গুরুতর চোটে দীর্ঘ পাঁচ মাস মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছিল আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড জুলিয়ানো সিমিওনে বালদিনিকে। তবে সেই কঠিন সময়েও বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন থেকে একচুলও সরে যাননি তিনি। ২০২৩ সালে বন্ধুদের কাছে দেওয়া তার একটি প্রতিশ্রুতি অবশেষে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। সেই স্মৃতিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন এই তরুণ ফুটবলার।
২০২৩ সালের ৬ আগস্ট বন্ধুদের সঙ্গে একটি গ্রুপ চ্যাটে পাঠানো বার্তার স্ক্রিনশট ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করে বালদিনি লিখেছেন, ‘তোমাদের একটা কথা বলে রাখি, আমি আগামী বিশ্বকাপেই খেলব।’
আতলেতিকো মাদ্রিদ থেকে ধারে আলাভেসে খেলতে গিয়ে ২০২৩ সালে বুর্গোস সিএফয়ের বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে ফিবুলা হাড় ভেঙে যায় এবং গোড়ালির লিগামেন্টে গুরুতর চোট পান তিনি। অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ পুনর্বাসনের কঠিন পথ পেরিয়ে বিশ্বকাপে খেলার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে ফেরেন বালদিনি। বর্তমানে তিনি আতলেতিকো মাদ্রিদে নিজের বাবা কোচ ডিয়েগো সিমিওনের অধীনেই খেলছেন।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে গত জুনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বালদিনি বলেন, ‘আলাভেসের হয়ে যখন গুরুতর চোটে পড়ি, প্রথম ধাক্কা সামলে ওঠার পর আমার মাথায় একটাই চিন্তা এসেছিল-বিশ্বকাপে খেলতে হবে। অথচ তখনও আমি আর্জেন্টিনার যুব দলেও খেলিনি।’
অবশেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয় চলতি বিশ্বকাপে। প্রতিজ্ঞার প্রায় তিন বছর পর, ২৭ জুন জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে লিওনেল স্কালোনির শুরুর একাদশে সুযোগ পান বালদিনি। এটাই ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার বিশ্বকাপ অভিষেক।
অভিষেকের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বালদিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়াটা অবিশ্বাস্য অনুভূতি। ছোটবেলা থেকেই আমি এই দিনের স্বপ্ন দেখেছি। ২০২৩ সালের চোটের পর সবকিছু খুব দ্রুত বদলে গেছে। সময়টা কঠিন ছিল, কিন্তু আমি চেষ্টা থামাইনি। ত্যাগ ও পরিশ্রমের কারণেই আজ এখানে পৌঁছাতে পেরেছি।’
পাপ্পু/অনিক/