড়ক মহাসড়কগুলোতে সারা বছরই দাপিয়ে বেড়ায় ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি। তবে ঈদ এলে এসব গাড়ির দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রায় অকেজো গাড়িগুলোর বডিতে রঙ লাগিয়ে সড়ক মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই চলাচল করছেন ঘরমুখো মানুষ।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সরেজমিনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নগরীর বাইপাস, পাটগুদাম ব্রিজ মোড় ও  শম্ভুগঞ্জ মোড় এলাকায় এমন চিত্র দেখা যায়। 

ভাল গাড়ির পাশাপাশি এসব গাড়িতেও চলাচল করছেন যাত্রী৷ এর আগে এদিন সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ময়মনসিংহের জেলা সদরে তিনজন, ত্রিশালে তিনজন ও তারাকান্দায় একজন নিহত হয়েছেন। নিহত সাতজনের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন। এই দুর্ঘটনা ঈদের আগে সড়কে চলাচল করা যাত্রীদের আরও আতঙ্ক বাড়াচ্ছে।

বিরিশিরি-জারিয়া-ময়মনসিংহ সড়ক দিয়ে চলাচল করছিল রুকন এন্টারপ্রাইজ নামের গাড়িটি। পাটগুদাম ব্রিজ মোড়ে কথা হয় গাড়ির চালক ফয়জুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঈদ সামনে রেখে গাড়িটি মেরামত করে রং লাগানো হয়েছে। গাড়ির মালিকের নির্দেশেই সড়কে নামানো হয়েছে।’

গাড়ির যাত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঈদ সামনে রেখে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহের অংশসহ জেলার সবগুলো সড়কে অসংখ্য ফিটনেসবিহীন গাড়ি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এসব গাড়ির বেশিরভাগ লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালক। ঈদের আগে আমার মতো অনেক যাত্রী ভালো গাড়িতে উঠতে না পেরে এসব গাড়িতে যাতায়াত করছে। যেকোনো সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে জেনেও উঠতে হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে পারলে আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হতো না।’

গত দুই বছরে ময়মনসিংহ বিভাগের সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন উল্লেখ করে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি আব্দুল কাদের চৌধুরী মুন্না বলেন, ‘এসব পুরোনো গাড়িতে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, তেমনি সড়কে নামানোর পর সড়কের কোথাও বিকল হয়ে প্রচণ্ড জ্যাম সৃষ্টি করে ঘরমুখী মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে। সড়কে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ করতে হবে।’

জেলা মোটর মালিক সমিতির মহাসচিব মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাই না লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি সড়কে চলুক। তবুও কিছু মালিক আমাদের অজান্তেই সড়কে এসব গাড়ি নামিয়েছে।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ট্রাফিক পরিদর্শক (অ্যাডমিন) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘অনেক গাড়ির মালিক ইচ্ছে করেই ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন করে না। এতে সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব। কিছু ফিটনেসবিহীন গাড়ি ঈদকে টার্গেট করে সড়কে নামিয়ে দেয়। আমরা এসব গাড়িকে আটকানোর জন্য ট্রাফিক সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছি। কারণ এসব গাড়ি কারণে সড়কে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে।’

অমিয়/

নজরদারিতে হিন্দাল শারক্বীয়া, ধরাছোঁয়ার বাইরে ৬ নেতা

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:০০ পিএম
নজরদারিতে হিন্দাল শারক্বীয়া, ধরাছোঁয়ার বাইরে ৬ নেতা
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া প্রধান শামীম মাহফুজ

বান্দরবানে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) এর ব্যাংক ডাকাতির ঘটনার পর নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া আবারও আলোচনায় এসেছে। রাষ্ট্রবিরোধী এই সংগঠনের কেএনএফের সঙ্গে শুরু থেকেই এর যোগ সূত্র ছিল। শারক্বীয়ার প্রধান শামীম মাহফুজ ও কেএনএফের প্রধান নাথান বম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে পড়াশোনার সময় পরিচয় ঘটে। এ সময় তারা তাদের ভিন্ন দুটি উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার জন্য একসঙ্গে কাজ করার চুক্তিবদ্ধ হন। এই চুক্তি ছিল ৩ বছরের। 

শারক্বীয়ার জঙ্গিদের পাহাড়ে প্রশিক্ষণের জন্য নাথান বম সহযোগিতা করেছিলেন। সেই ঘাঁটিগুলো পরে র‌্যাব চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়। এর বিনিময়ে শারক্বীয়া নাথান বমকে বিপুল পরিমাণের অর্থ সরবরাহ করে। এই অর্থ দিয়ে নাথান বম বিভিন্ন ট্রেনিং পরিচালনা এবং অস্ত্র সংগ্রহ করে। নাথান বমকে ঢাকার বাসাবোতে একটি বাসা ভাড়া করে দেয় শামীম মাহফুজ। পরে সেই বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব।

র‌্যাব বলছে, নাথান বমের সঙ্গে শারক্বীয়ার শুরু থেকে একটি যোগসূত্র আছে। বান্দরবানের ঘটনার পর যাতে শারক্বীয়া মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেই দিকেও নজর রেখেছে তারা। পাশাপাশি শারক্বীয়ার যে ৬ জন জঙ্গি দেশে নাকি দেশের বাইরে অবস্থান করছে তা তারা অনুসন্ধান করছেন। খুঁজে পেলে দ্রুতই তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। 

এ বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সোমবার (৮ এপ্রিল) খবরের কাগজকে জানান, ‘কেএনএফের সঙ্গে শারক্বীয়ার শুরু থেকেই একটি যোগসূত্র ছিল। শারক্বীয়ার ৬ জঙ্গি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে আছে।’

তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (সিসিটিসি) মো. আসাদুজ্জামান। তিনি গতকাল বিকেলে জানান, এই সংগঠনের আর অস্তিত্ব নেই। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

ছুটিতে চিকিৎসা ঠিক রাখতে চলবে কঠোর নজরদারি

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৫৯ পিএম
ছুটিতে চিকিৎসা ঠিক রাখতে চলবে কঠোর নজরদারি

পবিত্র ঈদুল ফিতর ও বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে টানা দীর্ঘ ছুটিতে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের সেবা দেওয়া যাতে বিঘ্নিত না হয় সেদিকে নজর রেখে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। যার আলোকে ইতিমধ্যেই হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ছুটির ভেতরে চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের বিশেষ রোস্টার তৈরি করার জন্য। হাসপাতালগুলোতে সেভাবেই রোস্টার করা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকাসহ সারা দেশের বিশেষায়িত ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা তদারকির জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কয়েকজন পরিচালকসহ মোট ২০ কর্মকর্তা ঢাকার ২০টি প্রতিষ্ঠান মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন। আরও ৪১ জন কর্মকর্তা একই ধরনের মনিটরিংয়ে থাকবেন সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে। 

গত ৪ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. হারুন অর রশিদ এ সংক্রান্ত এক অফিস আদেশ জারি করেন। যদিও হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড় কমে গেছে। ছুটির মধ্যে চিকিৎসকদের পাওয়া যাবে কি না, স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা চলবে কি না- এমন আশঙ্কায় বরাবরের মতো এবারও জরুরি চিকিৎসা ছাড়া অন্য রোগীরা হাসপাতালে আসছেন বলে জানা যায় একাধিক হাসপাতালের সূত্র থেকে। অন্যদিকে কোনো কোনো হাসপাতালে ইতিমধ্যেই ছুটির আমেজ পড়েছে বলেও জানান রোগীর স্বজনরা। অনেকেই আগাম ছুটিতে গেছেন বলেও জানা গেছে।

তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগে কী হয়েছে না হয়েছে সেগুলো ভুলে যান, এবার ঈদের দিনে আমি নিজেও হাসপাতালে ঘুরব, বন্ধের মধ্যেও চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক থাকবে। রোগীদের ভোগান্তি হবে না। এ জন্য ইতিমধ্যেই নির্দেশনা দিয়েছি।’

এদিকে গত ৩১ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের এক অফিস আদেশে ১২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয় সব হাসপাতালের জন্য। শব কদর, ঈদুল ফিতর, বাংলা নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ) ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ দীর্ঘ ছুটিতে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থাপনার জন্য এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, ছুটিকালীন কর্মস্থলে পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য ঈদের আগে ও পরে সমন্বয় করে জনবলকে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া, প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিরবচ্ছিন্ন জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে অনুকূলভাবে ছুটি মঞ্জুর; প্রতিষ্ঠান প্রধান, সিভিল সার্জন, বিভাগীয় পরিচালককে অবহিত করে শুধু ঈদের ছুটির সময়ে নিজ জেলার মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় জনবল সমন্বয়, জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা; জরুরি বিভাগ ও লেবার রুম, ইমার্জেন্সি ওটি সার্বক্ষণিক চালু রাখা; আন্তবিভাগে ইউনিট প্রধানরা প্রতিদিন কাজের তদারকি, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর জরুরি ল্যাব, এক্স-রে সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখা; ছুটি শুরু হওয়ার আগেই ছুটির সময়ের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ, আই ভি ফ্লুয়িড কেমিক্যাল রি-এজেন্ট, সার্জিক্যালসামগ্রী মজুত ও তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা। এক্ষেত্রে স্টোরকিপার অথবা ছুটিকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফদের অবশ্যই নিজ জেলা ও উপজেলায় অবস্থান করা; অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সার্বক্ষণিক চালু রাখা; ছুটিকালীন হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আগাম পত্র দেওয়া; প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের ছুটিকালীন সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং ঈদের দিন কুশল বিনিময় করা; প্রতিষ্ঠান প্রধান ছুটি নিলে অবশ্যই বিধি মোতাবেক কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যাওয়া এবং দায়িত্ব গ্রহণকারী কর্মকর্তার সব দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করা, দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নম্বর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের ঈদের দিন রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন তদারকি করা এবং রোগীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য বলা হয়েছে। 

২৫০ শয্যার শ্যামলী টিবি হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার খবরের কাগজকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১২ দফা নির্দেশনা পেয়েছি। যা বাস্তবায়নে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগে থেকেই ঈদের ছুটিতে কীভাবে চিকিৎসাসেবা চলবে সে বিষয়টি আমাদের মাথায় থাকে।’