দিনাজপুরে গত কয়েকদিন ধরে মাঝারি ধরনের দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালকরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার বিকেল ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সূর্যের তাপমাত্রা আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কউকে বাইরে বের হতে দেখা যায়নি।
শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমে ক্লান্ত মানুষজন স্বস্তির খোঁজে ডাব ও আখের রসের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। কেউ ঠাণ্ডা পানি পান করছেন, কেউ আবার গাছের ছায়ায় বসে কিছুটা স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেক রিকশা ও ভ্যানচালককে রাস্তার পাশে গাছের নিচে বসে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ ভ্যানগাড়ির ওপর বসে দীর্ঘ সময় বিশ্রাম নিচ্ছেন।
শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক মো. আব্দুল জলিল বলেন, সকাল থেকেই গরমের তীব্রতা বেশি। দুপুরের দিকে চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। রোদে বের হলেই মাথা ঝিমঝিম করে। যাত্রীও কমে গেছে। আগে যেখানে দিনে হাজার টাকার মতো আয় হতো, এখন ৭০০-৮০০ টাকার বেশি হয় না।
আরেক রিকশাচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুর ১২টার পর রাস্তায় মানুষ কমে যায়। গরমে অনেক সময় রিকশা থামিয়ে ছায়ায় বসে থাকতে হয়। এতে আয় কমে যাচ্ছে। কিন্তু শরীরের কথা চিন্তা করেও তো চলতে হবে।
বাহাদুরবাজার এলাকায় রিকশাচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, 'গরমে প্যাডেল মারতে খুব কষ্ট হয়। ঘন ঘন পানি খেতে হচ্ছে। অনেক সময় যাত্রী নামিয়ে গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিতে হয়। এমন গরমে কাজ করা সত্যিই কঠিন।
রেলবাজার এলাকার ডাব বিক্রেতা মো. সাইদুর রহমান বলেন, কয়েকদিন ধরে বিক্রি অনেক বেড়েছে। আগে যেখানে দিনে ৮০ থেকে ১০০টি ডাব বিক্রি হতো, এখন ১৫০টিরও বেশি বিক্রি হচ্ছে। মানুষ গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে ডাব খাচ্ছেন।
ব্যাংকার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অফিসের কাজে বাইরে বের হতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যাচ্ছে। তাই ডাবের পানি খেয়ে কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করছি।
কলেজছাত্রী তানজিলা আক্তার বলেন, ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার পথে গরমে খুব কষ্ট হয়। তাই মাঝে মাঝে ডাব বা আখের রস খেয়ে শরীর ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করি।
দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. আসিফ ফেরদৌস বলেন, এ ধরনের দাবদাহে শিশু, বয়স্ক এবং শ্রমজীবী মানুষদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা খাবার খাওয়া এবং প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের তীব্র রোদে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সুলতান মাহমুদ/ আজহার/