বাঁচতে হলে লড়তে হবে, এই লড়াইয়ে জিততে হবে- আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি অনেকটা সে রকমই। এখানে জয়ের বিকল্প নেই। এশিয়া কাপ খেলতে আসার আগে ক্রিকেটাররা দেশবাসীকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশার গল্প শুনিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সেটি এখন আষাঢ়ে গল্পে পরিণত হওয়ার উপক্রম। গ্রুপ পর্ব ডিঙিয়ে সুপার ফোরে যেতে হলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিততেই হবে। শুধু জিতলেই হবে না, সেই সঙ্গে নেট রেটের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। মানে নেট রানরেটও বাড়িয়ে রাখতে হবে, যা বাংলাদেশ দলের জন্য অসম্ভব এক টার্গেট। তবে নেট রানরেটের বিষয়টি পরে বিবেচিত হবে যদি ম্যাচ জিততে পারে। তাই ম্যাচ জেতাটাই টাইগারদের আসল লক্ষ্য। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এসে স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ সে রকম কথাই বলেছিলেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ দলের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। যেখান থেকে আর পেছনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সামনে এগোতেই হবে।
সামনে এগোনো মানে ম্যাচ জেতা। আসরে টিকে থাকা। এমন কঠিনেরে জয় করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ দল গতকাল চার চারটি পরিবর্তন এনে সেরা একাদশ সাজিয়েছে। একাদশে ফিরেছেন তাসকিন। এবারের আসরে প্রথমবারের মতো খেলবেন নুরুল হাসান সোহান, নাসুম আহমেদ ও সাইফ হাসান। ঘরের মাঠে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ভালো করার পরও এই তিন ক্রিকেটারের কাউকেই প্রথম দুই ম্যাচে খেলানো হয়নি। অবশেষে আসরে টিকে থাকার ম্যাচে তাদের স্মরণ করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বাদ পড়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন, শেখ মাহেদী, শরিফুল ইসলাম ও তানজিম সাকিব। আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে অধিনায়ক লিটন দাস জানান, অন্তত ১৬০ রান করা টার্গেট তাদের।
হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি যে উইকেটে হয়েছিল, সেই উইকেটেই গতকাল আফগান ম্যাচটি হয়েছে। হংকং ম্যাচে লিটন দাস টস জিতে বোলিং বেছে নিয়েছিলেন। আগে ব্যাট করে হংকং ৭ উইকেটে করেছিল ১৪৩ রান। বাংলাদেশ আবার সেই রান তাড়া করতে খেলেছিল ১৭.৪ ওভার। উইকেট হারিয়েছিল ৩টি। উইকেট কিছুটা স্লো। যে কারণে বাংলাদেশের সেরা একাদশে তিন পেসার খেলাচ্ছে না। একজন কমিয়ে স্পিনার বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাটিং লাইন শক্তিশালী করা হয়েছে। পেস বোলিং সামলাবেন দুই অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন ও মোস্তাফিজ। প্রথম ম্যাচে এই দুজনের সঙ্গে খেলেছিলেন তানজিম সাকিব। পরের ম্যাচে তাসকিন বাদ পড়েন। যুক্ত হয়েছিলেন শরিফুল। উইকেট কিছুটা স্লো হওয়াতেই স্পিনার বাড়ানো হয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচে স্পিন ডিপার্টমেন্ট সাজানো হয়েছিল রিশাদ ও শেখ মাহেদীকে দিয়ে। প্রয়োজনে হাত ঘুরিয়েছিলেন শামীম পাটোয়ারী। এই ম্যাচ রিশাদ ও নাসুমের সঙ্গে সাইফ হাসান তৃতীয় স্পিনারের কাজ করবেন। শামীম পাটোয়ারী তো আছেনই।
সাইফ হাসান জাতীয় দলে আবার ফিরেছিলেন ঘরের মাঠে ডাচদেও বিপক্ষে। প্রায় তিন বছর পর ফিরে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন। যখন বাদ পড়েছিলেন, তখন তিনি শুধু ব্যাটার ছিলেন। ফিরেছেন অফ স্পিন বোলিংকে সঙ্গী করে। ডাচদের বিপক্ষে নিজের কাম ব্যাক ম্যাচেই ব্যাটে-বলে দ্যুতি ছড়ান। বল হাতে ১৮ রানে ২ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে ১৯ বলে অপরাজিত ৩৬ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন। দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি ব্যাটিং কিংবা বোলিং কিছুই করার সুযোগ পাননি। তৃতীয় ম্যাচে ইনিংসের উদ্বোধন করতে এসে ১২ রানে আউট হয়ে গিয়েছিলেন।
নাসুম আহমেদও ডাচদের বিপক্ষে আবার সেরা একাদশে ফিরেছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলে। ডাচদের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি একাদশে ফিরেছিলেন। ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন। ডাচদের বিপক্ষে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন নুরুল হাসান সোহান। তবে তার ফেরাটা ছিল দীর্ঘ বিরতির পর। ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর বাদ পড়ে যান। এরপর আবার ফিরেন ডাচদেও বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। শেষ ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই সুযোগকে তিনি কাজে লাগিয়ে ছিলেন ১১ বলে ২ ছক্কা অপরাজিত ২২ রানের ঝটিকা ইনিংস খেলে।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাংলাদেশের তিন ম্যাচের সিরিজটি ছিল এশিয়া কাপের প্রস্তুতির অংশ। সেখানে সুযোগ পেয়ে সাইফ-নাসুম-সোহান নিজেদের ভালোভাবেই জানান দিয়েছিলেন। কিন্তু এই প্রস্তুতি আবার এশিয়া কাপের প্রথম দুই ম্যাচে টিম ম্যানেজমেন্ট আমলে নেয়নি। যখন অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন সামনে চলে আসে, তখনই এই তিনজনকে তারা মনে করেছে। শুরুতে সাইফ হাসান দিয়েছেন প্রতিদান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের ম্যাচে যেখানে দুই ওপেনারই কোনো রান না করেই আউট হয়ে গিয়েছিলেন, সেখানে কাল তানজিদ তামিমের সঙ্গে জুটি বেঁধে সাইফ ৬৩ রান এনে দেন। ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে রান আসে ৫৯। ১২ ম্যাচ পর উদ্বোধনী জুটিতে বাংলাদেশ ফিফটি রানের দেখা পেয়েছে। এর আগে পাকিস্তান সফরে পারভেজ ইমন ও তানজিদ তামিম ১১০ রান করেছিলেন। সাইফ-তানজিদ জুটি ভাঙে সাইফ ২৮ বলে ১ ছক্কা ও ২ চারে ৩২ রান করে রশিদ খানের বলে স্ট্যাম্প ছেড়ে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বোল্ড হলে। এখন নাসুম ও নুরুল হাসান সোহানের প্রতিদান দেওয়ার পালা।
পলাশ/নিলয়/