ঢাকা ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধে শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার অন্ধকারে, দ্রুত চালুর দাবি জামায়াতের বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ৬টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা মঙ্গলবার, নেওয়া হবে বিটিভি ও শহীদ মিনারে এই গরমে শিশুর যত্ন নেবেন যেভাবে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী শেরপুর সীমান্তে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক ১ ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে আর্জেন্টিনার ফুটবলারের স্ত্রী ও দুই সন্তানের মৃত্যু আলোচনায় মিম আফ্রিকান ফুটবলের অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কাফ সভাপতি মোতসেপে প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড রাজশাহীতে ছাদ থেকে পড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৪ দিন পর জীবিত উদ্ধার বাবা-ছেলে বিয়ে না করায় যুবককে হত্যার অভিযোগ প্রেমিকার বিরুদ্ধে, আটক ২ ইউক্রেনের কস্তিয়ানতিনিভকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে রুশ সেনা তিন মাসের সন্তানকে নিয়ে ইইউর বৈঠকে সুইডিশ মন্ত্রী যুগ্ম সচিবে পদোন্নতি শিগগির এইচএসসি পরীক্ষার জন্য এসএমপির গণবিজ্ঞপ্তি ‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পে রেকর্ড গড়ল চীনের সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়-বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা সিরাজদীখানে অগ্নিকাণ্ডে ২ দোকান পুড়ে ছাই হাসপাতালে ভর্তি দীপু মনি ওমেরা এলপিজির ব্যতিক্রমী রিটেইলার ক্যাম্পেইনের গ্র্যান্ড উইনার্স নাইট অনুষ্ঠিত সংসদে দুটি বিল উত্থাপন, যাচাই-বাছাইয়ে কমিটিতে প্রেরণ মাইক্রোবাসে গরু চুরির চেষ্টা, অটোচালকের বুদ্ধিতে ধরা ২ চোর দলের ব্যর্থতায় সৌদির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির পদত্যাগ চাকরি দেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গ্রামীণ নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে কর্মসূচি নিয়েছে সরকার: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী পড়ে পাওয়া গল্পের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের ডাবল ট্যাপ হামলা, শিশুসহ নিহত বেড়ে ৩৫ জাতীয় সংসদে সময় নির্ধারণে বৈষম্যের অভিযোগ জামায়াতের

তিন মাসের সন্তানকে নিয়ে ইইউর বৈঠকে সুইডিশ মন্ত্রী

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০১:১০ পিএম
তিন মাসের সন্তানকে নিয়ে ইইউর বৈঠকে সুইডিশ মন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জলবায়ু নীতিবিষয়ক দীর্ঘ বৈঠকে এবার দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে উপস্থিত ছিল তিন মাস বয়সী এক শিশু। আর তাকে নিয়ে এসেছিলেন সুইডেনের জলবায়ু ও পরিবেশমন্ত্রী রোমিনা পোরমোখতারি।

তিন মাস বয়সী ছেলে অ্যাডামকে সঙ্গে নিয়ে লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত ইইউ কাউন্সিলের বৈঠকে অংশ নেন রোমিনা। এর মাধ্যমে তিনি দেখাতে চেয়েছেন, পরিবার ও কর্মজীবনের মধ্যে নারীদের যেন কোনো একটি বেছে নিতে না হয়- এমন পরিবেশ গড়ে তোলার গুরুত্ব।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩০ বছর বয়সী এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমি উদাহরণ তৈরি করতে চেয়েছি যে, কাজ আর পরিবার- এই দুটির মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অবশ্য এর জন্য আধুনিক মানসিকতার একজন জীবনসঙ্গীরও প্রয়োজন, যিনি দায়িত্ব ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।’

ইইউ কাউন্সিলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের জানা মতে, ইইউ সদস্যদেশগুলোর মন্ত্রীদের আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এই প্রথম কোনো শিশুর উপস্থিতির ঘটনা ঘটল।

২০২২ সালে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় রোমিনা ছিলেন সুইডেনের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী। সম্প্রতি মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে তিনি কাজে ফিরেছেন। বর্তমানে তার স্বামী পিতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন এবং ছেলেকে দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছেন। সেই কারণেই তিনি অ্যাডামকে নিয়ে লুক্সেমবার্গ সফরে সঙ্গী হয়েছেন।

সুইডেনে বাবা-মা মিলিয়ে প্রায় ১৬ মাসের বেতনসহ ছুটি পান। এর মধ্যে ৯০ দিন শুধু বাবার এবং ৯০ দিন শুধু মায়ের জন্য সংরক্ষিত থাকে। নির্ধারিত ব্যক্তি সেই ছুটি ব্যবহার না করলে তা অন্যজনের কাছে হস্তান্তর করা যায় না।

রোমিনার মতে, এই নীতির পাশাপাশি সহকর্মীদের সহযোগিতাই তাকে নিশ্চিন্তে কাজে ফিরতে সহায়তা করেছে। 

তিনি বলেন, শুধু দীর্ঘ ছুটি দিলেই হবে না; বাবা-মায়ের মধ্যে আরও নমনীয়ভাবে ছুটি ভাগাভাগির সুযোগ এবং সাশ্রয়ী মূল্যে শিশুসেবা নিশ্চিত করাও জরুরি।

তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের নীতি সমাজের জন্য এমন মূল্য তৈরি করে, যার গুরুত্ব অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। এটি শুধু সামাজিক নয়, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। কারণ এতে কর্মজীবী বাবা-মায়ের মানসিক চাপ ও কর্মক্ষয় কমে।’

পোল্যান্ডের উপ-জলবায়ুমন্ত্রী ক্রিস্টোফ বোলেস্তাও বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। তার ভাষায়, ‘এটি দারুণ একটি উদ্যোগ। একটি শিশু কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং জীবনেরই স্বাভাবিক অংশ।’ সূত্র: রয়টার্স

অমিয়/

আনারস দিবস: দুধ-আনারস এক সঙ্গে খাওয়া যাবে কি?

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১১:১৭ এএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
আনারস দিবস: দুধ-আনারস এক সঙ্গে খাওয়া যাবে কি?
ছবি: প্রতীকী

প্রতি বছর ২৭ জুন বিশ্ব আনারস দিবস পালন করা হয়। ‘আ-না-রস’- নামটি শুনলেই অনেকের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। কারণ শব্দটিকে ভেঙে দাঁড়ায়, ‘আ-না-রস’, অর্থ দাঁড়ায় ‘রস নেই’। অথচ বাস্তবে আনারসের চেয়ে রসাল ফল খুব কমই আছে। টকমিষ্টি স্বাদের এই ফলের এক টুকরো মুখে দিলেই রসে ভরে ওঠে।

আনারসকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে মজার কথা- ‘রসে টসটস, কিন্তু নাম তার আ-না-রস!’ 

ভাষাবিদদের মতে, ‘আনারস’ নামটির সঙ্গে ‘রস নেই’- এমন কোনো অর্থগত সম্পর্ক নেই। শব্দটি বাংলা ভাষায় এসেছে বিদেশি ভাষার প্রভাব থেকে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই ফলটি ‘আনানাস’ নামে পরিচিত। দক্ষিণ আমেরিকার আদিবাসী টুপি ভাষার বা আনানাস শব্দের অর্থ ‘অত্যন্ত উৎকৃষ্ট ফল’ বা ‘সুগন্ধি ফল’। 

পরবর্তীতে পর্তুগিজসহ ইউরোপীয় ভাষার মাধ্যমে ‘আনানাস’ শব্দটি ভারতীয় উপমহাদেশে আসে। বাংলায় উচ্চারণের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তা ‘আনারস’ রূপ পায়।

সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ, আঁশ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস।

তবে আনারস নিয়ে একটি প্রচলিত ধারণা হলো- আনারসের সঙ্গে দুধ খাওয়া উচিত নয়। কিন্তু এর পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কতটুকু?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ মানুষের জন্য আনারস ও দুধ একসঙ্গে খাওয়া সাধারণত ক্ষতিকর নয়। আনারসে থাকা ব্রোমেলেইন নামের একটি এনজাইম দুধের প্রোটিনের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করতে পারে, ফলে দুধ কিছুটা জমাট বাঁধতে পারে বা স্বাদে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এটি বিষাক্ত কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না।

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আনারসের অম্লীয় স্বভাবের কারণে দুধের সঙ্গে খেলে হালকা অস্বস্তি, গ্যাস বা বদহজম হতে পারে। যাদের সংবেদনশীল পাকস্থলী বা ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা রয়েছে, তাদের এ ধরনের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

আনারস ও দুধ দিয়ে তৈরি স্মুদি, মিল্কশেক বা বিভিন্ন ডেজার্ট বিশ্বের অনেক দেশেই জনপ্রিয় এবং নিরাপদভাবে খাওয়া হয়। তাই এ দুটি খাবার একসঙ্গে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর- এমন ধারণার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

তবে যাদের আগে থেকে হজমের সমস্যা রয়েছে বা আনারস খেলে অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দেয়, তাদের সতর্ক থাকা উচিত। নতুন কোনো খাবারের সংমিশ্রণ খাওয়ার পর অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।

বিশ্ব আনারস দিবসে পুষ্টিকর এই ফলটি খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। তবে যেকোনো খাবারের মতোই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং নিজের শারীরিক সহনশীলতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে ভালো অভ্যাস।

খাদিজা রুমি/অমিয়/

একাকী বার্ধক্য রোধে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ ভারতের এই রাজ্যের

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
একাকী বার্ধক্য রোধে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ ভারতের এই রাজ্যের
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী টিও ডমিনিকের দিনের শুরুটা হয় ছেলেদের যেকোনো একজনকে ফোন করার মাধ্যমে। তার এক ছেলে থাকেন পার্শ্ববর্তী রাজ্য কর্ণাটকে, আর অন্যজন মধ্যপ্রাচ্যে। উন্নত কাজের খোঁজে বেশ কয়েক বছর আগেই তারা ঘর ছেড়েছেন। বাড়িতে এখন ডমিনিক আর তার স্ত্রী এমজে মার্থারের দিন কাটে নিজেদের মতো করে।

ফোনে টুকটাক খোঁজখবর বা আবহাওয়া নিয়ে কথা বলাটা কিছুটা স্বস্তি দিলেও, ঘরে যখন কোনো জরুরি সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তখন ছেলেরা পাশে থাকতে পারেন না। 

ভারতের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল প্রবীণ জনসংখ্যার রাজ্য কেরালায় এই দৃশ্য এখন খুবই সাধারণ। কারণ কর্মসংস্থান আর উচ্চশিক্ষার জন্য তরুণ প্রজন্ম অভিবাসী হচ্ছে। এতে প্রবীণরা ক্রমেই একা হয়ে পড়ছেন।

মে মাসে এই সংকট মোকাবিলায় কেরালা রাজ্যের সরকার প্রবীণদের কল্যাণের জন্য একটি আলাদা ও ডেডিকেটেড বিভাগ চালু করেছে, যা ভারতের ইতিহাসে প্রথম এমন উদ্যোগ।

সন্তানদের কোলাহলে মুখরিত বাড়িতে এখন নীরবতার প্রহর গোনেন ডমিনিক। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পুরোপুরি প্রতিবেশীদের ওপর নির্ভরশীল। আমাদের ছেলেমেয়েরা কমই বেড়াতে আসে এবং আশেপাশে তেমন কোনো আত্মীয়-স্বজনও নেই, যারা আমাদের সাহায্য করবে। দিন দিন পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে।’

পাশে বসা তার স্ত্রী মার্থা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘বার্ধক্যের সবচেয়ে বড় সঙ্গী এখন একাকীত্ব।’

লক্ষ্য ‘এজিং ইন প্লেস’

ভারতে যুগ যুগ ধরে প্রবীণরা সন্তানদের সঙ্গেই থাকতেন এবং তাদের ওপরই নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু সেই ঐতিহ্য এখন ভাঙনের মুখে।

প্রবীণ কল্যাণ বিভাগের প্রধান ড. রথান কেলকার জানান, তাদের মূল কৌশল হলো ‘এজিং ইন প্লেস’, অর্থাৎ, বয়োবৃদ্ধদের কোনো বৃদ্ধাশ্রমে না পাঠিয়ে তাদের নিজেদের বাড়ি ও চেনা পরিবেশেই সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, ‘‘পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- কমিউনিটি ও হোম-বেসড কেয়ারের পরিধি বাড়ানো এবং ‘সোশ্যাল প্রেসক্রাইবিং’ বা সামাজিক ব্যবস্থাপত্রের প্রবর্তন, যার মাধ্যমে প্রবীণদের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হবে। এ ছাড়া কেরালা সরকার সার্টিফাইড কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, প্রবীণদের জন্য পার্ক, ডে-কেয়ার সেন্টার এবং ফিটনেস সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।’’

ড. কেলকার বলেন, বার্ধক্য এখন আর কেবল সমাজকল্যাণমূলক কোনো বিষয় নয়। এটি এখন স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, পরিবহন, স্থানীয় শাসন, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও আর্থিক খাতের মতো একাধিক বিষয়ের সঙ্গে জড়িত।

প্রবীণের সংখ্যায় শীর্ষে কেরালা

উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং জন্মহার কমে যাওয়ার কারণে কেরালা ভারতের সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধ রাজ্যে পরিণত হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩৬ সালের মধ্যে কেরালার মোট জনসংখ্যার প্রায় ২২ দশমিক ৮ শতাংশ (প্রতি চারজনে একজন) হবেন প্রবীণ, যেখানে জাতীয় গড় থাকবে ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কেরালাবাসীর জীবনযাত্রার মান বাড়ালেও, এর একটি অন্ধকার দিকও স্পষ্ট হচ্ছে। সিডনিতে কর্মরত এক আইটি পেশাদার বলেন, ‘আমি নিয়মিত বাড়িতে টাকা পাঠালেও শুধু আর্থিক সহযোগিতাই তো শেষ কথা নয়। শারীরিক অসুস্থতা বা জরুরি মুহূর্তে মা-বাবার পাশে সশরীরে থাকতে না পারার যে মানসিক কষ্ট, তা টাকা দিয়ে দূর করা যায় না। দূর থেকে ভিডিও কলে মা-বাবাকে অসুস্থ দেখলে নিজেকে বড্ড অসহায় লাগে।’

একাকীত্ব দূর করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ

কেরালা সরকারের এই বিভাগ আগের সব প্রবীণ সেবা প্রকল্পগুলোকে (যেমন- বয়োমিথ্রম বা সামাজিক পেনশন) এক ছাতার নিচে নিয়ে আসবে। তবে ড. কেলকার স্বীকার করেছেন যে, শুধু অবকাঠামো দিয়ে একাকীত্ব দূর করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো, কেরালার কোনো প্রবীণ মানুষ যেন নিজেকে অদৃশ্য বা পরিত্যক্ত মনে না করেন।’

দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালের জেরিয়াট্রিক ইউনিটের প্রধান ড. প্রসূন চ্যাটার্জি বলেন, ‘আমার রোগীরা প্রায়ই জিজ্ঞেস করেন- মাঝরাতে হঠাৎ অসুস্থ হলে কে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাবে? ভারতে এখনও প্রবীণদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসকের (জেরিয়াট্রিক স্পেশালিস্ট) তীব্র সংকট রয়েছে।’

প্রকল্পের বাজেট ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা

কেরালা সরকার চলতি বছর এই খাতের জন্য ১০ কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে। অনেকে একে ‘প্রতীকী’ বা অপ্রতুল বললেও ড. কেলকার জানান, প্রাথমিক সমন্বয়, পাইলট প্রজেক্ট এবং দীর্ঘমেয়াদি তথ্যভাণ্ডার তৈরির জন্য এই তহবিল ব্যবহার করা হবে।

তবে নীতিমালা কবে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে, সেই আশায় বসে নেই ডমিনিক ও মার্থা দম্পতি। চিরাচরিত নিয়মে তারা এখনও প্রতিবেশীদের ওপরই ভরসা রাখছেন। 

মার্থা বলেন, ‘আমাদের চাওয়া খুব সাধারণ- এমন কেউ একজন থাকুক, যাকে ডাকলে সত্যিই ছুটে আসবে।’

তবে সমুদ্র এবং টাইম জোনের দূরত্বে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর মাঝে কেরালার এই নতুন বিভাগ কতটা স্বস্তি ফেরাতে পারে, তা সময়ই বলে দেবে।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলওয়ে স্টেশনে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১২:০১ পিএম
বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলওয়ে স্টেশনে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য
ছবি: সংগৃহীত

তিব্বতি ভাষায় ‘তাংগুলা’ শব্দের অর্থ ‘মালভূমির ওপর অবস্থিত পর্বতমালা’। উত্তর-পশ্চিম চীনের চিংহাই প্রদেশ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের শিজাং (তিব্বত) স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মধ্যবর্তী প্রাকৃতিক সীমান্ত হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে তাংগুলা পর্বতমালা। 

চিংহাই-শিজাং মালভূমির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই পর্বতশ্রেণির গড় উচ্চতা ৫ হাজার মিটারেরও বেশি। এর অধিকাংশ শৃঙ্গ সারা বছরই বরফ ও তুষারে আচ্ছাদিত থাকে।

প্রাচীনকাল থেকে তাংগুলা অঞ্চল শিজাংয়ে প্রবেশের অন্যতম কঠিন ও দুর্গম পথ হিসেবে পরিচিত। প্রতিকূল আবহাওয়া, অক্সিজেনের স্বল্পতা এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে এ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে মানুষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

তবে ২০০৬ সালে চিংহাই-শিজাং রেলপথ চালু হওয়ার মাধ্যমে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হয়। 

প্রকৌশল বিস্ময় হিসেবে পরিচিত এই রেলপথ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৭২ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত তাংগুলা গিরিপথ অতিক্রম করেছে, যা বর্তমানে বিশ্বের যেকোনো রেলপথের সর্বোচ্চ বিন্দু।

এ রেলপথের তাংগুলা রেলওয়ে স্টেশন বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলওয়ে স্টেশন হিসেবে পরিচিত। 

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার ৬৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই স্টেশনটি কঠোর প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যেও আধুনিক প্রকৌশলের এক অনন্য নিদর্শন। 

চারদিকে বিস্তৃত তুষারাবৃত পর্বত, নীল আকাশ এবং বিস্ময়কর মালভূমির দৃশ্য পর্যটক ও ভ্রমণপ্রেমীদের মুগ্ধ করে।

চিংহাই-শিজাং রেলপথ শুধু চীনের পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন মাত্রাই যোগ করেনি, বরং তিব্বত অঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

বিশ্বের ছাদখ্যাত এই অঞ্চলের অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং প্রকৌশল কৃতিত্ব একসঙ্গে উপভোগ করতে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলওয়ে স্টেশন একটি অনন্য গন্তব্য। সূত্র: সিজিটিএন

অমিয়/

ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যায়ামের ৫টি জাদুকরী ক্ষমতা!

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যায়ামের ৫টি জাদুকরী ক্ষমতা!
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার সময় শারীরিক পরিশ্রম না করে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হতো। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফির একটি বিশেষ স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে জানা গেছে, ক্যানসার চিকিৎসার সমান্তরালে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত সুনির্দিষ্ট ব্যায়াম বা শারীরিক কসরত করা হলে রোগীদের সুস্থ হওয়ার এবং বেঁচে থাকার হার অবিশ্বাস্যভাবে বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরিক ক্রিয়াকলাপ কেবল মন ভালো রাখার জন্য নয়, বরং এটি ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরাসরি ওষুধের মতো কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে।

শুধু চিকিৎসা নয়, লাইফস্টাইলও যখন প্রতিষেধক

ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা এখন কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন বা ইমিউনোথেরাপির পাশাপাশি রোগীদের দৈনন্দিন রুটিনে ‘এক্সারসাইজ প্রেসক্রিপশন’ বা ব্যায়ামের নির্দেশিকা যুক্ত করছেন। 

গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন, কোলন এবং প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত যেসব রোগীরা চিকিৎসার সময় ও পরে নিয়মিত মাঝারি মানের শারীরিক কসরত (যেমন- দ্রুত হাঁটা, সাঁতার বা হালকা ইয়োগা) করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে ক্যানসারের পুনরাবৃত্তি হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

আমেরিকান কলেজ অব স্পোর্টস মেডিসিন এবং বিভিন্ন ক্যানসার অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ গবেষণায় এই প্রমাণ মিলেছে।

ওনকোলজি বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটা সময় ভাবা হতো ক্যানসারের রোগীরা খুব দুর্বল থাকেন, তাই তাদের নড়াচড়া করা উচিত নয়। কিন্তু এখন চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, নিষ্ক্রিয়তা বা সারাদিন শুয়ে-বসে থাকা রোগীর শরীরকে আরও দুর্বল করে দেয় এবং ক্যানসারের ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

কীভাবে কাজ করে এই 'ব্যায়াম থেরাপি?

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শারীরিক পরিশ্রম করার সময় মানবদেহে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে, যা সরাসরি টিউমার বা ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে-

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: ব্যায়ামের ফলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা ‘ন্যাচারাল কিলার সেল’ বা রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলোকে দ্রুত টিউমার আক্রান্ত স্থানে পৌঁছে দেয়।

ইনসুলিন ও হরমোন নিয়ন্ত্রণ: এটি রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা এবং শরীরের ক্ষতিকারক হরমোনের নিঃসরণ কমায়, যা অনেক সময় ক্যানসারের বৃদ্ধির প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।

প্রদাহ হ্রাস: নিয়মিত কসরত শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমায়, যা ক্যানসারের বিস্তার রোধে অত্যন্ত জরুরি।

কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দূর করতে অনবদ্য

ক্যানসার চিকিৎসার অন্যতম কঠিন অংশ হলো কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশনের মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। এর ফলে রোগীরা প্রচণ্ড শারীরিক ক্লান্তি, অবসাদ এবং মাংসপেশির ক্ষয়ে ভুগে থাকেন।

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যেসব রোগী চিকিৎসার গাইডলাইন মেনে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করেন, তাদের এই দীর্ঘমেয়াদী ক্লান্তি সাধারণ রোগীদের তুলনায় অনেক দ্রুত দূর হয়। এটি শুধু শারীরিক শক্তিই ফিরিয়ে আনে না, বরং রোগীদের মানসিক বিষণ্ণতা কাটিয়ে তুলতেও জাদুর মতো কাজ করে।

তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রতিটি ক্যানসার রোগীর শারীরিক অবস্থা ভিন্ন। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ এবং দক্ষ থেরাপিস্টের তত্ত্বাবধান ছাড়া কোনো ভারী ব্যায়াম শুরু করা উচিত নয়।

আজহার/

মানুষ স্বপ্ন দেখে কেন? বিজ্ঞান যা বলছে

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
মানুষ স্বপ্ন দেখে কেন? বিজ্ঞান যা বলছে
ছবি: চ্যাটজিপিটি

দিনভর নানা কাজের ব্যস্ততার মাঝেও মানুষের মনে উঁকি দেয় অসংখ্য প্রশ্ন। আর সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে অনেকেই ভরসা করেন গুগলের ওপর। সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি খোঁজা বিষয়গুলোর একটি হলো- মানুষ আসলে স্বপ্ন দেখে কেন?

প্রতিদিন রাতে ঘুমের মধ্যে আমরা নানা ধরনের স্বপ্ন দেখি। কখনও নিজেকে অচেনা কোনো জায়গায় আবিষ্কার করি, কখনও বহুদিনের পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা হয়, আবার কখনও এমন সব ঘটনার মুখোমুখি হই, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিলই থাকে না। কিন্তু এই স্বপ্নের পেছনে কী কাজ করে?

বিজ্ঞানীদের মতে, স্বপ্ন হলো ঘুমের সময় মস্তিষ্কে সৃষ্ট এক ধরনের মানসিক অভিজ্ঞতা। সবচেয়ে জীবন্ত ও স্পষ্ট স্বপ্ন সাধারণত দেখা যায় র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট (আরইএম) ঘুমের সময়। এ পর্যায়ে শরীর বিশ্রামে থাকলেও মস্তিষ্ক অত্যন্ত সক্রিয় থাকে। আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত অংশগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে, অথচ যুক্তি ও বিশ্লেষণধর্মী অংশের কার্যকলাপ তুলনামূলক কমে যায়। এ কারণেই স্বপ্ন অনেক সময় অদ্ভুত, অবাস্তব বা বিচ্ছিন্ন মনে হয়।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু আরইএম ঘুমেই নয়, নন-আরইএম পর্যায়েও মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারে। যদিও সেসব স্বপ্ন সাধারণত কম প্রাণবন্ত এবং তুলনামূলকভাবে কম মনে থাকে।

স্বপ্ন কেন আসে?

স্বপ্নের প্রকৃত কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনও পূর্ণ ঐকমত্য নেই। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব বেশ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

আবেগ প্রক্রিয়াকরণে সহায়ক

অনেক গবেষকের মতে, স্বপ্ন মস্তিষ্ককে দিনের বিভিন্ন আবেগ, উদ্বেগ, ভয় ও মানসিক চাপ প্রক্রিয়াকরণে সাহায্য করে। এটি এক ধরনের মানসিক ‘রিসেট’ বা আবেগগত সমন্বয়ের কাজ করতে পারে।

স্মৃতি সংরক্ষণ ও শেখার প্রক্রিয়া

ঘুমের সময় মস্তিষ্ক দিনের তথ্যগুলো সাজিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিতে সংরক্ষণ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভালো ঘুম ও স্বপ্ন স্মৃতিশক্তি ও শেখার দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধান

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বপ্ন কখনও কখনও সৃজনশীল চিন্তা ও সমস্যা সমাধানে সহায়তা করতে পারে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, যারা স্বপ্নে কোনো অসমাধিত সমস্যা নিয়ে চিন্তা করেছিলেন, তারা জেগে ওঠার পর সেই সমস্যার সমাধানে তুলনামূলক বেশি সফল হয়েছেন।

সম্ভাব্য বিপদের মহড়া

আরেকটি তত্ত্ব অনুযায়ী, স্বপ্ন মানুষের মস্তিষ্ককে সম্ভাব্য বিপদ বা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করে। ভয় ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মস্তিষ্কের অংশ স্বপ্নের সময় তুলনামূলক বেশি সক্রিয় থাকে।

সব স্বপ্ন কি স্বাভাবিক?

সব স্বপ্ন সুখকর হয় না। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ঘুমের ঘাটতি, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা ট্রমার কারণে দুঃস্বপ্ন বা ‘নাইটমেয়ার’ দেখা দিতে পারে। যদি এমন দুঃস্বপ্ন বারবার দেখা যায় এবং স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

রহস্য এখনো পুরোপুরি উন্মোচিত নয়

স্বপ্ন নিয়ে গবেষণা এখনও চলছে। বিজ্ঞানীরা একমত যে স্বপ্নের সঙ্গে আমাদের স্মৃতি, আবেগ, সৃজনশীলতা এবং মানসিক সুস্থতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তবে মানুষ ঠিক কেন স্বপ্ন দেখে, তার চূড়ান্ত উত্তর এখনো মেলেনি। সম্ভবত এই অজানা রহস্যই স্বপ্নকে এত আকর্ষণীয় করে রেখেছে।