সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাংলাদেশ কোনো ঋণের আশ্বাস বা নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে কিনা, সে বিষয়ে সরকারকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
একই সঙ্গে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘প্রতি বছর বাজেটে বড় বড় প্রত্যাশা তৈরি হলেও পরে তার বাস্তবতার ভার জনগণকেই বহন করতে হয়।’
সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৮তম দিনে অর্থবিলের সংশোধনীর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে ঘোষিত বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাস্তবে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় প্রকৃত ঘাটতি আরও বাড়ে এবং দেশকে দেশি-বিদেশি ঋণ ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করতে হয়।’
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানতে চান, ওই সফরে চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশ কোনো ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি না। পেয়ে থাকলে তার পরিমাণ কত এবং নতুন কোনো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে কি না, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি।
রুমিন বলেন, ‘এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি উত্তর না দিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কি কেবল ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে গেছি?’ এমন মন্তব্য কেউ প্রত্যাশা করে না। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার আলোকে ঋণ ও বিনিয়োগ নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত চার বছর ধরে দেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতার মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে। এসব সংকট মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।’
এলিস/রিফাত/