ঢাকা ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩, রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ইরানে মার্কিন হামলায় জড়িত থাকার খবর প্রত্যাখ্যান করল কুয়েত পঞ্চগড়ে সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিনের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ইলহাম ঢাকা স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ৬ জেলায় ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির আভাস ইরানে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প বিটিএ ঈশ্বরদী উপজেলা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত পোলট্রিশিল্পে বিপর্যয়, কমেছে উৎপাদন ৩ বছরে সাড়ে ৪ হাজার পোলট্রিশিল্প বন্ধ হয়েছে সোনারগাঁয় ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রশাসনের র‍্যালি পুঁজি হারিয়ে অনেকেই ব্যবসা পরিবর্তন করেছেন বেচাকেনা কমেছে, দাম বেড়েছে চৌদ্দগ্রামে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন প্রহ্লাদ যোশী কাস্পিয়ান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে প্রাণঘাতী হামলা: ইউক্রেনকে দায়ী করল ইরান বাজার মূলধন কমল সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও ডেঙ্গু রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন কি না, স্পষ্ট করলেন ককরোচ নেতারা সেতুতে গর্ত-ফাটল, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার বিএটিবিসির আয় ও মুনাফা বেড়েছে সপ্তাহজুড়ে মিউচুয়াল ফান্ডের দাপট প্রতিবন্ধী নারীর অনাগত সন্তানের বাবা নিয়ে ধোঁয়াশা ট্রাম্প প্রশাসনের পরের পদক্ষেপে বদলে যেতে পারে বিশ্ববাণিজ্য সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স রথযাত্রার পথে পাতা হয়েছিল শক্তিশালী ‘আইইডি’ বোমা বিএনপি-জামায়াতের দূরত্ব ঘোচার আভাস গাভির ব্রুসেলোসিস রোগ কমছে দুধ উৎপাদন আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, প্রশাসনে হতাশা-অসন্তুষ্টি রূপসা উপজেলা: সংস্কারের অভাবে সড়ক বেহাল অতিরিক্ত গরমে কাজ করতে পারছে না মরুর বাহন উট কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: ৬২১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি বন্ধের নির্দেশ

সপ্তাহজুড়ে মিউচুয়াল ফান্ডের দাপট

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
সপ্তাহজুড়ে মিউচুয়াল ফান্ডের দাপট
ছবি: সংগৃহীত

গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে দর বৃদ্ধির তালিকায় মিউচুয়াল ফান্ডের আধিপত্য ছিল। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক হালনাগাদ তথ্যে চারটি মিউচুয়াল ফান্ড দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে। মিউচুয়াল ফান্ডগুলো হলো এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, এনসিসি ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড-১ এবং এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান।

এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড: গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে মিউচুয়াল ফান্ডটির শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ৬ টাকা ৮০ পয়সা, এর আগের সপ্তাহে ছিল ৪ টাকা ৬০ পয়সা। এতে এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৪৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে মিউচুয়াল ফান্ডটি। আলোচ্য হিসাব বছরে এমবিএল ফার্স্টের ইপিএস ছিল ৪২ পয়সা, এর আগের হিসাব বছরে ছিল ১ টাকা ৯৫ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৩ শেষে মিউচুয়াল ফান্ডটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৪৭ পয়সায়।

গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড: গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে মিউচুয়াল ফান্ডটির শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ৫ টাকা, এর আগের সপ্তাহে ছিল ৪ টাকা। এতে এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দর ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে মিউচুয়াল ফান্ডটি। আলোচ্য হিসাব বছরে গ্রিন ডেল্টার ইপিএস ছিল ১৪ পয়সা, এর আগের হিসাব বছরে ছিল ৭২ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে মিউচুয়াল ফান্ডটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ১৬ পয়সায়।

এনসিসি ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড-১: গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে মিউচুয়াল ফান্ডটির শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ৭ টাকা, এর আগের সপ্তাহে ছিল ৫ টাকা ৬০ পয়সা। এতে এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দর ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে মিউচুয়াল ফান্ডটি। আলোচ্য হিসাব বছরে এনসিসি ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ডের ইপিএস ছিল ৬১ পয়সা, এর আগের হিসাব বছরে ছিল ৪২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে মিউচুয়াল ফান্ডটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৪৭ পয়সায়।

এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান: গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে মিউচুয়াল ফান্ডটির শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ৪ টাকা ৬০ পয়সা, এর আগের সপ্তাহে ছিল ৩ টাকা ৮০ পয়সা। এতে এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দর ২১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে মিউচুয়াল ফান্ডটি। আলোচ্য হিসাব বছরে এলআর গ্লোবালের ইপিএস ছিল ২৯ পয়সা, এর আগের হিসাব বছরে ছিল ৬৩ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ শেষে মিউচুয়াল ফান্ডটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৪৭ পয়সায়।

পোলট্রিশিল্পে বিপর্যয়, কমেছে উৎপাদন

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
পোলট্রিশিল্পে বিপর্যয়, কমেছে উৎপাদন
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

গত পাঁচ বছরে পোলট্রিশিল্পের উৎপাদন খরচ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। কাঁচামালের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। খামার পর্যায়ে রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয়ের উল্লম্ফন, জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়া, লোডশেডিং এবং কর-শুল্কের বাড়তি চাপে পোলট্রিশিল্পে সংকট বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এসব কারণে পোলট্রিশিল্প এখন বিপর্যয়ের মুখে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। দাম বেড়েছে পোলট্রি এবং ডিমের।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোলট্রি খাতে যে ব্যয় আগে ছিল ১০০ টাকা, এখন তা বেড়ে ২১০ টাকা বা তার বেশি দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) তথ্য অনুযায়ী, এই খাতের প্রবৃদ্ধি ৪.৫ শতাংশ থেকে কমে ৩.২ শতাংশে নেমে এসেছে।

খামারিরা বলছেন, এখন সবচেয়ে বেশি খরচ হয় পোলট্রি খাদ্যে। মোট উৎপাদন ব্যয়ের ৮০-৮৫ শতাংশই যায় এর পেছনে। পোলট্রি খাদ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। এর পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে করপোরেট কর, অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ও টার্নওভার করের বাড়তি চাপ খামারিদের ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফরিদপুরের প্রান্তিক খামারি আমিনুল প্রধানের খামারে একসময় ভোরের আলো ফুটতেই কয়েক হাজার মুরগির কলকাকলিতে মুখরিত হতো। কিন্তু এখন বদলে গেছে পরিস্থিতি। আমিনুল প্রধান খবরের কাগজকে বলেন, প্রতিদিন ১০ হাজার ডিম উৎপাদিত হতো। ক্রমাগত লোকসানের মুখে অর্ধেক শেড বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে পোলট্রি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আলমগীর হোসেন জানান, ব্যবসায় লাভের অঙ্ক এখন আর কোনোভাবেই মিলাতে পারছি না। আমার পোলট্রি ব্যবসায়ে ক্রমাগত লোকসান হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘একটি ডিম উৎপাদনে আমার খরচ হয় প্রায় ১০ টাকা, কিন্তু অনেক সময় বাজারে ৮ টাকায়ও বিক্রি করতে হয়। মাসের পর মাস লোকসান দিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব। আমার চারপাশের অনেকেই ইতোমধ্যে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। পরিস্থিতি এমন থাকলে আমাকেও হয়তো শিগগিরই ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে।’

আমিনুল প্রধান ও আলমগীর হোসেনের মতো অবস্থা দেশের হাজারও পোলট্রি ব্যবসায়ীর। উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বেড়ে যাওয়া আর নামমাত্র মুনাফার কারণে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা এখন টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বিপিআইএর সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, দেশে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ৪ শতাংশ। বিশ্বের অনেক দেশে এই করের হার শূন্য। উৎপাদন ব্যয় কমাতে বাংলাদেশে এআইটি শূন্য শতাংশ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পোলট্রি খাতে ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করপোরেট কর আরোপ করা হলেও প্রতিবেশী প্রতিযোগী দেশগুলোতে এ হার ১২ থেকে ১৫ শতাংশ। করপোরেট কর কমানোর দাবি করেন ব্যবসায়ী এই নেতা।

খামারিরা বলছেন, পোলট্রি খাদ্যের দাম যে হারে বেড়েছে, ডিম বা মুরগির বাজারদর সেভাবে বাড়েনি। ফলে উৎপাদন খরচ ও মুনাফার মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। লোকসানের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন তারা। গত পাঁচ বছরে পোলট্রি ফিডের দাম ৬০-৬৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২০ সালে প্রতি বস্তা ফিডের দাম ছিল  ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা। এর বিপরীতে পাইকারি পর্যায়ে ডিমের দাম বেড়েছে মাত্র ২০-২৫ শতাংশ। আগে যে ডিম ৬-৭ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৮-৯ টাকা।

পোলট্রিশিল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও নির্দিষ্ট তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ। ব্রয়লারের বাচ্চা উৎপাদন, ডিম ইনকিউবেশন, খামারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদিন ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকে। ফলে খামারিরা বাধ্য হয়ে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করছেন। তবে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোয় সেই বিকল্প ব্যবস্থাও হয়ে উঠেছে ব্যয়বহুল।

লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে ব্রয়লার বাচ্চা উৎপাদনে। ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্রয়লার বাচ্চার চাহিদা রয়েছে। তবে ইনকিউবেটরে নিরবচ্ছিন্ন তাপমাত্রা বজায় রাখতে না পারায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মতে, প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৫০ লাখ বাচ্চা কম উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ফাহাদ হাবিব খবরের কাগজকে বলেন, কখনো কখনো ২০ ঘণ্টাও লোডশেডিং হচ্ছে। বাচ্চা যদি সঠিক সময়ে তাপমাত্রা না পায়, তাহলে সমস্যা হয়। এতে বাচ্চা দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন নানা রোগও দেখা দেয়। শুধু ডিজেলের খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিটি ডিমের উৎপাদন ব্যয় ২৫ থেকে ৫০ পয়সা এবং একটি বাচ্চার খরচ ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে যাচ্ছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কর ও শুল্কের বাড়তি চাপ। চলতি বাজেটে করপোরেট কর ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭.৫ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কর ও শুল্ক বাড়ানোয় দফায় দফায় বেড়েছে পোলট্রির খাদ্য ও অন্যান্য উপকরণের দাম।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশে পোলট্রি খাতে কর সুবিধা কম। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় এ খাতে বিভিন্ন ধরনের কর অব্যাহতি এবং প্রণোদনা দেওয়া হলেও বাংলাদেশে উচ্চ কর কাঠামো বহাল রয়েছে।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, বিশ্বের কোথাও খাদ্য উৎপাদনসংশ্লিষ্ট খাতে এত উচ্চ কর নেই। অথচ কৃষিপ্রধান দেশ হয়েও বাংলাদেশে উল্টো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে উৎপাদনকারীদের ওপর পড়েছে এবং ভবিষ্যতে বাজার ও ভোক্তাদের ওপরও পড়বে। তিনি বলেন, বর্তমান কর ও শুল্ক অর্ধেকে নামানো না হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা টিকতে পারবেন না। এতে পুরো খাত বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত পাঁচ বছরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পোলট্রিশিল্প টিকে ছিল। কিন্তু চলতি বছরে কর ও শুল্ক বাড়ানোয় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের কম দামে ডিম ও মুরগি বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে তারা মাসের পর মাস লোকসান গুনছেন।

বাচ্চা উৎপাদনের এই সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খাদ্য ও কাঁচামালের দাম। পোলট্রি খাতে মোট উৎপাদন খরচের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ ব্যয় হয় খাদ্যে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভুট্টা, সয়াবিন মিলসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে পোলট্রি ফিড উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে।

উৎপাদন ব্যয়ের এই ঊর্ধ্বগতি গত পাঁচ বছরে একটি উদ্বেগজনক চিত্র তৈরি করেছে। বিপিআইএ এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে উৎপাদন খরচ বেড়েছিল ১১৫ শতাংশ, ২০২৩ সালে ১৪৫ শতাংশ, ২০২৪ সালে ১৭০ শতাংশ, ২০২৫ সালে প্রায় ১৯০ শতাংশ ও ২০২৬ সালে এসে তা দাঁড়িয়েছে ২০০ শতাংশে। অর্থাৎ ৬ বছরে উৎপাদন ব্যয় দ্বিগুণ হয়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে। গত দুই সপ্তাহেই পরিবহন খরচ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে যেখানে একটি ট্রাকে ৫ হাজার মুরগি পরিবহন করা হতো, এখন সেখানে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি হচ্ছে না। উৎপাদন কমে যাওয়ায় সংগ্রহকারীর বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে হচ্ছে। ফলে প্রতি ইউনিট পণ্যের খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে। এরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বাজারে।

বাংলাদেশ ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি সপ্তাহে সোনালি ও রঙিন মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হয় প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ। এর মধ্যে বিভিন্ন কারণে সাধারণত ৫ থেকে ৮ লাখ বাচ্চা মারা যায়। তবে গত ২ সপ্তাহে বাজারে সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটিতে।

দেশি মুরগির সরবরাহ কমে যাওয়ার পেছনে রোগবালাই বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। খামারিদের ভাষ্য, শীত শেষে কলেরা, রানিখেত ও বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবে ব্যাপকহারে মুরগি মারা গেছে। ফলে অনেক খামারি নতুন করে উৎপাদনে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।

৩ বছরে সাড়ে ৪ হাজার পোলট্রিশিল্প বন্ধ হয়েছে

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
৩ বছরে সাড়ে ৪ হাজার পোলট্রিশিল্প বন্ধ হয়েছে
বগুড়া জেলা পোলট্রি ও হ্যাচারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম শফিক। ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ায় বড় অঙ্কের লোকসান গুনে ৩ বছরে অন্তত সাড়ে ৪ হাজার পোলট্রিশিল্প বন্ধ করে দিয়েছেন উদ্যোক্তারা। সারা বছর বার্ড ফ্লু আর রানিখেতসহ অন্যান্য রোগবালাই মোকাবিলা করে টিকে থাকার চেষ্টার প্রধান প্রতিবন্ধকতা খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি। 

বগুড়া জেলা পোলট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায় কয়েক বছর আগে করা জরিপের তথ্যে বলা হয়েছে সব মিলিয়ে বগুড়ায় পোলট্রি আছে ৫ হাজার ২০০ আর হ্যাচারি ১৪০টি। কিন্তু গত ৩ বছরে নানা কারণে বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত সাড়ে ৪ হাজার পোলট্রি আর শতাধিক হ্যাচারি। 

বগুড়া জেলা পোলট্রি ও হ্যাচারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, ‘আগে বার্ড ফ্ল হতো শীতকালে ৩ মাস আর এখন সারা বছরই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মুরগি। এতে বড় অঙ্কের লোকসান হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এ ছাড়া এখন ১ দিনের ১ হাজার বাচ্চা ডিম দেওয়ার উপযোগী করতে ৬ মাস পর্যন্ত সব মিলিয়ে জাত ও মানভেদে খরচ হয় ১০ লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা আর আগে সেখানে ব্যয় হতো ৬ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা। বাণিজ্যিক মুরগির দেওয়া ডিমে বাচ্চা হয় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত আর সেখানে হ্যাচারি থেকে উৎপাদিত মুরগি একই সময় পর্যন্ত লালন-পালন শেষে ৬ মাস পর ডিম দেয় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ। বাণিজ্যিক মুরগির জন্য কোনো মোরগ দিতে হয় না। কিন্তু হ্যাচারি থেকে পাওয়া মুরগির ডিম পেতে প্রতি হাজারে দিতে হয় ১০টি করে মোরগ, এতে ব্যয় বাড়ে।’ 

শুধু বার্ড ফ্লু রোগ থেকে মুরগি রক্ষায় ব্যয় বেড়েছে কেমন এ প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও এক হাজার মুরগির জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা লাগত আর এখন সেখানে ব্যয় হয় ১০ হাজার টাকা। রানিখেতসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হলে এখন যে ব্যয় হয়, তা আগের চেয়ে অনেক বেশি।’ 

পোলট্রি খাতে এ বিপর্যয়ের নেপথ্যে কী আছে– এ প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, ‘করপোরেট হাউসগুলো এ ব্যবসা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করেছে। নানা ধরনের চাপে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর শেড ভাড়া নিয়ে এখন করপোরেট হাউসগুলো মুরগি লালন-পালন করছে। এ জন্য তারা বাচ্চার পাশাপাশি দিচ্ছে ওষুধ ও খাবার। বাজারে নেওয়ার সময় শেডের মালিকদের কমিশন বাবদ দেওয়া হয় কিছু টাকা, যার একটি অংশ যায় বিদ্যুৎ বিলে আর কিছু টাকা যায় কর্মচারীদের বেতন বাবদ।’ 

খামার ও হ্যাচারিগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের কী পরিমাণ লোকসান হয়েছে– এ প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, ‘এ অঙ্ক সঠিকভাবে বলা কঠিন। তবে ১০ লাখ টাকা থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসান করেছে সে তথ্যে আছ।’

পুঁজি হারিয়ে অনেকেই ব্যবসা পরিবর্তন করেছেন

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম
আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
পুঁজি হারিয়ে অনেকেই ব্যবসা পরিবর্তন করেছেন
পোলট্রি ব্যবসায়ী মো. বিপুল মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

খাদ্যের দাম বৃদ্ধি আর চিকিৎসা খরচসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বগুড়ায় পোলট্রি ব্যবসায় নানা ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। লোকসানের মুখে পুঁজি হারিয়ে অনেকেই ব্যবসার ধরন পরিবর্তন করেছেন। পোলট্রি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, খাদ্যের দাম বৃদ্ধি এ খাতের সম্প্রসারণের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। 

মো. বিপুল মিয়া, ২০০৯ সালে পোলট্রি ব্যবসা শুরু করেন। ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জাতের মুরগির বাচ্চা কিনে বড় করার পর বিক্রি করতেন। লাভ হতো তখন। কিন্তু খাদ্যের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি নানা কারণে ২০১৫ সালের পর তিনি বাধ্য হন লোকসান গুনতে। ১০ বছরেই পুঁজি হারান মো. বিপুল মিয়া। বগুড়া শহরের নামাজগড় এলাকার এ ব্যবসায়ী এখন মুরগির বাচ্চা কিনে বিক্রি করেন পাইকারি। দিনে কতগুলো বাচ্চা বিক্রি করেন–এ প্রশ্নের জবাবে মো. বিপুল মিয়া বলেন, ‘চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বেচাকেনা হয়, তবে এক দিন বয়সের বাচ্চা প্রতিদিন বিক্রি হয় ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার পর্যন্ত’। 

কেন বড় মুরগি কেনাবেচার ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে বাচ্চা কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করলেন–এ প্রশ্নের জবাবে মো. বিপুল মিয়া বলেন, ‘এক দিনের বাচ্চার পেছনে খাবারের কোনো খরচ নেই, কিন্তু মুরগি বড় করে বাজারে নিতে গেলে যে পরিমাণ খরচ হয়, তাতে লোকসান হয় অনেক। ২০০৯ সালে যখন ব্যবসা শুরু করি, তখন মান ও কোম্পানি ভেদে ৫০ কেজির (কিলোগ্রাম) এক বস্তা খাদ্যের দাম ছিল ১ হাজার ৩শ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫শ টাকা আর এখন ৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা খাদ্যের দাম ৩ হাজার টাকা।’

মো. বিপুল মিয়া জানান, ২০১৫ সালে পোলট্রি শিল্পে ধস দেখা দিলে জাত ও মান ভেদে প্রতিটি মুরগিতে লোকসান হয় ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। আর রোগ-বালাইয়ে মুরগি মারা যাওয়ায় লোকসানের অঙ্ক আরও বেশি হয়েছে কখনো কখনো। মুরগির বাচ্চার দাম কেমন–এ প্রশ্নের জবাবে মো. বিপুল মিয়া বলেন, ‘আগে ১০ থেকে ১২ টাকায় পাওয়া যেত এক দিন বয়সের বাচ্চা আর এখন এক দিনের বাচ্চার দাম জাত ও মান ভেদে ২৮ টাকা থেকে ৩২ টাকা পর্যন্ত।’ 

তিনি জানান, পোলট্রি শিল্পে যখন সুদিন ছিল, তখন প্রতিদিন তিনি বিক্রি করতেন ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার পিস মুরগি, আর লোকসানের কারণে এখন তার মতো অনেকেই ব্যবসার ধরন পরিবর্তন করেছেন। একসময় মো. বিপুল মিয়া তার মুরগির খামার থেকে সারা দেশেই মুরগি পাঠাতেন, এখনো তিনি তার প্রতিষ্ঠান থেকে সারা দেশেই পাঠান মুরগির বাচ্চা। ব্যবসায়ীরা বলছেন মুরগির চেয়ে মুরগির বাচ্চা বিক্রি লাভজনক এবং ঝুঁকিমুক্ত, কারণ বিনিয়োগ কম আর রোগবালাই মোকাবিলা করার জন্য চিকিৎসা খরচও নেই।

বেচাকেনা কমেছে, দাম বেড়েছে

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
বেচাকেনা কমেছে, দাম বেড়েছে
পোলট্রি বিক্রেতা মো. রফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে মুরগির দামের ওঠানামা, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং বাজারের সার্বিক অবস্থা খবরের কাগজের রিপোর্টার মো. আকাশকে জানান পলাশী বাজারের দীর্ঘদিনের পোলট্রি বিক্রেতা মো. রফিকুল ইসলাম।

খবরের কাগজ: বাজারে এখন মুরগির দাম কেমন যাচ্ছে? ক্রেতাদের  প্রতিক্রিয়া কী?
রফিকুল ইসলাম: ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করছি ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। আর কক মুরগি ২৮০ থেকে ২৯০ টাকার মধ্যে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায়। তবে সমস্যা হচ্ছে, দাম দুই দিন পর পর ৫-১০ টাকা বাড়ে আবার কমে। সাধারণ ক্রেতারা দোকানে এসে রাগ দেখায়, মনে করে আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়ায়। কিন্তু কাপ্তান বাজার বা পাইকারি খামার থেকে আমরা যে দামে কিনি, কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা লাভে আমাদের বিক্রি করতে হয়। পরিবহন খরচ আর ওয়েস্টেজ (ওজন কমে যাওয়া) বাদ দিলে আমাদের খুব একটা লাভ থাকে না।

খবরের কাগজ: ছাত্র-ছাত্রী বা মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর কেনাকাটার অভ্যাসে কোনো পরিবর্তন দেখছেন কী?
রফিকুল ইসলাম: অনেক পরিবর্তন দেখছি। আগে যেই ছাত্ররা এসে আস্ত একটি বা দুটি মুরগি একসঙ্গে কিনত, এখন তারা এসে বলে, হাফ কেজি ব্রয়লার কেটে দেন বা ছোট দেইখা একটি মুরগি দেন। আর সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো আগে সোনালি বা দেশি মুরগি বেশি খুঁজত, এখন তারা বাধ্য হয়ে ব্রয়লারের দিকে ঝুঁকছে। বাজার সদাইয়ের যে খরচ বাড়ছে, মানুষ পকেটের হিসাব মিলাইতে পারছে না।

খবরের কাগজ: পোলট্রি ব্যবসায় এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী বলে মনে করেন?
রফিকুল ইসলাম: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ফিড (মুরগির খাবার) আর বাচ্চা উৎপাদনের বাড়তি খরচ। পাইকাররা বলে খামারিরা টিকতে পারছে না, খামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। খামার কমলে সাপ্লাই (সরবরাহ) কমে যায়, আর সাপ্লাই কমলেই ঢাকার বাজারে দাম চড়া হয়। আরেকটা চ্যালেঞ্জ হচ্ছে গরমের দিনে মুরগি মরে যাওয়া। দোকানদাররা যদি পাইকারি বাজার থেকে ১০০ মুরগি আনি, পরিবহনে আর খাঁচাতেই ২-৩টি মরে যায়। ওই লোকসান দোকানদারদেরই টানতে হয়।

খবরের কাগজ: সাধারণ ক্রেতা ও আপনাদের মতো বিক্রেতাদের স্বস্তির জন্য কী করা দরকার বলে মনে করেন?
রফিকুল ইসলাম: সরকার যদি খামারের খাবারের দাম আর পাইকারি বাজারে একটু কড়া নজরদারি করে, তা হলেই বাজার স্থিতিশীল থাকবে। আমাদের চাওয়া একটাই- যেন ঘন ঘন দাম পরিবর্তন না হয়। দাম কম আর স্থিতিশীল থাকলে ক্রেতারাও হাসিমুখে কেনেন, আমাদের বেচাকেনাও বেশি হয়। দিন শেষে ক্রেতাকে সন্তুষ্ট করে বাড়ি ফিরতে পারাই তো আমাদের আনন্দ।

খবরের কাগজ: এই ব্যবসা নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
রফিকুল ইসলাম: ২৫ বছর ধরে এই পলাশী বাজারেই ব্যবসা করছি। এই দোকান চালিয়ে সংসার চালাই, পোলাপানের লেখাপড়া করাই। আমাদের চাওয়া একটাই- দাম স্বাভাবিক রাখা। দাম বেড়ে গেছে, বেচাকেনা কমেছে। অনেক সময় লোকসান হচ্ছে।

বাজার মূলধন কমল সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
বাজার মূলধন কমল সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই দরপতন হয়েছে। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে কমেছে মূল্যসূচক। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমায় প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার ওপরে কমেছে।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১২০টির শেয়ার ও ইউনিটের স্থান হয়েছে দাম বাড়ার তালিকায়। দাম কমেছে ২৪০টির। এ ছাড়া ২৬ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। 

এতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে যা ছিল ৭ লাখ ১০ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৯ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা।

বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহে প্রধান মূল্যসূচকেরও বড় পতন হয়েছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে কমেছে ৯৬ দশমিক শূন্য ৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। তার আগের তিন সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ২৪৭ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট।

অপর দুই সূচকের মধ্যে ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ২৩ দশমিক ৮০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১৭ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ৩৪ দশমিক ৯১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৪৯ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ২৯ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও কমেছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৬৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা। তার আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ১ হাজার ৪৭৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৪১১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বা ২৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। 

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা টেকনো ড্রাগসের শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ২০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইটি কনসালট্যান্টস।

এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সিটি ব্যাংক, ফারইস্ট নিটিং, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স এবং ব্র্যাক ব্যাংক।

বিদায়ী সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বেশ কয়েকটি দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানি। সপ্তাহের সেরা ১০ গেইনারের মধ্যে ৫টিই রয়েছে ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানি।

দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা এসব কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কারণে উল্লেখযোগ্য হারে দর বেড়েছে। ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গেইনার তালিকায় থাকা ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস, ফ্যাস ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, পিপলস লিজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।