ঢাকা ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
উত্তরায় ইবিয়ানদের প্রথম মতবিনিময় ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত শ্যামনগরে দোকান থেকে অজগর সাপ উদ্ধার জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে শিবিরের ৩৬ দিনের কর্মসূচি বিশ্বকাপের ফ্যান জোনে গোলাগুলি, নিহত ১ বাগদান নিয়ে যা বললেন নীহা স্মার্টফোনের ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর হওয়ার সুযোগ বিরোধী দলের এমপিদের জন্য বরাদ্দ ২০ কোটি টাকা: মির্জা ফখরুল বটমলী হোম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত বেরোবিতে আবারও অবস্থান কর্মসূচি করছেন পদোন্নতি বঞ্চিতরা স্যুটকেসে কিশোরীর মরদেহ, অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক গ্রেপ্তার কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন খাতে সংশোধনী প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর ঐক্যবদ্ধ শক্তিতেই ভরসা জাপান কোচ মোরিয়াসুর ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ২টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র রাবিপ্রবিতে নতুন ৩ মিনিবাস এই গরমে ত্বকের যত্ন নিন সহজে রাবিতে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে সিট দখলের অভিযোগ, শিবিরের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন জাপানের মাইন্ড গেমসে পা দিবে না আনচেলত্তি বান্দার হৃদয়ে আল্লাহ কেন মোহর মারেন? এনসিসি ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি প্রোগ্রামে জনবল নিয়োগ আইফোন ১৮ প্রোর ফিচার ফাঁস: ডিজাইন, ক্যামেরা ও ডিসপ্লেতে যা থাকছে স্ট্রবেরি মুন দেখা যাবে ৩০ জুন পর্যন্ত সাধারণ এলইডির চেয়ে স্মার্ট বাল্ব কি ব্যয়বহুল? সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আহ্বান শেরপুর সীমান্তে অবৈধ পথে ফেরা ২ বাংলাদেশিকে পুশব্যাক কচুয়ায় সিঁদ কেটে বৃদ্ধাকে গলাকেটে হত্যা আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধে শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার অন্ধকারে, দ্রুত চালুর দাবি জামায়াতের নিখোঁজের দুই দিন পর পুকুরে মিলল বৃদ্ধের মরদেহ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ৬টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র শৈলকুপায় পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা মঙ্গলবার, নেওয়া হবে বিটিভি ও শহীদ মিনারে

এই গরমে শিশুর যত্ন নেবেন যেভাবে

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
এই গরমে শিশুর যত্ন নেবেন যেভাবে

তীব্র গরমে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন সবচেয়ে বেশি যত্ন ও সচেতনতার প্রয়োজন শিশুদের ক্ষেত্রে। প্রচণ্ড গরমেও তাদের খেলাধুলা ও ছোটাছুটি থেমে থাকে না। এতে অতিরিক্ত ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায় প্রয়োজনীয় পানি ও খনিজ লবণ, যা ডিহাইড্রেশনসহ নানা শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই এ সময় শিশুদের খাবার, পানীয়, পোশাক ও দৈনন্দিন পরিচর্যায় বাড়তি মনোযোগ দেওয়া জরুরি। লিখেছেন দীনা মরিয়ম 

পানি এবং পানীয়: প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি যা অনুভূত হয় তা হলো পিপাসা। শিশুরা অনেক সময় খেলতে খেলতে ক্ষুধা-পিপাসা ভুলে যায়। অনেক সময় শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে গিয়ে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন হতে পারে যা অনেক ক্ষেত্রে শিশুর জন্য মারাত্মক হতে পারে। তাই অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে যে, শিশু সময়মতো পানি পান করছে কি না। নির্দিষ্ট সময় পর পর তাদের নিজ দায়িত্বে পানি পান করাতে হবে। ঘামের সঙ্গে শরীরের পানি ছাড়াও প্রয়োজনীয় লবণ ও কিছু পানিতে দ্রবিভূত ভিটামিন ও মিনারেল বেরিয়ে যায়। 

তাই অতিরিক্ত গরমে শুধু পানি শিশুর এ ঘাটতি পূরণ করতে পারে না। তাছাড়া অনেক সময় শিশুরা পানি পান করতেও চায় না। সেজন্য দিনের বিভিন্ন সময়ে পানির পাশাপাশি তাদের ডাব, লাচ্ছি, ঘরে তৈরি ফলের রস লেবুপানি, গ্লুকোজ, মৌসুমি ফল, টকদই, রসযুক্ত ফল ও খাবার খেতে দিতে হবে। প্যাকেটজাত জুস, সফট ড্রিংকস বা কোল্ড ড্রিংকস এড়িয়ে চলতে হবে। অনেকেই গরমে নিজের ইচ্ছামতো ওরস্যালাইন খেয়ে থাকেন, যা বিশেষজ্ঞদের মতে শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের জন্য ওরস্যালাইন, টেস্টি স্যালাইন বিশেষ কারণ বা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা একদমই উচিত নয়। 

খাবার: গরমে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, বেশি তেল-মসলাযুক্ত খাবার, বেশি বেশি জাঙ্কফুড বদহজমের কারণ হতে পারে। তাই খাবার নির্বাচন করতে হবে সহজপাচ্য। যে মৌসুমে যেসব শাকসবজি জন্মায়, সে মৌসুমের জন্য সেসবই সবচেয়ে ভালো ও উপকারি খাবার।
শিশুদের খাবারে প্রয়োজনীয় আমিষ ও ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত মৌসুমি শাকসবজি ও সালাদ থাকতে হবে। যেসব খাবার শরীর ও পেট ঠাণ্ডা রাখে, শিশুকে সে ধরনের খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

পোশাক: গরমে পোশাকের একটি বড় ভূমিকা থাকে। শিশুদের পোশাক নির্বাচনের সময় হালফ্যাশনের চেয়ে তা কতটা আরামদায়ক সেদিকে বেশি নজর দিতে হবে। সাধারণত একটু ছোট হাতাওয়ালা ও ঢিলাঢালা ডিজাইনের নরম সুতি কাপড়ের পোশাক এ সময়ের জন্য উপযোগী। কারণ, তাতে বাতাস চলাচল করতে পারে আবার ঘাম শোষণ করে নিতে পারে। এতে শিশু আরাম অনুভব করে, আবার ঘামের জীবাণু-সংক্রমণ কম হয়। 

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: গরমের দিনে শিশুদের নিয়মিত গোসল করাতে হবে। গোসলের পানিতে কিছুটা অ্যান্টিসেপটিক সল্যুশন ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া প্রতিবার বাইরে থেকে ফেরার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে হাতমুখ ধুয়ে দিতে হবে। 
প্রয়োজনে ভেজা তোয়ালে দিয়ে গা মুছিয়ে দেওয়া যেতে পারে। ঘামে ভেজা পোশাক পরিবর্তন করে পরিষ্কার পোশাক পরিয়ে দিতে হবে। প্রতিবার পোশাক পাল্টানোর সময় ভালো করে প্রিকলি হিট পাউডার শরীরে ব্যবহার করতে হবে।

বাইরে বের হওয়ার সময়সূচি: অন্য কোনো কাজ বা খেলাধূলার জন্য বের হওয়ার ক্ষেত্রে তীব্র রোদ এড়িয়ে চলাই ভালো। শিশুদের খেলাধূলার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে জায়গাটা যেন একটু ছায়াযুক্ত হয়।   

পর্যাপ্ত বিশ্রাম: শিশুরা গরমে একটু বেশি ক্লান্ত হয়ে পরে, তাই তাদের পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে। শারীরিক ক্লান্তির পাশাপাশি খাবার হজম হওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্যও যথাযথ ঘুমের প্রয়োজন। 

ঘরের তাপমাত্রা: যে ঘরে শিশুরা বসবাস করে তার ভেতরের তাপমাত্রা যতটা পারা যায় শীতল রাখার চেষ্টা করতে হবে। প্রাকৃতিক বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকলে খুবই ভালো। না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।

/এমটি

এই গরমে ত্বকের যত্ন নিন সহজে

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
এই গরমে ত্বকের যত্ন নিন সহজে

গ্রীষ্মকালের এই সময়টায় তীব্র রোদ, অতিরিক্ত ঘাম, ধুলাবালি ও আর্দ্রতার কারণে নানা ধরনের ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়। বছরের এই সময়টাতে কারও ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে যায়, কারও ব্রণ বেড়ে যায়। আবার অনেকের ত্বকে র‌্যাশ, রোদে পোড়া দাগ কিংবা শুষ্কতা দেখা দেয়। তাই এই সময়ে একটু সচেতনতা এবং নিয়মিত যত্ন ত্বককে রাখতে পারে সতেজ, পরিষ্কার ও প্রাণবন্ত। লিখেছেন রোদসী
   
ত্বক পরিষ্কার রাখুন নিয়মিত
গরমে ঘাম বেশি হয়, ফলে ত্বকে ময়লা ও তেল জমে যায়। এতে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস কিংবা ফুসকুড়ির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দিনে অন্তত দুবার মুখ পরিষ্কার করা উচিত। নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী মাইল্ড ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। বাইরে থেকে এসে অবশ্যই মুখ ধুয়ে নিন, যাতে ধুলাবালি ত্বকে না জমে থাকে। 
তবে অতিরিক্ত মুখ ধোয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে। বারবার সাবান বা ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট হতে পারে।

সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন প্রতিদিন
গরমে ত্বকের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি। এটি ত্বকে কালচে দাগ, ট্যান, রোদে পোড়া ভাব এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই বাইরে যাওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।
কমপক্ষে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন বেছে নিন। যদি দীর্ঘসময় বাইরে থাকতে হয়, তা হলে কয়েক ঘণ্টা পর আবার ব্যবহার করুন। শুধু মুখ নয়, হাত, গলা এবং খোলা অংশেও সানস্ক্রিন লাগানো উচিত।

হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
অনেকে মনে করেন গরমে ময়েশ্চারাইজারের প্রয়োজন নাই। এটি ভুল ধারণা। গরমেও ত্বক আর্দ্রতা হারায়, বিশেষ করে রোদে থাকলে বা বারবার মুখ ধুলে। তাই হালকা, তেলমুক্ত বা জেলভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বক নরম থাকবে এবং শুষ্কতা কমবে।

প্রচুর পানি পান করুন
ত্বকের যত্ন শুধু বাইরে থেকে নয়, ভেতর থেকেও নিতে হয়। গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে অনেক পানি বের হয়ে যায়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান না করলে ত্বক নিষ্প্রাণ ও ক্লান্ত দেখাতে পারে।
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের রস কিংবা পানিযুক্ত ফল যেমন তরমুজ, শসা, কমলা খেতে পারেন। এতে শরীর যেমন ঠাণ্ডা থাকবে, তেমনি ত্বকও থাকবে সতেজ।

হালকা প্রসাধনী ব্যবহার করুন
গরমে ভারী মেকআপ ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। অতিরিক্ত ফাউন্ডেশন, ভারী কনসিলার বা ঘন প্রসাধনী ঘাম ও তেলের সঙ্গে মিশে ত্বকের সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই এই সময় হালকা প্রসাধনী ব্যবহার করাই ভালো।
টিন্টেড সানস্ক্রিন, হালকা কমপ্যাক্ট, ওয়াটারপ্রুফ কাজল বা লিপ বাম ব্যবহার করতে পারেন। এতে স্বাভাবিক লুক বজায় থাকবে, আবার ত্বকও আরাম পাবে।

ত্বক ঠাণ্ডা রাখতে প্রাকৃতিক যত্ন
গরমে ঘরোয়া কিছু উপায়ও ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে। যেমন-
•    শসার রস বা টুকরো চোখ ও মুখে ব্যবহার করলে ঠাণ্ডা অনুভূতি দেয়
•    গোলাপজল ত্বককে সতেজ রাখে
•    অ্যালোভেরা জেল ত্বকের জ্বালা কমাতে সাহায্য করে
•    দই ও মধুর প্যাক ত্বক কোমল রাখতে সহায়ক 
তবে যেকোনো কিছু ব্যবহারের আগে ত্বকে মানায় কি না তা দেখে নেওয়া ভালো।

ঘাম ও ব্রণের যত্ন
গরমে অতিরিক্ত ঘাম হলে ত্বকে ব্যাকটেরিয়া জমে ব্রণ হতে পারে। তাই মুখে বারবার হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার করুন এবং ঘাম হলে আলতোভাবে মুছে নিন।

খাবারেও আনুন পরিবর্তন
ত্বকের সুস্থতার জন্য খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেল-ঝাল খাবার, ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার অনেক সময় ত্বকের সমস্যা বাড়ায়। তাই গরমে বেশি করে ফল, শাকসবজি, সালাদ ও হালকা খাবার খাওয়া ভালো। 
ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার যেমন কমলা, পেয়ারা, লেবু ত্বকের জন্য উপকারী। এ ছাড়া বাদাম, দই, সবুজ শাকসবজিও ত্বকের পুষ্টি জোগায়।

কী এড়িয়ে চলবেন
গরমে ত্বকের যত্নে কিছু ভুল অভ্যাস এড়িয়ে চলা জরুরি–
•    রোদে বের হয়ে সানস্ক্রিন না ব্যবহার করা
•    ঘামযুক্ত মুখে মেকআপ রেখে দেওয়া
•    অপরিষ্কার তোয়ালে বা বালিশের কভার ব্যবহার করা
•    খুব গরম পানি দিয়ে মুখ ধোয়া
•    ব্রণ খোঁটা বা চেপে ধরা
এসব অভ্যাস ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।

রূপচর্চায় পাকা আম

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
রূপচর্চায় পাকা আম

গ্রীষ্মকাল মানেই পাকা আমের মৌসুম, আর এই সময়টা শুধু স্বাদের জন্য নয়–ত্বক ও চুলের যত্নের জন্যও দারুণ একটি সুযোগ। ফলের রাজা আমে রয়েছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ই, বিটা-ক্যারোটিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং নানা ধরনের মিনারেল; যা ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়। প্রাচীনকাল থেকেই ঘরোয়া রূপচর্চায় পাকা আম ব্যবহৃত হয়ে আসছে, আর আধুনিক স্কিন কেয়ার ট্রেন্ডেও এখন এটি আবার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। লিখেছেন রোদসী 

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে পাকা আম
পাকা আমের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো এটি ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন-সি ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়, ফলে ত্বক হয় টানটান ও সতেজ। নিয়মিত ব্যবহারে মুখের নিস্তেজতা দূর হয়ে আসে প্রাকৃতিক গ্লো। বিশেষ করে যারা রোদে বের হন বেশি, তাদের ত্বকে ট্যান বা ডালনেস কমাতে আমের ফেসপ্যাক বেশ কার্যকর।

আমের পাল্প সরাসরি মুখে লাগালে তা হালকা এক্সফোলিয়েশনের কাজ করে, মৃত কোষ দূর করে নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে। ফলে ত্বক আরও মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখায়। তবে খুব বেশি সময় না রেখে ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই ধুয়ে ফেলা ভালো, যাতে ত্বকে অতিরিক্ত স্টিকিনেস না থাকে।

শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের প্রাকৃতিক সমাধান
শুষ্ক ত্বকের জন্য পাকা আম এক ধরনের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। আমে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও পানি ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখে। বিশেষ করে শীতের শেষ বা গরমের শুষ্ক সময়ে আমের ফেসপ্যাক ত্বককে কোমল ও হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।

শুষ্ক ত্বকের জন্য আম, দুধ ও মধু মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করা যেতে পারে। দুধ ত্বক নরম করে, মধু আর্দ্রতা ধরে রাখে, আর আম ত্বকে পুষ্টি জোগায়। এই কম্বিনেশন নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের রুক্ষতা অনেকটাই কমে আসে।

ব্রণ, দাগ ও ইনফ্ল্যামেশন কমাতে সহায়ক
পাকা আমে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। যাদের ব্রণের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে আমের সঙ্গে অল্প হলুদ বা গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করলে তা ত্বককে শান্ত করে এবং লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করে।

নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের দাগ ধীরে ধীরে হালকা হতে পারে। তবে খুব সেনসিটিভ বা অ্যালার্জি প্রবণ ত্বকে প্রথমে অল্প জায়গায় টেস্ট করে নেওয়া জরুরি, কারণ প্রাকৃতিক হলেও কিছু ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

ঘরোয়া ফেসপ্যাকের নানা ব্যবহার
পাকা আম দিয়ে ঘরে খুব সহজেই একাধিক ফেসপ্যাক তৈরি করা যায়। কিছু জনপ্রিয় কম্বিনেশন হলো–
আম + দই: ত্বক পরিষ্কার ও হালকা এক্সফোলিয়েশনের জন্য
আম + মধু: গভীর ময়েশ্চার ও উজ্জ্বলতার জন্য
আম + দুধ + বেসন: ট্যান দূর করে ত্বক ফর্সা ও মসৃণ করতে
আম + অ্যালোভেরা জেল: সংবেদনশীল ত্বক শান্ত করতে
এই ফেসপ্যাকগুলো সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করলে ত্বকের টেক্সচার উন্নত হয় এবং প্রাকৃতিক গ্লো বাড়ে। 

চুলের যত্নেও পাকা আম
শুধু ত্বক নয়, চুলের যত্নেও পাকা আম অত্যন্ত উপকারী। রুক্ষ, শুষ্ক ও প্রাণহীন চুলের জন্য আমের হেয়ার মাস্ক দারুণ কাজ করে। আমের পাল্পের সঙ্গে নারকেল তেল, দই বা অল্প মধু মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগালে চুল হয় নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল।
এটি চুলের ভাঙা কমাতে সাহায্য করে এবং স্ক্যাল্পকে পুষ্টি জোগায়। গরমে ঘাম ও ধুলোবালির কারণে চুলে যে রুক্ষতা তৈরি হয়, তা কমাতেও আমের হেয়ার প্যাক কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সতর্কতা ও সঠিক ব্যবহার
যদিও পাকা আম প্রাকৃতিক ও উপকারী, তবে অতিরিক্ত ব্যবহার করা উচিত নয়। সপ্তাহে ১-২ বারের বেশি ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বকে স্টিকিনেস বা ব্রণ বাড়তে পারে। এছাড়া ব্যবহারের পর ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধোয়া জরুরি।

/এমটি 

শিশুকে নিরাপদ রাখতে অভিভাবকের করণীয়

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
শিশুকে নিরাপদ রাখতে অভিভাবকের করণীয়

সমাজে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার মতো ভয়াবহ ঘটনা আমাদের প্রতিনিয়ত নাড়া দেয় এবং এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করে। শিশুরা যেহেতু শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল, তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন শুধু পারিবারিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা। একটি নিরাপদ শৈশবই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক করে গড়ে তোলে। লিখেছেন রোদসী 

শিশুর সঙ্গে বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলা
শিশুর নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো তার সঙ্গে খোলামেলা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করা। অনেক পরিবারে দেখা যায়, শিশুর কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয় না বা ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যার ফলে শিশু নিজের সমস্যা বা অস্বস্তি প্রকাশ করতে পারে না। অথচ শিশুকে এমন পরিবেশ দিতে হবে যেখানে সে নির্দ্বিধায় তার অনুভূতি, ভয়, অস্বস্তি বা কোনো খারাপ অভিজ্ঞতার কথা বলতে পারে।
প্রতিদিনের ছোট ছোট কথোপকথন যেমন স্কুল কেমন গেল, কার সঙ্গে খেলল, কী ভালো বা খারাপ লাগল এসব অভ্যাস শিশুর মানসিক নিরাপত্তা তৈরি করে।

শরীরের সীমানা ও নিরাপত্তা শিক্ষা দেওয়া
শিশুকে তার শরীর সম্পর্কে বয়স অনুযায়ী সহজ ভাষায় শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাকে বোঝাতে হবে কোন ধরনের স্পর্শ গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি অস্বস্তিকর বা অনুচিত। এই শিক্ষা ভয় দেখিয়ে নয়, বরং আত্মসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে দিতে হবে।
শিশুকে শেখাতে হবে, যদি কেউ তাকে এমনভাবে স্পর্শ করে বা এমন কিছু বলে যা তাকে অস্বস্তিতে ফেলে, তাহলে সে যেন সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য বড়দের বিশেষ করে বাবা-মা বা শিক্ষককে জানায়। শিশুকে এই বার্তা দিতে হবে যে, সে কোনো অবস্থাতেই দোষী নয় এবং সব সময় সাহায্য পাওয়া সম্ভব।

অপরিচিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা
শিশুকে অপরিচিত মানুষের বিষয়ে সতর্কতা শেখানো প্রয়োজন, তবে আতঙ্ক তৈরি না করে। তাকে বোঝাতে হবে যে, সব অপরিচিত মানুষ খারাপ নয়, কিন্তু কিছু পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা জরুরি।
যেমন কেউ যদি তাকে ডেকে নেয়, কোনো উপহার দেয় বা একা কোথাও যেতে বলে, তাহলে সে যেন আগে অভিভাবকের অনুমতি নেয়। একই সঙ্গে ‘না বলা’ শেখানোও গুরুত্বপূর্ণ শিশু যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অস্বস্তিকর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

দৈনন্দিন চলাফেরা ও নিরাপদ রুটিন
শিশুর দৈনন্দিন রুটিন যতটা সম্ভব নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত। স্কুলে যাওয়া-আসার পথ, সময় এবং সঙ্গী সম্পর্কে অভিভাবকের স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। অচেনা পরিবেশে শিশুকে একা না পাঠানো এবং নির্ভরযোগ্য পরিবহন বা দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যোগাযোগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুকে তার আশপাশের নিরাপদ স্থান যেমন পুলিশ স্টেশন, পরিচিত দোকান বা প্রতিবেশীর বাড়ি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া যেতে পারে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে সে সাহায্য নিতে পারে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অনলাইন ঝুঁকি
বর্তমান যুগে শিশুদের নিরাপত্তা শুধু বাস্তব জগতে নয়, ডিজিটাল দুনিয়াতেও নিশ্চিত করতে হয়। মোবাইল, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অনেক সময় অচেনা ব্যক্তি শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। তাই অভিভাবকদের উচিত শিশুর অনলাইন কার্যক্রম নজরদারি করা, বয়স উপযোগী কনটেন্ট নিশ্চিত করা এবং অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা দেওয়া।

আচরণগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ
শিশুর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন যেমন অতিরিক্ত ভয় পাওয়া, চুপচাপ হয়ে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা বা নির্দিষ্ট কোনো জায়গা বা ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলা এসব লক্ষণকে গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে। অনেক সময় শিশু সরাসরি কিছু না বললেও তার আচরণেই অস্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অভিভাবকের দায়িত্ব হলো বিচার না করে ধৈর্যসহকারে শিশুর কথা শোনা এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ সহায়তা নেওয়া।

সামাজিক দায়িত্ব ও সম্মিলিত প্রতিরোধ
শিশু নিরাপত্তা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। প্রতিবেশী, শিক্ষক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান সবাইকে শিশুদের প্রতি আরও সংবেদনশীল হতে হবে। কোনো সন্দেহজনক আচরণ বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি দেখলে তা উপেক্ষা না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।

আয়নাতে ওই ঘর দেখবে যখন

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
আয়নাতে ওই ঘর দেখবে যখন

ঘর সাজানোর অনুষঙ্গ হিসেবে আয়নার ব্যবহার অনেক পুরোনো। প্রয়োজনের পাশাপাশি এটি এখন হয়ে উঠেছে ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর অন্যতম জনপ্রিয় উপকরণ। সঠিক জায়গায় এবং মানানসই নকশার আয়না ঘরের সৌন্দর্য যেমন বাড়ায়, তেমনি ঘরকে আরও উজ্জ্বল, প্রশস্ত ও প্রাণবন্ত দেখাতেও সাহায্য করে। তাই ঘর সাজাতে আয়না হতে পারে সহজ অথচ দারুণ কার্যকর একটি উপায়। লিখেছেন মুশফিরাত 

ঘরকে বড় দেখানোর সহজ কৌশল
ছোট ঘরকে তুলনামূলক বড় ও খোলামেলা দেখাতে আয়নার ব্যবহার বেশ কার্যকর। সঠিক জায়গায় একটি বড় আয়না রাখলে আলো প্রতিফলিত হয়ে ঘরে তৈরি হয় গভীরতার অনুভূতি, ফলে জায়গা বাস্তবের তুলনায় আরও প্রশস্ত মনে হয়। বিশেষ করে ড্রয়িংরুম, ডাইনিং স্পেস কিংবা ছোট বেডরুমের দেয়ালে বড় আয়না ব্যবহার করলে পুরো ঘরেই আসে একটি উন্মুক্ত ও আরামদায়ক আবহ। অনেকেই ছোট অ্যাপার্টমেন্টে দেয়ালের এক পাশে লম্বা আয়না ব্যবহার করেন, যা জায়গাকে আরও পরিপাটি ও বিস্তৃত দেখাতে সাহায্য করে। অল্প সাজের মধ্যেও এমন একটি আয়না ঘরের সৌন্দর্যে এনে দিতে পারে বড় পরিবর্তন।

আলো বাড়াতে আয়নার ব্যবহার
ঘরের সৌন্দর্য অনেকটাই নির্ভর করে আলোর ওপর। আর আলোকে আরও সুন্দরভাবে ছড়িয়ে দিতে আয়না হতে পারে দারুণ একটি উপায়। জানালার পাশে বা বিপরীত দিকে আয়না রাখলে বাইরের প্রাকৃতিক আলো প্রতিফলিত হয়ে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দিনের বেলায় ঘর আরও উজ্জ্বল, সতেজ ও প্রাণবন্ত দেখায়। শুধু দিনের আলো নয়, সন্ধ্যায় ল্যাম্প, ওয়াল লাইট বা ঝাড়বাতির আলোও আয়নায় প্রতিফলিত হয়ে ঘরে তৈরি করে উষ্ণ ও নান্দনিক পরিবেশ। বিশেষ করে আলো কম আসে এমন ঘরে আয়নার ব্যবহার ঘরকে আরও আলোকিত ও আরামদায়ক করে তুলতে পারে। সুন্দর আলো আর মানানসই আয়নার সমন্বয়ে খুব সহজেই ঘরের পরিবেশে আনা যায় নতুনত্ব।

ডেকোরেটিভ আয়নায় বাড়ুক নান্দনিকতা
এখন বাজারে বিভিন্ন ডিজাইন, আকৃতি ও ফ্রেমের আয়না পাওয়া যায়। গোল, ডিম্বাকৃতি, আয়তাকার কিংবা জ্যামিতিক নকশার আয়না সবই ঘরের সাজে নতুনত্ব আনে। কাঠের ফ্রেম, ধাতব ফিনিশ কিংবা মিনিমাল ডিজাইনের আয়না ঘরের স্টাইলের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নেওয়া যায়। অনেক সময় একটি সুন্দর আয়নাই দেয়ালের প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

কোন ঘরে কেমন আয়না
ঘরের ধরন অনুযায়ী আয়না বেছে নিলে সৌন্দর্য আরও ভালোভাবে ফুটে ওঠে। ড্রয়িংরুমে বড় বা মাঝারি আকারের নান্দনিক ফ্রেমের আয়না বেশ মানিয়ে যায়। এতে ঘর উজ্জ্বল ও পরিপাটি দেখায়। শোবার ঘরে ড্রেসিং আয়নার পাশাপাশি ছোট ডেকোরেটিভ আয়না বা আলমারির দরজায় ফুল-লেন্থ আয়না ব্যবহার করা যায়। ডাইনিং স্পেসে আয়না রাখলে আলো প্রতিফলিত হয়ে জায়গাটি আরও প্রাণবন্ত লাগে। আবার প্রবেশপথ বা করিডোরে একটি মানানসই আয়না ব্যবহারিক সুবিধার পাশাপাশি ঘরের সৌন্দর্যও বাড়ায়।

কিছু বিষয় মাথায় রাখুন
ঘর সাজাতে আয়না ব্যবহার করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন, যা পুরো ইন্টেরিয়রের সৌন্দর্য ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। প্রথমেই ঘরের আকার ও দেয়ালের পরিসর ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি। ছোট ঘরে খুব বড় আয়না ব্যবহার করলে তা ভারী ও অস্বস্তিকর লাগতে পারে, আবার বড় ঘরে ছোট আয়না দিলে সেটি হারিয়ে যেতে পারে। তাই জায়গার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয়নার সঠিক মাপ নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আয়না কোথায় স্থাপন করা হচ্ছে, সেটিও একটি বড় বিষয়। আলো আসে এমন জায়গা, বিশেষ করে জানালার পাশে বা বিপরীত দেয়ালে আয়না রাখলে ঘরে প্রাকৃতিক আলো আরও ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘর শুধু উজ্জ্বলই হয় না, বরং একটি সতেজ ও প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি হয়। তবে এমন জায়গায় আয়না রাখা উচিত নয় যেখানে সরাসরি চোখে অস্বস্তিকর আলো প্রতিফলিত হয় বা অতিরিক্ত ঝলকানি তৈরি হয়।

আয়নার ফ্রেম নির্বাচনেও ঘরের সামগ্রিক সাজের সঙ্গে মিল রাখা খুব জরুরি। আধুনিক মিনিমাল ইন্টেরিয়রের জন্য সিম্পল বা ফ্রেমবিহীন আয়না ভালো মানায়, অন্যদিকে ক্লাসিক বা কাঠের আসবাবপত্রের সঙ্গে কাঠের ফ্রেমের আয়না বেশি মানানসই হয়। ঘরের ডিজাইনের সঙ্গে না মিলিয়ে আলাদা স্টাইলের আয়না ব্যবহার করলে পুরো সাজে অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে।

গৃহশান্তি বজায় রাখতে

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
গৃহশান্তি বজায় রাখতে

ব্যস্ততা, দায়িত্ব আর প্রতিদিনের নানা চাপের ভেতরেও একটি শান্তিপূর্ণ ঘর মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। কিন্তু ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি, সময়ের অভাব, মতের অমিল কিংবা পারস্পরিক যোগাযোগের ঘাটতি অনেক সময় পরিবারের পরিবেশকে অশান্ত করে তুলতে পারে। অথচ একটু সচেতনতা, সহনশীলতা আর আন্তরিক চেষ্টা থাকলে ঘরের পরিবেশকে সহজেই রাখা যায় আনন্দময় ও শান্ত। লিখেছেন তাসকিন 

কথা বলুন খোলামেলা, শুনুন মন দিয়ে
পরিবারে শান্তি বজায় রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পারস্পরিক যোগাযোগ। অনেক সময় আমরা নিজের কথা বলতে চাই, কিন্তু অন্যের কথা শুনতে আগ্রহী হই না। এতে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, তাদের অনুভূতির গুরুত্ব দেওয়া এবং মন দিয়ে শোনা এই অভ্যাস সম্পর্ককে আরও আন্তরিক করে তোলে। কেউ কোনো বিষয়ে কষ্ট পেলে বা ভিন্নমত জানালে তা ধৈর্যের সঙ্গে শুনুন। তর্কে জেতার চেয়ে সম্পর্ক ধরে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ছোট বিষয়ে ধৈর্য ধরুন
একসঙ্গে থাকতে গেলে মতের অমিল থাকবেই। সবার অভ্যাস, চিন্তা ও পছন্দ এক রকম হবে না এটাই স্বাভাবিক। তাই ছোট ছোট বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানো বা মুহূর্তের রাগকে বড় ঝগড়ায় রূপ দেওয়ার বদলে একটু সময় নিয়ে ভাবুন। অনেক সমস্যাই ধৈর্য ধরলে সহজে সমাধান হয়ে যায়। রাগের মুহূর্তে বলা একটি কথা দীর্ঘদিনের সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি করতে পারে। তাই আবেগের চেয়ে বোঝাপড়াকে গুরুত্ব দিন।

দায়িত্ব ভাগ করে নিন
পরিবার মানে শুধু একসঙ্গে থাকা নয়, একে অন্যের দায়িত্বও ভাগ করে নেওয়া। ঘরের ছোট-বড় কাজ, প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত কিংবা কোনো বিশেষ আয়োজন সবকিছু একজনের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে ভাগ করে নিলে চাপ কমে এবং সম্পর্কেও স্বস্তি আসে। এতে পরিবারে সবার অংশগ্রহণ বাড়ে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার অনুভূতি তৈরি হয়। দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই তৈরি হয় সম্মান ও নির্ভরতার জায়গা।

সময় দিন পরিবারের মানুষদের
এক ছাদের নিচে থাকলেই যে সময় দেওয়া হয়, বিষয়টি এমন নয়। ব্যস্ত জীবনে পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা করে কিছু সময় রাখা খুব জরুরি। একসঙ্গে বসে চা খাওয়া, রাতের খাবারের টেবিলে গল্প করা, ছুটির দিনে কোথাও ঘুরে আসা কিংবা ঘরে বসেই কিছু সময় গল্পে কাটানো এসব ছোট মুহূর্ত সম্পর্ককে গভীর করে। প্রযুক্তির ব্যস্ততার মাঝেও প্রিয়জনদের জন্য সময় বের করা গৃহশান্তির বড় চাবিকাঠি।

সম্মান আর কৃতজ্ঞতার চর্চা করুন
পরিবারের মানুষদের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও আমরা অনেক সময় সেটি প্রকাশ করি না। অথচ একটি ধন্যবাদ, ছোট্ট প্রশংসা বা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা সম্পর্ককে অনেক সুন্দর করে তোলে। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের কাজ ও অবদানকে সম্মান করা প্রয়োজন। কারও পরিশ্রমকে স্বীকৃতি দিলে সে আরও আগ্রহ ও ভালোবাসা নিয়ে পাশে থাকতে চায়। পারস্পরিক সম্মান গৃহশান্তির সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি।

ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করুন
ঘরের পরিবেশ মানুষের মনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তাই অযথা নেতিবাচক আলোচনা, তুলনা বা সমালোচনার বদলে ইতিবাচক বিষয় নিয়ে কথা বলুন। হাসিখুশি পরিবেশ, আন্তরিকতা আর একে অন্যকে উৎসাহ দেওয়ার অভ্যাস পরিবারে সুন্দর আবহ তৈরি করে। সমস্যার সময়ও একে অন্যের পাশে থাকার মনোভাব বাড়ির পরিবেশকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করে তোলে। 

পরিবারই মানুষের প্রথম ও সবচেয়ে আপন ঠিকানা। বাইরে পৃথিবী যত ব্যস্ত বা কঠিনই হোক, ঘরে যদি শান্তি থাকে তবে মন অনেক বেশি স্থির থাকে। তাই গৃহশান্তি বজায় রাখা কোনো একদিনের কাজ নয়; এটি প্রতিদিনের যত্ন, সম্মান, বোঝাপড়া আর ভালোবাসার চর্চা। ছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাসই একটি ঘরকে শুধু থাকার জায়গা নয়, বরং সত্যিকারের শান্তির আশ্রয়ে পরিণত করতে পারে।