ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শিবপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই মেশিন বিতরণ সাতকানিয়ায় মিলল মহাবিপন্ন হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১৬টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নোবিপ্রবিতে শিক্ষামন্ত্রী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনবল নিয়োগ, পদ ১১১ মালয়েশিয়া থেকে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাঙ্গায় শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসদাচরণ, মাদরাসাশিক্ষক আটক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা রাবি ছাত্রদলের বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রামগঞ্জে স্কুলছাত্র মেহেদী হত্যা মামলায় হল সুপারসহ গ্রেপ্তার ২ স্কটল্যান্ডকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ব্রাজিল: লুকাস পাকুয়েতা আনোয়ার ইব্রাহিমের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেরপুরে পিকআপভর্তি ভারতীয় মদসহ আটক ৩ হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় ৩০ জুন চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল প্রজন্মের বিশ্বকাপ উন্মাদনা পরিসংখ্যানের প্রশ্ন এড়াতে স্বচ্ছতা আনতে চায় সরকার: জুনায়েদ সাকি মামাবাড়ি থেকে ফেরার পথে ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বাড়ছেই রাজশাহীতে রেস্তোরাঁয় হামলা: সাবেক শিবির নেতাসহ ৩০ জনের নামে মামলা তাহিরপুরে ঢলে ঘরের সঙ্গে ভেসে গেছে মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণ জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করা যুবক গ্রেপ্তার মঙ্গল ও চাঁদে অভিযানের জন্য নাসার নতুন রোভার আরনেস্ট রূপগঞ্জে কারখানায় ডাকাতির মালামাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ জয়পুরহাটে দিনব্যাপী জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত ঈশ্বরদীতে দুইদিনের গবেষণা সম্প্রসারণ কর্মশালার উদ্বোধন পৃথিবীর গঠন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র দেশের ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ ব্রাজিলিয়ান জন্য সুখবর, পূর্ণ অনুশীলনে নেইমার দায় নিজের কাঁধে নিলেন বিয়েলসা

আমিনুল ইসলামের গাছবাড়ি

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:২০ পিএম
আমিনুল ইসলামের গাছবাড়ি
ছবি: খবরের কাগজ

জীবনে উপার্জনের বেশির ভাগ অংশ তিনি ব্যয় করেছেন নিজের শখ পূরণের জন্য। শখের বশে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি এবং নিজের উপার্জিত টাকা দিয়ে জমি কিনে অজপাড়াগাঁয়ে ১৪ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন শখের গাছবাড়ি। তিনি এখানে শুধু ফুল, ফলের গাছই রোপণ করেননি, পাখি ও বন্য প্রাণীদের অভয়ারণ্য পরিণত করেছেন এ গাছবাড়িকে। 

ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মণদিয়া গ্রাম। এলাকাবাসী গ্রামটিকে এখন গাছবাড়ি হিসেবেই চেনেন। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ বাড়িটি দেখতে আসে। উপজেলা শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিণে বিএলকে বাজারের পাশেই অবস্থিত আলোচিত এই বাড়িটির মালিক সূচিশিল্পী আমিনুল ইসলাম।

আজ থেকে প্রায় এক যুগ আগে সূচিশিল্পী আমিনুল ইসলাম ব্যবসায়িক প্রয়োজনে পৈতৃক সম্পত্তিতে দোতলা বাড়ি তৈরি করে মায়ের নামে শুরু করেন সুঁই-সুতার কাজ। গ্রামের দরিদ্র নারীরা তার বাড়িতে বসে সুঁই-সুতা দিয়ে কাপড়ের ওপর নকশা তৈরি করতেন। একসময় কাজটি বন্ধ করে দিয়ে তিনি বাড়িটিকে গাছ দিয়ে সাজানোর পরিকল্পনা করেন। দেশ-বিদেশ থেকে সংগ্রহ করেন নানা প্রজাতির ফুল-ফলের গাছ। এভাবে ৫ হাজার গাছের সংগ্রহশালায় পরিণত  করেছেন বাড়িটিকে।

তিনি একজন সূচিশিল্পী, নিজের হাতে তৈরি করেন নকশিকাঁথাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্রাফট সামগ্রী। সেগুলো বিক্রি হয় আড়ংয়ের আউটলেটে। থাকেন ঢাকায়, কিন্তু শখের বসে নিজ গ্রামে তৈরি করেছেন নান্দনিক এ বাড়িটি। প্রায় ১৪ বিঘা জমির ওপর গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রম এ সংগ্রহশালা। বাড়িটি সবার কাছে গাছবাড়ি নামে পরিচিত। দুইতলা ভবনের ওয়ালগুলো গাছ দিয়ে মোড়ানো। ছাদেও আছে বড় বড় গাছ। বাড়ির আঙিনায় মূল্যবান আর দুর্লভ সব গাছ শোভা পাচ্ছে।

তার বাড়ি যাওয়ার রাস্তার দুই পাশ দিয়ে লাগানো বনজ গাছগুলো দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। বাড়ির পাশে বিএলকে নামের গ্রাম্য বাজারের ফাঁকা-পতিত জায়গায় তিনি কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়াসহ বিভিন্ন ধরনের বৃক্ষ রোপণ করেছেন। 

আমিনুল ইসলামের গাছবাড়িতে গেলে শোনা যায় দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন পাখির কলরব। পাখিদের বসবাসের জন্য তিনি তৈরি করে দিয়েছেন বিভিন্ন ধরনের পাখির বাসা। হাজারো পাখি বাড়িটির গাছে গাছে কিচিরমিচির করে। তাদের খাবারের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ লাগিয়েছেন, পুকুরে মাছ ছেড়েছেন। যাতে পাখিরা সারা বছর সেসব ফলের গাছ থেকে ফল খেয়ে, মাছ খেয়ে বাঁচতে পারে। গাছ বাড়িতে আছে বড় একটি পুকুর সেখানে বিলুপ্ত প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের দেশীয় মাছের সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন তিনি। যাতে পুকুরে বাস করা ঢোঁড়া সাপ, মাছরাঙা, বক, পানকৌড়িসহ অন্য প্রাণীদের খাবারের সংস্থান হয়। এ বাড়ির ঝোপঝাড়ে, গর্তে বাস করে শেয়ালসহ নিশাচর দেশীয় প্রজাতির প্রাণী। তাদের জন্যও তিনি খাবার রান্না করে পরিবেশন করেন। এভাবেই দিন দিন সূচিশিল্পী আমিনুল ইসলাম হয়ে উঠেছেন এলাকার একজন মডেল পরিবেশপ্রেমী।
ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের শৈলকুপার চাঁদপুর নামক স্থান থেকে আনুমানিক চার কিলোমিটার পূর্বে গেলেই লক্ষনদিয়া গ্রামটির দেখা মিলবে। যাওয়ার পথটিই নির্দেশ করবে আমিনুল ইসলামের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা। তার নিজের হাতে লাগানো বৃক্ষগুলো শোভা পাচ্ছে রাস্তার দুই ধারে। 

গাছবাড়ির মালিক ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জানান, গ্রামের নারীদের দিয়ে সুচ শিল্পের (কাপড়ে নকশা তোলা) কাজ করানোর প্রয়োজনে ২০১৪ সালে তিনি বাড়িটি তৈরি করেন। কিছুদিন পরে তিনি সিদ্ধান্ত নেন এই বাড়িটিতে গাছের সংগ্রহশালা তৈরি করবেন। গাছের সংগ্রহশালা করতে গিয়ে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমির সঙ্গে তিনি আরও জমি কিনে এভাবে ১৪ বিঘা জমির ওপর গাছের সংগ্রহশালা গড়ে তোলেন। 

তার বাড়িতে বেলজিয়াম, পর্তুগাল, মালয়েশিয়া, ভারত, দুবাইসহ একাধিক দেশ থেকে গাছ নিয়ে এসে লাগানো হয়েছে। আমিনুল ইসলামের ভাষ্যমতে, বর্তমানে তার বাড়িতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার গাছ রয়েছে। প্রতি মাসেই এই গাছের সংখ্যা বাড়ছে। তিনি ঢাকা থেকে প্রতি মাসে বাড়িতে আসার সময় অন্তত একটি করে গাছ সঙ্গে আনেন। 

বাড়িতে রিটা, নাগলিঙ্গম, লিলির মতো মূল্যবান গাছ রয়েছে। আবার রয়েছে দেশীয় সরা গাছ। যে গাছটি জঙ্গলে হয়ে থাকে, সেটা তিনি এই বাড়িতে লাগিয়ে সুন্দর করে রেখেছেন। এ ছাড়া বাড়িটির দেয়ালে ‘ওয়াল কার্পেট’ নামের গাছ দিয়ে মোড়ানো রয়েছে। গোটা বাড়ির চারপাশে ৫০০ চারা রোপণ করেন। যা পরবর্তী সময়ে গোটা দেয়াল ঘিরে রেখেছে। 

আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি সেপটিক ট্যাংকও গাছ দিয়ে সাজিয়েছেন। সেখানে বসে মানুষ ফুলের ঘ্রাণ উপভোগ করেন, কিন্তু বুঝতে পারেন না নিচেই রয়েছে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা। তিনি আরও জানান, এই সংগ্রহশালায় হারিয়ে যাওয়া সব গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া অনেক গাছ তিনি লাগিয়েছেন বাড়িটিতে।

আমিনুল ইসলামের সংসার স্ত্রী সিন্ধা ইসলাম, ছেলে মায়জাবিন আমিন, মেয়ে আনুশকা বিনতে আমিনকে নিয়ে। ব্যবসার প্রয়োজনে ঢাকায় থাকেন। গাছের পরিচর্যা করার জন্য নিয়মিত তিনজন কৃষি শ্রমিক আছেন। সময় পেলেই তিনি ছুটে আসেন গ্রামের বাড়ি। নিজের হাতে গাছের পরিচর্যা করেন। আমিনুল জীবনে যা আয় করছেন তার একটা বৃহৎ অংশই গাছের পেছনে ব্যয় করেন বলে জানান। 

ওই বাড়িতে কাজ করা কৃষি শ্রমিক জিন্না আলম জানান, গাছগুলো স্যারের জীবনের অংশ। তিনি গাছগুলোকে সন্তানের মতো ভালোবাসেন। এই গাছের মধ্যে থেকে আমরাও গাছগুলোকে ভালোবেসে ফেলেছি। 

 

তারেক/

গাছের গায়ে যে কারণে সাদা রং দেওয়া হয়

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
গাছের গায়ে যে কারণে সাদা রং দেওয়া হয়
ছবি: সংগৃহীত

রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলোর গোড়ায় সাদা রং দেখে অনেকেই বিস্মিত হন। অনেকেই ভাবেন, এটি হয়তো শুধু সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য। কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ। কিন্তু এই সাদা রং শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ। রয়েছে বিভিন্ন সুরক্ষামূলক উদ্দেশ্য, যা গাছের স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

গাছের গায়ে সাধারণত চুন বা বিশেষ ধরনের সাদা রং ব্যবহার করা হয় গাছকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। দিনের বেলায় সূর্যের তাপ গাছের গায়ে পড়ে গাছের কাণ্ড দ্রুত গরম হয়ে যায়। আবার রাতে তাপমাত্রা কমে গেলে কাণ্ড দ্রুত ঠাণ্ডা হয়। এই হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনের ফলে গাছের বাকল ফেটে যেতে পারে। সাদা রং সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে, ফলে গাছ অতিরিক্ত গরম হয় না এবং কাণ্ড সুরক্ষিত থাকে।

আরো পড়ুন: মরুভূমিতে জীবন রক্ষাকারী লেজার টাওয়ার

এছাড়া সাদা রং অনেক ক্ষতিকর পোকামাকড় ও ছত্রাকের আক্রমণ কমাতেও সাহায্য করে। বিশেষ করে চুনের প্রলেপ পিঁপড়া, উইপোকা বা কিছু রোগজীবাণুকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই ফলজ ও শোভাবর্ধক গাছে এই পদ্ধতি বেশি দেখা যায়।

গাছের গায়ে সাদা রং দেওয়ার আরও কিছু কারণ হলো–

১. রাত্রিকালীন দৃশ্যমানতা: 
রাতের বেলা গাড়ি চালকদের জন্য রাস্তার ধারের গাছগুলো সহজে দৃশ্যমান হয়, যা দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করে।

২. সৌন্দর্য বৃদ্ধি:
সাদা রং শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং পরিচ্ছন্নতার ধারণা দেয়।

৩. গাছ চিহ্নিতকরণ:
বিভিন্ন প্রজাতির গাছ চিহ্নিত করার জন্যও এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

তবে সব গাছে সাদা রং করা হয় না। সাধারণত যেসব গাছ বেশি রোদে থাকে বা যেগুলোকে বিশেষ যত্নে রাখা হয়, সেসব গাছেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাই গাছের গায়ে সাদা রং শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়; এর পেছনে রয়েছে গাছের সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তার মতো বাস্তব ও বৈজ্ঞানিক কারণ।

তারেক/

অদ্ভুত ঠোঁটের রহস্যময় শুবেল

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
অদ্ভুত ঠোঁটের রহস্যময় শুবেল
ছবি: সংগৃহীত

প্রকৃতির বিস্ময়কর প্রাণীদের মধ্যে শুবেল এক রহস্যময় নাম। বিশাল দেহ, অদ্ভুত জুতার মতো ঠোঁট এবং গম্ভীর চেহারার কারণে এই পাখি সহজেই সবার দৃষ্টি কাড়ে। আফ্রিকার জলাভূমিতে বসবাসকারী এই বিরল পাখিকে প্রথম দেখায় ভয়ংকর মনে হলেও, এর জীবনযাপন অত্যন্ত শান্ত ও ধীরস্থির। অদ্ভুত গঠন ও আচরণের জন্য শুবিলকে প্রকৃতির অন্যতম বিস্ময়কর পাখি বলা হয়।

শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য: শুবেল আকারে বড় ও শক্তিশালী পাখি। একটি পূর্ণবয়স্ক শুবেলের উচ্চতা প্রায় চার থেকে পাঁচ ফুট, আর ডানা মেলে ধরলে বিস্তার হয় প্রায় সাত থেকে আট ফুট। এদের দেহের রং ধূসরাভ, যা জলাভূমির পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে সাহায্য করে।

তবে শুবেলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর বিশাল ঠোঁট। জুতার মতো আকৃতির এই ঠোঁট প্রায় এক ফুট লম্বা এবং অত্যন্ত শক্তিশালী। এই ঠোঁট দিয়েই শুবিল দক্ষতার সঙ্গে শিকার ধরে। বড় মাথা, লম্বা পা এবং তীক্ষ্ণ চোখ তাকে এক রাজকীয় ও রহস্যময় চেহারা দিয়েছে।

আরো পড়ুন: মরুভূমিতে জীবন রক্ষাকারী লেজার টাওয়ার

খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা: শুবেল মূলত মাংসাশী পাখি। মাছ, ব্যাঙ, জলজ সাপ, টিকটিকি এমনকি ছোট কুমিরও এদের খাদ্যতালিকায় থাকে। শিকার ধরার সময় এরা পানির ধারে দীর্ঘক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। শিকার কাছে এলেই দ্রুত ঠোঁটের আঘাতে ধরে ফেলে।

শুবেল সাধারণত একাকী থাকতে পছন্দ করে এবং খুব কম শব্দ করে। শান্ত ও ধৈর্যশীল স্বভাবের কারণে এরা নিঃশব্দ শিকারি হিসেবে পরিচিত। ধীর চলাফেরার আড়ালে লুকিয়ে আছে অসাধারণ শিকার দক্ষতা, যা তাকে জলাভূমির সফল শিকারিতে পরিণত করেছে।

বাসস্থান ও পরিবেশ: শুবেল মূলত পূর্ব ও মধ্য আফ্রিকার বিস্তৃত জলাভূমিতে বসবাস করে। উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান, তানজানিয়া ও জাম্বিয়া অঞ্চলের জলাভূমিতে এদের বেশি দেখা যায়। কাদা, পানি ও ঘন জলজ উদ্ভিদপূর্ণ পরিবেশ এদের বসবাসের জন্য উপযুক্ত।

এই জলাভূমিগুলো শুধু আশ্রয়ই দেয় না, বরং খাদ্যের উৎসও জোগায়। জলাভূমির পরিবেশ নষ্ট হলে শুবিলের জীবন হুমকির মুখে পড়ে। তাই এই বিরল পাখিকে টিকিয়ে রাখতে জলাভূমি সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

প্রজনন: প্রজনন মৌসুমে শুবেল জলাভূমির ঘাস, শুকনো ডালপালা ও উদ্ভিদ দিয়ে বড় বাসা তৈরি করে। স্ত্রী শুবেল সাধারণত এক থেকে তিনটি ডিম পাড়ে। মা ও বাবা উভয়েই ডিমে তা দেয় এবং ছানার যত্ন নেয়।

ছানা জন্মের পর মা-বাবা তাকে খাদ্য জোগায় এবং সুরক্ষা দেয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একটি ছানাই বড় হয়ে বেঁচে থাকে। শুবেল ধীরে বড় হয় এবং দীর্ঘজীবী পাখি হিসেবে পরিচিত। এরা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

অদ্ভুত ঠোঁট, বিশাল দেহ এবং রহস্যময় জীবনযাপনের কারণে শুবিল প্রকৃতির এক অনন্য বিস্ময়। পৃথিবীর প্রাণিজগৎ কত বৈচিত্র্যময় ও রহস্যে ভরা। এই বিরল পাখিকে রক্ষা করা মানে প্রকৃতির এক অনন্য সৌন্দর্যকে রক্ষা করা। 

তারেক/

পাঠকের গল্প : বিষ খেতে গিয়ে প্রতারণার শিকার

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
পাঠকের গল্প : বিষ খেতে গিয়ে প্রতারণার শিকার
ছবি: এআই জেনারেট
ঢাকা শহর ছেড়ে এখন গ্রামের বাড়িতে অবসর জীবনযাপন করছি। সময় কাটানোর জন্য বাড়ির আঙিনায় বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষাবাদ করছি। এতে টাটকা কিছু সবজি খাওয়ার সুযোগ মিলছে আমার। তবে তা উৎপাদন করতে গিয়ে পোকার আক্রমণের শিকার হচ্ছি প্রতিনিয়তই। আমার গাছ যখনই একটু সতেজ হয়ে উঠতে থাকে, তখনই অমনি দলবেঁধে পোকারা আক্রমণ শুরু করে গাছের পাতা আর ফল খেয়ে সর্বনাশ করছিল।
 
এমতাবস্থায় কাছেরই একটি বাজারে গিয়েছি বিষ কিনতে। তবে বিষ এখন গাছে যেভাবে প্রয়োগ করা হয় তাতে মানুষের বেঁচে থাকার কথা নয়। কোনো কৃষকই মূলত নিয়ম মেনে বিষ প্রয়োগ করেন না। বিষের গায়ে লাল, সবুজ ও হলুদ দিয়ে চিহ্নিতকরণ করে দেওয়া হয়েছে কোন বিষ কতটা মারাত্মক। কোন বিষ গাছে দেওয়া হলে কতদিন পর তা হার্ভেস্ট করা যাবে। যেটা একেবারে সাধারণ বিষ তার ফল এক সপ্তাহের আগে কাটা সম্ভব নয়। কোন কোন বিষ রয়েছে আবার প্রয়োগের ১৫ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় হার্ভেস্টের জন্য। কিন্তু কোনো কৃষকই তা মেনে ফসল হার্ভেস্ট করছেন না। আর এ বিষয়টা দেখভাল করার মতো কেউ নেইও।
 
 
আমরা শুধু ভেজাল খাদ্যে নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন শহর আর জেলায় কিছু পদক্ষেপ দেখি। কিন্তু বিশাল একটা জনগোষ্ঠী গাছে ফসল থাকা অবস্থায় খাদ্যকে বিষময় করে তুলছেন তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা দেখছি না। পরীক্ষা ছাড়াই ভোক্তা পর্যায় তা চলে যাচ্ছে। সে বিষ মানুষের দেহে প্রবেশ করে তিলে তিলে মানুষের কিডনি এবং লিভার অকেজো করে দিচ্ছে। সে কারণে মানুষ এখন নানাবিধ জটিলতায় পড়ে ব্যাপক হারে চিকিৎসকের কাছে তাদের ধরনা দিতে হচ্ছে। এই গুপ্ত বিষ সম্পর্কে কৃষককে যদি সচেতন করা না যায় তাহলে মানুষের মধ্যে মহামারি আকারে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়বে। 
 
এমনই বালাইনাশক কিনে দোকানে মাত্র দাঁড়িয়েছি আমি, অমনি এক মহিলা দেখি আমার বিষের বোতলের দিকে বারবার তাকাচ্ছে। একবার বিষের বোতলে দিকে তাকাচ্ছে আবার তার কোলে থাকা ছোট বাচ্চার দিকে তাকাচ্ছে। বিষয়টা আমি যতটা না বুঝতে পারছি তার চেয়ে বেশি বুঝতে পারছেন দোকানদার।
 
ভাই আমাকে এক বোতল বিষ দেওয়া যাবে?
দোকানি বলল, আমার তো বিষ নিয়েই কারবার। কেন দেওয়া যাবে না? 
তয় বিষ নিয়ে কী করবেন, দোকানি মহিলাকে জিজ্ঞাসা করল।
এ কথায় মহিলা কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে থাকল।
দোকানি আবার মহিলাকে জিজ্ঞাসা করল–বিষ নিয়ে কী করবেন। 
এবার মহিলা বলল, খাব। 
বিষ খাবেন ভালো কথা। তয় কম দামি খাবেন না বেশি দামি খাবেন। বেশি দামি খাব। একবারে খেয়ে মরতে চান নাকি বিষের জ্বালায় চিৎকার-চেঁচামেচি করে মরতে চান? 
এবার মহিলা বলল, ভাই খেয়েই যাতে মরে যাই। 
আচ্ছা তাহলে আপনাকে খুবই দামি বিষ দিতে হবে। মহিলা বলল, তা-ই দেন। 
 
আমি বিষের দোকানি আর মহিলার কথোপকথন শুনে অবাক না হয়ে আর পারলাম না। বিষের দোকানদার এ কী বলছেন। বিষ খেয়ে একটি মহিলা মরে যাবে আর সে নির্দ্বিধায় তা বিক্রি করবে? এটা আমি যেন কোনোমতেই ভাবতেই পারছি না। আবার দোকানিকে দেখে আমার খুবই সিরিয়াস মনে হলো। এ যেন মহিলাকে না মেরে সে ক্ষান্ত হবেন না। মহিলার পারিবারিক কষ্টে সে যেন নিজেই কষ্ট পাচ্ছে। এবার মহিলাকে লেবেল ছাড়া বিষের একটি বোতল দিল দোকানি। আর বলল, লেবেল ছাড়া এ বিষ আপনাকে দেওয়ার কারণ হলো–কেউ যাতে বুঝতে না পারে কার দোকান থেকে এমন বিষ আপনি কিনেছেন। আপনি তো বিষ খেয়েই খালাস। কিন্তু পুলিশ যখন বিষের দোকানদারকে খুঁজবে তখন তো আমাকে এসে ধরবে। আপনার মৃত্যুর জন্য আমাকে ফাঁসি দেবে। 
 
এবার মহিলা জিজ্ঞাসা করল–এটার দাম কত দিতে হবে। 
 
দোকানি বলল, আপনি খেয়ে মারা যাবেন, আপনার কাছ থেকেও তো আর আমি বেশি রাখতে পারব না। ১০০ টাকা দেন। অনেক দামি বিষ। তয় দিনের বেলা খাবেন না। রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকবে তখন একা একা খেয়ে ঘুমিয়ে যাবেন। সকালে দেখবেন আপনি এ জগতে আর নেই। 
 
পুরো ঘটনাটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো যেন লাগছে। আমি মনে মনে ভাবলাম দোকানি কি শেষমেশ মহিলাকে মেরেই ছাড়বে? একবার ভাবছিলাম, শেষে মনে হয় মহিলার হাত থেকে বোতলটা কেড়ে নেবেন দোকানি। দোকানির দিকে আমার চাহনি দেখে সে আকার-ইঙ্গিতে কিছু একটা বলতে চাচ্ছে আমাকে। 
 
আমি আবার আগ বাড়িয়ে বললাম। আপনার বাসা কোথায়? তিনি বললেন, রঘুরামপুর। আপনার কি স্বামী নিয়ে সমস্যা?
 
বিষের বোতল নিয়ে মহিলা নির্বিকভাবে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছে। আমি পলকহীনভাবে তার দিকে তাকিয়েছিলাম। এবার দোকানি আমাকে ফিসফিস করে বলল, এটা আদতে কোনো বিষয় নয়। এটা শুধু পানি। এমন কাস্টমার আমাদের কাছে মাঝে মাঝেই আসে। তাদের কথা-বার্তায় অনেক কিছুই আমরা বুঝতে পারি কে গাছে বিষ দিতে কিনছে আর কে খাওয়ার জন্য নিচ্ছে। 
 
হাসপাতালের বারান্দায় মাঝে মাঝে বিষ খাওয়া রোগীদের আমি তাদের পেট ওয়াশ করতে দেখেছি। চার হাত-পা চেপে ধরে মুখের ভেতর পাইপ ঢুকিয়ে পুরো পেট ভরে পানি ভর্তি করে তার পর ওয়াশ করা হয় সেখানে। তখন নরকের দরজা দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না বিষ খাওয়া রোগীকে। যত রোগীই দেখেছি বিষ খাওয়ার পর সে কী আকুতি-মিনতি বেঁচে থাকার জন্য। আবেগের বশে বিষ খায় তারপর সে বিষেরই যখন বিষক্রিয়া যখনই শুরু হয়ে পেটের নাড়িভুঁড়ি জ্বলতে থাকে তখনই বাঁচার আকুতি করতে থাকে তারা। অনেক বাড়িতে বিষ খাওয়া রোগীকে বমি করানোর জন্য মলমূত্র পর্যন্ত খাওয়ানো হয়। এমন দৃশ্য নিজের চোখে দেখেছি। 
 
তবে কেউ বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করতে চায় আবার আমরা আত্মহত্যা করা ছাড়াই বিষের গোলা গলাধঃকরণ করছি। এ থেকে আমাদের বের হতে হবে। খাদ্য নিরাপদ করতে কৃষি অধিদপ্তরকে কৃষক পর্যায় সচেতনতাবোধ তৈরিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে হবে। নইলে বিষের নীরব ঘাতক আমাদের প্রজন্মেও পর প্রজন্মকে তিলে তিলে শেষ করে দেবে।
 
 
মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ
 
তারেক/

 

গরম গরম শিঙাড়া

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
গরম গরম শিঙাড়া
ছবি: সংগৃহীত

সকালের নাশতা থেকে শুরু করে অফিসের ব্যস্ত সময়ের ছোট্ট বিরতি কিংবা বিকেলের প্রাণবন্ত আড্ডা–শিঙাড়া যেন সব মুহূর্তেরই প্রিয় সঙ্গী। ঝুমবৃষ্টি হোক বা প্রচণ্ড রোদ, এই জনপ্রিয় মুখরোচক খাবারের আবেদন কখনো ফিকে হয় না। মচমচে ও খাস্তা আবরণে মোড়া আলু, বাদাম ও সুগন্ধি মসলার পুর, আর তার সঙ্গে টক-মিষ্টি চাটনির দারুণ সমন্বয় তৈরি করে অনন্য এক স্বাদ। এমন স্বাদের শিঙাড়া খেতে বসলে অনেক সময় নামি রেস্তোরাঁর বাহারি খাবারও যেন হার মানতে বাধ্য হয়।

ইতিহাসবিদদের মতে, শিঙাড়ার প্রাচীন রূপ ছিল ‘সাম্বোসা’ বা ‘সাম্বুসাক’ যা পারস্য অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয় ছিল। প্রায় দশম থেকে ১৩০০ শতাব্দীর মধ্যে এই খাবারের উল্লেখ পাওয়া যায় বিভিন্ন পারস্য ও আরবি সাহিত্যে। সে সময় এটি ছিল মাংস, বাদাম ও মসলা দিয়ে তৈরি এক ধরনের ভাজা পিঠা, যা রাজদরবার ও ধনী সমাজে পরিবেশন করা হতো।

আরো পড়ুন: অদ্ভুত এক কবরের গল্প

পরবর্তী সময়ে মুসলিম শাসকদের হাত ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে শিঙাড়ার আগমন ঘটে। দিল্লি সালতানাতের সময় (১৩০০ শতাব্দী) মধ্য এশিয়া থেকে আগত ব্যবসায়ী ও শাসকরাই এই খাবার নিয়ে আসেন। বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা তার ভ্রমণকাহিনিতেও ‘সাম্বুসাক’-এর উল্লেখ করেছেন, যা সে সময়ের রাজকীয় ভোজে পরিবেশন করা হতো।

বাংলায় এসে শিঙাড়া সম্পূর্ণ নতুন এক পরিচয় পায়। এখানে মাংসের পরিবর্তে আলু, মটরশুঁটি, পেঁয়াজ, বাদাম ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি পুর ব্যবহার শুরু হয়। 

কম খরচে পেট ভরানোর উপযোগী হওয়ায় এটি দ্রুতই সাধারণ মানুষের প্রিয় খাবারে পরিণত হয়। বিশেষ করে কলকাতা ও ঢাকার মতো শহরে শিঙাড়া হয়ে ওঠে বিকেলের নাশতার প্রধান আকর্ষণ।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে শিঙাড়ার কিছু আঞ্চলিক বৈচিত্র্যও দেখা যায়। ঢাকার শিঙাড়া সাধারণত ছোট আকারের এবং ভেতরে থাকে আলু, মটরশুঁটি ও কখনো ডিম বা কলিজার কিমা। অন্যদিকে কলকাতার শিঙাড়া তুলনামূলক বড় এবং এতে কাজুবাদাম, কিশমিশ বা ফুলকপিও ব্যবহার করা হয়। আবার কোনো কোনো জায়গায় শিঙাড়ার সঙ্গে পরিবেশন করা হয় টক-ঝাল তেঁতুল চাটনি, সরিষা-তেঁতুলের তৈরি টক বা টমেটো সস, যা এর স্বাদকে বাড়িয়ে তোলে কয়েকগুণ।

শিঙাড়ার জনপ্রিয়তার পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো এর সহজলভ্যতা ও বহুমুখিতা। এটি যেমন ঘরে সহজে তৈরি করা যায়, তেমনি রাস্তার পাশের দোকানেও সহজে পাওয়া যায়। আর তাই শিঙাড়া দিন দিন হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষের খাবারের অন্যতম অনুষঙ্গ।

তারেক/

বিশ্বের অন্যতম প্রশস্ত সড়ক ‘মনুমেন্টাল অ্যাক্সিস’

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
বিশ্বের অন্যতম প্রশস্ত সড়ক ‘মনুমেন্টাল অ্যাক্সিস’
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাজিলিয়ার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিশাল এক সড়ক। নাম মনুমেন্টাল অ্যাক্সিস (Monumental Axis) বা পর্তুগিজ ভাষায় ইক্সো মনুমেন্টাল (Eixo Monumental)। প্রায় ২৫০ মিটার প্রশস্ত এই সড়ককে বিশ্বের সবচেয়ে প্রশস্ত রাস্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আধুনিক নগর পরিকল্পনা, রাষ্ট্রীয় স্থাপত্য এবং ভবিষ্যৎমুখী শহর নির্মাণের এক অনন্য প্রতীক এটি।

মনুমেন্টাল অ্যাক্সিস শুধু একটি রাস্তা নয়; এটি পুরো ব্রাজিলিয়া শহরের মূল অক্ষ, প্রশাসনিক কেন্দ্র এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক। বিশাল এই সড়কটি পূর্ব দিকে অবস্থিত ন্যাশনাল কংগ্রেস অব ব্রাজিল থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক ভবনগুলোর মধ্য দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে।

পরিকল্পিত রাজধানীর কেন্দ্রবিন্দু

১৯৫৬ সালে ব্রাজিল সরকার দেশটির রাজধানী উপকূলীয় শহর রিও দি জেনেইরো (Rio de Janeiro) থেকে দেশের অভ্যন্তর ভাগে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য ছিল দেশের উন্নয়নকে ভৌগোলিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ করা এবং নতুন এক আধুনিক রাজধানী গড়ে তোলা।

তৎকালীন প্রেসিডেন্ট Juscelino Kubitschek-এর নেতৃত্বে শুরু হয় ব্রাজিলিয়া নির্মাণ প্রকল্প। তার বিখ্যাত উন্নয়ন স্লোগান ছিল ‘পাঁচ বছরে ৫০ বছরের অগ্রগতি’। সেই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ১৯৫৬ থেকে ১৯৬০ সালের মধ্যে নির্মিত হয় এই সড়কটি।

আরো পড়ুন: যেসব দেশে বিমানবন্দর নেই

শহরের মূল নকশা তৈরি করেন খ্যাতিমান নগর পরিকল্পনাবিদ লুসিও কোস্টা। তার পরিকল্পনায় শহরকে এমনভাবে গড়ে তোলা হয় যাতে আকাশ থেকে দেখতে এটি অনেকটা উড়োজাহাজ বা পাখির মতো মনে হয়। সেই নকশার মূল অক্ষই হলো মনুমেন্টাল অ্যাক্সিস।

অন্যদিকে শহরের দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক ভবনগুলোর নকশা করেন বিশ্ববিখ্যাত স্থপতি অস্কার নেইমার। তার আধুনিকতাবাদী স্থাপত্যশৈলী ব্রাজিলিয়াকে বিশ্বজুড়ে অনন্য মর্যাদা এনে দেয়।

বিশালতা ও নান্দনিকতার মিশেল

মনুমেন্টাল অ্যাক্সিসের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো এর বিশাল প্রস্থ। প্রায় ২৫০ মিটার প্রশস্ত এই সড়কের দুই পাশে সমান্তরালভাবে একাধিক লেনের রাস্তা রয়েছে। মাঝখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ সবুজ ঘাসের প্রান্তর বা ‘এসপ্ল্যানেড’। ফলে এটি শুধু যান চলাচলের পথ নয়, বরং একটি উন্মুক্ত নগর-অঙ্গন হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

বিশাল খোলা জায়গা, সমান্তরাল স্থাপত্য এবং দীর্ঘ সোজা সড়ক ব্রাজিলিয়াকে এক ভবিষ্যৎমুখী নগরীর আবহ দেয়। রাতে আলোকসজ্জায় পুরো এলাকা যেন বিজ্ঞান কল্পকাহিনির কোনো শহরের দৃশ্য হয়ে ওঠে।

রাষ্ট্রীয় স্থাপত্যের প্রদর্শনী

মনুমেন্টাল অ্যাক্সিসের দুই পাশে ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলো গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো Esplanada dos Ministérios, যেখানে দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ভবন অবস্থিত।

এছাড়া রয়েছে Cathedral of Brasília, Praça dos Três Poderes, Brasília TV Tower, Estádio Nacional Mané Garrincha. এসব স্থাপনা আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর অসাধারণ উদাহরণ হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত।

ইউনেসকোর স্বীকৃতি

পরিকল্পিত আধুনিক রাজধানী হিসেবে ব্রাজিলিয়া বিশ্বে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে। ১৯৮৭ সালে ইউনেসকো শহরটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এটি ছিল বিংশ শতাব্দীতে নির্মিত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রথম নগর, যা এই স্বীকৃতি অর্জন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাজিলিয়া এবং মনুমেন্টাল অ্যাক্সিস আধুনিকতাবাদী নগর পরিকল্পনার অন্যতম সফল উদাহরণ। প্রশস্ত রাস্তা, খোলা সবুজ এলাকা এবং পরিকল্পিত প্রশাসনিক বিন্যাস শহরটিকে অন্য যেকোনো রাজধানী থেকে আলাদা করেছে।

কিছু সমালোচনা

তবে এই বিশাল সড়ক ও গাড়িকেন্দ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনাও আছে। অনেক নগরবিদের মতে, শহরটি পথচারীবান্ধব নয়। বিশাল দূরত্ব এবং প্রশস্ত সড়ক শহরটিকে মানুষের হাঁটার চেয়ে গাড়িনির্ভর করে তুলেছে। ফলে নগরজীবনের স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য কিছুটা কম বলে মত দেন সমালোচকরা।

তবু মনুমেন্টাল অ্যাক্সিস আজও বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় নগর পরিকল্পনার নিদর্শন। এটি কেবল ব্রাজিলের প্রশাসনিক শক্তির প্রতীক নয়; বরং আধুনিক স্থাপত্য, নান্দনিকতা এবং রাষ্ট্রীয় স্বপ্নেরও এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।

তারেক/