সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় জিরার চোরাচালান বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই জৈন্তাপুরে একটি গোপন গুদামে অভিযান চালিয়ে ৭৫ বস্তা জিরা জব্দ করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জৈন্তাপুর থানা পুলিশ এ তথ্য জানায়।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত এ অভিযান চলে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী জব্দ এই ৭৫ বস্তা জিরার মূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা।
পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে জৈন্তাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বালিপাড়া গ্রামের জমির উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় টিনশেডের ঘর থেকে ভারতীয় ৭৫বস্তা জিরা জব্দ করা হয়। পুলিশের অভিযান টের পেয়ে বাড়ির মালিকসহ চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়।
অভিযানসংশ্লিষ্ট পুলিশ সূ্ত্র আরও জানায়, দীর্ঘদিন থেকে জৈন্তাপুরের সীমান্ত চারিকাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে চোরাকারবারি দলের প্রধান শাহজানের নেতৃত্বে চোরাচালানপণ্য পচারে হরিপুর এলাকায় বিভিন্ন গুদামে ভারতীয় জিরা মজুত চলছিল। গোপন সূত্রে বিষয়টি জেনে অভিযান চালায় পুলিশ। এক পর্যায় পুলিশ বেশ কয়েকটি গুদামের সন্ধান পায়। কিন্তু এসব গুদামে চোরাচালানপণ্য মজুদের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় অভিযান চালায় সম্ভব হচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার চোরাচালানপণ্য মজুত আছে, তা নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালায়।
ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের পর গুদামজাত করা জিরার চোরাচালান জব্দ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা।
তিনি বলেন, নানা সময়ে চোরাকারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত পথ দিয়ে এসব পণ্য এনে বিভিন্ন জায়গায় মজুত করে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই আবার এসব পণ্যগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। চোরাচালান রোধ ঠেকাতে পুলিশ বেশ কয়েকটি গুদাম ইতোমধ্যে চিহ্নিত করেছে। এগুলোতে পণ্য মজুত না থাকায় পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে।
গত ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিলেটের সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় জিরার চোরাচালান বেড়ে যায়। ভারত ও বাংলাদেশের বাজারে জিরার দামের পার্থক্যের কারণে চোরাকারবারিরা এ সুযোগ নেয়।
এ বিষয়ে গত ১৭ মে ‘সিলেটে চোরাই জিরার জোয়ার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে ২৩ মে কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী লোভা নদী এলাকা দিয়ে জিরা চোরাচালানের চিত্র তুলে ধরে ‘সিলেট সীমান্তে রাতভর বুঙ্গার বাইচ, আসছে ভারতীয় জিরা’ শিরোনামে আরেকটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।