দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র পুনরায় চালু হওয়ায় লোডশেডিং অনেকটাই কমে এসেছে বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তবে উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে এখনও সামান্য ঘাটতি থাকায় কিছু এলাকায় সীমিত আকারে লোডশেডিং অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৮তম দিনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগের দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দিতে হয়েছিল। তবে দ্রুত মেরামত শেষে কেন্দ্র দুটি পুনরায় চালু হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে, যেখানে মোট চাহিদা রয়েছে ১৪ হাজার ৮৩৯ মেগাওয়াট। ফলে বিদ্যুতের ঘাটতি কমে ৩৩৯ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার অবশিষ্ট ঘাটতিও দ্রুত কমিয়ে আনতে কাজ করছে। কিছু এলাকায় এখনও সীমিত আকারে লোডশেডিং থাকতে পারে, তবে তা সম্পূর্ণভাবে দূর করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রবিবারের তুলনায় পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’
বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বয়লারের টিউবে লিকেজ দেখা দেওয়ায় সেটি জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করতে হয়েছিল। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরের বৈরী আবহাওয়ার কারণে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা খালাস ব্যাহত হওয়ায় ওই কেন্দ্রের একটি ইউনিটও উৎপাদন বন্ধ রাখে। এসব কারণেই সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি অবশিষ্ট লোডশেডিংও দ্রুত কমিয়ে আনার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’
এলিস/রিফাত/