কথায় আছে গল্পের গরু গাছে চড়ে। যদিও বাস্তবে গরুকে গাছে উঠতে দেখা যায় না। গল্পের গরু বা বাস্তবের গরু গাছে উঠে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মরক্কোর এক প্রজাতির ছাগল ঠিকই গাছে উঠে। তারা পাখি, বানরের মতো গাছে চড়ে। গাছেই খাবার খায়। কাঁটাযুক্ত ডালে বিচরণ করে। যা আফ্রিকার সবচেয়ে কৌতূহলী দৃশ্য বলা হয়। আফ্রিকার দেশ মরক্কোতে দেখা মেলে এই ধরনের ছাগলের। সোশ্যাল মিডিয়া ও পর্যটকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে মরক্কোর এই দৃশ্য।
মরক্কোর দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে রোদে পোড়া পাহাড়ে দেখা মেলে এক অদ্ভুত দৃশ্যের। এখানে দেখা যায় গাছে চড়ে ফল- পাতা খাচ্ছে ছাগল। সেখানে ছাগলরা যে গাছে চড়ে, সেটি হলো আরগান গাছ। যা ১০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয় এবং এটি আধা শুষ্ক অঞ্চলের স্থানীয় গাছ। শুষ্ক মৌসুমে, যখন মাটিতে গাছপালা বিরল হয়ে যায়, তখন ছাগলরা ক্ষুধার তাড়নায় সেই গাছগুলোতে উঠে যায়। কারণ যেখানে পাতা এবং মিষ্টি গন্ধযুক্ত আরগান ফল পাওয়া যায়। আরগান ফলের মাংসল সজ্জা ছাগলদের কাছে আকর্ষণীয়। ফলের সন্ধানে উঠা ছাগলরা গাছের পাতলা ডালেও সহজে ভারসাম্য ধরে রাখতে পারে।
প্রতিটি আরগান ফলের ভেতরে একটি বাদাম থাকে, যার বীজ থেকে আরগান তেল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। মরক্কোর সবচেয়ে মূল্যবান রপ্তানি পণ্যগুলোর মধ্যে একটি। ছাগল যখন ফলটি খায়, তখন তারা শক্ত বাদাম হজম করতে পারে না। তারা সেগুলো থুতুর সঙ্গে ফেলে দেয় অথবা তাদের বিষ্ঠায় ফেলে দেয়, যা নতুন গাছ জন্মাতে সাহায্য করে। তাই ছাগলগুলো আসলে বনকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। ছাগলের খাওয়া শেষ হওয়ার পর বাদাম সংগ্রহ করেন কৃষকরা। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রাকৃতিক চক্রের সঙ্গে কাজ করে আসছেন তারা। ছাগলের মাধ্যমে পাওয়া তেল বিশ্বজুড়ে রান্না এবং প্রসাধনীতে ব্যবহৃত হয়। তাই, যখন ছাগল মরক্কোতে গাছে ওঠে, তখন তারা কেবল দুপুরের খাবারের খোঁজ করে না তারা মরুভূমিতে একটি বিরল গাছকে বেড়ে উঠতেও সাহায্য করে।
প্রাকৃতিক খাদ্য সংগ্রহের বাইরেও, গাছে ছাগলের ভারসাম্য রক্ষার চিত্রটি পর্যটকদের কাছে একটি প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। মরক্কোতে অনেক দর্শনার্থী ছাগলদের গাছে ওঠা দেখতে সেখানে যান। এই দৃশ্যগুলো একসময় ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হয়েছিল এবং অনলাইনে ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়েছিল। যার ফলে অনলাইনেও ভাইরাল হয়।
তারেক/
.jpg)
.jpg)