দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্রান্তীয় বৃষ্টিপ্রধান অরণ্যে এক চমৎকার পতঙ্গ চোখে পড়ে। পতঙ্গটির নাম অর্কিড ম্যান্টিস। একে দেখতে শিকারির চেয়ে বরং একটি কোমল ফুলের মতো লাগে। পাপড়ির মতো পা এবং সাদা, গোলাপি ও বেগুনি রঙের কোমল আভা দিয়ে এই অসাধারণ পতঙ্গটি অর্কিড ফুলকে এতটাই নিখুঁতভাবে অনুকরণ করে যে, এটি শিকার এবং মানুষ উভয়কেই বোকা বানিয়ে দেয়।
অর্কিড ম্যান্টিস তার অনুকরণের জন্য বিখ্যাত। যা ফুলের ছদ্মবেশের একটি বিরল রূপ যেখানে প্রাণীটি কেবল লুকায় না, বরং আকর্ষণও করে। অন্যান্য পতঙ্গের মতো নয়, যারা শিকারিদের এড়ানোর জন্য নিজেদের পরিবেশের সঙ্গে মিশে যায়। অর্কিড ম্যান্টিস তার চেহারা ব্যবহার করে মৌমাছি, প্রজাপতি এবং মাছির মতো পতঙ্গদের প্রলুব্ধ করে। এই পরাগবাহকরা এটিকে একটি মিষ্টি ফুল ভেবে আকৃষ্ট হয় কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারাই ম্যান্টিসের পরবর্তী খাবারে পরিণত হয়।
আরো পড়ুন: উল্টো লিখলেও সোজা দেখায় যে ভাষা
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, ম্যান্টিস এতটাই বিশ্বাসযোগ্য যে এটি কাছাকাছি থাকা আসল ফুলের চেয়েও বেশি পরাগবাহী পতঙ্গকে আকর্ষণ করতে পারে। তাই এটিকে পতঙ্গ জগতের অন্যতম ওঁৎ পেতে থাকা শিকারি বলা যায়। অর্কিড ম্যান্টিস এক দক্ষ শিকারি। এটি দীর্ঘ সময় ধরে একদম স্থির থেকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে। শিকার নাগালের মধ্যে এলেই এটি তার সামনের পা ব্যবহার করে বিদ্যুতের গতিতে আঘাত হানে এবং এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে শিকারকে ধরে ফেলে।
অর্কিড স্ত্রীরা পুরুষদের চেয়ে অনেক বড় হয় কখনো কখনো দ্বিগুণ এবং তাদের রংও বেশি উজ্জ্বল হয়। আকারের এই পার্থক্য প্রজননেও ভূমিকা রাখে। কারণ স্ত্রীরা প্রভাবশালী হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে সঙ্গমের পর পুরুষটিকে খেয়েও ফেলতে পারে। এই আচরণটি যৌন নরখাদকতা নামে পরিচিত।
অর্কিড ম্যানটিসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে একটি হলো এর রং পরিবর্তন করার ক্ষমতা। আর্দ্রতা এবং আলোর মতো পরিবেশগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে এটি কয়েক দিনের মধ্যে সাদা এবং গোলাপি রঙে পরিবর্তন হতে পারে। এই ক্ষমতা একে আশপাশের ফুলের সঙ্গে আরও ভালোভাবে মিশে যেতে এবং নিজের ছদ্মবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
এই চমৎকার পতঙ্গটি এশিয়ার মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে পাওয়া যায়। এটি রেইনফরেস্ট, বাগান ও ফুলের সমারোহ আছে এমন জায়গায় বেশি দেখা যায়।
অর্কিড ম্যান্টিস হলো কীভাবে সৌন্দর্য ও সৃজনশীলতা উভয়ই সৃষ্টি করতে পারে তার একটি নিখুঁত উদাহরণ। এটি শুধু একটি পতঙ্গ নয় বরং ফুলের ছদ্মবেশে এক শিকারি।
তারেক/
.jpg)