ঢাকা ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩, রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পঞ্চগড়ে সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিনের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ইলহাম ঢাকা স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ৬ জেলায় ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির আভাস ইরানে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প বিটিএ ঈশ্বরদী উপজেলা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত পোলট্রিশিল্পে বিপর্যয়, কমেছে উৎপাদন ৩ বছরে সাড়ে ৪ হাজার পোলট্রিশিল্প বন্ধ হয়েছে সোনারগাঁয় ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রশাসনের র‍্যালি পুঁজি হারিয়ে অনেকেই ব্যবসা পরিবর্তন করেছেন বেচাকেনা কমেছে, দাম বেড়েছে চৌদ্দগ্রামে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন প্রহ্লাদ যোশী কাস্পিয়ান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে প্রাণঘাতী হামলা: ইউক্রেনকে দায়ী করল ইরান বাজার মূলধন কমল সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও ডেঙ্গু রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন কি না, স্পষ্ট করলেন ককরোচ নেতারা সেতুতে গর্ত-ফাটল, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার বিএটিবিসির আয় ও মুনাফা বেড়েছে সপ্তাহজুড়ে মিউচুয়াল ফান্ডের দাপট প্রতিবন্ধী নারীর অনাগত সন্তানের বাবা নিয়ে ধোঁয়াশা ট্রাম্প প্রশাসনের পরের পদক্ষেপে বদলে যেতে পারে বিশ্ববাণিজ্য সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স রথযাত্রার পথে পাতা হয়েছিল শক্তিশালী ‘আইইডি’ বোমা বিএনপি-জামায়াতের দূরত্ব ঘোচার আভাস গাভির ব্রুসেলোসিস রোগ কমছে দুধ উৎপাদন আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, প্রশাসনে হতাশা-অসন্তুষ্টি রূপসা উপজেলা: সংস্কারের অভাবে সড়ক বেহাল অতিরিক্ত গরমে কাজ করতে পারছে না মরুর বাহন উট কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: ৬২১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি বন্ধের নির্দেশ ঠাকুরগাঁওয়ের মোজারেলা চিজ যাচ্ছে ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যে

অতিরিক্ত গরমে কাজ করতে পারছে না মরুর বাহন উট

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ এএম
অতিরিক্ত গরমে কাজ করতে পারছে না মরুর বাহন উট
উত্তর আফ্রিকা ও আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে পশুপালকরা উটের সহনশীলতার কারণে এর ওপর নির্ভরশীল

মরুভূমির ‘জাহাজ’ হিসেবে পরিচিত উটও আর তীব্র গরম সহ্য করতে পারছে না। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা, দীর্ঘ খরা ও পানির সংকটে উটের মৃত্যু বাড়ছে। প্রভাব পড়ছে তাদের স্বাস্থ্য, প্রজনন ও দুধ উৎপাদনেও। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

উত্তর-পূর্ব ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চল পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণ ও শুষ্ক এলাকাগুলোর একটি। এখানকার যাযাবররা বহু বছর ধরে লবণ পরিবহনে উটের কাফেলা ব্যবহার করে আসছেন। আফারের সেমেরা এলাকার উটপালক আলী উমের বিবিসিকে বলেন, তীব্র গরমে তার উটগুলো ভয়াবহ কষ্ট পাচ্ছে। তাদের পায়ে ফোসকা পড়ছে। চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। গরম বালু শরীরের চামড়া পুড়িয়ে দিচ্ছে। তার প্রায় ৫০০টি উটের মধ্যে গত এক মাসেই তীব্র গরমে আটটি উটের মৃত্যু হয়েছে।

শুধু আলী উমের নন, একই অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন অন্য উটপালকরাও। বিজ্ঞানী, প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন গবেষণাও একই চিত্র তুলে ধরেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরমে উটের শরীরে তাপজনিত চাপ বাড়ছে। এতে ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও বিভিন্ন সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে।

বিশ্বের এক কুঁজবিশিষ্ট ড্রোমেডারি উটের প্রায় ৮০ শতাংশই উত্তর আফ্রিকা ও আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে রয়েছে। তবে ২০২৫ সালে প্রকাশিত দক্ষিণ ইথিওপিয়ার একটি গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামা উটের স্বাস্থ্য, উৎপাদনশীলতা ও প্রজননের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

প্রতিবেশী সোমালিয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। জুনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, খরার কারণে দেশটির প্রায় ৪৬ শতাংশ পরিবার তাদের পালন করা উট হারিয়েছে। প্রায় ছয় হাজার যাযাবর পরিবারের ওপর চালানো ওই গবেষণায় দেখা যায়, উত্তরাঞ্চলের সুল এলাকায় উটের মৃত্যুর হার প্রায় ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে।

বায়ুমণ্ডলবিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১-২২ সালের ভয়াবহ খরার পেছনে উচ্চ তাপমাত্রার বড় ভূমিকা ছিল। অতিরিক্ত গরমে মাটি ও জলাশয়ের পানি দ্রুত বাষ্পে পরিণত হয়। ফলে খরা আরও তীব্র হয়। কেনিয়ার মার্সাবিত কাউন্টির ভেটেরিনারি কর্মকর্তা হাসান নুয়া গুইও বলেন, তীব্র গরমে উটের শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এতে তারা নানা ধরনের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উটের মধ্যে রোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে দুধ উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। চলতি বছরে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের সময় উটের মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। গ্রীষ্মের চরম গরমের সময় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ, অতিরিক্ত খাদ্য এবং রোগ পর্যবেক্ষণের মতো বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, ১৯৮১ সালের পর থেকে উত্তর আফ্রিকায় তাপপ্রবাহের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে অঞ্চলটির কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণভাবে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা উট সহজেই সহ্য করতে পারে। ঘন প্রস্রাব, শুষ্ক মল ও মোটা লোমও তাদের গরম সহ্য করতে সাহায্য করে। কিন্তু তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ওপরে চলে গেলে পরিস্থিতি বদলে যায়।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) উটস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ বেঙ্গুমি বলেন, সাহারা মরুভূমির অনেক এলাকায় এখন গ্রীষ্মে তাপমাত্রা নিয়মিত ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকছে। পানি, গাছপালা ও ছায়ার অভাব থাকায় উটের তাপজনিত চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

আলজেরিয়ার ঘারদাইয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদেলমাজিদ চেহমা বলেন, ৪১ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হলে উটের শরীরের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।

মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী জলজীববিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহাম্মদ এল খাসমি জানান, অতিরিক্ত গরমে উটের ওজন কমে যায়। শরীরে প্রদাহ দেখা দেয়। পেশি ও হাড়ের সমস্যা হয়। সূত্র: বিবিসি

ইরানে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০২ এএম
ইরানে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে টানা ১৩ দিন হামলা চালানোর পর দেশটিতে নতুন করে আক্রমণ করার পরিকল্পনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রবিবার (২৬ জুলাই) মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস' এবং 'অ্যাক্সিওস'-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বাড়লে তা মার্কিন পেন্টাগনের ইতোমধ্যে কমে আসা 'প্যাট্রিয়ট' অ্যান্টি-মিসাইল ইন্টারসেপ্টর এবং অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যোগানকে 'বিপজ্জনকভাবে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পারে'-এমন উদ্বেগ থেকেই প্রেসিডেন্ট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুক্রবারে ট্রাম্প, তার শীর্ষ উপদেষ্টা এবং মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের এক বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে দুটি বেনামী সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্পের হামলা বন্ধের এই নির্দেশটি সাময়িক নাকি এই স্থবিরতা দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকবে-তা এখনো স্পষ্ট নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত দুটি বিষয়কে তুলে ধরে-একদিকে যেমন এটি কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করার সদিচ্ছাকে নির্দেশ করে, অন্যদিকে এটি স্বীকার করে নেওয়া যে প্রধান সামরিক অভিযান পুনরারম্ভ না করা পর্যন্ত মার্কিন বিমান হামলার বর্তমান মাত্রা কার্যকারিতার শেষ সীমানায় পৌঁছে গেছে।

তবে সূত্রগুলোকে উদ্ধৃত করে অ্যাক্সিওস আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে মার্কিন সামরিক বাহিনী যেকোনো সময় বড় ধরনের সরাসরি যুদ্ধে বা সামরিক অভিযানে ফিরে যাওয়ার সম্ভাব্য পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখছে। আল-জাজিরা

আজহার/

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন প্রহ্লাদ যোশী

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন প্রহ্লাদ যোশী
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে তুমুল আলোচিত প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক ও দীর্ঘ আন্দোলন-বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রহ্লাদ যোশী বর্তমানে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ছাত্র ও শিক্ষাস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ৫৭ বছর বয়সি ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগপত্রে লিখেন, ‌‘কোনো দেশবিরোধী শক্তি যাতে এ পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্যই আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রহ্লাদ যোশী বলেন, ‌‘আমি বিনয় ও অত্যন্ত কর্তব্যবোধের সঙ্গে এ দায়িত্ব গ্রহণ করছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। গত ৪-৫ বছরে ধর্মেন্দ্র প্রধানের নেতৃত্বে জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নসহ শিক্ষা খাতে বেশ কিছু বড় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় আমি নিষ্ঠার সঙ্গে আমার সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করে যাব।’

উল্লেখ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে দীর্ঘ ৩৫ দিন ধরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল। সম্প্রতি বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে ভারতে আসা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা জানান, সরকার তাদের দাবি পূরণের ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়ায় তারা আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার দিল্লিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রহ্লাদ যোশী শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার সর্বদা তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ছাত্র সমাজকে সতর্ক করে তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কিন্তু কিছু সমাজবিরোধী শক্তি এই আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার বা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছিল।’ সূত্র: এনডিটিভি

থিওটোনিয়াস/

কাস্পিয়ান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে প্রাণঘাতী হামলা: ইউক্রেনকে দায়ী করল ইরান

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
কাস্পিয়ান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে প্রাণঘাতী হামলা: ইউক্রেনকে দায়ী করল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে এক নাবিককে হত্যা এবং অপর একজনকে আহত করার অভিযোগ উঠেছে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ইরনা-র প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এই হামলাকে একটি 'শত্রুভাবাপন্ন ও অপরাধমূলক' পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইউক্রেনীয় নেতৃত্ব এই হামলার কথা স্বীকার করেছে, যা ইরানের প্রতি কিয়েভের 'অযৌক্তিক ও বৈরী মনোভাবের' প্রতিফলন। ইরান নিজের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পাশাপাশি, এই ঘটনাকে জাতিসংঘ সনদের ধারা ২(৪)-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত ও উস্কে দেওয়ার সামিল বলে উল্লেখ করেছে তেহরান।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাসের সঙ্গে ফোনালাপে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি এই সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জানান, কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভ 'অত্যন্ত জোরালো সাফল্য' অর্জন করেছে। সামরিক মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজ ও একটি যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানার কথা তিনি উল্লেখ করলেও, ইরান দাবিকৃত সুনির্দিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজটির কথা সরাসরি উল্লেখ করেননি।

পারস্য উপসাগরে মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বাণিজ্য ইতোমধ্যে চাপে রয়েছে। তার ওপর উত্তরে কাস্পিয়ান সাগরে এই নতুন ধরনের হামলা তেহরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করল। সূত্র: আল-জাজিরা 

আজহার/

ট্রাম্প প্রশাসনের পরের পদক্ষেপে বদলে যেতে পারে বিশ্ববাণিজ্য

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
ট্রাম্প প্রশাসনের পরের পদক্ষেপে বদলে যেতে পারে বিশ্ববাণিজ্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ আবারও নতুন করে শুরু হয়েছে। কয়েক মাস তুলনামূলক নীরব থাকার পর আবারও শুল্ক আরোপের পথে হাঁটছে তার প্রশাসন। এবারের পদক্ষেপ শুধু পণ্যের দাম নয়, বিশ্বজুড়ে সরবরাহব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সিএনএনের এক বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের বিস্তৃত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে বাধা দেওয়ার পর মার্কিন প্রশাসন আবারও নতুন কৌশলে এগোচ্ছে। গত শুক্রবার থেকে ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বাতিল হয়ে যাওয়া আগের শুল্কের কাছাকাছি হওয়ায় এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের জন্য বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি তৈরি করবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ট্রাম্প এখানেই থামবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। তার আগের পদক্ষেপ ও সাম্প্রতিক ঘোষণাগুলো বলছে, শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা এখনও তার বাণিজ্যনীতির বড় অংশ।

হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশের পণ্য আমদানির ওপর শুল্ক কর্মসূচি বাড়িয়েছেন। শুরুতে কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের পণ্যের ওপর ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপ করেন তিনি। এর পর প্রায় সব বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ‘পারস্পরিক শুল্ক’ আরোপের ঘোষণা দেন।

সুপ্রিম কোর্ট ওই শুল্কের একটি অংশকে অবৈধ বললেও ট্রাম্প থামেননি। বরং এর পর তিনি আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

সিএনএন বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন আগের শুল্ক কাঠামো নতুন আইনি ভিত্তিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। গত শুক্রবার কার্যকর হওয়া শুল্ক এরই অংশ। এগুলো মূলত জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ নিয়ে করা তদন্তের ভিত্তিতে আরোপ করা হয়েছে।

এর আগে ব্রাজিলের কিছু পণ্যের ওপরও নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। ভিন্ন একটি আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ব্রাজিলের কিছু নীতি মার্কিন বাণিজ্যের ক্ষতি করছে। তবে এসব শুল্ক আদালতে টিকবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে আগের শুল্ক মামলায় জয় পাওয়া লিবার্টি জাস্টিস সেন্টার শুক্রবার নতুন শুল্কের বিরুদ্ধেও মামলা করেছে।

সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও লিটিগেশন বিভাগের পরিচালক জেফরি শোয়াব বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন তৃতীয়বারের মতো এমন একটি বৈশ্বিক শুল্কনীতি চালুর চেষ্টা করছে, যা আইনে নির্ধারিত সীমার বাইরে।’

তবে জরুরি ক্ষমতার মতো দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ এসব আইনে নেই। এ কারণে আরেকটি আইনি পথ নিয়ে নজর রাখছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা। সেটি হলো ১৯৩০ সালের স্মুট-হাওলি ট্যারিফ আইনের ৩৩৮ ধারা।

এর আগে এই ধারা ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করা হয়নি। কিন্তু চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প এই ধারার কথা উল্লেখ করে কানাডার কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তার অভিযোগ, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প শুল্ককে শুধু বাণিজ্যনীতির অংশ হিসেবে নয়, আলোচনায় চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করছেন। বাণিজ্য বিরোধ মেটানো থেকে শুরু করে বড় রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব তৈরির ক্ষেত্রেও তিনি শুল্ককে কাজে লাগাচ্ছেন।

পিকক ট্যারিফ কনসাল্টিংয়ের প্রধান কাইল পিকক বলেন, ‘আমার অনেক কানাডীয় গ্রাহক আশঙ্কা করছেন, নতুন শুল্ক আরও বড় আকার নিতে পারে। তাই অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের আগে পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে দিনরাত কাজ করছে।’

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধেও নতুন তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তার অভিযোগ, ইইউ যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান– গুগল, অ্যাপল, মেটা ও অ্যামাজনের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। এই তদন্তের ফলেও নতুন শুল্ক আসতে পারে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাণিজ্য অংশীদার ১৬টি দেশের উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে আরেকটি তদন্ত চলছে। এসব তদন্তের ফল থেকে আসা শুল্কও আগের শুল্কের সঙ্গে যোগ হতে পারে।

ফিচ রেটিংসের যুক্তরাষ্ট্রবিষয়ক অর্থনীতির প্রধান ওলু সোনোলা বলেন, ‘শুল্ক আবার ২০২৫ সালের পর্যায়ের দিকে গেলে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়বে। এতে প্রবৃদ্ধি কমার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে।’

সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, আগামী নভেম্বরের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কারণে ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো বড় ধরনের শুল্ক বৃদ্ধি এড়িয়ে চলতে পারে। তবে তার দ্বিতীয় মেয়াদের একটি বিষয় স্পষ্ট– শুল্ক নিয়ে লড়াই যেকোনো সময় আরও বড় আকার নিতে পারে এবং দ্রুত দিক পরিবর্তন করতে পারে। সূত্র: সিএনএন

অতিরিক্ত গরমে কাজ করতে পারছে না মরুর বাহন উট

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ এএম
অতিরিক্ত গরমে কাজ করতে পারছে না মরুর বাহন উট
উত্তর আফ্রিকা ও আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে পশুপালকরা উটের সহনশীলতার কারণে এর ওপর নির্ভরশীল

মরুভূমির ‘জাহাজ’ হিসেবে পরিচিত উটও আর তীব্র গরম সহ্য করতে পারছে না। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা, দীর্ঘ খরা ও পানির সংকটে উটের মৃত্যু বাড়ছে। প্রভাব পড়ছে তাদের স্বাস্থ্য, প্রজনন ও দুধ উৎপাদনেও। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

উত্তর-পূর্ব ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চল পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণ ও শুষ্ক এলাকাগুলোর একটি। এখানকার যাযাবররা বহু বছর ধরে লবণ পরিবহনে উটের কাফেলা ব্যবহার করে আসছেন। আফারের সেমেরা এলাকার উটপালক আলী উমের বিবিসিকে বলেন, তীব্র গরমে তার উটগুলো ভয়াবহ কষ্ট পাচ্ছে। তাদের পায়ে ফোসকা পড়ছে। চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। গরম বালু শরীরের চামড়া পুড়িয়ে দিচ্ছে। তার প্রায় ৫০০টি উটের মধ্যে গত এক মাসেই তীব্র গরমে আটটি উটের মৃত্যু হয়েছে।

শুধু আলী উমের নন, একই অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন অন্য উটপালকরাও। বিজ্ঞানী, প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন গবেষণাও একই চিত্র তুলে ধরেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরমে উটের শরীরে তাপজনিত চাপ বাড়ছে। এতে ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও বিভিন্ন সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে।

বিশ্বের এক কুঁজবিশিষ্ট ড্রোমেডারি উটের প্রায় ৮০ শতাংশই উত্তর আফ্রিকা ও আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে রয়েছে। তবে ২০২৫ সালে প্রকাশিত দক্ষিণ ইথিওপিয়ার একটি গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামা উটের স্বাস্থ্য, উৎপাদনশীলতা ও প্রজননের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

প্রতিবেশী সোমালিয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। জুনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, খরার কারণে দেশটির প্রায় ৪৬ শতাংশ পরিবার তাদের পালন করা উট হারিয়েছে। প্রায় ছয় হাজার যাযাবর পরিবারের ওপর চালানো ওই গবেষণায় দেখা যায়, উত্তরাঞ্চলের সুল এলাকায় উটের মৃত্যুর হার প্রায় ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে।

বায়ুমণ্ডলবিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১-২২ সালের ভয়াবহ খরার পেছনে উচ্চ তাপমাত্রার বড় ভূমিকা ছিল। অতিরিক্ত গরমে মাটি ও জলাশয়ের পানি দ্রুত বাষ্পে পরিণত হয়। ফলে খরা আরও তীব্র হয়। কেনিয়ার মার্সাবিত কাউন্টির ভেটেরিনারি কর্মকর্তা হাসান নুয়া গুইও বলেন, তীব্র গরমে উটের শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এতে তারা নানা ধরনের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উটের মধ্যে রোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে দুধ উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। চলতি বছরে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের সময় উটের মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। গ্রীষ্মের চরম গরমের সময় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ, অতিরিক্ত খাদ্য এবং রোগ পর্যবেক্ষণের মতো বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, ১৯৮১ সালের পর থেকে উত্তর আফ্রিকায় তাপপ্রবাহের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে অঞ্চলটির কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণভাবে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা উট সহজেই সহ্য করতে পারে। ঘন প্রস্রাব, শুষ্ক মল ও মোটা লোমও তাদের গরম সহ্য করতে সাহায্য করে। কিন্তু তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ওপরে চলে গেলে পরিস্থিতি বদলে যায়।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) উটস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ বেঙ্গুমি বলেন, সাহারা মরুভূমির অনেক এলাকায় এখন গ্রীষ্মে তাপমাত্রা নিয়মিত ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকছে। পানি, গাছপালা ও ছায়ার অভাব থাকায় উটের তাপজনিত চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

আলজেরিয়ার ঘারদাইয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদেলমাজিদ চেহমা বলেন, ৪১ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হলে উটের শরীরের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।

মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী জলজীববিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহাম্মদ এল খাসমি জানান, অতিরিক্ত গরমে উটের ওজন কমে যায়। শরীরে প্রদাহ দেখা দেয়। পেশি ও হাড়ের সমস্যা হয়। সূত্র: বিবিসি