ঢাকা ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে: জি এম কাদের যে বিশ্বাস মানুষের জীবনে এনে দেয় অভাবনীয় ৬টি পরিবর্তন? জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় জাতীয় সংসদ: স্পিকার চামড়া নৈরাজ্য অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত ৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী গাজীপুরে বাসচাপায় অটোচালকসহ নিহত ২ আছিয়া থেকে রামিসা: বিচার কোথায়? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ঈশ্বরগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় তরুণের মৃত্যু, চেয়ারম্যানসহ ৩১ জনের নামে মামলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু কুমিরের হামলায় নিহত শিশু ফাতেমার মা  ফিরলেন পরিবারের কাছে নিখোঁজের ৪ দিন পর বিলে মিলল যুবদলকর্মীর মরদেহ, আটক ৫ দুর্নীতি ঠেকাতে বন্দরকে ডিজিটালাইজড করা হবে: অর্থমন্ত্রী চাঁদপুরে গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস রংপুরের জনজীবন থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল মোরেলগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৩, বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং ‘কোচিং সেন্টার’ বিতর্ক সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র ময়মনসিংহে বজ্রপাতে শিক্ষকসহ ২ জনের মৃত্যু পাসপোর্ট ও বিদেশযাত্রার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে উখিয়ায় পারিবারিক কলহে গৃহবধূ নিহত, স্বামী-শাশুড়ি গ্রেপ্তার প্রখর রোদে পথচলতি মানুষের হাতে শরবত ও পানি গাংনীতে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৩ হাওর অঞ্চলের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে জাতীয় অগ্রাধিকারে রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান হাম-উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
Nagad desktop

৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী

শুক্রবার (৫ জুন) দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক-এ ভূষিত কিংবদন্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলা ব্যান্ড সংগীতের পথিকৃৎ, ব্যান্ড সংগীত আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পুরোধা এবং রক অ্যান্ড পপ গুরু আজম খানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।

বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে যে কয়েকজন শিল্পীর নাম চিরকাল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং গৌরবের সঙ্গে উচ্চারিত হবে, তাঁদের মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছেন রক অ্যান্ড পপ গুরু আজম খান। তিনি শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রতীক, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের তরুণ সমাজের কণ্ঠস্বর এবং বাংলা ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম প্রধান স্থপতি।

১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন আজম খান। কৈশোর থেকেই খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং সংগীতচর্চার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি অস্ত্র হাতে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি ২ নম্বর সেক্টরের একজন সম্মুখসমরের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে ফিরে এসে তিনি হাতে তুলে নেন গিটার। নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের তরুণদের জন্য নতুন ভাষা, নতুন সুর এবং নতুন সাংস্কৃতিক চেতনার সূচনা করেন তিনি। সত্তরের দশকের শুরুতে ‘ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী’-তে গান পরিবেশনের মাধ্যমে তাঁর সংগীতযাত্রা শুরু হয়। 

পরবর্তীতে তিনি গঠন করেন কিংবদন্তি ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’, যা বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে।

যে সময়ে ব্যান্ড সংগীতকে অনেকেই ‘অপসংস্কৃতি’ বলে আখ্যায়িত করতেন, সেই সময় আজম খান এবং উচ্চারণ সাহসিকতার সঙ্গে বাংলা ভাষায় রক, পপ এবং ফোক উপাদানের সমন্বয়ে নতুন ধারার সংগীত পরিবেশন করেন। তাঁদের পরিবেশনা শুধু জনপ্রিয়তাই পায়নি, বরং বাংলা ব্যান্ড সংগীতকে জাতীয় সংস্কৃতির মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

উচ্চারণ এবং আজম খানের জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে— হৃদয় সাগর মরুভূমি, বাংলাদেশ, মা গো মা, সালেকা মালেকা, আলাল ও দুলাল, প্রেম চিরদিন দূরে দূরে, অভিমানী, পাপড়ি, জীবন সাথী, চুপ চুপ চুপ, হায় আল্লাহ, আসি আসি, জীবনে কিছু পাবো না প্রভৃতি। এই গানগুলোর অনেকগুলোই আজ বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং নতুন প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে জনপ্রিয়।

বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীতকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে আজম খানের অবদান ছিল অসামান্য। তিনি এমন এক সময়ে ব্যান্ড সংগীতকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন, যখন এ ধারার সংগীতকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখতেন। তাঁর সাহসী পদক্ষেপ, ভিন্নধর্মী সংগীতচিন্তা এবং সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলা গানগুলো তরুণ সমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তাঁর হাত ধরেই পরবর্তী সময়ে দেশের অসংখ্য ব্যান্ড গড়ে ওঠে এবং বাংলা ব্যান্ড সংগীত আজকের মর্যাদায় পৌঁছায়।

সংগীতজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে কিংবদন্তি ব্যান্ড সোলস-এর ২০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে তাঁকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে চ্যানেলে আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড-এ তাঁকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

বাংলাদেশ সরকার তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তরভাবে দেশের সর্বোচ্চ দুই রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করে— একুশে পদক (২০১৯) এবং স্বাধীনতা পদক (২০২৫)।

তবে আজম খান নিজে পুরস্কার ও সম্মাননার চেয়ে মানুষের ভালোবাসাকেই বেশি মূল্য দিতেন। তিনি প্রায়ই বলতেন— “আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার আমার গানের প্রতি মানুষের ভালোবাসা।”

দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর ২০১১ সালের ৫ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যু কেবল শারীরিক প্রস্থান; তাঁর গান, দর্শন, সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলন আজও বেঁচে আছে লাখো মানুষের হৃদয়ে।

উচ্চারণ ব্যান্ডের বিভিন্ন সময়ের লাইন-আপ 

১৯৭২ সালে উচ্চারণের প্রথম লাইন-আপে লিড ভোকালে ছিলেন আজম খান, লিড গিটারে ইশতিয়াক রহমান, বেজ গিটারে ল্যারি, রিদম গিটারে নীলু, ড্রামসে ইদু, কঙ্গায় হাবলু এবং সাইড ভোকালে ছিলেন বাবু। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীতের প্রথম দিককার পরীক্ষামূলক ও সাহসী যাত্রাগুলোর অন্যতম ছিল এই লাইন-আপ।
১৯৭৬ সালে উচ্চারণ পুনর্গঠিত হলে আজম খানের সঙ্গে যুক্ত হন লিড গিটারিস্ট নয়ন হক মুন্সী, রিদম গিটার ও সাইড ভোকালে দুলাল জোহা, বেজ গিটারে ফুয়াদ নাসের, কঙ্গায় কাজল এবং ড্রামসে পেয়ারু খান। এই লাইন-আপের সময়েই ‘আলাল ও দুলাল’-এর মতো গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং উচ্চারণ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ডে পরিণত হয়।

উচ্চারণ ব্যান্ডের বর্তমান সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

আশির দশকে উচ্চারণের সংগীতায়োজনে নতুন মাত্রা যোগ করেন রকেট। এ সময় আজম খানের সঙ্গে লিড গিটারে রকেট, বেজ গিটারে মাসুম হায়দার, রিদম গিটার ও সাইড ভোকালে দুলাল জোহা এবং ড্রামসে বাবু নিয়মিত পারফর্ম করতেন। ‘অভিমানী’, ‘জীবন সাথী’ এবং ‘পাপড়ি’র মতো জনপ্রিয় গান এই সময়ে ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা অর্জন করে।
নব্বইয়ের দশক থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আজম খানের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে প্রায় অর্ধশতাধিক সংগীতশিল্পী কাজ করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রেবেল (ভোকাল), ইফরান (লিড গিটার), জুবরান (বেজ গিটার), তপু (ড্রামস) এবং আরও অনেক প্রতিভাবান সংগীতশিল্পী, যারা বিভিন্ন সময়ে উচ্চারণের মঞ্চ ও রেকর্ডিং কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

উচ্চারণ ব্যান্ডের পুনর্গঠন ও বর্তমান কার্যক্রম

আজম খানের পরিবারের প্রত্যক্ষ সমর্থনে এবং তাঁর সৃজনকর্মের কপিরাইট ও রয়্যালটি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কুল এক্সপোজার-এর উদ্যোগে, চ্যানেল আই ও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের সহযোগিতায় কিংবদন্তি ব্যান্ড উচ্চারণ নতুনভাবে পুনর্গঠিত হয়ে আবারও নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেছে।

বর্তমানে উচ্চারণ ব্যান্ডের লাইন-আপে রয়েছেন দুলাল জোহা (ভোকাল ও রিদম গিটার), পেয়ারু খান (ভোকাল ও পারকাশন), সেকান্দার আহমেদ খোকা (বেজ গিটার), পার্থ মজুমদার (লিড গিটার), প্রেম (সাইড ভোকাল ও কিবোর্ড) এবং বাপ্পি (ড্রামস)।

ইতোমধ্যে উচ্চারণ অংশগ্রহণ করেছে টিএমএমএস-চ্যানেলে আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড, চ্যানেল আই মিউজিক ফেস্ট, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠিত কনসার্ট, বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং দেশের নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে। তাদের পরিবেশনা দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শক-শ্রোতার প্রশংসা অর্জন করেছে।

/এসএল

৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী

শুক্রবার (৫ জুন) দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক-এ ভূষিত কিংবদন্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলা ব্যান্ড সংগীতের পথিকৃৎ, ব্যান্ড সংগীত আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পুরোধা এবং রক অ্যান্ড পপ গুরু আজম খানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।

বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে যে কয়েকজন শিল্পীর নাম চিরকাল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং গৌরবের সঙ্গে উচ্চারিত হবে, তাঁদের মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছেন রক অ্যান্ড পপ গুরু আজম খান। তিনি শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রতীক, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের তরুণ সমাজের কণ্ঠস্বর এবং বাংলা ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম প্রধান স্থপতি।

১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন আজম খান। কৈশোর থেকেই খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং সংগীতচর্চার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি অস্ত্র হাতে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি ২ নম্বর সেক্টরের একজন সম্মুখসমরের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে ফিরে এসে তিনি হাতে তুলে নেন গিটার। নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের তরুণদের জন্য নতুন ভাষা, নতুন সুর এবং নতুন সাংস্কৃতিক চেতনার সূচনা করেন তিনি। সত্তরের দশকের শুরুতে ‘ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী’-তে গান পরিবেশনের মাধ্যমে তাঁর সংগীতযাত্রা শুরু হয়। 

পরবর্তীতে তিনি গঠন করেন কিংবদন্তি ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’, যা বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে।

যে সময়ে ব্যান্ড সংগীতকে অনেকেই ‘অপসংস্কৃতি’ বলে আখ্যায়িত করতেন, সেই সময় আজম খান এবং উচ্চারণ সাহসিকতার সঙ্গে বাংলা ভাষায় রক, পপ এবং ফোক উপাদানের সমন্বয়ে নতুন ধারার সংগীত পরিবেশন করেন। তাঁদের পরিবেশনা শুধু জনপ্রিয়তাই পায়নি, বরং বাংলা ব্যান্ড সংগীতকে জাতীয় সংস্কৃতির মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

উচ্চারণ এবং আজম খানের জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে— হৃদয় সাগর মরুভূমি, বাংলাদেশ, মা গো মা, সালেকা মালেকা, আলাল ও দুলাল, প্রেম চিরদিন দূরে দূরে, অভিমানী, পাপড়ি, জীবন সাথী, চুপ চুপ চুপ, হায় আল্লাহ, আসি আসি, জীবনে কিছু পাবো না প্রভৃতি। এই গানগুলোর অনেকগুলোই আজ বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং নতুন প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে জনপ্রিয়।

বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীতকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে আজম খানের অবদান ছিল অসামান্য। তিনি এমন এক সময়ে ব্যান্ড সংগীতকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন, যখন এ ধারার সংগীতকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখতেন। তাঁর সাহসী পদক্ষেপ, ভিন্নধর্মী সংগীতচিন্তা এবং সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলা গানগুলো তরুণ সমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তাঁর হাত ধরেই পরবর্তী সময়ে দেশের অসংখ্য ব্যান্ড গড়ে ওঠে এবং বাংলা ব্যান্ড সংগীত আজকের মর্যাদায় পৌঁছায়।

সংগীতজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে কিংবদন্তি ব্যান্ড সোলস-এর ২০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে তাঁকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে চ্যানেলে আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড-এ তাঁকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

বাংলাদেশ সরকার তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তরভাবে দেশের সর্বোচ্চ দুই রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করে— একুশে পদক (২০১৯) এবং স্বাধীনতা পদক (২০২৫)।

তবে আজম খান নিজে পুরস্কার ও সম্মাননার চেয়ে মানুষের ভালোবাসাকেই বেশি মূল্য দিতেন। তিনি প্রায়ই বলতেন— “আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার আমার গানের প্রতি মানুষের ভালোবাসা।”

দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর ২০১১ সালের ৫ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যু কেবল শারীরিক প্রস্থান; তাঁর গান, দর্শন, সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলন আজও বেঁচে আছে লাখো মানুষের হৃদয়ে।

উচ্চারণ ব্যান্ডের বিভিন্ন সময়ের লাইন-আপ 

১৯৭২ সালে উচ্চারণের প্রথম লাইন-আপে লিড ভোকালে ছিলেন আজম খান, লিড গিটারে ইশতিয়াক রহমান, বেজ গিটারে ল্যারি, রিদম গিটারে নীলু, ড্রামসে ইদু, কঙ্গায় হাবলু এবং সাইড ভোকালে ছিলেন বাবু। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীতের প্রথম দিককার পরীক্ষামূলক ও সাহসী যাত্রাগুলোর অন্যতম ছিল এই লাইন-আপ।
১৯৭৬ সালে উচ্চারণ পুনর্গঠিত হলে আজম খানের সঙ্গে যুক্ত হন লিড গিটারিস্ট নয়ন হক মুন্সী, রিদম গিটার ও সাইড ভোকালে দুলাল জোহা, বেজ গিটারে ফুয়াদ নাসের, কঙ্গায় কাজল এবং ড্রামসে পেয়ারু খান। এই লাইন-আপের সময়েই ‘আলাল ও দুলাল’-এর মতো গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং উচ্চারণ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ডে পরিণত হয়।

উচ্চারণ ব্যান্ডের বর্তমান সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

আশির দশকে উচ্চারণের সংগীতায়োজনে নতুন মাত্রা যোগ করেন রকেট। এ সময় আজম খানের সঙ্গে লিড গিটারে রকেট, বেজ গিটারে মাসুম হায়দার, রিদম গিটার ও সাইড ভোকালে দুলাল জোহা এবং ড্রামসে বাবু নিয়মিত পারফর্ম করতেন। ‘অভিমানী’, ‘জীবন সাথী’ এবং ‘পাপড়ি’র মতো জনপ্রিয় গান এই সময়ে ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা অর্জন করে।
নব্বইয়ের দশক থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আজম খানের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে প্রায় অর্ধশতাধিক সংগীতশিল্পী কাজ করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রেবেল (ভোকাল), ইফরান (লিড গিটার), জুবরান (বেজ গিটার), তপু (ড্রামস) এবং আরও অনেক প্রতিভাবান সংগীতশিল্পী, যারা বিভিন্ন সময়ে উচ্চারণের মঞ্চ ও রেকর্ডিং কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

উচ্চারণ ব্যান্ডের পুনর্গঠন ও বর্তমান কার্যক্রম

আজম খানের পরিবারের প্রত্যক্ষ সমর্থনে এবং তাঁর সৃজনকর্মের কপিরাইট ও রয়্যালটি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কুল এক্সপোজার-এর উদ্যোগে, চ্যানেল আই ও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের সহযোগিতায় কিংবদন্তি ব্যান্ড উচ্চারণ নতুনভাবে পুনর্গঠিত হয়ে আবারও নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেছে।

বর্তমানে উচ্চারণ ব্যান্ডের লাইন-আপে রয়েছেন দুলাল জোহা (ভোকাল ও রিদম গিটার), পেয়ারু খান (ভোকাল ও পারকাশন), সেকান্দার আহমেদ খোকা (বেজ গিটার), পার্থ মজুমদার (লিড গিটার), প্রেম (সাইড ভোকাল ও কিবোর্ড) এবং বাপ্পি (ড্রামস)।

ইতোমধ্যে উচ্চারণ অংশগ্রহণ করেছে টিএমএমএস-চ্যানেলে আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড, চ্যানেল আই মিউজিক ফেস্ট, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠিত কনসার্ট, বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং দেশের নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে। তাদের পরিবেশনা দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শক-শ্রোতার প্রশংসা অর্জন করেছে।

/এসএল

শিল্পী সমিতির নির্বাচন করবেন না বাপ্পারাজ

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
শিল্পী সমিতির নির্বাচন করবেন না বাপ্পারাজ
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল—আসন্ন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা গণমাধ্যমকে নিজেই জানিয়েছিলেন তিনি। বাপ্পারাজের প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল ‘চাঁদের আলো’খ্যাত চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তির। চলচ্চিত্রাঙ্গনে যখন আলোচনা তুঙ্গে ঠিক তখনই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বাপ্পারাজ। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানিয়েছেন রুমানা ইসলাম মুক্তি।
এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘একটি খুদে বার্তায় সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার বিষয়টি বাপ্পা ভাই আমাকে জানিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় উল্লেখ করেছেন। বাপ্পারাজ ভাই সরে দাঁড়ানোয় আমাদের প্যানেলে সভাপতি পদে কে নির্বাচন করবেন তা এখনো ঠিক করিনি। আশাকরি দুই/একদিনের মধ্যে সেটা জানাতে পারবো।’
নির্বাচন না করার বিষয়ে গণমাধ্যমকে বাপ্পারাজ বলেন, ‘শিল্পী সমিতি আমার নিজের সংগঠন। সবসময় শিল্পীদের পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব। তবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কিছু কারণে এবার নির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। সবার জন্য শুভকামনা রইল।’
গত ২৪ এপ্রিল শেষ হয়েছে মিশা সওদাগর ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল কার্যনির্বাহী পরিষদের (২০২৪-২৬) মেয়াদ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন অর্থাৎ ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এভাবে বাপ্পারাজের নির্বাচন থেকে তার সরে দাঁড়ানোর খবরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। 

ফোর্বসের তালিকায় হানিয়া আমির

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
ফোর্বসের তালিকায় হানিয়া আমির

পাকিস্তানের জনপ্রিয় মডেল অভিনেত্রী হানিয়া আমির। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিত তিনি। ক্যারিয়ারে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক অর্জন রয়েছে তার। এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি পেলেন পাকিস্তানের এই মডেল অভিনেত্রী। বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ফোর্বসে প্রকাশিত ‘৩০ আন্ডার ৩০ এশিয়া ২০২৬’ তালিকায় জায়গা পেয়েছেন হানিয়া আমির।

প্রতিবছর এশিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ প্রভাব ও সাফল্য অর্জনকারী ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণ-তরুণীদের নিয়ে ‘ফোর্বস ৩০ আন্ডার ৩০ এশিয়া’ তালিকা প্রকাশ করা হয়। চলতি বছরের এই তালিকায় বিনোদন ও ক্রীড়া বিভাগে স্থান করে নিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই তারকা।

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি অনুসারী থাকা পাকিস্তানি নারী তারকাদের অন্যতম হানিয়া আমির। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা দুই কোটিরও বেশি। অভিনয়, বিনোদন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার প্রভাব ও জনপ্রিয়তার স্বীকৃতিস্বরূপই তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের শেষ দিকে ‘ইউএন উইমেন’-এর জাতীয় শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দায়িত্ব পান হানিয়া আমির। তবে ফোর্বসের এই স্বীকৃতি হানিয়ার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বর্তমানে একটি বড় আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন হানিয়া আমির। তিনি একটি ঐতিহাসিক পাকিস্তানি অরিজিনাল সিরিজে অভিনয় করছেন, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ‘জানান’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয় জগতে যাত্রা শুরু করেন হানিয়া আমির। এরপর ধারাবাহিকভাবে নাটক ও সিনেমায় অভিনয় করে পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

/এসএল

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের দুই বিভাগে পরিবর্তন

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের দুই বিভাগে পরিবর্তন
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩ ঘোষনার পর থেকেই শুরু হয়েছিল বিতর্ক। এই বিতর্কের জেরে অবশেষে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে পরিবর্তন করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার নতুন প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে আজীবন সম্মাননা ও সেরা চিত্রনাট্য—এই দুই বিভাগে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ফলাফল ঘোষণার পর কয়েকটি বিভাগে জুরিবোর্ডের সুপারিশ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে আজীবন সম্মাননা এবং সেরা চিত্রনাট্য বিভাগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তৈরি হলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন প্রজ্ঞাপনে বড় পরিবর্তন এসেছে আজীবন সম্মাননা বিভাগে। জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক আব্দুল লতিফ বাচ্চুকে আজীবন সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। তবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের নীতিমালা অনুযায়ী এই সম্মাননার জন্য জীবিত ব্যক্তিদের বিবেচনা করার বিধান রয়েছে। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগেই দুজনের মৃত্যু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তারেক মাসুদ ও আবদুল লতিফ বাচ্চুকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হবে। অন্যদিকে আজীবন সম্মাননা যৌথভাবে পাচ্ছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম এবং চলচ্চিত্র সম্পাদক ফজলে হক। এ ছাড়া সেরা চিত্রনাট্য বিভাগেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনে ‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রের জন্য নিয়ামুল মুক্তাকে সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে অভিযোগ ওঠে, তিনি ছবিটির চিত্রনাট্য রচনা করেননি। বিষয়টি পর্যালোচনার পর সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে ‘রক্তজবা’ সিনেমার প্রকৃত চিত্রনাট্যকার হিসেবে তাসনীমুল হাসানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগেও পরিবর্তন এসেছে।

ভিন্ন আয়োজনে নরসিংদীতে ‘ইত্যাদি’

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
ভিন্ন আয়োজনে নরসিংদীতে ‘ইত্যাদি’
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার ধারাবাহিকতায় এবার নরসিংদীতে আয়োজন করা হয়েছে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগরে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের সামনে মঞ্চ নির্মাণ করে নতুন পর্বের শুটিং সম্পন্ন হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই নরসিংদীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে থাকছে বর্ণিল নৃত্যগীত। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর করেছেন হানিফ সংকেত। সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন তানজিনা রুমা ও রাজিব।
এবারের পর্বে আরও থাকছে নরসিংদীর সন্তান শিল্পী ইমন চৌধুরী ও তার দল বেঙ্গল সিম্ফনির পরিবেশনায় একটি ফোক-ফিউশন গান। গানের কথা লিখেছেন জুয়েল আহমেদ ও কবির বকুল, সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন ইমন চৌধুরী নিজেই।
এ ছাড়া থাকছে প্রাচীন প্রত্নস্থল উয়ারী-বটেশ্বর, নরসিংদীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, জেলার কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব এবং বিখ্যাত তাঁতশিল্প নিয়ে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। নিয়মিত আয়োজন হিসেবে থাকছে কাশেম টিভির সাংবাদিক ও নাতির মজার আড্ডা এবং সামাজিক অসঙ্গতি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক নাট্যাংশ।
অনুষ্ঠানটি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। ‘ইত্যাদি’র নতুন এই পর্বটি ৫ জুন, শুক্রবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রচারিত হবে।