পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী নীল তিমি। সমুদ্রের গভীরে যার বিচরণ। এই স্তন্যপায়ী প্রাণী অন্যান্য মাছদের মতো ডিম দেয় না বরং বাচ্চা প্রসব করে। তারা বাতাস শ্বাস নেয়, উষ্ণ রক্ত আছে এবং তাদের বাচ্চাদের খাওয়ায়। তিমি মাছ তার বাচ্চাদের দুধ পান করায়। গভীর সমুদ্রে তারা তাদের বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর সময় কোনো ধরনের অসুবিধা হয় না। কেননা তিমি মাছের দুধ পানিতে মিশে না! গভীর সমুদ্রের পানিতে দ্রবীভূত না হয়ে বরং ঘন মেঘের মতো আকৃতি তৈরি করে। ফলে শিশু তিমি সহজেই দুধ পান করতে পারে। এই অদ্রবীভূত দুধ যেন সাগরের গহীনে আরেক বিস্ময় তৈরি করেছে।
নীল তিমি প্রকৃতিতে সবচেয়ে সমৃদ্ধ দুধ উৎপন্ন করে। গবেষকদের মতে তিমির দুধে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ চর্বি থাকতে পারে, যেখানে গরুর দুধে থাকে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ চর্বি। এমনকি মানুষের দুধের (প্রায় ৪ শতাংশ) চেয়েও অনেক ঘন। এই কারণেই বিজ্ঞানীরা তিমির দুধকে জলীয় দুধের পরিবর্তে টুথপেস্টের মতো গঠনের বলে বর্ণনা করেছেন। এই ঘন দুধ পুষ্টিতে ভরপুর, যা শিশু তিমিকে অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং প্রতিদিন প্রায় ৯০ কেজি ওজন বৃদ্ধি করে। যেহেতু নীল তিমির মায়েরা দুধ খাওয়ানোর সময় খুব বেশি খায় না। তাই তাদের এই সমৃদ্ধ, চর্বিযুক্ত দুধের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে তাদের শাবকের প্রয়োজনীয় সব শক্তি সরবরাহ করতে হয়।
তিমির দুধ সমুদ্রের পানিতে না মেশা এক রহস্য ও বিস্ময়। এর অন্যতম কারণ হলো এটি চর্বিযুক্ত এবং ঘন প্রকৃতির। এটি এত ঘন যে, এটি ছড়িয়ে পড়ার পরিবর্তে একসঙ্গে থাকে। বিজ্ঞানীরা যারা নীল তিমির দুধ নিয়ে গবেষণা করেছেন তারা দেখেছেন যে, এর উচ্চ চর্বিযুক্ত উপাদান এবং ঘনত্ব এটিকে তরল দুধের চেয়ে নরম মাখনের মতো করে তোলে।
যখন একটি তিমি মা দুধ পান করায়, তখন তার স্তনবৃন্ত থাকে না। যেমনটা স্থলজ স্তন্যপায়ী প্রাণীদের থাকে। তাই তিমি সরাসরি শিশুর মুখের কাছে গভীর সমুদ্রের পানিতেই দুধ ছেড়ে দেয়। তারপর শাবকটি তার জিভ এবং ঠোঁট ব্যবহার করে ঘন দুধ ছড়িয়ে পড়ার আগেই আটকে রাখে। শাবক তিমি এই কাজ দক্ষতা ও দ্রুততার সঙ্গে করে থাকে। সমুদ্র তিমি শাবকদের জন্য প্রতিকূল হয়। ঠাণ্ডা পানি, শিকারি প্রাণী এবং বিশাল দূরত্ব তাদের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
তাদের মায়ের অতি ঘন দুধ শাবকদের জন্য প্রয়োজনীয়। যা তাদের দ্রুত বৃদ্ধিতে এবং ব্লাবার নামে পরিচিত চর্বি স্তর তৈরি করতে যথেষ্ট শক্তি জোগায়। সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীরা বলেন যে, নীল তিমির দুধের স্বাদ মাছের মতো এবং ক্রিম পনিরের মতো ঘন। সৃষ্টি জগতের এই প্রাণীর দুধ চর্বি এবং প্রোটিনকে জ্বালানিতে পরিণত করে, যা পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাণীটিকে শক্তি জোগায়।
তারেক/
.jpg)