তীব্র গরমে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন সবচেয়ে বেশি যত্ন ও সচেতনতার প্রয়োজন শিশুদের ক্ষেত্রে। প্রচণ্ড গরমেও তাদের খেলাধুলা ও ছোটাছুটি থেমে থাকে না। এতে অতিরিক্ত ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায় প্রয়োজনীয় পানি ও খনিজ লবণ, যা ডিহাইড্রেশনসহ নানা শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই এ সময় শিশুদের খাবার, পানীয়, পোশাক ও দৈনন্দিন পরিচর্যায় বাড়তি মনোযোগ দেওয়া জরুরি। লিখেছেন দীনা মরিয়ম
পানি এবং পানীয়: প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি যা অনুভূত হয় তা হলো পিপাসা। শিশুরা অনেক সময় খেলতে খেলতে ক্ষুধা-পিপাসা ভুলে যায়। অনেক সময় শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে গিয়ে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন হতে পারে যা অনেক ক্ষেত্রে শিশুর জন্য মারাত্মক হতে পারে। তাই অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে যে, শিশু সময়মতো পানি পান করছে কি না। নির্দিষ্ট সময় পর পর তাদের নিজ দায়িত্বে পানি পান করাতে হবে। ঘামের সঙ্গে শরীরের পানি ছাড়াও প্রয়োজনীয় লবণ ও কিছু পানিতে দ্রবিভূত ভিটামিন ও মিনারেল বেরিয়ে যায়।
তাই অতিরিক্ত গরমে শুধু পানি শিশুর এ ঘাটতি পূরণ করতে পারে না। তাছাড়া অনেক সময় শিশুরা পানি পান করতেও চায় না। সেজন্য দিনের বিভিন্ন সময়ে পানির পাশাপাশি তাদের ডাব, লাচ্ছি, ঘরে তৈরি ফলের রস লেবুপানি, গ্লুকোজ, মৌসুমি ফল, টকদই, রসযুক্ত ফল ও খাবার খেতে দিতে হবে। প্যাকেটজাত জুস, সফট ড্রিংকস বা কোল্ড ড্রিংকস এড়িয়ে চলতে হবে। অনেকেই গরমে নিজের ইচ্ছামতো ওরস্যালাইন খেয়ে থাকেন, যা বিশেষজ্ঞদের মতে শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের জন্য ওরস্যালাইন, টেস্টি স্যালাইন বিশেষ কারণ বা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা একদমই উচিত নয়।
খাবার: গরমে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, বেশি তেল-মসলাযুক্ত খাবার, বেশি বেশি জাঙ্কফুড বদহজমের কারণ হতে পারে। তাই খাবার নির্বাচন করতে হবে সহজপাচ্য। যে মৌসুমে যেসব শাকসবজি জন্মায়, সে মৌসুমের জন্য সেসবই সবচেয়ে ভালো ও উপকারি খাবার।
শিশুদের খাবারে প্রয়োজনীয় আমিষ ও ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত মৌসুমি শাকসবজি ও সালাদ থাকতে হবে। যেসব খাবার শরীর ও পেট ঠাণ্ডা রাখে, শিশুকে সে ধরনের খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
পোশাক: গরমে পোশাকের একটি বড় ভূমিকা থাকে। শিশুদের পোশাক নির্বাচনের সময় হালফ্যাশনের চেয়ে তা কতটা আরামদায়ক সেদিকে বেশি নজর দিতে হবে। সাধারণত একটু ছোট হাতাওয়ালা ও ঢিলাঢালা ডিজাইনের নরম সুতি কাপড়ের পোশাক এ সময়ের জন্য উপযোগী। কারণ, তাতে বাতাস চলাচল করতে পারে আবার ঘাম শোষণ করে নিতে পারে। এতে শিশু আরাম অনুভব করে, আবার ঘামের জীবাণু-সংক্রমণ কম হয়।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: গরমের দিনে শিশুদের নিয়মিত গোসল করাতে হবে। গোসলের পানিতে কিছুটা অ্যান্টিসেপটিক সল্যুশন ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া প্রতিবার বাইরে থেকে ফেরার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে হাতমুখ ধুয়ে দিতে হবে।
প্রয়োজনে ভেজা তোয়ালে দিয়ে গা মুছিয়ে দেওয়া যেতে পারে। ঘামে ভেজা পোশাক পরিবর্তন করে পরিষ্কার পোশাক পরিয়ে দিতে হবে। প্রতিবার পোশাক পাল্টানোর সময় ভালো করে প্রিকলি হিট পাউডার শরীরে ব্যবহার করতে হবে।
বাইরে বের হওয়ার সময়সূচি: অন্য কোনো কাজ বা খেলাধূলার জন্য বের হওয়ার ক্ষেত্রে তীব্র রোদ এড়িয়ে চলাই ভালো। শিশুদের খেলাধূলার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে জায়গাটা যেন একটু ছায়াযুক্ত হয়।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম: শিশুরা গরমে একটু বেশি ক্লান্ত হয়ে পরে, তাই তাদের পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে। শারীরিক ক্লান্তির পাশাপাশি খাবার হজম হওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্যও যথাযথ ঘুমের প্রয়োজন।
ঘরের তাপমাত্রা: যে ঘরে শিশুরা বসবাস করে তার ভেতরের তাপমাত্রা যতটা পারা যায় শীতল রাখার চেষ্টা করতে হবে। প্রাকৃতিক বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকলে খুবই ভালো। না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।
/এমটি