চাঁদপুরে কয়েকদিন ধরে চলমান গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রখর রোদ ও অসহনীয় তাপমাত্রার কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, রিকশাচালক, শ্রমিক, কৃষক ও পথচারীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। বাতাসে উচ্চ আর্দ্রতার কারণে গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র রোদ দেখা যায়। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে মানুষের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। শহরের চায়ের দোকান, ফলের দোকান ও শরবতের দোকানগুলোতে তুলনামূলকভাবে ভিড় বেড়েছে।
ফরিদগঞ্জ এলাকার রিকশাচালক আবদুল খালেক বলেন, রোদে বেশিক্ষণ থাকা যাচ্ছে না। বারবার পানি খেতে হচ্ছে। তারপরও মাথা ঘুরানোর মতো অবস্থা হচ্ছে।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (মিডিয়া ফ্রন্টলাইন) চাঁদপুর জেলা ফিল্ড রিসার্চ কর্মকর্তা মো. আজাদ হোসেন জানান, মাঠপর্যায়ের কাজে গরমে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, দুপুর ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত রোদে না যাওয়ার জন্য অফিস থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ছাতা ব্যবহার, ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান এবং পর্যাপ্ত পানি সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুরের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে গরমজনিত অসুস্থতার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসকরা শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা পর্যাপ্ত পানি পান, ওআরএস গ্রহণ এবং অপ্রয়োজনে রোদে চলাচল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।
চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আসিবুল আহসান বলেন, অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান এবং দীর্ঘ সময় রোদে না থাকার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
চাঁদপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা শাহ মো. শোয়েব জানান, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা মৃদু তাপপ্রবাহের মধ্যে পড়ে। তবে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি হওয়ায় মানুষের অস্বস্তি বাড়ছে। তিনি আরও জানান গত ৩ দিন ধরেই জেলায় তাপমাত্রা অপরিবর্তিত রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে ১–২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। ফলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। এছাড়া এ মাসে ২–৩টি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফয়েজ আহমেদ/এসএন