ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ফিফার বাপ কুমিল্লায় চাকরি মেলা, কর্মসংস্থানের সন্ধানে তরুণ-তরুণীদের ঢল পটুয়াখালীতে সেপটিক ট্যাংকে নেমে ২ শ্রমিকের মৃত্যু গফরগাঁওয়ে স্বামীকে ঘরে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ চীনের ডেইরি কারখানায় উৎপাদন বাড়াচ্ছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি আমাদের ঘরগুলো কি রহমত শূন্য হচ্ছে? বাংলাদেশের বাজারে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করবে দারাজ টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ৪টি সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা গোল করার পর কান্নার কারণ জানালেন মেসি রংপুরে হিমাগারের ভাড়া বাড়ানোয় মহাসড়ক অবরোধ সোনামসজিদ পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সময়মতো পূর্বাভাসেই বেঁচে যাচ্ছে চীনের জুঁই বাজেটকে একটি গোষ্ঠী গণবিরোধী বলছে: প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারে নারী-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর জনসভা শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল মাঠে মদ্রিচ আমার ডান হাত: জ্লাতকো ডালিচ প্রস্তাবিত বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি: সিপিডি ওয়াহিদুল হত্যার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল আদালত চত্বর ভারতে ৩ বছর কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৬ নারী শরীয়তপুরে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের ‘আমরাই মেসির কাজটা সহজ করে দিয়েছি’, বললেন আলজেরিয়ার কোচ জয়পুরহাটে পুত্রবধুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার আর্জেন্টিনার জার্সির পেছনে ‘১৮৯৩’ লেখা থাকার কারণ কী? বিশ্বকাপ জয়ের এটাই সেরা সুযোগ: হ্যারি কেইন মেসি বন্দনায় ভাষা হারিয়েছেন স্কালোনি ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া তুরস্ক, লক্ষ্য প্যারাগুয়ে বধ নাটকীয় ম্যাচে জর্ডানকে হারাল অস্ট্রিয়া কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরির্দশনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রথমবার ইউএনএইচসিআর ব্যুরোর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ঝিনাইদহে ১১ কোটি ব্যয়ে কসাইখানা উদ্বোধন
Nagad desktop

ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে সুইজারল্যান্ডে সুইসাইড পডে নারীর স্বেচ্ছামৃত্যু

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৪৪ এএম
আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৩ পিএম
ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে সুইজারল্যান্ডে সুইসাইড পডে নারীর স্বেচ্ছামৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

লিথুয়ানিয়া ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে সুইজারল্যান্ডে গিয়ে সারকো পডের মাধ্যমে (বেদনাহীন স্বেচ্ছামৃত্যু ঘটানোর যন্ত্র) স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নিলেন মরিন স্লাফ নামের এক আইরিশ নারী।

৫৮ বছর বয়সী মরিন স্লাফ গত ৮ জুলাই তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন, তিনি বন্ধুদের সঙ্গে লিথুয়ানিয়ায় ঘুরতে যাচ্ছেন।

তবে স্লাফের দুই বন্ধু আগে থেকেই জানতেন, তিনি স্বেচ্ছায় মৃত্যুর জন্যই সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন। তবে মারা যাওয়ার মাত্র একদিন আগে তার এক বন্ধু এই নারীর মেয়ে মেগান রয়্যালকে এই পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মেগান আর কিছু করতে পারেননি। তার আগেই তিনি তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ফেলেন।

মেগান সেই মেসেজ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক তার বাবাকে জানান। এরপর তারা সুইজারল্যান্ডে মরিন স্লাফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু পরেরদিন মেগান রয়্যাল একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পান যেখানে তাকে জানানো হয় যে, তার মা মারা গেছেন।

তিনি বলেন, “সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার ছিল, শুধু মায়ের মৃত্যুর তথ্য নয়, তারা আমাকে জানায় আমার মায়ের মরদেহের ছাই ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে আমার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তখন মনে হচ্ছিল আমার পৃথিবীটা শেষ হয়ে গেছে।”

হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজটি পাঠিয়েছিল স্বেচ্ছামৃত্যুতে সহায়তা করা অলাভজনক সংস্থা পেগাসস।। মেগান রয়্যাল পরে জানতে পারেন, তার মা গোপনে এই কোম্পানির কাছে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর আবেদন করেন। এরপর সব প্রক্রিয়া শেষ করতে তিনি সুইজারল্যান্ডে যান।

মরিন স্লাফের মৃত্যুর পর তার মেয়ে অভিযোগ করেন, কীভাবে তাদের সম্মতি ছাড়া তার মাকে স্বেচ্ছায় মৃত্যুতে সহায়তা করল কোম্পানিটি?

মেগান রয়্যাল জানান, তার মা মানসিক রোগে ভুগছিলেন। তার দুই বোন মারা যাওয়ার পর তিনি ভেঙে পড়লেও তিনি এত অসুস্থ ছিলেন না যে, তাকে স্বেচ্ছামৃত্যু বেঁছে নিতে হলো।

এদিকে, স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করতে এই নারী বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা খরচ করেন।

সারকো পড বা সুইসাইড পড হলো বিশেষভাবে নকশা করা ক্যাপসুল আকৃতির একটি যন্ত্র, যা ব্যবহার করে দ্রুত ও ‘বেদনাহীন’ মৃত্যু নিশ্চিত করা যায়। 

এটি দেখতে একটি ক্যাপসুলের মতো, যেখানে একজন ব্যক্তি শুয়ে থাকার মতো জায়গা রয়েছে। এটির মধ্যে নিয়ন্ত্রিত অক্সিজেনের পরিবেশ তৈরি করা হয়। ক্যাপসুলে ঢোকার পর ব্যবহারকারী একটি বোতাম চাপলেই ভেতরের অক্সিজেন দ্রুত কমিয়ে নাইট্রোজেন গ্যাস দিয়ে পূর্ণ হয়ে যায়। এতে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

তবে যেহেতু নাইট্রোজেন স্বাদ ও গন্ধহীন গ্যাস, তাই এতে ঘুমিয়ে পড়ার মতো মৃত্যু হয় - ব্যথাহীন, নিঃশব্দ ও দ্রুত, এমনটাই দাবি করেন এটির উদ্ভাবক।

সুলতানা দিনা/

এভারেস্টে নিহত পর্বতারোহীর মরদেহ উদ্ধারে ৩০ বছর পর ঐতিহাসিক মিশন

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:২২ এএম
এভারেস্টে নিহত পর্বতারোহীর মরদেহ উদ্ধারে ৩০ বছর পর ঐতিহাসিক মিশন
তিন দশক ধরে এভারেস্টের ‘ডেথ জোন’-এ পড়ে থাকা ভারতীয় পর্বতারোহীর মরদেহ, যা পায়ে থাকা সবুজ বুটের কারণে ‘গ্রিন বুটস’ নামে পরিচিত। ছবি: সংগৃহীত

মাউন্ট এভারেস্টের বিপজ্জনক ‘ডেথ জোন’-এ দুর্ঘটনায় নিখোঁজ পর্বতারোহী পুলিশ সদস্য ল্যান্স নায়েক দোর্জে মরুপের মরদেহ উদ্ধারে, নিখোঁজের দীর্ঘ ৩০ বছর পর, নজিরবিহীন এক অভিযানের পরিকল্পনা করছে ভারত সরকার।

অত্যন্ত বিরল ও জটিল এই অভিযানের অংশ হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালের একটি বিখ্যাত এভারেস্ট অভিযানের সময় তিনি মারা যান, যা পরবর্তী সময়ে এভারেস্টের ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয় হিসেবে পরিচিতি পায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ (আইটিবিপি) সুউচ্চ পর্বত থেকে মরদেহ উদ্ধারে সক্ষম একটি বিশেষায়িত সংস্থা নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে।

পর্বতারোহণ বিশেষজ্ঞরা এই অভিযানকে ভারতের ইতিহাসে এ পর্যন্ত অন্যতম কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ মরদেহ উদ্ধার অভিযান হিসেবে বর্ণনা করছেন।

দোর্জে মরুপের মরদেহটি এভারেস্টের উত্তর প্রান্তে, তিব্বতমুখী ঢালে, প্রায় ২৭ হাজার ৭০০ ফুট উচ্চতায়, এভারেস্টের কুখ্যাত ‘ডেথ জোন’-এর গভীরে পড়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে অক্সিজেনের মাত্রা এতটাই কম যে মানুষের পক্ষে সেখানে দীর্ঘক্ষণ বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব।

২০২৬ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে উদ্ধার অভিযানটি শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ জন্য অন্তত ছয়জন অত্যন্ত অভিজ্ঞ নেপালি শেরপার একটি দল ৮ হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় আরোহণ করবেন। তারা মরদেহটি উদ্ধার করে পর্বত থেকে নিচে নামিয়ে আনবেন।

উদ্ধারকারী সংস্থাকে তিব্বতে চীনা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হবে, তিব্বত-নেপাল সীমান্ত অতিক্রম করে মরদেহ পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং দীর্ঘ তিন দশক ধরে হিমাঙ্কের নিচের তীব্র ঠান্ডায় জমে থাকা মরদেহটির সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রযুক্তিগত সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। পুরো মিশনটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতি মেনেই পরিচালিত হবে।

১৯৯৬ সালের সেই ভয়াবহ মৌসুমে নিখোঁজ হওয়া আইটিবিপির তিন পর্বতারোহীর মধ্যে মরুপ ছিলেন অন্যতম। তারা তিব্বতের নর্থ ফেস (উত্তর দিক) দিয়ে চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করছিলেন। ১৯৯৬ সালের ১০ মে আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করলে ছয় সদস্যের মূল দলের তিনজন ফিরে এলেও সুবেদার তিসেবং সামানলা, ল্যান্স নায়েক দোর্জে মরুপ এবং হেড কনস্টেবল তিসেবং পালজোর চূড়ার দিকে এগিয়ে যান। পরবর্তীতে তারা এক তীব্র তুষারঝড়ের কবলে পড়ে আর ক্যাম্পে ফিরতে পারেননি।

বছরের পর বছর ধরে এভারেস্টের নর্থ-ইস্ট রিজ রুটের একটি গুহার কাছে পড়ে থাকা এই পর্বতারোহীর মরদেহটি অন্যান্য পর্বতারোহীদের জন্য একটি বেদনাদায়ক ‘দিকচিহ্ন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মরদেহটির পায়ে থাকা উজ্জ্বল সবুজ রঙের বিশেষ পর্বতারোহণের বুটের কারণে এটি পর্বতারোহীদের কাছে ‘গ্রিন বুটস’ নামে পরিচিতি পায়।

এই মরদেহটির প্রকৃত পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। অনেক পর্বতারোহী ও গবেষকের মতে, এটি তিসেবং পালজোরের মরদেহ; আবার অনেকের মতে, এটি দোর্জে মরুপের। তবে আইটিবিপির এই নতুন দরপত্রে ‘গ্রিন বুটস’-এর পাশে সরাসরি মরুপের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ, বাহিনীটি বিশ্বাস করে যে এই বিখ্যাত মরদেহটি তাদের নিখোঁজ ল্যান্স নায়েকেরই।

এভারেস্টের ‘ডেথ জোন’ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা পর্বতারোহণের অন্যতম বিপজ্জনক কাজ। এত চরম উচ্চতায় একটি মরদেহকে সামান্য দূরত্বে সরাতেও অনেক শেরপার প্রয়োজন হয়। একই সঙ্গে উদ্ধারকারীদের নিজেদের জীবনও তুষারধস, ঝড় এবং অক্সিজেনের অভাবজনিত কারণে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েন।

বর্তমানে পুরো প্রক্রিয়াটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী মাসগুলোর আবহাওয়ার ওপরই নির্ভর করবে অভিযানটি সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে কি না। তিন দশক পর আইটিবিপির এই সিদ্ধান্তকে শুধু একটি বড় লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে না; বরং এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে দেশের তেরঙ্গা পতাকা নিয়ে গিয়ে প্রাণ হারানো এক বীর সৈনিকের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

থিও/অমিয়/

বিশ্ব বয়োজ্যেষ্ঠ নির্যাতন সচেতনতা দিবস আজ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ১১:৩১ এএম
বিশ্ব বয়োজ্যেষ্ঠ নির্যাতন সচেতনতা দিবস আজ
ছবি: সংগৃহীত

প্রতি বছর ১৫ জুন বিশ্বব্যাপী ‘বিশ্ব বয়োজ্যেষ্ঠ নির্যাতন সচেতনতা দিবস’ পালন করা হয়। ২০০৬ সালে প্রথম আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি শুরু হয় এবং ২০১১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।

দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো- পরিবার, সমাজ বা কেয়ার হোমে প্রবীণদের ওপর ঘটে যাওয়া শারীরিক, মানসিক, আর্থিক নির্যাতন ও অবহেলা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা এবং তাদের অধিকার রক্ষা করা।

কেন এই দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ?

লুকানো সামাজিক ব্যাধি: প্রবীণদের প্রতি নির্যাতন প্রায়ই ঘরে বা চেনা মানুষের মাধ্যমে ঘটে থাকে। লোকলজ্জা বা নির্ভশীলতার কারণে মাত্র ২৪ জনের মধ্যে একজন ভুক্তভোগী বিষয়টি প্রকাশ করেন।

পরিসংখ্যান: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রতি ছয়জন প্রবীণের মধ্যে একজন কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে মানসিক নির্যাতন এবং আর্থিক শোষণ সবচেয়ে বেশি।

ভবিষ্যৎ ঝুঁকি: ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ২০০ কোটিতে পৌঁছাবে। সচেতনতা না বাড়লে প্রবীণ নির্যাতনের শিকার মানুষের সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে বাড়বে। শারীরিক ও যৌন নির্যাতন শরীরে আঘাতের দাগ, ব্যাখ্যাতীত ক্ষত বা হঠাৎ ভয় পাওয়া। মানসিক বা আবেগীয়প্রবীণদের হুমকি দেওয়া, অপমান করা বা সমাজ থেকে আলাদা রাখা।

আর্থিক শোষণজালিয়াতি বা জোর করে প্রবীণের টাকা-পয়সা, সম্পত্তি বা ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। অবহেলাখাবার, ওষুধ, নিরাপদ বাসস্থান বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা না দেওয়া।

সচেতনতা বাড়াতে আমাদের করণীয়: দিবসটি উদযাপনে এবং প্রবীণদের সুরক্ষায় কিছু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে

বেগুনি রঙের পোশাক পরিধান: বেগুনি হলো এই দিবসের অফিশিয়াল রঙ। এই রঙের পোশাক পরে প্রবীণদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা যায় এবং আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার: হ্যাসট্যাগ ব্যবহার করে প্রবীণদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়ে তথ্য ও সচেতনতামূলক পোস্ট শেয়ার করা।

যোগাযোগ রাখা: একাকীত্ব প্রবীণ নির্যাতনের বড় ঝুঁকি। নিয়মিত প্রবীণ প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নেওয়া বা কল করা তাদের সুরক্ষায় সাহায্য করে।

সেবাদানকারীদের পাশে দাঁড়ানো: প্রবীণদের দেখাশোনা করা অনেক সময় মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্তিকর। তাই সেবাদানকারীদের সহযোগিতা ও মানসিক সমর্থন দিলে অবহেলার ঝুঁকি কমে। প্রবীণরা আমাদের সমাজের পথপ্রদর্শক। তাদের সম্মান, মর্যাদা এবং সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার।

তামান্না রুপা/অমিয়/

সফল হয়েও অপরাধবোধে ভোগেন? জেনে নিন ১০টি লক্ষণ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
সফল হয়েও অপরাধবোধে ভোগেন? জেনে নিন ১০টি লক্ষণ
ছবি: এআই

বেশিরভাগ মানুষেরই একটি সাধারণ লক্ষ্য থাকে- জীবনে সফল হওয়া। তবে সাফল্যের সংজ্ঞা সবার কাছে এক নয়। কারও কাছে সাফল্য মানে স্বপ্নের চাকরি পাওয়া, কারও কাছে ফিটনেসের লক্ষ্যে পৌঁছানো। আবার কারও কাছে বর্তমান জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা কিংবা একটি পরিচ্ছন্ন, স্বস্তিদায়ক ঘরে ফিরে আসাও সাফল্যের প্রতীক।

আমরা সাধারণত মনে করি, মানুষের নিজের অর্জন নিয়ে গর্বিত হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে সব সময় তা ঘটে না। অনেক সময় সাফল্যই তৈরি করে এক অপ্রত্যাশিত মানসিক অবস্থা- ‘সাকসেস গিল্ট’ বা সাফল্যজনিত অপরাধবোধ। 

নিচে এমন ১০টি লক্ষণ তুলে ধরা হলো, যা ইঙ্গিত দিতে পারে যে- নিজের সাফল্য নিয়ে আপনার মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করছে।

১) আপনি নিজের কৃতিত্বকে ছোট করে দেখেন

কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের পর তা উদযাপন করা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি আপনি নিজের অর্জনকে ভাগ্য, সময় বা কাকতালীয় ঘটনা বলে উড়িয়ে দেন, তাহলে তা সাফল্যজনিত অপরাধবোধের লক্ষণ হতে পারে।

মনোবিজ্ঞানী ড. জেমি লংয়ের মতে, মানুষ স্বভাবগতভাবেই দল বা গোষ্ঠীর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে চায়। ফলে বন্ধু, পরিবার বা সহকর্মীদের তুলনায় নিজেকে বেশি সফল মনে হলে অনেকে নিজের অর্জনকে ইচ্ছাকৃত ছোট করে দেখান, যাতে অন্যদের থেকে আলাদা মনে না হয়।

২) প্রশংসা গ্রহণ করতে অস্বস্তি বোধ করেন

কোনো সাফল্যের পর ‘দারুণ কাজ’ বা ‘তুমি এর যোগ্য’- এ ধরনের প্রশংসা অনেকের কাছে আনন্দের বিষয়। কিন্তু আপনার কাছে যদি এসব কথা অস্বস্তিকর মনে হয়, তাহলে সেটি সাফল্যজনিত অপরাধবোধের ইঙ্গিত হতে পারে।

আপনার মনে হতে পারে, আপনি হয়তো অতিরিক্ত কৃতিত্ব পাচ্ছেন অথবা অন্যরা আপনাকে অহংকারী ভাববে। ফলে প্রশংসা পাওয়ার পরিবর্তে আপনি বিব্রত বা উদ্বিগ্ন বোধ করেন।

৩) নিজের সাফল্যকে অন্যদের সংগ্রামের সঙ্গে তুলনা করেন

অন্যের কষ্টের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া অবশ্যই ইতিবাচক গুণ। তবে যদি আপনি সবসময় ভাবেন, অন্যরা একই সুযোগ পেলে আপনার চেয়েও বেশি সফল হতে পারত, তাহলে সেটি অপরাধবোধের লক্ষণ হতে পারে।

নিজের অর্জনকে স্বীকৃতি না দিয়ে আপনি অন্যদের সীমাবদ্ধতা ও সংগ্রামের দিকে মনোযোগ দেন। অথচ অন্যদের বাস্তবতা স্বীকার করা এবং নিজের সাফল্য উদযাপন করা- দুটিই একসঙ্গে সম্ভব।

৪) সাফল্যের জন্য নিজেকে বারবার ব্যাখ্যা করতে হয়

কোনো লক্ষ্য অর্জনের পর অনেকেই আনন্দ করেন। কিন্তু আপনি যদি সবসময় ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেন- কত কষ্ট করেছেন, কত ত্যাগ স্বীকার করেছেন কিংবা কতজনের সাহায্য পেয়েছেন- তাহলে এটি সাফল্যজনিত অপরাধবোধের লক্ষণ হতে পারে।

প্রাপ্য কৃতিত্ব অন্যদের দেওয়া ভালো বিষয়। কিন্তু নিজের অর্জনকে বারবার ন্যায্যতা প্রমাণ করার চেষ্টা অনেক সময় ভেতরের অনিশ্চয়তার বহিঃপ্রকাশ।

৫) নিজের সাফল্য নিয়ে কথা বলতে এড়িয়ে চলেন

অনেকেই তাদের অর্জন বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে ভালোবাসেন। কিন্তু আপনি যদি নিজের কৃতিত্বের কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন, তাহলে সেটি অপরাধবোধের কারণে হতে পারে।

আপনার মনে হতে পারে, নিজের সাফল্যের কথা বলা মানেই আত্মপ্রচার বা অহংকার। ফলে আপনি অর্জনের বিষয়গুলো গোপন রাখেন, যদিও সেগুলো নিয়ে গর্ব করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

৬) নিজের উন্নতির সুযোগ নিজেই নষ্ট করেন

একটি লক্ষ্য অর্জন করার অর্থ এই নয় যে, পরবর্তী লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করা যাবে না। কিন্তু সাফল্য নিয়ে অপরাধবোধ থাকলে মানুষ অনেক সময় আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থেকেও নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখে।

যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আপনি হয়তো পদোন্নতি, নেতৃত্বের দায়িত্ব বা নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে চান না। কারণ আপনার মনে হতে পারে, এর চেয়ে বেশি চাওয়া স্বার্থপরতা।

৭) অন্য সবার সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন

সফল হওয়ার পর অন্যদের সাহায্য করতে চাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যদি আপনি মনে করেন, অন্যদের সব সমস্যা সমাধান করা আপনার দায়িত্ব, তাহলে তা সাফল্যজনিত অপরাধবোধের লক্ষণ হতে পারে।

আপনি নিজের প্রয়োজনের চেয়ে অন্যদের প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। এমনকি নিজের জন্য সময় বা অর্থ ব্যয় করলেও অপরাধবোধে ভুগতে পারেন।

৮) বারবার প্রশ্ন করেন, আপনি কি সত্যিই এই সাফল্যের যোগ্য?

নিজের অর্জন নিয়ে ভাবা স্বাভাবিক। কিন্তু বারবার যদি মনে হয় আপনি হয়তো এই সাফল্যের যোগ্য নন, তাহলে সেটি আপনার আত্মমূল্যায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আপনি নিজের পরিশ্রম, দক্ষতা ও অধ্যবসায়ের চেয়ে ভাগ্য বা অন্যের সহায়তাকেই বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে আত্মবিশ্বাস তৈরি হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

৯) কঠোর পরিশ্রমের ফল উপভোগ করতে পারেন না

কোনো লক্ষ্য অর্জনের পর সাধারণত মানুষ আনন্দ ও তৃপ্তি অনুভব করে। কিন্তু সাফল্য নিয়ে অপরাধবোধ থাকলে সেই আনন্দ উপভোগ করাই কঠিন হয়ে যায়।

এটি অনেক সময় ‘ইম্পোস্টার সিনড্রোম’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। তখন মানুষ মনে করে, তার অর্জন আসলে তার যোগ্যতার ফল নয়; বরং কাকতালীয়ভাবে পাওয়া কোনো সুযোগ। ফলে নিজের সাফল্যে গর্ব করার বদলে সে নিজের সীমাবদ্ধতাগুলোর দিকেই বেশি নজর দেয়।

১০) যা অর্জন করতে পারেননি, সেটাতেই মনোযোগ থাকে

সফলতার পর অনেকেই কিছুটা সময় নিয়ে নিজের অগ্রগতিকে মূল্যায়ন করেন। কিন্তু সাফল্যজনিত অপরাধবোধে ভোগা মানুষ সাধারণত তা করেন না।

তারা যা অর্জন করেছেন তার চেয়ে বেশি ভাবেন, কী অর্জন করা বাকি আছে। একটি লক্ষ্য পূরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন অপূর্ণতার তালিকা সামনে চলে আসে। ফলে যত সাফল্যই আসুক না কেন, তা কখনোই যথেষ্ট বলে মনে হয় না।

শেষকথা

সাফল্য মানুষের আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম ও যোগ্যতার স্বীকৃতি। কিন্তু যখন সেই সাফল্যই অপরাধবোধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা মানসিক সুস্থতার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। যদি ওপরের লক্ষণগুলোর সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পান, তাহলে মনে রাখা জরুরি- নিজের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়া অহংকার নয়; বরং আত্মসম্মান ও আত্মমূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সূত্র: ইউর টং

আজ ইন্টারন্যাশনাল বাথ ডে

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১১:২১ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ পিএম
আজ ইন্টারন্যাশনাল বাথ ডে
ছবি: সংগৃহীত

আজ ১৪ জুন, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘ইন্টারন্যাশনাল বাথ ডে’ বা আন্তর্জাতিক গোসল দিবস।

প্রতিদিনের কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে একটুখানি মানসিক প্রশান্তি, আত্মযত্ন এবং শরীর-মনকে সতেজ করার তাগিদ থেকেই প্রতি বছর এই বিশেষ দিনটি পালন করা হয়।

ইতিহাসের সেই বিখ্যাত গোসল ও ‘ইউরেকা’

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এই দিনটির পেছনে রয়েছে এক যুগান্তকারী বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে গ্রিক গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসকে সাইরাকিউসের রাজা হিয়েরো একটি মুকুটের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করার দায়িত্ব দেন। মুকুটটি না ভেঙে এর সমাধান খুঁজছিলেন তিনি।

বলা হয়ে থাকে, গ্রীষ্মকালীন অয়নকালের ঠিক এক সপ্তাহ আগে, অর্থাৎ ১৪ জুনের এমনই এক দিনে আর্কিমিডিস যখন গোসলের টাবে নামেন, তখন তিনি লক্ষ্য করেন তার শরীরের ওজনের কারণে টাবের জল উপচে পড়ছে। মুহূর্তেই তিনি বুঝতে পারেন, বস্তুর আয়তন ও ঘনত্ব মাপার সূত্র তিনি পেয়ে গেছেন। এই আবিষ্কারের উত্তেজনায় তিনি বাথটব থেকে নগ্নাবস্থায় রাস্তায় ছুটে বেরিয়েছিলেন এবং চিৎকার করে বলেন- ‘ইউরেকা! ইউরেকা!’ (আমি পেয়ে গেছি!)। বিজ্ঞান ইতিহাসের এই বিখ্যাত ঘটনাকে স্মরণ করেই প্রতি বছর ১৪ জুন এই দিবসটি পালন করা হয়।

গোসল ও সৃজনশীলতার সম্পর্ক

গবেষণায় দেখা গেছে, গোসল বা শাওয়ার নেওয়ার সময় মানুষের মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা মানুষকে আরও সৃজনশীল করে তোলে। কগনিটিভ সাইকোলজিস্ট স্কট ব্যারি কাউফম্যানের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষের মাথায় চমৎকার সব নতুন আইডিয়া আসে গোসল করার সময়।

আদি ইতিহাস থেকে আধুনিক বাথটব

মানব সভ্যতায় গোসলের ইতিহাস বেশ প্রাচীন। খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে সিন্ধু উপত্যকার সভ্যতায় প্রথম উন্নত প্লাম্বিং বা স্নানাগারের প্রমাণ মেলে। আর খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে প্রাচীন রোমে প্রথম বাথটবের ব্যবহার শুরু হয়। অথচ ১৯ শতকেও ইংল্যান্ডে গোসল করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল; তখন কোনো প্লাম্বিং ব্যবস্থা না থাকায় ফায়ারপ্লেসের সামনে বড় ধাতব পাত্রে ঠান্ডা জল রেখে গোসল করতে হতো। নদী বা পুকুরে গোসল করতে গিয়ে অনেকেই ঠান্ডাজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তেন। পরবর্তীতে ১৮৮৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আধুনিক বাথটব আবিষ্কারের পর ১৯৩০-এর দশকে এটি বিশ্বব্যাপী সহজলভ্য হয়।

যেভাবে উদযাপন করবেন এই দিনটি

শিশুদের বিজ্ঞান শিক্ষা: আর্কিমিডিসের গল্প শুনিয়ে বাথ টয় (খেলনা) দিয়ে শিশুদের জলের প্লবতা বা বিজ্ঞানের প্রাথমিক পাঠ দেওয়ার চমৎকার সুযোগ এটি।

স্পা বা বিলাসী গোসল: এসেনশিয়াল অয়েল, বাথ সল্ট বা সুগন্ধি বাথ বোম্ব ব্যবহার করে আজ একটু দীর্ঘ সময় নিয়ে উষ্ণ জলে গোসল করতে পারেন। হালকা গান বা মোমবাতি জ্বালিয়ে স্নানাগারকে বানিয়ে তুলতে পারেন এক টুকরো শান্তির নীড়।

ভেষজ সাবান তৈরি: ঘরে বসেই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে নিজের পছন্দের সুগন্ধি সাবান তৈরির মাধ্যমে দিনটি পালন করা যায়।

পানির অপচয় রোধ ও সচেতনতার বার্তা

আন্তর্জাতিক গোসল দিবস কেবল নিজের আরাম-আয়েশের দিন নয়, এটি বিশ্বজুড়ে পানি সচেতনতারও একটি বড় মাধ্যম। আমরা যখন সুনিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার আধুনিক বাথটবে বিলাসী গোসল উপভোগ করছি, তখনো পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের ন্যূনতম পরিষ্কার ও সুপেয় পানির অধিকার নেই। তাই এই বিশেষ দিনে নিজে সুস্থ থাকার পাশাপাশি জল অপচয় না করার এবং সবার জন্য নিরাপদ পানির অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।

তামান্না রুপা/

আইভিএফে যমজ সন্তানের জন্ম, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল না বাবা-মায়ের পরিচয়

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
আইভিএফে যমজ সন্তানের জন্ম, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল না বাবা-মায়ের পরিচয়
ছবি: এআই

সন্তানের আশায় বহু বছর অপেক্ষার পর অনেক দম্পতির কাছেই ‘ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন’ (আইভিএফ) নতুন আশার আলো হয়ে ওঠে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে অসংখ্য পরিবার বাবা-মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছে। তবে ভারতের একটি ঘটনা ফার্টিলিটি ক্লিনিকগুলোর নিরাপত্তা ও মাননিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

অভিযোগ, আইভিএফের মাধ্যমে যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর এক দম্পতি জানতে পারেন, ডিএনএ পরীক্ষায় শিশু দুটির সঙ্গে তাদের কোনও জৈবিক সম্পর্ক নেই। 

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ফার্টিলিটি চিকিৎসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুরুগ্রামের ওই দম্পতির ঘরে আইভিএফের মাধ্যমে যমজ সন্তানের জন্ম হয়। কয়েক মাস পর শিশুদের একটি শারীরিক সমস্যার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে গেলে কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর চিকিৎসকেরা বিস্তারিত জেনেটিক প্রোফাইলিং বা ডিএনএ পরীক্ষার পরামর্শ দেন।

অভিযোগ, পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, শিশু দুটির সঙ্গে বাবা কিংবা মা- কারওই জৈবিক সম্পর্ক নেই। পরিবারটির দাবি, আইভিএফ প্রক্রিয়ার সময় অন্য কোনো দম্পতির ভ্রূণ ভুলবশত প্রতিস্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে। আবার জন্মের পর শিশু অদলবদলের ঘটনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

যমজ সন্তানের বাবা রাহুল রাঠোর জানান, কনিষ্ঠ সন্তানের চেহারায় উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের সঙ্গে মিল থাকায় তার প্রথম সন্দেহ হয়। এরপরই তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেন। 

রাহুল ও তার স্ত্রী অভিযোগ করেন, তারা একাধিকবার আইভিএফ কেন্দ্রের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাননি।

ইতোমধ্যে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।  রাহুলের দাবি, গত ৫ জুন আদালত পুলিশকে সংশ্লিষ্ট আইভিএফ কেন্দ্র থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করার নির্দেশ দেয়।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই দম্পতির মানসিক অবস্থার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আইভিএফ কেন্দ্রকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কিন্তু এই দম্পতির মানসিক যন্ত্রণা কোনওভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়।’

আবার অনেকেই ফার্টিলিটি ক্লিনিকগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। এক মন্তব্যে বলা হয়, ‘‘যদি আইভিএফ কেন্দ্রের ভুল হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রটি ‘এআরটি’ আইন ও নির্দেশিকা মেনে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।”

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে না। তবে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এটি ভারতের আইভিএফ চিকিৎসা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুতর বিতর্ক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অমিয়/