নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের অলিপুরা সড়কের পশ্চিম সনমান্দী এলাকায় একটি পুরোনো সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুর মাঝখানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে এসেছে। ভেঙে গেছে দুই পাশের রেলিংও। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, পশ্চিম সনমান্দী, গোপেরবাগ, ছনকান্দা, কাফাইয়াকান্দা, বৈদ্যেরকান্দি, মারবদী, কান্দাপাড়া, সাজালেরকান্দি, ভটেরকান্দিসহ আশপাশের ২০ থেকে ৩০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই সেতু। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে অটোরিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও বিভিন্ন পণ্যবাহী যান চলাচল করে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির মাঝখানে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। গর্তের ভেতরে লোহার রড বেরিয়ে রয়েছে। বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। দুই পাশের রেলিং ভেঙে যাওয়ায় রাতে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছুদিন আগে গর্তটি সামান্য সংস্কার করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই আবার ভেঙে যায়। তাই নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করেন। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা আতঙ্ক নিয়ে ব্রিজটি পার হই।’
আরেক বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ব্রিজটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে ভারী কোনো যানবাহন উঠলে পুরো ব্রিজ কেঁপে ওঠে। বহুবার জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানানো হলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
জানা গেছে, বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম ১৯৯১ সালে সেতুটি নির্মাণ করেন। প্রায় সাড়ে তিন দশক পুরোনো এই সেতুটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি ভেঙে দ্রুত আধুনিক ও টেকসই নতুন সেতু নির্মাণ করা হোক।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল হোসেন জানান, তিনি সম্প্রতি সোনারগাঁও উপজেলায় যোগ দিয়েছেন। তিনি জেনেছেন, সেতুটি অনেক পুরোনো এবং বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর সংস্কার করলেও দীর্ঘ মেয়াদে সুফল পাওয়া যাবে না। তাই নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। প্রস্তাব অনুমোদন হলে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।