জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯৮ (সংশোধন) এবং দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬ শীর্ষক দুটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। বিল দুটি উত্থাপনের পর সংশ্লিষ্ট কমিটিতে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনের বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন পৃথকভাবে বিল দুটি উত্থাপন করেন। পরে স্পিকার বিল দুটির ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত কমিটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ দেন।
‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯৮’ সংশোধনী বিলে বলা হয়, চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও সেবার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়টির অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল স্থাপন করা হলেও জনবল ও পরিচালনা কাঠামো স্পষ্ট না থাকায় এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে হাসপাতালটি পরিচালনায় ‘কোম্পানি আইন, ১৯৯৪’-এর আওতায় ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বিলে আরও বলা হয়, চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবার পরিধি বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়কে মুনাফাভিত্তিক বা অলাভজনক কোম্পানি গঠন, শেয়ার অর্জন ও ধারণের ক্ষমতা প্রদান জরুরি। একই সঙ্গে কোম্পানি পরিচালনা, বিনিয়োগ, আয় ব্যবস্থাপনা এবং সিন্ডিকেটের ক্ষমতা আইনে সুস্পষ্ট করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ বিলে বলা হয়, প্রযুক্তিনির্ভর যুগে অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নকল, প্রশ্নফাঁস ও জাল সনদ তৈরির মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় ১৯৮০ সালের পুরোনো আইনটি যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।
বিলে পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল অপরাধ ও সংশ্লিষ্ট দণ্ড কার্যকরভাবে আইনের আওতায় আনার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রিসভা বৈঠকের অনুমোদন ও লেজিসলেটিভ বিভাগে ভেটিং শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এটি সংসদে উত্থাপন করা হয়।
উভয় বিলই সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে পুনরায় সংসদে উপস্থাপনের জন্য পাঠানো হবে।
এলিস/অন্তরা/