ঢাকা ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হুমায়ুন কবীর বালুর হত্যাবার্ষিকীতে স্মরণসভা, বিচার বাস্তবায়নের দাবি বিশ্বকাপের লজিস্টিকস নিয়ে ক্ষুব্ধ তারেমি তিন পদে কর্মী খুঁজছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে রেস্তোরাঁয় রয়ে গেল শিশুসন্তান, ৬ ঘণ্টা পর ফিরে এল পাকিস্তানি পরিবার আমরা দেশের মানুষের জন্য খেলি: জিজো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: বাণিজ্যমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা হবে নকলমুক্ত: খন্দকার মারুফ সিঁথির ‘বসন্তের কোকিল’-এ অলংকারের নাচ বিবিসিসিআই-এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত মাদকাসক্তির কারণ ও প্রতিকার বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র গৃহশান্তি বজায় রাখতে বাংলাদেশে ওয়াটারএইডের ৪০ বছর, লোগো উন্মোচন দিয়ে উদ্‌যাপন শুরু সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় আসবে দেশের সব প্রতিবন্ধী শিশু: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে সমালোচকদের জবাব গার্সিয়ার নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল আছে, মূল্যস্ফীতি কমতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছি: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বললেন রাকসুর সংস্কৃতি সম্পাদক The Ant and the Dove বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র এই গরমে চুলের খুশকি দূর করতে চুয়াডাঙ্গার শ্বাসনালীতে দুধ আটকে ৩ মাসের শিশুর মৃত্যু রাত জেগে খেলা দেখার সময় যা খাবেন এবং যা এড়িয়ে চলবেন মালয়েশিয়া-চীন সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলেছি: প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে আশুরা উপলক্ষে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও চোখের ছানি অপারেশন ক্যাম্প সংসদকে বাইপাস করে কোনো সিদ্ধান্ত মানা হবে না: বিরোধীদলীয় নেতা বকশীগঞ্জে বন্য হাতির আক্রমণে ১ জনের মৃত্যু দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীন-মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রফেশনাল মাস্টার্স ইন গভর্ন্যান্স স্টাডিজ প্রোগ্রামে ভর্তি তথ্য আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ চট্টগ্রামে পাঁচ শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’ সপ্তম বর্ষের সূচনা

এই গরমে চুলের খুশকি দূর করতে

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
এই গরমে চুলের খুশকি দূর করতে

গ্রীষ্মকাল মানেই তীব্র তাপপ্রবাহ, ঘাম, ধুলাবালি এবং মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব। এই সময় অনেকেরই চুলে খুশকির সমস্যা বেড়ে যায়। তাই গরমের সময় চুল ও মাথার ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সহজ অভ্যাস ও নিয়ম মেনে চললে খুশকির সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। লিখেছেন রোদসী 

মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখুন
গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে মাথার ত্বকে ময়লা, ধুলোবালি ও তেল জমে যায়। এসব উপাদান খুশকির সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। তবে প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহার না করে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার মাইল্ড বা খুশকিনাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো। বাইরে থেকে ফিরে চুলে ঘাম জমে থাকলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন।

সঠিক শ্যাম্পু নির্বাচন করুন
খুশকি দূর করার ক্ষেত্রে সঠিক শ্যাম্পু নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু পাওয়া যায়। জিংক পাইরিথিওন, কেটোকোনাজল, সেলেনিয়াম সালফাইড বা স্যালিসাইলিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ শ্যাম্পু খুশকি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে যেকোনো পণ্য ব্যবহারের আগে নিজের মাথার ত্বকের ধরন সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহারে কখনো কখনো সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। 

চুলে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করবেন না
অনেকেই মনে করেন বেশি তেল ব্যবহার করলে খুশকি কমে যায়। বাস্তবে বিষয়টি সব সময় সত্য নয়। গরমকালে অতিরিক্ত তেল মাথার ত্বকে জমে গিয়ে খুশকির জন্য দায়ী ছত্রাকের বৃদ্ধি বাড়াতে পারে। তাই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল ব্যবহার না করাই ভালো। তেল ব্যবহার করলে কয়েক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে চুল পরিষ্কার করে ফেলুন।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন
চুলের স্বাস্থ্য অনেকাংশে নির্ভর করে খাদ্যাভ্যাসের ওপর। পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব থাকলে খুশকির সমস্যা বাড়তে পারে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, ডিম, বাদাম এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। ভিটামিন বি, জিংক ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মাথার ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।

ভেজা চুল বেঁধে রাখবেন না
গরমে অনেকেই গোসলের পর ভেজা চুল বেঁধে রাখেন বা হিজাব, ক্যাপ কিংবা হেলমেট ব্যবহার করেন। এতে মাথার ত্বকে আর্দ্রতা দীর্ঘসময় আটকে থাকে এবং ছত্রাক বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি হয়। ফলে খুশকির সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই চুল সম্পূর্ণ শুকানোর পর বেঁধে রাখা উচিত।

চিরুনি ও তোয়ালে পরিষ্কার রাখুন
ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী পরিষ্কার না রাখলেও খুশকির সমস্যা বাড়তে পারে। নিয়মিত চিরুনি, হেয়ার ব্রাশ, তোয়ালে ও বালিশের কভার পরিষ্কার করা প্রয়োজন। অন্যের চিরুনি বা তোয়ালে ব্যবহার না করাই ভালো। এতে মাথার ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ থেকেও সুরক্ষা পাওয়া যায়।

ঘরোয়া কিছু উপায়
খুশকি নিয়ন্ত্রণে কিছু ঘরোয়া উপায়ও কার্যকর হতে পারে। লেবুর রস, অ্যালোভেরা জেল কিংবা দই অনেকেই ব্যবহার করে থাকেন। অ্যালোভেরা মাথার ত্বককে শীতল রাখতে সাহায্য করে এবং চুলকানি কমাতে পারে। তবে যেকোনো উপাদান ব্যবহারের আগে অ্যালার্জি আছে কি না, তা পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

মানসিক চাপ কমান
অতিরিক্ত মানসিক চাপও খুশকির অন্যতম কারণ হতে পারে। স্ট্রেসের কারণে শরীরের বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়, যা মাথার ত্বকের সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক প্রশান্তির জন্য সময় বের করা প্রয়োজন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
যদি দীর্ঘদিন অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করেও খুশকি না কমে, মাথার ত্বকে লালচে ভাব, তীব্র চুলকানি, ক্ষত বা অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক সময় খুশকির মতো দেখতে সমস্যা সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, সোরিয়াসিস বা অন্য কোনো ত্বকের রোগের লক্ষণও হতে পারে।

গৃহশান্তি বজায় রাখতে

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
গৃহশান্তি বজায় রাখতে

ব্যস্ততা, দায়িত্ব আর প্রতিদিনের নানা চাপের ভেতরেও একটি শান্তিপূর্ণ ঘর মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। কিন্তু ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি, সময়ের অভাব, মতের অমিল কিংবা পারস্পরিক যোগাযোগের ঘাটতি অনেক সময় পরিবারের পরিবেশকে অশান্ত করে তুলতে পারে। অথচ একটু সচেতনতা, সহনশীলতা আর আন্তরিক চেষ্টা থাকলে ঘরের পরিবেশকে সহজেই রাখা যায় আনন্দময় ও শান্ত। লিখেছেন তাসকিন 

কথা বলুন খোলামেলা, শুনুন মন দিয়ে
পরিবারে শান্তি বজায় রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পারস্পরিক যোগাযোগ। অনেক সময় আমরা নিজের কথা বলতে চাই, কিন্তু অন্যের কথা শুনতে আগ্রহী হই না। এতে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, তাদের অনুভূতির গুরুত্ব দেওয়া এবং মন দিয়ে শোনা এই অভ্যাস সম্পর্ককে আরও আন্তরিক করে তোলে। কেউ কোনো বিষয়ে কষ্ট পেলে বা ভিন্নমত জানালে তা ধৈর্যের সঙ্গে শুনুন। তর্কে জেতার চেয়ে সম্পর্ক ধরে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ছোট বিষয়ে ধৈর্য ধরুন
একসঙ্গে থাকতে গেলে মতের অমিল থাকবেই। সবার অভ্যাস, চিন্তা ও পছন্দ এক রকম হবে না এটাই স্বাভাবিক। তাই ছোট ছোট বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানো বা মুহূর্তের রাগকে বড় ঝগড়ায় রূপ দেওয়ার বদলে একটু সময় নিয়ে ভাবুন। অনেক সমস্যাই ধৈর্য ধরলে সহজে সমাধান হয়ে যায়। রাগের মুহূর্তে বলা একটি কথা দীর্ঘদিনের সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি করতে পারে। তাই আবেগের চেয়ে বোঝাপড়াকে গুরুত্ব দিন।

দায়িত্ব ভাগ করে নিন
পরিবার মানে শুধু একসঙ্গে থাকা নয়, একে অন্যের দায়িত্বও ভাগ করে নেওয়া। ঘরের ছোট-বড় কাজ, প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত কিংবা কোনো বিশেষ আয়োজন সবকিছু একজনের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে ভাগ করে নিলে চাপ কমে এবং সম্পর্কেও স্বস্তি আসে। এতে পরিবারে সবার অংশগ্রহণ বাড়ে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার অনুভূতি তৈরি হয়। দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই তৈরি হয় সম্মান ও নির্ভরতার জায়গা।

সময় দিন পরিবারের মানুষদের
এক ছাদের নিচে থাকলেই যে সময় দেওয়া হয়, বিষয়টি এমন নয়। ব্যস্ত জীবনে পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা করে কিছু সময় রাখা খুব জরুরি। একসঙ্গে বসে চা খাওয়া, রাতের খাবারের টেবিলে গল্প করা, ছুটির দিনে কোথাও ঘুরে আসা কিংবা ঘরে বসেই কিছু সময় গল্পে কাটানো এসব ছোট মুহূর্ত সম্পর্ককে গভীর করে। প্রযুক্তির ব্যস্ততার মাঝেও প্রিয়জনদের জন্য সময় বের করা গৃহশান্তির বড় চাবিকাঠি।

সম্মান আর কৃতজ্ঞতার চর্চা করুন
পরিবারের মানুষদের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও আমরা অনেক সময় সেটি প্রকাশ করি না। অথচ একটি ধন্যবাদ, ছোট্ট প্রশংসা বা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা সম্পর্ককে অনেক সুন্দর করে তোলে। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের কাজ ও অবদানকে সম্মান করা প্রয়োজন। কারও পরিশ্রমকে স্বীকৃতি দিলে সে আরও আগ্রহ ও ভালোবাসা নিয়ে পাশে থাকতে চায়। পারস্পরিক সম্মান গৃহশান্তির সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি।

ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করুন
ঘরের পরিবেশ মানুষের মনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তাই অযথা নেতিবাচক আলোচনা, তুলনা বা সমালোচনার বদলে ইতিবাচক বিষয় নিয়ে কথা বলুন। হাসিখুশি পরিবেশ, আন্তরিকতা আর একে অন্যকে উৎসাহ দেওয়ার অভ্যাস পরিবারে সুন্দর আবহ তৈরি করে। সমস্যার সময়ও একে অন্যের পাশে থাকার মনোভাব বাড়ির পরিবেশকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করে তোলে। 

পরিবারই মানুষের প্রথম ও সবচেয়ে আপন ঠিকানা। বাইরে পৃথিবী যত ব্যস্ত বা কঠিনই হোক, ঘরে যদি শান্তি থাকে তবে মন অনেক বেশি স্থির থাকে। তাই গৃহশান্তি বজায় রাখা কোনো একদিনের কাজ নয়; এটি প্রতিদিনের যত্ন, সম্মান, বোঝাপড়া আর ভালোবাসার চর্চা। ছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাসই একটি ঘরকে শুধু থাকার জায়গা নয়, বরং সত্যিকারের শান্তির আশ্রয়ে পরিণত করতে পারে।

রাত জেগে খেলা দেখার সময় যা খাবেন এবং যা এড়িয়ে চলবেন

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
রাত জেগে খেলা দেখার সময় যা খাবেন এবং যা এড়িয়ে চলবেন

বিশ্বকাপের রাত মানেই উত্তেজনা, আবেগ আর টানা কয়েক ঘণ্টা জেগে খেলা দেখার উচ্ছ্বাস। কিন্তু এই আনন্দঘন সময়টিতে অনিয়ন্ত্রিত খাবার খাওয়া ও কম ঘুম শরীরের ওপর চাপ ফেলে। তাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে খেলার আনন্দ যেমন বাড়ে, তেমনি শরীরও থাকে সুস্থ ও সতেজ। লিখেছেন রোদসী 

হালকা ও পুষ্টিকর স্ন্যাকসের গুরুত্ব
রাত জেগে খেলা দেখার সময় ভারী ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে হালকা স্ন্যাকস বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো। এসব খাবার সহজে হজম হয় এবং শরীরকে অতিরিক্ত ক্লান্ত করে না।
হালকা স্ন্যাকস শরীরে ধীরে ধীরে এনার্জি সরবরাহ করে, ফলে দীর্ঘ সময় সতেজ থাকা সহজ হয়। একই সঙ্গে এগুলো প্রয়োজনীয় পুষ্টি বজায় রাখে এবং হঠাৎ দুর্বলতা বা অলসতা আসা থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

পপকর্ন ও রোস্টেড বাদাম: সহজ কিন্তু কার্যকর বিকল্প
কম তেল ও কম লবণ দিয়ে তৈরি পপকর্ন একটি দারুণ স্ন্যাকস হতে পারে। এতে ক্যালোরি কম এবং ফাইবার বেশি থাকে, যা দীর্ঘ সময় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। অন্যদিকে রোস্টেড বাদাম, আখরোট বা কাজু স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিন সরবরাহ করে, যা শরীরকে এনার্জি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ফলমূল: প্রাকৃতিক এনার্জির উৎস
বিশ্বকাপ দেখার দীর্ঘ রাতগুলোতে ফলমূল হতে পারে সবচেয়ে নিরাপদ, সহজপাচ্য এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচন। আপেল, কলা, আঙুর, কমলা বা নাশপাতির মতো ফল শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল এবং প্রাকৃতিক শর্করা সরবরাহ করে, যা দ্রুত এনার্জি জোগায়। বিশেষ করে রাত জেগে থাকলে শরীরে ক্লান্তি ধীরে ধীরে জমে, আর এই সময় ফলমূল সেই ক্লান্তি কমিয়ে সতেজতা ফিরিয়ে আনে। 
ফলের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক সুগার শরীরকে ভারী না করে ধীরে ধীরে শক্তি দেয়, ফলে দীর্ঘ সময় খেলা দেখার ক্ষেত্রে মনোযোগ ও উদ্দীপনা বজায় থাকে। আগে থেকেই ফল কেটে ছোট বক্সে বা পাত্রে রেখে দিলে খাওয়াও সহজ হয় এবং অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতাও কমে যায়। 

দই ও ইয়োগার্ট: হালকা ও হজমবান্ধব খাবার
দই বা ইয়োগার্ট রাত জেগে খেলার সময় একটি আদর্শ স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবে কাজ করে। এতে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং পেটকে হালকা রাখতে সাহায্য করে, যা দীর্ঘ সময় জেগে থাকার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
এ ছাড়া দইয়ে থাকা ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন শরীরের শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করে এবং ক্লান্তি কমায়। চাইলে এতে সামান্য মধু, ফল বা বাদাম মিশিয়ে আরও সুস্বাদু ও পুষ্টিকর করে নেওয়া যায়। এই ছোট পরিবর্তনগুলো শুধু স্বাদই বাড়ায় না, বরং স্বাস্থ্যগত উপকারও নিশ্চিত করে।

সঠিক পানীয় নির্বাচন: হাইড্রেশনই মূল চাবিকাঠি
দীর্ঘ সময় জেগে থাকলে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়, তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। লেবু পানি বা ডিটক্স ওয়াটার শরীরকে সতেজ রাখে এবং ক্লান্তি দূর করে। তবে অতিরিক্ত চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংক এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

যা এড়িয়ে চলা ভালো
রাত জেগে বিশ্বকাপ খেলা দেখার সময় কিছু খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলা শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিপস, ফাস্টফুড, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এবং সফট ড্রিংকস সাময়িকভাবে স্বাদ ও আনন্দ দিলেও এগুলো শরীরে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এ ধরনের খাবার সাধারণত উচ্চ ক্যালোরি ও কম পুষ্টিগুণসম্পন্ন হয়, যা হজমে সময় নেয় এবং পাকস্থলীতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ফলে দ্রুত ক্লান্তি, অস্বস্তি, পেট ভারী ভাব এবং কখনো কখনো অ্যাসিডিটির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় জেগে থাকার সময় এসব খাবার শরীরকে আরও অলস ও ভারী করে তোলে, যার কারণে খেলা উপভোগের মনোযোগও কমে যায়।

 

বয়সভেদে মেকআপ যেমন হবে

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
বয়সভেদে মেকআপ যেমন হবে

মেকআপ শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার একটি উপায় নয়, এটি আত্মবিশ্বাস প্রকাশেরও একটি মাধ্যম। তবে সব বয়সের জন্য একই ধরনের মেকআপ মানানসই হয় না। বয়স, ত্বকের ধরন এবং জীবনযাপনের ধরন অনুযায়ী মেকআপের ধরনেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বয়স অনুযায়ী সঠিক মেকআপ নির্বাচন করলে সৌন্দর্য আরও স্বাভাবিক ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। লিখেছেন মুশফিরাত 

১৩ থেকে ১৯ বছর: স্বাভাবিক সৌন্দর্যই হোক মূল আকর্ষণ
কৈশোরে ত্বক সাধারণত সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকে। এই বয়সে ভারী মেকআপের প্রয়োজন নেই। বরং হালকা ও প্রাকৃতিক লুকই সবচেয়ে মানানসই। ভারী ফাউন্ডেশনের পরিবর্তে টিন্টেড ময়েশ্চারাইজার বা হালকা বিবি ক্রিম ব্যবহার করা ভালো। তবে ব্রণ বা দাগ থাকলে শুধু প্রয়োজনীয় জায়গায় কনসিলার ব্যবহার করা যেতে পারে। 

পিচ, হালকা গোলাপি বা কোরাল রঙের ব্লাশ মুখে তারুণ্যের আভা এনে দেয়। চোখের ক্ষেত্রে হালকা মাসকারা ও ন্যুড আইশ্যাডো যথেষ্ট। ঠোঁটে লিপবাম, টিন্ট বা হালকা রঙের লিপস্টিক মানায় সবচেয়ে বেশি। এই বয়সে ত্বকের যত্নই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তবে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

২০ থেকে ৩০ বছর: ট্রেন্ড ও ব্যক্তিত্বের সমন্বয়
বিশের দশকে নারীরা সাধারণত বিভিন্ন ধরনের মেকআপ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কর্মক্ষেত্র, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন লুক তৈরি করা যায়। এ ক্ষেত্রে ত্বকে মাঝারি কভারেজের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া কনট্যুর ও হাইলাইটার দিয়ে মুখের গঠন আরও আকর্ষণীয়ভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।

আইলাইনার, স্মোকি আই কিংবা রঙিন আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। লাল, বেরি, কোরাল বা ন্যুড–সব ধরনের লিপস্টিকই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়। একই সঙ্গে সেটিং স্প্রে ব্যবহার করলে দীর্ঘ সময় মেকআপ সতেজ থাকে। তবে ট্রেন্ড অনুসরণ করার পাশাপাশি নিজের ত্বকের রং ও মুখের গঠনের সঙ্গে মানানসই মেকআপ নির্বাচন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

৩০ থেকে ৪০ বছর: পরিমিত ও পরিশীলিত সৌন্দর্য
ত্রিশের পর ত্বকে ধীরে ধীরে বয়সের ছাপ দেখা দিতে শুরু করে। তাই মেকআপের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ত্বককে সতেজ ও উজ্জ্বল দেখানো। ময়েশ্চারাইজার ও প্রাইমার ব্যবহার করে ত্বক প্রস্তুত করা জরুরি। ভারী ম্যাট ফাউন্ডেশনের পরিবর্তে হাইড্রেটিং বা লাইটওয়েট ফাউন্ডেশন ভালো। 

অতিরিক্ত পাউডার ব্যবহার না করাই উত্তম, কারণ এটি ত্বকের সূক্ষ্ম রেখাগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলতে পারে। চোখের নিচের অংশে হালকা কনসিলার ব্যবহার করলে ক্লান্তভাব কমে যায়। সফট ব্রাউন, টোপ বা রোজ গোল্ড আইশ্যাডো মুখে পরিণত সৌন্দর্য এনে দেয়। 
ঠোঁটে রোজ বা সফট পিংক শেডের লিপস্টিক মানানসই। এ বয়সে লক্ষ্য থাকবে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখা, অতিরিক্ত প্রসাধনী দিয়ে তা ঢেকে ফেলা নয়। 

৪০ থেকে ৫০ বছর: উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনার কৌশল
চল্লিশের পর ত্বক তুলনামূলক শুষ্ক হতে শুরু করে এবং স্থিতিস্থাপকতা কিছুটা কমে যায়। তাই মেকআপে হাইড্রেশনের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। গ্লোয়িং ফিনিশযুক্ত ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে ত্বক প্রাণবন্ত দেখায়। ক্রিম ব্লাশ ও ক্রিম হাইলাইটার ব্যবহার করতে পারেন যা ত্বকে স্বাভাবিক আভা এনে দেয়। যদি ভ্রু কিছুটা পাতলা হয়ে যায় তবে হালকা করে ভ্রু পূরণ করা যেতে পারে।

চোখের পাপড়িতে মাসকারা ব্যবহার করলে চোখ আরও উজ্জ্বল দেখায়। তবে অতিরিক্ত গাঢ় লিপস্টিকের পরিবর্তে ক্রিম ফিনিশের রং বেছে নেওয়া ভালো। এই বয়সে মেকআপের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সতেজ, প্রাণবন্ত এবং মার্জিত একটি উপস্থিতি তৈরি করা।

৫০ বছরের পর: সৌন্দর্যের নতুন সংজ্ঞা
পঞ্চাশের পর মেকআপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আরাম, স্বাভাবিকতা এবং আভিজাত্য। ত্বককে আর্দ্র রাখতে ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি, যা ত্বককে কোমল ও প্রাণবন্ত রাখে। হালকা কভারেজের ফাউন্ডেশন বা স্কিন টিন্ট ব্যবহার করলে মুখে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় থাকে। অতিরিক্ত পাউডার এড়িয়ে চলা ভালো, এতে ত্বক শুষ্ক দেখায় না। নরম শেডের ব্লাশ মুখে সতেজতা আনে। চোখে হালকা আইশ্যাডো ও মাসকারা এবং ঠোঁটে ময়েশ্চারাইজিং লিপস্টিক বা গ্লস ব্যবহার করলে পুরো লুক আরও পরিপাটি দেখায়।
এ বয়সে মেকআপের উদ্দেশ্য নিজেকে ঢেকে রাখা নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্বকে সুন্দরভাবে তুলে ধরা।

কিছু সাধারণ পরামর্শ
বয়স যাই হোক, সুন্দর মেকআপের ভিত্তি হলো সুস্থ ত্বক। তাই নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নিজের ত্বকের ধরন ও রঙের সঙ্গে মানানসই প্রসাধনী নির্বাচন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

লিফটে আটকে গেলে

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
লিফটে আটকে গেলে

আধুনিক নগর জীবনে লিফট এখন প্রতিদিনের অপরিহার্য একটি অংশ। তবে প্রযুক্তিনির্ভর এই সুবিধার মধ্যেও কখনো কখনো ঘটে যেতে পারে অপ্রত্যাশিত ঘটনা–লিফটে আটকে যাওয়া। এমন পরিস্থিতি অনেকের জন্যই ভয় ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সঠিকভাবে ধৈর্য ধরে কিছু নিয়ম মেনে চললে এ অবস্থাকে নিরাপদভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। লিখেছেন রোদসী 

প্রথমেই শান্ত থাকুন এবং আতঙ্ক এড়িয়ে চলুন 

লিফটে আটকে গেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শান্ত থাকা। অনেকেই প্রথম মুহূর্তে ভয় পেয়ে চিৎকার করেন বা অস্থির হয়ে পড়েন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। মনে রাখতে হবে, লিফট সাধারণত নিরাপদভাবে বন্ধ থাকে এবং বেশির ভাগ সময়ই অল্প সময়ের মধ্যে এটি পুনরায় চালু করা হয়। তাই প্রথমেই গভীর শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করা উচিত।

ইমার্জেন্সি বাটন বা অ্যালার্ম ব্যবহার করুন

প্রায় সব আধুনিক লিফটে জরুরি অবস্থার জন্য অ্যালার্ম বা ইমার্জেন্সি বাটন থাকে। লিফটে আটকে গেলে প্রথমেই সেই বাটন চাপতে হবে। এতে ভবনের সিকিউরিটি বা লিফট অপারেটরদের কাছে সংকেত পৌঁছে যায়। অনেক লিফটে ইন্টারকম সিস্টেমও থাকে, যার মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে ধীরে ধীরে সাহায্য চাওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

মোবাইল ফোন থাকলে সাহায্য নিন
বর্তমানে প্রায় সবার কাছেই মোবাইল ফোন থাকে। লিফটে আটকে গেলে যদি নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়, তাহলে দ্রুত ভবনের ম্যানেজমেন্ট, নিরাপত্তাকর্মী বা জরুরি সেবায় যোগাযোগ করা উচিত। নির্দিষ্ট ভবনের কন্ট্রোল রুম বা কেয়ারটেকারকে জানালে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে বারবার কল না করে ধৈর্য ধরে প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করাই ভালো।

অপ্রয়োজনীয় চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন
অনেকেই আতঙ্কে দরজা খোলার চেষ্টা করেন বা জোর করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। লিফটের দরজা বা যন্ত্রাংশ নিজের মতো করে নাড়াচাড়া করা উচিত নয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে পেশাদার সাহায্য আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

অক্সিজেন ও আরামের বিষয় মাথায় রাখুন
লিফটের ভেতরে সাধারণত পর্যাপ্ত বাতাস থাকে, তাই শ্বাসকষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি খুবই বিরল। তবে দীর্ঘ সময় আটকে থাকলে অস্বস্তি হতে পারে। তাই আরামদায়ক অবস্থানে দাঁড়ানো বা বসে থাকা উচিত এবং শরীরকে শিথিল রাখার চেষ্টা করা উচিত। 

ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতা ও শিক্ষা
লিফটে আটকে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা হলেও এটি থেকে কিছু শিক্ষা নেওয়া জরুরি। ভবিষ্যতে লিফট ব্যবহারের সময় অতিরিক্ত ওজন না দেওয়া, নিয়ম মেনে ব্যবহার করা এবং জরুরি বাটনের অবস্থান জানা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের ক্ষেত্রে অবশ্যই বড়দের তত্ত্বাবধানে লিফট ব্যবহার করা উচিত।

আস্থা থেকে অর্জন সাজগোজের অনন্য যাত্রা

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
সাজগোজের অনন্য যাত্রা

বাংলাদেশে যখন সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে বিউটি টিউটোরিয়াল এবং স্কিনকেয়ারভিত্তিক কনটেন্টের বিস্তার ঘটেনি, তখন নির্ভরযোগ্য সৌন্দর্য ও ত্বক পরিচর্যা বিষয়ক তথ্য খুঁজে পাওয়া ছিল বেশ কঠিন। ইন্টারনেটে পাওয়া অধিকাংশ তথ্যই ছিল ইংরেজিতে, যা অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের আবহাওয়া, জীবনযাপন কিংবা মানুষের ত্বকের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। একই সময়ে দেশীয় বাজারে ছিল নকল ও নিম্নমানের পণ্যের আধিক্য। ফলে কোন পণ্যটি নিরাপদ, কোনটি কার্যকর কিংবা কোনটি নির্দিষ্ট ত্বকের জন্য উপযোগী এ বিষয়ে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের বড় ধরনের ঘাটতি ছিল।

এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই তৈরি হয়েছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যতা। আর সেই শূন্যতাকেই সম্ভাবনায় রূপ দিয়েছিল সাজগোজ। তাদের লক্ষ্য ছিল শুধু পণ্য বিক্রি নয়; বরং মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করা এবং তথ্যের ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান গড়ে তোলা।

‘ইনোভেশন ফর আ সাস্টেইনেবল ফিউচার: সিলেক্টেড কেসেস (২০২৪)’ গ্রন্থে প্রকাশিত এম. সাঈদ আলম, কোহিনুর বিশ্বাস এবং বুশরা হুমায়রা এশার একটি কেস স্টাডি অনুযায়ী, ২০১৩ সালে সিনথিয়া শারমিন ইসলাম, নাজমুল শেখ এবং মিল্কি মাহমুদ সাজগোজ প্রতিষ্ঠা করেন। অধিকাংশ স্টার্টআপ যেখানে শুরু থেকেই বিক্রয়কেন্দ্রিক কৌশল গ্রহণ করে, সেখানে সাজগোজ বেছে নেয় একেবারেই ভিন্ন একটি পথ—কনটেন্টভিত্তিক আস্থা নির্মাণ।

শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানটি বাংলায় সৌন্দর্যচর্চা ও ত্বকের যত্ন নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ নিবন্ধ প্রকাশ করত। সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয় টিউটোরিয়াল, পণ্যের ব্যবহারবিধি, বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং সচেতনতামূলক নানা লেখা। প্রতিটি কনটেন্টই তৈরি করা হয়েছিল বাংলাদেশি ভোক্তাদের প্রয়োজন ও বাস্তবতাকে সামনে রেখে।

ধারণাটি ছিল সহজ, কিন্তু কার্যকারিতা ছিল অসাধারণ। কারণ কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে মানুষ সেটি সম্পর্কে জানতে চায়, আর কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে বিশ্বাস করার আগে প্রয়োজন হয় নির্ভরযোগ্য তথ্য ও গবেষণালব্ধ উপস্থাপনা। সাজগোজ ঠিক সেই জায়গাতেই গুরুত্ব দেয়।

পণ্য বিক্রির প্রচারণার পরিবর্তে তারা মানুষের নিত্যদিনের প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে শুরু করে। কোন পণ্য নিরাপদ? কোনটি কোন ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী? কীভাবে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে? এমন অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে সাজগোজ ধীরে ধীরে একটি সাধারণ ওয়েবসাইটের গণ্ডি পেরিয়ে সচেতন ভোক্তাদের নির্ভরযোগ্য পরামর্শদাতায় পরিণত হয়।

সাজগোজের যাত্রা থেকে পাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগুলোর একটি হলো প্রকৃত সমস্যা অনেক সময় চোখে দেখা যায় না। বিউটি ইন্ডাস্ট্রিতে পণ্যের অভাব ছিল না; অভাব ছিল সঠিক তথ্য, স্বচ্ছতা এবং নির্ভরযোগ্য নির্দেশনার। প্রতিষ্ঠানটি উপলব্ধি করেছিল, প্রকৃত চাহিদা আসলে আরও বেশি পণ্য নয়, বরং আরও ভালো তথ্য। আর সেই তথ্য থেকেই জন্ম নেয় বিশ্বাস যা যেকোনো ব্যবসার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।

সাজগোজের আরেকটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ছিল বাংলা ভাষাকে প্রাধান্য দেওয়া। যখন অনলাইন জগতের বড় অংশজুড়ে ইংরেজি কনটেন্টের আধিপত্য ছিল, তখন তারা স্থানীয় ভাষায় তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে যায়। এর ফলে স্কিনকেয়ার ও সৌন্দর্যচর্চা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে যায় এমন লাখো মানুষের কাছে, যারা এতদিন এ ধরনের জ্ঞানের মূলধারা থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিলেন।

বাংলাদেশের আবহাওয়া, সংস্কৃতি এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের বাস্তবতা প্রতিফলিত হওয়ায় সাজগোজের কনটেন্ট হয়ে ওঠে আরও প্রাসঙ্গিক ও গ্রহণযোগ্য। ফলে পাঠকদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও ক্রমশ গভীর হতে থাকে।

পাঠকসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি গড়ে ওঠে একটি সক্রিয় কমিউনিটি। মানুষ সেখানে শুধু কনটেন্ট পড়েই থেমে থাকেনি; নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করেছে, প্রশ্ন করেছে, মতামত দিয়েছে এবং একে অপরের কাছ থেকে শিখেছে। এই কমিউনিটিই পরবর্তীতে সাজগোজের প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তিতে পরিণত হয়।

বর্তমানে সাজগোজ একটি পূর্ণাঙ্গ কনটেন্টনির্ভর ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। তবে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি বাণিজ্যিক সাফল্য নয়; বরং বিশ্বাসযোগ্যতা। বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার ভিড়ে প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে কেবল আরেকটি বিক্রয়মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং একজন নির্ভরযোগ্য গাইড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।

সাজগোজের গল্প উদ্যোক্তাদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। অধিকাংশ ব্যবসা শুরু হয় এই চিন্তা থেকে ‘কীভাবে আরও বেশি বিক্রি করা যায়?’ কিন্তু সাজগোজ শুরু করেছিল অন্য একটি প্রশ্ন দিয়ে—‘কীভাবে মানুষকে আরও ভালোভাবে বুঝতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা যায়?’

এই দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যই তাদের সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। কারণ মানুষ যখন একটি প্রতিষ্ঠানের জ্ঞান, সততা এবং উদ্দেশ্যের ওপর আস্থা রাখে, তখন সেই বিশ্বাস ধীরে ধীরে ব্যবসার প্রতিও ছড়িয়ে পড়ে। আর একবার সেই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হলে লেনদেন ও প্রবৃদ্ধি অনেকটাই স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে আসে।

/এমটি