ঢাকা ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পানি খাইয়ে ছাগল ফুলিয়ে বিক্রির অভিযোগ, মালিককে খুঁজছে প্রশাসন স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান, ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু ফাইনালে যেতে যে পথ পাড়ি দিতে হবে স্পেনকে মহাখালীতে পাওনা টাকার বিরোধে হামলা, ছুরিকাঘাতে আহত ৩ তেলিয়াপাড়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করেছে বিজিবি বিশ্বকাপের মঞ্চের পর সঞ্জয়–নোরার নতুন ধামাকা ‘চ্যাম্পিয়ান’ স্টার্টআপ গঠনের ১০টি মৌলিক নীতি সম্ভাব্য ফাইনালের পথ জেনে গেল আর্জেন্টিনা জমির বদলে ফ্ল্যাট পেলেও ১৫% কর: প্রত্যাহারের দাবি রেডার ফেনীতে চাল কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা ইউনিকো হসপিটালে ন্যাশনাল ওয়ার্কশপ অন ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্সিং অনুষ্ঠিত রূপায়ণ সিটি উত্তরা পরিদর্শন করলেন রিহ্যাব নেতারা জুলাইয়ে ৪ রাশির আর্থিক ভাগ্য উজ্জ্বল? কী বলছে প্রচলিত জ্যোতিষশাস্ত্র রাফিজ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি লাল্টু গ্রেপ্তার, উদ্ধার হত্যায় ব্যবহৃত রশি মাদারীপুরে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প, সেবা নিলেন দেড় হাজার রোগী ফেনীতে যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রবিউল হোসেন আর নেই হাতীবান্ধায় পুলিশ কর্মকর্তাদের কুপিয়ে পালাল আসামি হুমায়ুন কবীর বালুর হত্যাবার্ষিকীতে স্মরণসভা, বিচার বাস্তবায়নের দাবি বিশ্বকাপের লজিস্টিকস নিয়ে ক্ষুব্ধ তারেমি তিন পদে কর্মী খুঁজছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে রেস্তোরাঁয় রয়ে গেল শিশুসন্তান, ৬ ঘণ্টা পর ফিরে এল পাকিস্তানি পরিবার আমরা দেশের মানুষের জন্য খেলি: জিজো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: বাণিজ্যমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা হবে নকলমুক্ত: খন্দকার মারুফ সিঁথির ‘বসন্তের কোকিল’-এ অলংকারের নাচ বিবিসিসিআই-এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত মাদকাসক্তির কারণ ও প্রতিকার বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র গৃহশান্তি বজায় রাখতে

আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ
ছবি: সংগৃহীত

ভাবুন তো, মাত্র এক মিনিটে যদি আপনার ব্যাংক ব্যালান্সে এক হাজার ডলার জমা হয়, তবে কেমন লাগবে? দুনিয়ার বুকে এমন কোনো বৈধ ব্যবসা নেই যা আপনাকে মাত্র ৬০ সেকেন্ডে এত বড় মুনাফা দিতে পারে। অথচ আখেরাতের বাজারে প্রতিদিন মাত্র এক মিনিটে এক হাজার নেকি অর্জন করা এবং একই সঙ্গে এক হাজার গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়া সম্ভব! রাসুল (সা.) আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এমন কিছু অবিশ্বাস্য আধ্যাত্মিক সমীকরণ শিখিয়েছেন, যা আধুনিক মানুষকে এক নিমেষেই পরকালের শ্রেষ্ঠ ধনীতে পরিণত করতে পারে।

আমরা অনেকেই মনে করি, অনেক বড় ইবাদত বা কঠিন পরিশ্রম ছাড়া বড় সওয়াব পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) এই ধারণাটি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন। হজরত সাদ ইবনে আবু অক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কোনো ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকি অর্জন করতে অপারগ হবে কি? উপস্থিত একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘কীভাবে এক হাজার নেকি অর্জন করবে?’ তিনি বললেন, ১০০ বার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) পড়বে।

ফলে তার জন্য এক হাজার নেকি লেখা হবে এবং এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে। (মুসলিম, ২৬৯৮; তিরমিজি, ৩৪৬৩)। নতুন দৃষ্টিকোণ: মুহাদ্দিসদের সূক্ষ্ম ভাষ্য ও বর্ণনার পাঠভেদ (যেমন- শু’বাহ ও ইয়াহয়্যা আলক্বাত্তানের বর্ণনা) অনুযায়ী, এখানে ‘অথবা’ নয়, বরং ‘এবং’ শব্দটির ব্যবহারই অগ্রগণ্য। অর্থাৎ, মাত্র ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বললে ১০০০ নেকি পাওয়ার পাশাপাশি একই সঙ্গে ১০০০ গুনাহও খাতা থেকে মুছে যায়।

 

লেখক: মুহতামিম, মদিনাতুল উলুম মদরাসা, কুষ্টিয়া

পবিত্র আশুরা আজ

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
পবিত্র আশুরা আজ
ছবি: সংগৃহীত

আজ শুক্রবার পবিত্র আশুরা। সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শোকের আবহে দিনটি পালিত হচ্ছে। হিজরি মুহাররম মাসের দশম দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে এক অনন্য এবং তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সৃষ্টির শুরু থেকে নানা ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক এই দিনটি। তবে সব ছাড়িয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.) এর সপরিবারে শাহাদতবরণ বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কাছে এক চিরন্তন শোক ও ত্যাগের মহিমামর অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। 

বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও আজ নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার ও রোজা পালনের মধ্য দিয়ে দিনটি অতিবাহিত করছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, রমজানের পর মুহাররমের রোজাই সবচেয়ে উত্তম এবং আশুরার একটি রোজা পালনে বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয়। এই পবিত্র দিনে শিয়া সম্প্রদায় রাজধানীর পুরাণ ঢাকার হোসেনি দালান থেকে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের করে থাকে। 

ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তায়ালা এই ১০ মুহাররমের দিনেই আরশ, কুরসি, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। এই দিনেই প্রথম মানব হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয় এবং পরে দুনিয়ায় প্রেরণের পর এই দিনেই তার তাওবা কবুল করা হয়। এ ছাড়াও হজরত নূহ (আ.)-এর যুগের মহাপ্লাবনের পর তার কিস্তি জুদি পাহাড়ে ভেড়ে এবং হজরত মূসা (আ.)-এর নেতৃত্বে বনি ইসরাইলদের অত্যাচারী ফেরাউনের কবল থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি পাওয়ার মতো মহান সব ঘটনার সাক্ষী এই পবিত্র আশুরা।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত তাজিয়া মিছিলসহ বিভিন্ন শোক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন লালবাগ, ওয়ারী, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন বিভাগের ২৮টি ইমামবাড়া কর্তৃক মুহাররমের ১ তারিখ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি মিছিলের জন্য নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ পুলিশি পাহারা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আতশবাজি বা যেকোনো ধরনের পটকা ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির বাণী: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কারবালার প্রান্তরে শাহাদতবরণকারী সব শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী মানুষকে অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় এবং সত্য, সুন্দর ও আলোর পথ দেখায়। তিনি একটি সাম্য, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর সংহতি কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আপসহীন সংগ্রামকে স্মরণ করে বলেন, ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তিনি আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনা মানবজাতিকে শিখিয়েছে কীভাবে জুলুম, অন্যায় ও স্বৈরাচারের কাছে মাথা নত না করে সত্য ও ন্যায়ের আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হয়। এই অবিনাশী শিক্ষা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য এক অন্তহীন প্রেরণার উৎস ধারণ করে আছে।

যে ৩টি কাজে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে ৩টি কাজে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান যুগে আমরা অনেকেই বাহ্যিক কিছু আচার-অনুষ্ঠানকে ধর্ম মনে করে আত্মতৃপ্তিতে ভুগি। কিন্তু সমাজকে পাশ কাটিয়ে কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক ধর্মচর্চায় আল্লাহর পূর্ণ সন্তুষ্টি আসে না। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক চমৎকার নির্দেশনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির তিনটি করে ক্ষেত্র নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা যেকোনো সভ্য সমাজের মূল ভিত্তি হতে পারে।

যে ৩টি কাজে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন:

১. আল্লাহর নিখাদ ইবাদত করা এবং তাঁর সার্বভৌমত্বে বিন্দুমাত্র অংশীদার বা শিরক না করা।

২. আল্লাহর দেওয়া জীবনবিধানকে সামগ্রিকভাবে ও শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা এবং নিজেদের মধ্যে দলাদলি বা বিভেদ সৃষ্টি না করা।

৩. সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল বা নেতাদের জন্য আন্তরিকভাবে কল্যাণ কামনা করা ও তাঁদের সৎকাজে সহযোগিতা করা।

বিপরীতভাবে, বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়া বা আমাদের যাপিত জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, আমরা অবলীলায় এমন কিছু কাজ করে যাচ্ছি যা স্রষ্টাকে অসন্তুষ্ট করে।
যে ৩টি কাজে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন:

১. আজকের দিনে ফেসবুক-ইউটিউবে ট্রোল করা, গুজব ছড়ানো বা মানুষের চরিত্র হনন করা নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ও অর্থহীন কথা বলার এই প্রবণতা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে।

২. অপচয় ও সম্পদের অপব্যবহার করা।

৩. কোনো গঠনমূলক উদ্দেশ্য ছাড়া কেবল তর্কের খাতিরে বা অন্যকে বিপদে ফেলার জন্য অনর্থক খুঁতখুঁতে প্রশ্ন করা।

আমরা যদি আজকের বাংলাদেশের সামাজিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি আর পারিবারিক ভাঙনের দিকে তাকাই, তবে দেখব এই প্রতিটি সংকটের মূলে রয়েছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশিত এই বার্তাগুলোর অনুপস্থিতি। অন্যের ভালো দেখে হিংসা না করে তার জন্য কল্যাণ কামনা করা, গুজবে কান না দিয়ে অনর্থক কথা বলা বন্ধ করা এবং সমাজের ঐক্য ধরে রাখা আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ
ছবি: সংগৃহীত

ভাবুন তো, মাত্র এক মিনিটে যদি আপনার ব্যাংক ব্যালান্সে এক হাজার ডলার জমা হয়, তবে কেমন লাগবে? দুনিয়ার বুকে এমন কোনো বৈধ ব্যবসা নেই যা আপনাকে মাত্র ৬০ সেকেন্ডে এত বড় মুনাফা দিতে পারে। অথচ আখেরাতের বাজারে প্রতিদিন মাত্র এক মিনিটে এক হাজার নেকি অর্জন করা এবং একই সঙ্গে এক হাজার গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়া সম্ভব! রাসুল (সা.) আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এমন কিছু অবিশ্বাস্য আধ্যাত্মিক সমীকরণ শিখিয়েছেন, যা আধুনিক মানুষকে এক নিমেষেই পরকালের শ্রেষ্ঠ ধনীতে পরিণত করতে পারে।

আমরা অনেকেই মনে করি, অনেক বড় ইবাদত বা কঠিন পরিশ্রম ছাড়া বড় সওয়াব পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) এই ধারণাটি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন। হজরত সাদ ইবনে আবু অক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কোনো ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকি অর্জন করতে অপারগ হবে কি? উপস্থিত একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘কীভাবে এক হাজার নেকি অর্জন করবে?’ তিনি বললেন, ১০০ বার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) পড়বে।

ফলে তার জন্য এক হাজার নেকি লেখা হবে এবং এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে। (মুসলিম, ২৬৯৮; তিরমিজি, ৩৪৬৩)। নতুন দৃষ্টিকোণ: মুহাদ্দিসদের সূক্ষ্ম ভাষ্য ও বর্ণনার পাঠভেদ (যেমন- শু’বাহ ও ইয়াহয়্যা আলক্বাত্তানের বর্ণনা) অনুযায়ী, এখানে ‘অথবা’ নয়, বরং ‘এবং’ শব্দটির ব্যবহারই অগ্রগণ্য। অর্থাৎ, মাত্র ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বললে ১০০০ নেকি পাওয়ার পাশাপাশি একই সঙ্গে ১০০০ গুনাহও খাতা থেকে মুছে যায়।

 

লেখক: মুহতামিম, মদিনাতুল উলুম মদরাসা, কুষ্টিয়া

২৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২৭ জুন ২০২৬, শনিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৪ মিনিট

আসর

৪.৪০ মিনিট

মাগরিব

৬.৫৩ মিনিট

এশা

৮.১৯ মিনিট

 

ফজর (২৮ জুন)

.৪৫মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মাদক: এক নীরব ঘাতক

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
মাদক: এক নীরব ঘাতক
ছবি: সংগৃহীত

একটি সুস্থ-সবল তরুণ, যার চোখে ছিল স্বপ্ন আর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। একদিন ‘শুধু একবার চেষ্টা করে দেখি’ এই কৌতূহল থেকে সে নেশার জগতে পা রাখল। কয়েক বছর পর সেই উজ্জ্বল মুখ পরিণত হলো এক জীবন্ত কঙ্কালে। মাদক এভাবেই নীরবে একটি প্রাণ, একটি পরিবার ও একটি গোটা সমাজকে গিলে খায়। প্রতিদিন অসংখ্য পরিবার এই অভিশাপে তাদের সবচেয়ে আদরের সন্তানকে হারাচ্ছে, অথচ একটুখানি সচেতনতাই হয়তো তাদের বাঁচিয়ে দিতে পারত।

আজ আমরা বিজ্ঞান ও ইসলাম উভয়ের আলোকে দেখব, কেন এই পথ থেকে দূরে থাকা আসলে জীবন-মরণের প্রশ্ন। আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান বলছে, মাদক সরাসরি মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ বা পুরস্কার-কেন্দ্রকে আক্রমণ করে। নেশাদ্রব্য মস্তিষ্কে কৃত্রিমভাবে ডোপামিন নামের রাসায়নিক প্লাবিত করে দেয়, যা সাময়িক সুখানুভূতি জাগায়। কিন্তু মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে ডোপামিন তৈরি করা কমিয়ে দেয়, ফলে নেশা ছাড়া মানুষ আর কোনো আনন্দই অনুভব করতে পারে না। এটিই আসক্তির মূল রহস্য। সময়ের সঙ্গে একই অনুভূতি পেতে আরও বেশি ডোজ লাগে, আর হঠাৎ বন্ধ করলে শুরু হয় অসহনীয় যন্ত্রণা।

মাদক শুধু মস্তিষ্ক নয়, পুরো শরীরকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে। এটি লিভার ও কিডনি অকেজো করে দেয়, হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে, ফুসফুস ধ্বংস করে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে ফেলে। একই সিরিঞ্জ ব্যবহারে ছড়ায় এইডস ও হেপাটাইটিসের মতো মারণ রোগ। মানসিকভাবে এটি জন্ম দেয় বিষণ্নতা, উদ্বেগ, স্মৃতিভ্রংশ এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, প্রতি বছর মাদক পৃথিবীজুড়ে লাখ লাখ তাজা প্রাণ কেড়ে নেয়। বিজ্ঞানের ভাষায় মাদকের একটিও উপকারী দিক নেই, আছে শুধু ধ্বংস।

আরও ভয়ংকর হলো, মাদক একটি ‘প্রবেশদ্বার’-এর মতো কাজ করে। গবেষণা বলছে, ছোট নেশা দিয়ে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে তা মানুষকে আরও কঠিন ও প্রাণঘাতী মাদকের দিকে টেনে নেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তরুণরা, কারণ এই বয়সে মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অংশটি তখনো পুরোপুরি পরিণত হয় না। ফলে একটি জাতির সম্ভাবনাময় প্রজন্ম অঙ্কুরেই ঝরে পড়ে। মাদক তাই কেবল ব্যক্তির রোগ নয়, এটি গোটা জাতির রক্তে ছড়িয়ে পড়া এক ধীর বিষ।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিজ্ঞান যা আজ আবিষ্কার করছে, ইসলাম তা ১৪০০ বছর আগেই ঘোষণা করেছে। আল্লাহতায়ালা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, হে ঈমানদাররা! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদি ও ভাগ্য নির্ণায়ক তীর এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা এগুলো থেকে বিরত থাকো, যাতে তোমরা সফল হও। (সুরা মায়িদা, ৯০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি সর্বজনীন নীতি দিয়ে গেছেন, ‘প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই মদ, আর প্রত্যেক মদই হারাম।’ (সহিহ মুসলিম)।

তিনি আরও বলেছেন, যে বস্তু বেশি খেলে নেশা হয়, তার সামান্য পরিমাণও হারাম (তিরমিজি, আবু দাউদ)। এই নীতির ভিত্তিতে ইসলামি আইনবিদরা ঐকমত্যে ঘোষণা করেছেন, ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ সব ধরনের মাদক ও নেশাদ্রব্য হারাম। কারণ এগুলো মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ বিবেক ও বুদ্ধি কেড়ে নেয়। আর বিবেক রক্ষা করা ইসলামের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।

যে সন্তানকে মা ১০ মাস গর্ভে ধারণ করেছেন, রাতের পর রাত জেগে বড় করেছেন, সেই সন্তান যখন নেশায় বুঁদ হয়ে টলতে টলতে ঘরে ফেরে, তখন মায়ের বুকটা কীভাবে ভেঙে যায়, তা ভাষায় বলা যায় না। নেশা কখনো একা একজনকে শেষ করে না; সঙ্গে নিয়ে ডোবায় গোটা পরিবারকে। স্ত্রী হারায় তার স্বামীকে, সন্তান হারায় তার বাবাকে, আর বৃদ্ধ মা-বাবা হারায় শেষ বয়সের একমাত্র অবলম্বন। যে হাত আল্লাহর সামনে সিজদার জন্য তৈরি হয়েছিল, সেই হাত একসময় কাঁপতে থাকে কেবল এক ছিলিম নেশার জন্য। ভাবুন, কিয়ামতের দিন এই অপচয় করা জীবনের হিসাব আমরা কী দিয়ে দেব? এই যুদ্ধে সবচেয়ে শক্ত ঢাল হলেন অভিভাবক।

প্রথমত, সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই আল্লাহভীতি ও নামাজের অভ্যাসে গড়ে তুলুন। কারণ, যে হৃদয়ে আল্লাহর ভয় বাসা বাঁধে, সেখানে নেশা সহজে ঢুকতে পারে না। দ্বিতীয়ত, সন্তানের বন্ধুবান্ধব ও সঙ্গ সম্পর্কে সজাগ থাকুন, কারণ অধিকাংশ আসক্তিরই সূচনা হয় খারাপ সঙ্গ থেকে। তৃতীয়ত, সন্তানের সঙ্গে বন্ধুর মতো সম্পর্ক রাখুন, যেন সে তার সমস্যা লুকিয়ে না রেখে নির্ভয়ে আপনাকে বলতে পারে। তাকে পর্যাপ্ত সময় ও ভালোবাসা দিন কারণ যে সন্তান ঘরে আদর ও মনোযোগ পায় না, সে প্রায়ই বাইরে নেশার মধ্যে মিথ্যা সান্ত্বনা খোঁজে।

আর কেউ যদি ইতোমধ্যে আসক্ত হয়ে পড়ে, তাকে ঘৃণা করে দূরে ঠেলে না দিয়ে চিকিৎসা ও সংশোধনের পথে ফিরিয়ে আনুন। সর্বোপরি, আল্লাহর কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দোয়া করুন। কারণ, হেদায়েত একমাত্র তারই হাতে। মাদক দুনিয়াতে ধ্বংস করে শরীর, আর আখিরাতে ডেকে আনে আল্লাহর অসন্তুষ্টি। বিজ্ঞান যাকে ‘নীরব ঘাতক’ বলে, শরিয়ত তাকে বলে ‘শয়তানের অপবিত্র কাজ’। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক