ঢাকা ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩, রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পঞ্চগড়ে সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিনের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ইলহাম ঢাকা স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ৬ জেলায় ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির আভাস ইরানে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প বিটিএ ঈশ্বরদী উপজেলা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত পোলট্রিশিল্পে বিপর্যয়, কমেছে উৎপাদন ৩ বছরে সাড়ে ৪ হাজার পোলট্রিশিল্প বন্ধ হয়েছে সোনারগাঁয় ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রশাসনের র‍্যালি পুঁজি হারিয়ে অনেকেই ব্যবসা পরিবর্তন করেছেন বেচাকেনা কমেছে, দাম বেড়েছে চৌদ্দগ্রামে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন প্রহ্লাদ যোশী কাস্পিয়ান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে প্রাণঘাতী হামলা: ইউক্রেনকে দায়ী করল ইরান বাজার মূলধন কমল সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও ডেঙ্গু রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন কি না, স্পষ্ট করলেন ককরোচ নেতারা সেতুতে গর্ত-ফাটল, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার বিএটিবিসির আয় ও মুনাফা বেড়েছে সপ্তাহজুড়ে মিউচুয়াল ফান্ডের দাপট প্রতিবন্ধী নারীর অনাগত সন্তানের বাবা নিয়ে ধোঁয়াশা ট্রাম্প প্রশাসনের পরের পদক্ষেপে বদলে যেতে পারে বিশ্ববাণিজ্য সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স রথযাত্রার পথে পাতা হয়েছিল শক্তিশালী ‘আইইডি’ বোমা বিএনপি-জামায়াতের দূরত্ব ঘোচার আভাস গাভির ব্রুসেলোসিস রোগ কমছে দুধ উৎপাদন আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, প্রশাসনে হতাশা-অসন্তুষ্টি রূপসা উপজেলা: সংস্কারের অভাবে সড়ক বেহাল অতিরিক্ত গরমে কাজ করতে পারছে না মরুর বাহন উট কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: ৬২১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি বন্ধের নির্দেশ ঠাকুরগাঁওয়ের মোজারেলা চিজ যাচ্ছে ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যে

আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, প্রশাসনে হতাশা-অসন্তুষ্টি

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, প্রশাসনে হতাশা-অসন্তুষ্টি
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ছবি: সংগৃহীত

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে সরকার আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বোয়েসেল, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন, বিআইডব্লিউটিসিসহ ১২টি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণায় প্রশাসনে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। প্রশাসনে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, নিয়মিত পদোন্নতির পরিবর্তে ধারাবাহিকভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে পৃথক ১২টি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদ ছাড়া বাকি ১১টি পদই গ্রেড-২ মর্যাদার।

নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে মো. সালাহউদ্দিন সরকার, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে মোহাম্মদ রাশেদুল হক, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান হিসেবে এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব হিসেবে মো. কামরুজ্জামান, বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে আবদুল খালেক, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. শামসুজ্জামান, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজী রওনাকুল ইসলাম, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. জাকির হোসেন, বিসিকের চেয়ারম্যান হিসেবে বেনজীর আহমেদ এবং বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. মামুন হাসান। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. সামসুল আলম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য এই নিয়োগ কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রাপ্তদের অন্য কোনো সরকারি, আধা সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি, পেশা বা ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকলে তা ত্যাগ করতে হবে।

ক্ষোভ জানিয়ে একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। কয়েক বছর ধরেই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর, সংস্থা ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে নিয়মিত পদোন্নতির পরিবর্তে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে। এতে অনেক কর্মকর্তা নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন। তাদের মতে, এতে প্রশাসনের স্বাভাবিক ক্যারিয়ার-কাঠামো দুর্বল হচ্ছে এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, একটি ক্যাডার সার্ভিসে কর্মকর্তাদের প্রধান অনুপ্রেরণা হলো মেধা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো যদি বারবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে পূরণ হয়, তাহলে কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, ২৫ থেকে ৩০ বছর চাকরি করার পর অনেক কর্মকর্তা অবসরের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা করেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পদে এভাবে ধারাবাহিক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হলে প্রত্যাশী কর্মকর্তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের পরিকল্পনা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও এটি হওয়া উচিত ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে। তবে যেখানে নিয়মিত পদোন্নতির মাধ্যমে যোগ্য কর্মকর্তা পাওয়া সম্ভব, সেখানে ধারাবাহিকভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিলে ক্যাডার ব্যবস্থাপনার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

তাদের মতে, প্রশাসনের দক্ষতা শুধু ব্যক্তির যোগ্যতার ওপর নয়, একটি সুসংগঠিত ও পূর্বানুমানযোগ্য ক্যারিয়ার ব্যবস্থার ওপরও নির্ভর করে। সেই কাঠামো দুর্বল হলে দীর্ঘ মেয়াদে প্রশাসনের পেশাদারত্ব ও কর্মোদ্দীপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবে জনপ্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বিশেষ অভিজ্ঞতা, চলমান সংস্কার কার্যক্রম কিংবা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রয়োজনে সরকার অনেক সময় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে থাকে। 

বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রয়োজন থাকলে তার যৌক্তিক ব্যাখ্যাও প্রকাশ্যে তুলে ধরা উচিত। এতে একদিকে যেমন স্বচ্ছতা বাড়বে, অন্যদিকে নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যেও বৈষম্য ও বঞ্চিত হওয়ার দুঃখ কমবে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে এটি যেন ব্যতিক্রম হিসেবেই থাকে, নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত যেন না হয়। তার মতে, মেধা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত না হলে কর্মকর্তাদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই কোন পদে, কী কারণে এবং কোন মানদণ্ডে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে সরকারের আরও স্বচ্ছ অবস্থান নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে নিয়মিত কর্মকর্তাদের ন্যায্য পদোন্নতির সুযোগ নিশ্চিত করা হলে প্রশাসনের পেশাদারত্ব, জবাবদিহি ও দক্ষতা আরও শক্তিশালী হবে।

আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, প্রশাসনে হতাশা-অসন্তুষ্টি

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, প্রশাসনে হতাশা-অসন্তুষ্টি
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ছবি: সংগৃহীত

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে সরকার আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বোয়েসেল, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন, বিআইডব্লিউটিসিসহ ১২টি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণায় প্রশাসনে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। প্রশাসনে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, নিয়মিত পদোন্নতির পরিবর্তে ধারাবাহিকভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে পৃথক ১২টি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদ ছাড়া বাকি ১১টি পদই গ্রেড-২ মর্যাদার।

নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে মো. সালাহউদ্দিন সরকার, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে মোহাম্মদ রাশেদুল হক, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান হিসেবে এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব হিসেবে মো. কামরুজ্জামান, বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে আবদুল খালেক, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. শামসুজ্জামান, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজী রওনাকুল ইসলাম, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. জাকির হোসেন, বিসিকের চেয়ারম্যান হিসেবে বেনজীর আহমেদ এবং বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. মামুন হাসান। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. সামসুল আলম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য এই নিয়োগ কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রাপ্তদের অন্য কোনো সরকারি, আধা সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি, পেশা বা ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকলে তা ত্যাগ করতে হবে।

ক্ষোভ জানিয়ে একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। কয়েক বছর ধরেই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর, সংস্থা ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে নিয়মিত পদোন্নতির পরিবর্তে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে। এতে অনেক কর্মকর্তা নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন। তাদের মতে, এতে প্রশাসনের স্বাভাবিক ক্যারিয়ার-কাঠামো দুর্বল হচ্ছে এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, একটি ক্যাডার সার্ভিসে কর্মকর্তাদের প্রধান অনুপ্রেরণা হলো মেধা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো যদি বারবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে পূরণ হয়, তাহলে কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, ২৫ থেকে ৩০ বছর চাকরি করার পর অনেক কর্মকর্তা অবসরের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা করেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পদে এভাবে ধারাবাহিক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হলে প্রত্যাশী কর্মকর্তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের পরিকল্পনা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও এটি হওয়া উচিত ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে। তবে যেখানে নিয়মিত পদোন্নতির মাধ্যমে যোগ্য কর্মকর্তা পাওয়া সম্ভব, সেখানে ধারাবাহিকভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিলে ক্যাডার ব্যবস্থাপনার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

তাদের মতে, প্রশাসনের দক্ষতা শুধু ব্যক্তির যোগ্যতার ওপর নয়, একটি সুসংগঠিত ও পূর্বানুমানযোগ্য ক্যারিয়ার ব্যবস্থার ওপরও নির্ভর করে। সেই কাঠামো দুর্বল হলে দীর্ঘ মেয়াদে প্রশাসনের পেশাদারত্ব ও কর্মোদ্দীপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবে জনপ্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বিশেষ অভিজ্ঞতা, চলমান সংস্কার কার্যক্রম কিংবা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রয়োজনে সরকার অনেক সময় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে থাকে। 

বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রয়োজন থাকলে তার যৌক্তিক ব্যাখ্যাও প্রকাশ্যে তুলে ধরা উচিত। এতে একদিকে যেমন স্বচ্ছতা বাড়বে, অন্যদিকে নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যেও বৈষম্য ও বঞ্চিত হওয়ার দুঃখ কমবে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে এটি যেন ব্যতিক্রম হিসেবেই থাকে, নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত যেন না হয়। তার মতে, মেধা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত না হলে কর্মকর্তাদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই কোন পদে, কী কারণে এবং কোন মানদণ্ডে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে সরকারের আরও স্বচ্ছ অবস্থান নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে নিয়মিত কর্মকর্তাদের ন্যায্য পদোন্নতির সুযোগ নিশ্চিত করা হলে প্রশাসনের পেশাদারত্ব, জবাবদিহি ও দক্ষতা আরও শক্তিশালী হবে।

যানজটে নাকাল ময়মনসিংহ বিভাগীয়শহরের বাসিন্দারা

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
যানজটে নাকাল ময়মনসিংহ বিভাগীয়শহরের বাসিন্দারা
যানজটের এমন দৃশ্য ময়মনসিংহ নগরীর নিত্যদিনের চিত্র। ছবিটি সম্প্রতি শহরের ছোট বাজার এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সরণি সড়ক থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

সাইরেন বাজছে। জীবন বাঁচানোর তাগিদে ছুটতে চাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি দাঁড়িয়ে আছে স্থির হয়ে। ভেতরে একজন রোগী, বাইরে উদ্বিগ্ন স্বজন। সামনে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। রেলগেট বন্ধ। রাস্তার এক পাশে সারি সারি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, অন্য পাশে ফুটপাত দখল করে দোকান। মাঝখানে আটকে আছে পুরো শহর। এটি কোনো নাটকের দৃশ্য নয়, ময়মনসিংহ নগরীর প্রতিদিনের সকালের চিত্র।

একসময়ে শান্ত, স্বস্তির শহর হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহ আজ পরিচিত অন্য এক নামে–যানজটের শহর। ২০১৫ সালে বিভাগীয় শহরের মর্যাদা পাওয়ার পর প্রশাসনিক, শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে শহরটির গুরুত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে মানুষের চাপ। কিন্তু নগর পরিকল্পনা যেন সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ফলে প্রতিদিন হাজারও মানুষ আটকে যাচ্ছেন একই যন্ত্রণার চক্রে।

যানবাহনের স্রোত, কিন্তু রাস্তা সেই পুরোনো

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন হওয়ার পর নগরীর আয়তন বেড়েছে, জনসংখ্যা বেড়েছে, নতুন নতুন আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে। কিন্তু শহরের অধিকাংশ সড়ক আজও বহু বছর আগের মতোই সরু। সিটি করপোরেশনের তথ্য বলছে, নগরীতে নিবন্ধিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা প্রায় ছয় হাজার। রয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি মিশুক এবং প্রায় ৫ হাজার ৪০০ চিকন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন অর্ধেক অটোরিকশা চলার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রায় সবই রাস্তায় নামে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অসংখ্য অনুমোদনহীন যানবাহন।

ফলে যে সড়ক কয়েক হাজার যানবাহনের জন্য তৈরি হয়েছিল, সেখানে এখন চলাচল করছে কয়েক গুণ বেশি যান। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের এক গবেষণায় বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার পর নবম স্থানে উঠে আসে ময়মনসিংহ। এই অবস্থান শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি নগরবাসীর প্রতিদিনের বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি।

১০টি রেলক্রসিং, দিনে ৪৮ বার থেমে যায় শহর

ময়মনসিংহের যানজটের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি শহরের ভেতরের রেলক্রসিং। সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ২৪টি ট্রেন চলাচল করে। প্রতিটি ট্রেন পার হওয়ার সময় রেলগেট বন্ধ হয়। অর্থাৎ দিনে প্রায় ৪৮ বার থেমে যায় সড়ক যোগাযোগ। মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য গেট বন্ধ থাকলেও সেই প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত। ট্রেন চলে যাওয়ার পরও অনেক সময় লেগে যায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে।

পাটগুদাম মোড়: যেখানে এসে থেমে যায় গতি

পাটগুদাম ব্রিজ মোড় যেন ময়মনসিংহের যানজটের প্রতীক। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যানবাহন এই পথ ব্যবহার করে। একই জায়গায় রয়েছে আন্তজেলা বাস টার্মিনাল, সিএনজি স্ট্যান্ড এবং স্থানীয় যানবাহনের চাপ। সড়কের বড় একটি অংশ দখল করে দাঁড়িয়ে থাকে অটোরিকশা। ফলে সামান্য চাপেই পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে।

ফুটপাত আছে, পথচারীর জায়গা নেই

নগরীর অধিকাংশ ফুটপাত এখন আর পথচারীদের নয়। কোথাও দোকান, কোথাও হকার, কোথাও মোটরসাইকেলের পার্কিং। বাধ্য হয়ে মানুষ নেমে আসছেন মূল সড়কে। এতে যানবাহনের গতি আরও কমে যাচ্ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।

প্রতিদিনের দুর্ভোগের মানচিত্র

স্টেশন রোড, গাঙ্গিনার পাড়, সি কে ঘোষ রোড, চরপাড়া, পাটগুদাম ব্রিজ, নতুন বাজার, জিলা স্কুল মোড়, সানকিপাড়া ও কেওয়াটখালী বাইপাস–এসব এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময়ই যানজট স্থায়ী চিত্র। অফিস শুরু ও ছুটির সময়, স্কুল-কলেজ খোলা ও বন্ধের সময় কিংবা ট্রেন চলাচলের সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

যানজট শুধু ভোগান্তি নয়, অর্থনীতিরও ক্ষতি

শহরের বাসিন্দারা জানান, যানজট এখন শুধু সময় নষ্ট করছে না। প্রতিদিন অপচয় হচ্ছে কর্মঘণ্টা, জ্বালানি ও অর্থ। শিক্ষার্থীরা সময়মতো ক্লাসে পৌঁছাতে পারছে না, রোগীরা সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছেন না, ব্যবসায়ীদের বাড়ছে পরিবহন ব্যয়। নগরীর ভাটিকাশর এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, জনপ্রতিনিধি বদলেছে, প্রশাসনের নেতৃত্ব বদলেছে, নানা পরিকল্পনার ঘোষণাও এসেছে; কিন্তু আজও যানজটের সমাধান হয়নি। চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, যানজট এখন কেবল মানুষের সময় নষ্ট করছে না; এটি অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত করছে, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে এবং নগরবাসীর জীবনকে প্রতিদিন আরও দুর্বিষহ করে তুলছে।

স্থানীয় সংগঠন নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব সামসুদ্দোহা মাসুম বলেন, প্রতিদিন মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকে। এতে সময়, জ্বালানি ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। প্রশাসনের সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

ময়মনসিংহ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) আবু নাসের মোহাম্মদ জহির বলেন, গত চার দশকে শহরের একটি সড়কও প্রশস্ত হয়নি। অথচ যানবাহনের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। রাস্তা সম্প্রসারণ, অবৈধ যান নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং রেলক্রসিং স্থানান্তর ছাড়া স্থায়ী সমাধান মিলবে না।

সিটি করপোরেশনের বক্তব্য

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজীদ বলেন, পুরোনো শহরের সড়ক সম্প্রসারণের সুযোগ সীমিত। তবে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগও আশা করছে, নির্মাণাধীন কেওয়াটখালী আর্চ স্টিল সেতু চালু হলে পাটগুদাম ব্রিজের ওপর চাপ কমবে এবং নগরীর যান চলাচলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরীফুল আলম জানান, ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন কেওয়াটখালী আর্চ স্টিল সেতুর কাজ শেষ হলে পাটগুদাম ব্রিজের ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে নগরীর অন্যতম প্রধান যানজটের কেন্দ্র পাটগুদাম মোড় অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।

যানজট সমস্যাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন উল্লেখ করে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, যানজট এক দিনে সমাধানযোগ্য নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করা হবে।

জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জামালপুর হর্টিকালচার

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জামালপুর হর্টিকালচার
পানি জমে জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের মাতৃ লিচুবাগানের ১৩৭টি গাছ মারা গেছে। ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরে কয়েক বছর ধরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার সেন্টারের ৬০ বছরের পুরোনো প্রায় দেড় শ মাতৃ লিচুগাছ মারা গেছে। হুমকিতে রয়েছে অন্যান্য গাছের মাতৃবাগান। চারা উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এসব গাছ নষ্ট হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। এতে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব আয়।

জামালপুর ছাড়াও শেরপুর ও আশপাশের জেলাগুলোতে এই হর্টিকালচার সেন্টার থেকে চারা সরবরাহ করা হতো। তবে জলাবদ্ধতার কারণে এখন তা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কার্যকর ড্রেনেজব্যবস্থা না থাকায় হর্টিকালচার সেন্টার ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে আছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারাও দুর্ভোগে পড়েছেন।

জামালপুর শহরের চন্দ্রা এলাকায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে হর্টিকালচার সেন্টারটির অবস্থান। এখানে গাছের চারা উৎপাদনের জন্য রয়েছে একাধিক মাতৃবাগান। সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন-চার বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে হর্টিকালচার সেন্টারের প্রায় ১০ একর জায়গায় দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে। এর মধ্যে লিচুগাছের মাতৃবাগানটি সবচেয়ে বড় ও পুরোনো।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারা উৎপাদন ও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য বাগানে ১৩৯টি মাতৃ লিচুগাছ ছিল। কিন্তু গাছের গোড়ায় দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় এর মধ্যে ১৩৭টি গাছ মারা গেছে। বর্তমানে মাতৃ লিচুবাগানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বাগানে নেই কোনো পরিচর্যা। সারি সারি লিচু গাছ দাঁড়িয়ে আছে বিবর্ণ অবস্থায়। শুধু লিচুবাগান নয়, দীর্ঘ জলাবদ্ধতার কারণে পার্শ্ববর্তী আম, ড্রাগনসহ অন্যান্য গাছের মাতৃবাগানও হুমকির মুখে রয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘জামালপুর হর্টিকালচারের পুরোনো খুব মূল্যবান ফলদ মাদারগাছ, যা থেকে চারা করা, নতুন গাছের জন্ম দেওয়া হয়–এ রকম শতাধিক গাছ মরে গেছে। যদি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সচল থাকত, জলাবদ্ধতা না হতো, তাহলে হয়তো এটি ঘটত না। যখন মানুষের ঘরবাড়িতে জলাবদ্ধতা হয়, মানুষ যখন পানিতে আটকা পড়েন, তখন মানুষ হইচই করেন।

কিন্তু গাছগুলো তো কথা বলতে পারে না। তারা নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের কষ্টটা দেখার কেউ নেই।’

নাদিম মাহমুদ বলেন, ‘পানি জমে লিচুবাগান নষ্ট হয়ে গেল। কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপই নিল না। যদি পদক্ষেপ নিত তাহলে বাগানটা ধরে রাখা যেত। এই লিচুবাগান থেকে আমরা অনেক লিচু কিনেছি, এখন বাগানটা ধ্বংস।’

জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ শাখাওয়াত ইকরাম বলেন, ‘হর্টিকালচার ১০ একর জায়গা ৩ বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় হাঁটুপানিতে তলিয়ে আছে। মাতৃ লিচুবাগানটি সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন। জলাবদ্ধতার কারণে ১৩৭টি গাছই নষ্ট হয়ে গেছে। যেখান থেকে আমরা অনেক পরিমাণে সায়ন সংগ্রহ করে চারা উৎপাদন করতাম। এটি খুবই উন্নত মানের চারা ও উন্নত জাতের লিচু ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে হর্টিকালচার সেন্টারের উৎপাদন এলাকা, যেখানে চারা উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা হয়, সেটিও পানিতে ডুবে আছে। ফলে উৎপাদিত চারাও নষ্ট হচ্ছে। লিচু ছাড়াও বিদেশি আমের বাগান, ড্রাগনবাগান এবং নতুন আনা কিছু আমের জাতও মারা গেছে।’

শাখাওয়াত ইকরাম বলেন, ‘জলাবদ্ধতার বিষয়টি বিভিন্ন সময় জেলার উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় তুলে ধরা হয়েছে। ঢাকা থেকে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি, পৌরসভার মেয়র ও প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটি বিভিন্ন সময় পরিদর্শন করেছে। আমরা সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দিয়েছি। তারা পানি নিষ্কাশনে সম্বনিতভাবে পরিকল্পনা করে একটি ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।’

জামালপুর পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী মো. জহুরুল হক বলেন, মাস্টার ড্রেন না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে যায়। সার্ভে করে কোন এলাকা নিচু ও কোন এলাকা উঁচু তা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় শহরের আনসার ক্যাম্প থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন ড্রেনের কাজ শেষ হলে হর্টিকালচার সেন্টারের পানি নেমে যাবে। আরও তিনটি ড্রেন নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তখন শহরে আর কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না।

আপিলে ফিরছেন ৩৪ জুলাইযোদ্ধা

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
আপিলে ফিরছেন ৩৪ জুলাইযোদ্ধা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর

প্রতারণার অভিযোগে বাদ পড়া ৩৪ জুলাইযোদ্ধা পুনর্বহালের সুপারিশ পেয়েছেন। এর আগে সরকারি তদন্তে ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় ১৩ জন শহিদসহ ২২১ জনের গেজেট বাতিল করা হয়। পরে বাদ পড়াদের মধ্যে আপিল করা ৪৬ যোদ্ধার আবেদন পুনঃযাচাই করে আহত ৩৪ জনকে প্রকৃত জুলাইযোদ্ধা হিসেবে পুনরায় গেজেটভুক্ত করার সুপারিশ করেছে স্থানীয় পর্যালোচনা কমিটি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর জানিয়েছে, আপিলে সুপারিশপ্রাপ্ত জুলাইযোদ্ধাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কমিটি।

একই সময়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের স্বীকৃতি প্রক্রিয়ায় প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনায় আরও ১২৮ জনের ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া নতুন আবেদনের মধ্যে প্রায় ২০০টি সম্পূর্ণ ভুয়া ও ৬০০টি অসংগতিপূর্ণ আবেদন শনাক্ত হওয়ায় পুরো যাচাই কার্যক্রম নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আনোয়ারুল নাসের এ বিষয়ে খবরের কাগজকে বলেন, ‘গেজেট বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৬ জন আপিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১২ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারলেও ৩৪ জন আন্দোলনকালে আহত হওয়ার এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দাখিল করতে সক্ষম হয়েছেন।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বাধীন স্থানীয় পর্যালোচনা কমিটি এসব তথ্য যাচাই করে তাদের পুনরায় জুলাইযোদ্ধা হিসেবে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। অধিদপ্তর সেই সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এখন বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন ধাপে পরিচালিত তদন্তে মিথ্যা তথ্য, ভুয়া নথি, দ্বৈত নিবন্ধন ও অসত্য দাবির প্রমাণ পাওয়ায় ১৩ জন শহিদসহ মোট ২২১ জনের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত ১২৮ জনের মাসিক ভাতা, এককালীন অনুদানসহ সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১০৫ জনের ক্ষেত্রে আন্দোলনে আহত বা সম্পৃক্ত না থাকার প্রমাণ মিলেছে এবং ২৩ জনের নাম একাধিক গেজেটে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এদিকে নতুন আবেদন যাচাইয়েও বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে। অধিদপ্তরের হিসাবে প্রায় ২০০টি আবেদন সম্পূর্ণ ভুয়া বলে শনাক্ত হয়েছে। আরও প্রায় ৬০০টি আবেদনে তথ্যগত অসংগতি, একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন, শহিদের পরিচয়ে আহত হিসেবে আবেদন কিংবা প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রের ঘাটতি পাওয়া গেছে। এসব আবেদন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শতাধিক সন্দেহজনক গেজেট ও আবেদন এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

আনোয়ারুল নাসের বলেন, ‘সরকারের উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা নয়; বরং প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের অধিকার নিশ্চিত করা। অভিযোগ পাওয়া প্রতিটি ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তাদের গেজেট বাতিলের পাশাপাশি সরকারি সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে। আবার যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ টেকেনি এবং প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের ক্ষেত্রেও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আপিলে সুপারিশ পাওয়া ৩৪ জন তারই উদাহরণ।’

মহাপরিচালক আরও জানান, প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি সুবিধা গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে শুধু গেজেট বাতিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না সরকার। যারা ইতোমধ্যে ভাতা বা অন্য আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। তবে যেসব আপিলকারীর পুনঃগেজেটের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের কমিটির সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পৃথক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় কল্যাণ কর্মসূচির বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের কোনো বিকল্প নেই। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রকৃত শহিদ পরিবার ও আহতদের অধিকার রক্ষার জন্য যেমন প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জরুরি, তেমনি ভুলবশত বাদ পড়া প্রকৃত যোদ্ধাদেরও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আপিলের মাধ্যমে ৩৪ জনের পুনঃগেজেটের সুপারিশ দেখাচ্ছে যে যাচাই প্রক্রিয়া কেবল শাস্তিমূলক নয়, সংশোধনমূলকও। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষ তদন্ত বজায় থাকলে পুরো স্বীকৃতি প্রক্রিয়ার প্রতি জনআস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৮৪৩ জন শহিদ এবং ১৪ হাজার ৩৭০ জন আহত জুলাইযোদ্ধার গেজেট কার্যকর রয়েছে। শহিদ পরিবার ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের কল্যাণে এ পর্যন্ত প্রায় ৯৭৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে শহিদ পরিবারের জন্য সঞ্চয়পত্র, আহতদের এককালীন অনুদান, মাসিক ভাতা এবং বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার কল্যাণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আগামী ৫ আগস্ট থেকে তিন দিনব্যাপী জাতীয় কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষে জুলাই মাসজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তবে মূল আয়োজন শুরু হবে আগামী ৫ আগস্ট, যেদিন তিন দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, কর্মসূচির প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে অনুষ্ঠানসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই কোথায়, কখন এবং কী ধরনের কর্মসূচি হবে, তার পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করা হবে।

এসএসসির ফল প্রকাশে দেরি ফল বিপর্যয়, না প্রস্তুতির ঘাটতি?

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
ফল বিপর্যয়, না প্রস্তুতির ঘাটতি?
ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি ও লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের নিয়ম থাকলেও এবার এখনো প্রকাশ হয়নি। এদিকে ফল প্রকাশে দেরির কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। অনেকে বলছেন, ফল বিপর্যয় হওয়ায় তা প্রকাশে দেরি হচ্ছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্রের দাবি, পাসের হার কম হওয়ায় ফল প্রকাশে সময় নেওয়া হচ্ছে। খাতা দেখা, সফটওয়্যারে নম্বর যোগসহ সব কার্যক্রম শেষ। এরপরও সময় নেওয়াটা বিশেষ কারণে ঘটছে। শেষ সময়ে মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগেরমাধ্যমেও পাসের হার নিয়ে কানাঘুষা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন ৪০ শতাংশ কেউ বলছেন ৬০ শতাংশ।

তবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, চলতি মাসের ২৮ জুলাইয়ের পর ফল প্রকাশ হবে। বিভিন্ন জায়গায় গুজব চলছে। এতে কান না দিতে তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন।

বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৮০.৩৯ শতাংশ। ২০২৪ সালে গড় পাসের হার ৮৩.০৪। সবশেষ গতবছর এ পরীক্ষায় গড় পাসের হার কমে ৬৮.৪৫-এ ঠেকে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এবার গতবারের চেয়ে পাসের হার আরও কমেছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, খাতা দেখার কড়াকড়িকে কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় গত ২০ মে। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ২০ জুলাই এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এবার ফল প্রকাশ করতে পারেনি শিক্ষা বোর্ড। কাঙ্ক্ষিত ফলের আশায় ১৮ লাখ পরীক্ষার্থী ও তাদের পরিবার অপেক্ষায় রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ করতে না পারাকে অনেকে শিক্ষা বোর্ডের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন।

তবে শিক্ষা বোর্ড বলছে, ফল বিপর্যয় বা অন্য যেসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা শতভাগ গুজব। কত শতাংশ শিক্ষার্থী পাস ও ফেল করেছে, তা জানার মতো ফল এখনো প্রস্তুত হয়নি। তাদের দাবি–প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে ফল প্রকাশে কয়েক দিন দেরি হচ্ছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক এক চেয়ারম্যান খবরের কাগজকে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সব শিক্ষা বোর্ডের প্রতি নির্দেশ ছিল ৬০ দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশ করতে হবে। গত ১০ বছর এভাবেই ফল প্রকাশিত হয়েছে। মন্ত্রণালয় চাইলে নির্দেশনার পরিবর্তনও করতে পারে। তিনি বলেন, দেরির অনেক কারণ থাকতে পারে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, পরিবহন সমস্যা, ফল নিখুঁত করতে পরীক্ষকদের সময় বেশি দেওয়া ইত্যাদি। তবে নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ উত্তম বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০ জুলাই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। ১১ জুলাইও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, ২০ জুলাই ফল প্রকাশে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু ১৮ জুলাই বোর্ড চেয়ারম্যানরা জানান, ২০ জুলাই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। চূড়ান্ত ফল এখনো প্রস্তুত হয়নি। কবে প্রকাশ করা হবে, সেদিন তাও জানাতে পারেননি তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে দেখা যায়, এবার এসএসসির ফল খুব খারাপ হয়েছে, সেজন্য প্রকাশ করতে সময় নিচ্ছে বোর্ড। কোথাও কোথাও লেখা হয়, পাসের হার বাড়াতে সময় নিচ্ছে শিক্ষা বোর্ড। আবার শিক্ষা বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তাও এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে গতকাল জানান, খাতা মূল্যায়ন শেষ। নম্বর সফটওয়্যারেও দেওয়ার কাজও শেষ। ফল প্রকাশে দেরি কেন হচ্ছে, সেটা তো বড় প্রশ্ন। নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। কারণ কী–এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন রকম কারণ থাকতে পারে। যে ফল এসেছে, সেটা হয়তো মন্ত্রণালয়ের পছন্দ নয়। এ জন্যই সময় নেওয়া হচ্ছে।

বোর্ডের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘স্যারদের কাছে শুনেছি, পাস-ফেল নিয়ে কিছু ঝামেলা আছে। কীভাবে ছাড়লে (প্রকাশ করলে) এটা সঠিক বা বস্তুনিষ্ঠ হবে, তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। ওপর থেকে অনুমতি না দিলে তো বোর্ড রেজাল্ট ছাড়তে পারে না। যে রেজাল্ট, তাতে হয়তো শিক্ষামন্ত্রী বা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এর বেশি তো বলা যাবে না।’

তবে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, আমি দায়িত্বে আছি। তারপরও এখনো বলতে পারি না যে কেমন ফল হয়েছে বা হতে পারে। সে সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার মতো গড় ফল এখনো প্রস্তুত হয়নি। সেজন্য যা ছড়াচ্ছে, তা শতভাগ গুজব। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আমরা ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রস্তুত রাখব। সরকারের অনুমোদন পেলেই ফল প্রকাশ করা হবে।