যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটন কাউন্টিতে Arlington National Cemetery-এর বিশাল প্রান্তরে সারি সারি সাদা সমাধিফলক নীরবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিটি সমাধিফলকের পেছনে লুকিয়ে আছে এক একটি নীরব গল্প। কখনো সাহসের, কখনো ত্যাগের, কখনো আবার গভীর বেদনার। কিন্তু এই হাজারো সমাধির মাঝেও সেকশন ৩১ নেমপ্লেটের কবরটির গল্প অন্য সবার থেকে আলাদা।
বাইরে থেকে দেখতে এটি একেবারে সাধারণ, অথচ এর নিচে লুকিয়ে আছে বিশ্বের অন্যতম অদ্ভুত ও রহস্যময় সমাধির ইতিহাস।
এ কবরটি মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রকৌশলী Richard Leroy McKinley (১৯৩৩-১৯৬১) এর। তার জীবনের শেষ অধ্যায়টি যেমন করুণ, তেমনি ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা। ১৯৬১ সালে SL‑1 nuclear reactor accident-এ তিনি এবং আরও দুই সেনাসদস্য প্রাণ হারান। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম এবং একমাত্র প্রাণঘাতী পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর মেল্টডাউন। বিস্ফোরণের পর তাদের দেহে এত তীব্র তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে যে, পরিস্থিতি সামাল দেওয়া বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের জন্যও তা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, বলা যায় রীতিমতো অসম্ভব।
আরো পড়ুন: মালির সম্রাটের ঐতিহাসিক হজযাত্রা
ম্যাককিনলির দেহ এতটাই তেজস্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল যে, তাকে সাধারণভাবে দাফন করা সম্ভব ছিল না। তাকে যে স্পর্শ করবে তার শরীরেও তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। এমনকি ভবিষ্যতে যেন কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য নেওয়া হয়েছে অভূতপূর্ব এক নিরাপত্তাব্যবস্থা। তার দেহ রাখা হয় সিসা দিয়ে আবৃত একটি বিশেষ কফিনে, যা পরে একটি কংক্রিট ভল্টের ভেতরে সম্পূর্ণভাবে সিল করে দেওয়া হয়। সাধারণ কবরের তুলনায় প্রায় তিন ফুট বেশি গভীর করে মাটির নিচে সমাহিত করা হয় তাকে। এমনকি United States Atomic Energy Commission থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় একটি স্থায়ী নির্দেশ জারি করা হয়, যাতে এই কবর কখনো খোলা না হয়।
আজ বহু দশক পরে সেই কবরের পাশ দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ হেঁটে যায়, হয়তো না জেনেই যে এর নিচে লুকিয়ে আছে ইতিহাসের এক ভয়ংকর অস্বাভাবিক অধ্যায়। এটি কেবল একজন মানুষের সমাধি নয়; বরং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করা মানুষদের ঝুঁকি ও আত্মত্যাগের এক নিঃশব্দ স্মারক।
Billion Graves-এর ভাষায়, প্রতিটি সমাধিফলকই একটি গল্প বলে। কোথাও ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের স্মৃতি, কোথাও আবার বীরত্বের কাহিনি। আর এই কবর তেজস্ক্রিয়তার আলোয় লেখা ইতিহাসের এক বিরল ও মর্মস্পর্শী গল্প, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার পথ কখনো কখনো কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।
তারেক/
.jpg)