বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের হামলায় নিহত শিশু ফাতেমার মা ভারসাম্যহীন ফজিলা বেগম (৩৫) দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর পরিবারের ফিরে পেয়েছেন স্বজনদের।
ফাতেমার মৃত্যুর সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ফজিলার পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করতে বাগেরহাটে ছুটে আসেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে ফজিলার মা, ভাই ও সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্য খানজাহান আলী (রহ.) মাজার এলাকায় উপস্থিত হন।
পরে মাজার কর্তৃপক্ষ তাদের বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠান।
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা বিভাগ, পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং পরিচয় নিশ্চিত করার পর ভারসাম্যহীন ফজিলাকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফজিলা বেগম প্রায় তিন বছর আগে নিখোঁজ হন। তার সংসারে দুই ছেলে ও তিন মেয়েসহ মোট পাঁচ সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি কুমিরের হামলায় নিহত ফাতেমা ছিল তার সবচেয়ে ছোট সন্তান।
ফজিলার ছোট ভাই মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, প্রায় তিন বছর আগে আমার বোন হারিয়ে গিয়েছিল। আজ তাকে ফিরে পেয়ে আমরা আনন্দিত। তবে আমার ছোট ভাগ্নি ফাতেমার মৃত্যুর কষ্ট আমাদের বেদনার মধ্যে রেখেছে।
ফজিলার মা হাজরা খাতুন বলেন, আমার মেয়েকে ফিরে পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। যদি আমার নাতনিসহ সবাইকে সুস্থভাবে পেতাম, তাহলে আরও বেশি খুশি হতাম।
এদিকে ফজিলা বেগম স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে না পারলেও বারবার একটি কথাই বলার চেষ্টা করেন আমি আমার মেয়েকে ছেড়ে যাব না।
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, ফজিলার পরিবারের সদস্যরা সকালে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে সমাজসেবা কর্মকর্তা, বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরিচয় নিশ্চিত করে তাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে কুমিরের হামলায় শিশু ফাতেমার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোকের সৃষ্টি হয়।
রিফাত আল মাহামুদ/এসএন