ঢাকা ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দেম্বেলের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ৩-১ গোলে এগিয়ে ফ্রান্স ঝড় নয়, কলম্বিয়াই পর্তুগালের আসল পরীক্ষা ৩২ মিনিটেই দেম্বেলের হ্যাটট্রিক রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করবেন হাকিমি সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ইসমাইল আর নেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন, রক্ষা হলো না নিজের জীবন ভারতকে টি-টোয়েন্টি শেখাল আয়ারল্যান্ড নরওয়ের শুরুর একাদশে নেই হালান্ডসহ ১০ জন, ফ্রান্সের একাদশেও পরিবর্তন কেপ ভার্দে-সৌদি আরব ম্যাচে বাঁশি বাজাবেন ফরাসি রেফারি লেতেক্সিয়ে এক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় মা ও তিন মেয়ে, অশ্রুসিক্ত হোমনা বিশ্বকাপের নকআউটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে হবে, জানাল এআই মাগুরায় মহররম উপলক্ষে পথচারীদের মাঝে পানি বিতরণ মেসিদের দেশে ফুটবল একাডেমিতে শিশু নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাবনায় বালু উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিতে বিএনপি কর্মী নিহত পূর্ব শত্রুতার জেরে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা কালীগঞ্জে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন চার বছর পর ফিরেই উইম্বলডনে সেরেনা উইলিয়ামস চাঁদপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে শিক্ষার্থীর মৃত্যু শিমুলিয়ায় নীল-সাদা জোয়ার, বল পায়ে রাষ্ট্রদূত জিতলেই আর্জেন্টিনার হাফ সেঞ্চুরি সোনা লুকালেন কোমরে, সীমান্তেই ধরা অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় চ্যাম্পিয়ন মাগুরা ফুটবল দলকে সংবর্ধনা বেইজিংয়ের ১০৯ তলা ভবনে বিমান বিধ্বস্ত নরওয়ের বিপক্ষে সালিবাকে ছাড়াই খেলবে ফ্রান্স ভারতে তাজিয়া মিছিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত ৩ ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৮৯, আহত প্রায় ৩ হাজার রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গান, কবিতা ও স্মৃতিচারণে কামাল লোহানীর জন্মবার্ষিকী উদযাপন অভিষেক হলো না বৈভব সূর্যবংশীর, কারণ জানালেন কোচ ও অধিনায়ক গ্রেপ্তার সাবেক এমপি আশিকা রিমান্ডে

২৬ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২৬ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে। 

আজ ২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৪ মিনিট

আসর

৪.৪০ মিনিট

মাগরিব

৬.৫৩ মিনিট

এশা

৮.১৯ মিনিট

 

ফজর (২৭ জুন)

.৪৫মিনিট

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পবিত্র আশুরা আজ

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
পবিত্র আশুরা আজ
ছবি: সংগৃহীত

আজ শুক্রবার পবিত্র আশুরা। সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শোকের আবহে দিনটি পালিত হচ্ছে। হিজরি মুহাররম মাসের দশম দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে এক অনন্য এবং তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সৃষ্টির শুরু থেকে নানা ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক এই দিনটি। তবে সব ছাড়িয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.) এর সপরিবারে শাহাদতবরণ বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কাছে এক চিরন্তন শোক ও ত্যাগের মহিমামর অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। 

বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও আজ নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার ও রোজা পালনের মধ্য দিয়ে দিনটি অতিবাহিত করছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, রমজানের পর মুহাররমের রোজাই সবচেয়ে উত্তম এবং আশুরার একটি রোজা পালনে বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয়। এই পবিত্র দিনে শিয়া সম্প্রদায় রাজধানীর পুরাণ ঢাকার হোসেনি দালান থেকে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের করে থাকে। 

ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তায়ালা এই ১০ মুহাররমের দিনেই আরশ, কুরসি, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। এই দিনেই প্রথম মানব হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয় এবং পরে দুনিয়ায় প্রেরণের পর এই দিনেই তার তাওবা কবুল করা হয়। এ ছাড়াও হজরত নূহ (আ.)-এর যুগের মহাপ্লাবনের পর তার কিস্তি জুদি পাহাড়ে ভেড়ে এবং হজরত মূসা (আ.)-এর নেতৃত্বে বনি ইসরাইলদের অত্যাচারী ফেরাউনের কবল থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি পাওয়ার মতো মহান সব ঘটনার সাক্ষী এই পবিত্র আশুরা।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত তাজিয়া মিছিলসহ বিভিন্ন শোক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন লালবাগ, ওয়ারী, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন বিভাগের ২৮টি ইমামবাড়া কর্তৃক মুহাররমের ১ তারিখ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি মিছিলের জন্য নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ পুলিশি পাহারা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আতশবাজি বা যেকোনো ধরনের পটকা ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির বাণী: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কারবালার প্রান্তরে শাহাদতবরণকারী সব শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী মানুষকে অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় এবং সত্য, সুন্দর ও আলোর পথ দেখায়। তিনি একটি সাম্য, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর সংহতি কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আপসহীন সংগ্রামকে স্মরণ করে বলেন, ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তিনি আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনা মানবজাতিকে শিখিয়েছে কীভাবে জুলুম, অন্যায় ও স্বৈরাচারের কাছে মাথা নত না করে সত্য ও ন্যায়ের আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হয়। এই অবিনাশী শিক্ষা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য এক অন্তহীন প্রেরণার উৎস ধারণ করে আছে।

আসমাউল হুসনা–আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
আসমাউল হুসনা–আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর বুকে এমন কিছু শব্দ আছে যেগুলো কেবল শব্দ নয়, সেগুলো হলো আলোর দরজা। ইসলামে সেই দরজাগুলোর নাম হলো আল্লাহর নাম। একজন মুসলমানের কাছে আল্লাহর নামগুলো মুখস্থ করার তালিকা নয়, বরং সেগুলো তার রবকে চেনার জানালা। প্রতিটি নাম যেন এক একটি আয়না, যাতে তাকালে আল্লাহর কোনো একটি গুণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 

আসমাউল হুসনা–এটি আরবি দুটি শব্দের সমন্বয়। আসমা অর্থ নামসমূহ, আর হুসনা অর্থ সবচেয়ে সুন্দর। দুটি মিলিয়ে অর্থ দাঁড়ায়, সুন্দরতম নামসমূহ। তবে এটি কারও সাধারণ নামের তালিকা নয়। এগুলো হলো মহান আল্লাহর গুণবাচক নাম, যে নামগুলো তার অসীম গুণ, শক্তি, দয়া ও মহিমাকে প্রকাশ করে। সহজ ভাষায় বললে, আল্লাহ কে, তিনি কেমন, তিনি কী করেন, তার স্বভাব কী–এসব কিছুর পরিচয় মেলে তার নামগুলোর মধ্যে। যেমন তিনি আর-রহমান, পরম দয়া-মায়াময়। তিনি আল-আলিম, সর্বজ্ঞ। তিনি আল-কারিম, মহাউদার। প্রতিটি নাম একটি পরিচয়পত্র।

কোরআনুল কারিমে চারটি স্থানে সরাসরি আসমাউল হুসনা শব্দটি এসেছে এবং এই নামগুলো ধরে আল্লাহকে ডাকতে বলা হয়েছে। এরশাদ হয়েছে, আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং সেই নামগুলোর মাধ্যমে তাকে ডাকো। (সুরা আল-আরাফ, ১৮০)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসমাউল হুসনার বিশেষ ফজিলতের কথা জানিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি বিখ্যাত হাদিস, নিশ্চয়ই আল্লাহর ৯৯টি নাম রয়েছে, এক কম একশ। যে ব্যক্তি এগুলো আহসা করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (বুখারি, ২৭৩৬; মুসলিম, ২৬৭৭)

এই হাদিসে আহসা শব্দটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে মনে করেন শুধু মুখস্থ করলেই হবে, কিন্তু আলেমরা বলেছেন এর তিনটি স্তর রয়েছে–প্রথমত, নামগুলো মুখস্থ করা এবং সংরক্ষণ করা। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি নামের অর্থ বোঝা এবং তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা। তৃতীয়ত, সেই নামগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা এবং দোয়ায় তাকে সেই নামে ডাকা।

একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখানে মাথায় আসতে পারে, আল্লাহর নাম কি শুধু ৯৯টি? আলেমরা বলেন, না, আল্লাহর নাম ৯৯-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হাদিসটি বলছে যে এই ৯৯টি নাম আহসা করলে জান্নাতের পুরস্কার আছে, কিন্তু এটি বলছে না যে তাঁর মোট নামের সংখ্যা ৯৯। বরং নবিজি (সা.)-এর একটি দোয়ায় এসেছে, হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি সেই নাম দিয়ে যা তুমি নিজের জন্য নির্ধারণ করেছ, অথবা তোমার কিতাবে নাজিল করেছ, অথবা তোমার কোনো সৃষ্টিকে শিখিয়েছ, অথবা তোমার গায়েবি জ্ঞানে রেখে দিয়েছ। (মুসনাদে আহমাদ)

বিপদে পড়লে মনে পড়বে তিনি আল-মুজিব, দোয়া শোনেন। একাকী লাগলে জানা যাবে তিনি আল-ওয়ালি, সর্বদা পাশে আছেন। পাপের বোঝা ভারী লাগলে স্মরণ হবে তিনি আল-গাফফার, বারবার ক্ষমা করেন। অন্যায়ের বিচার না পেলে সান্ত্বনা মিলবে তিনি আল-আদল, পরম ন্যায়বিচারক। রিজিকের চিন্তায় কাতর হলে মনে আসবে তিনি আর-রাজ্জাক, জীবিকাদাতা। সংক্ষেপে বললে, আসমাউল হুসনা হলো ঈমানের শিকড়। এই নামগুলো যত গভীরে গেঁথে যাবে, ততই একজন মানুষের মনে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, ভয়, আশা এবং নির্ভরশীলতা বাড়বে।

আল্লাহর ৯৯টি নামের বাংলা অর্থসহ তালিকা–১. আল্লাহ: যিনি সব উপাসনার যোগ্য একমাত্র সত্তা; ২. আর-রহমান: পরম দয়াময়; ৩. আর-রহিম: অতি দয়ালু; ৪. আল-মালিক: সার্বভৌম রাজ, মালিক; ৫. আল-কুদ্দুস: মহাপবিত্র; ৬. আস-সালাম: শান্তির উৎস; ৭. আল-মুমিন: নিরাপত্তাদানকারী; ৮. আল-মুহাইমিন: সংরক্ষক, তত্ত্বাবধায়ক; ৯. আল-আজিজ: মহাপরাক্রমশালী, অজেয়; ১০. আল-জাব্বার: মেরামতকারী, সবার ওপর প্রভু; ১১. আল-মুতাকাব্বির: সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী; ১২. আল-খালিক: সৃষ্টিকর্তা; ১৩. আল-বারিউ: উদ্ভাবক; ১৪. আল-মুসাওয়ির: রূপদানকারী; ১৫. আল-গাফফার: বারবার ক্ষমাকারী; ১৬. আল-কাহহার: সবার ওপর বিজয়ী; ১৭. আল-ওয়াহহাব: অকাতরে দানকারী; ১৮. আর-রাজ্জাক: জীবিকা প্রদানকারী; ১৯. আল-ফাত্তাহ: বিজয়দানকারী, রহস্য উন্মোচনকারী; ২০. আল-আলিম: সর্বজ্ঞ; ২১. আল-কাবিদ: সংকোচনকারী; ২২. আল-বাসিত: বিস্তারকারী; ২৩. আল-খাফিদ: অবনমনকারী; ২৪. আর-রাফি: উন্নতকারী, মর্যাদাদানকারী; ২৫. আল-মুইজ্জ: সম্মানদানকারী; ২৬. আল-মুজিল: অপমানকারী (পাপীদের); ২৭. আস-সামি: সর্বশ্রোতা; ২৮. আল-বাসির: সর্বদ্রষ্টা; ২৯. আল-হাকাম: সর্বোচ্চ বিচারক; ৩০. আল-আদল: পরিপূর্ণ ন্যায়বিচারক; ৩১. আল-লাতিফ: সূক্ষ্মদর্শী, অতি সদয়; ৩২. আল-খাবির: সব বিষয়ে সম্যক অবহিত; ৩৩. আল-হালিম: অতি সহিষ্ণু; ৩৪. আল-আজিম: মহামহিম; ৩৫. আল-গাফুর: মহাক্ষমাশীল; ৩৬. আশ-শাকুর: অতিশয় কৃতজ্ঞতা স্বীকারকারী; ৩৭. আল-আলি: সর্বোচ্চ, মহান; ৩৮. আল-কাবির: সর্বমহান; ৩৯. আল-হাফিজ: মহাসংরক্ষক; ৪০. আল-মুকিত: পালনকারী, শক্তিদাতা; ৪১. আল-হাসিব: হিসাব গ্রহণকারী; ৪২. আল-জালিল: প্রতাপশালী, মহিমান্বিত; ৪৩. আল-কারিম: মহাউদার, মহানুভব; ৪৪. আর-রাকিব: সর্বক্ষণ পর্যবেক্ষণকারী; ৪৫. আল-মুজিব: দোয়া কবুলকারী; ৪৬. আল-ওয়াসি: সর্বব্যাপী, অসীম; ৪৭. আল-হাকিম: পরম প্রজ্ঞাময়; ৪৮. আল-ওয়াদুদ: অতি প্রেমময়; ৪৯. আল-মাজিদ: মহাগৌরবময়; ৫০. আল-বাইস: পুনরুত্থানকারী; ৫১. আশ-শাহিদ: সর্বসাক্ষী; ৫২. আল-হাক্ক: চিরসত্য; ৫৩. আল-ওয়াকিল: কর্মবিধায়ক, ভরসার পাত্র; ৫৪. আল-কাওয়িয়্যু: অপ্রতিম শক্তিশালী; ৫৫. আল-মাতিন: দৃঢ়, অটল; ৫৬. আল-ওয়ালি: অভিভাবক, বন্ধু; ৫৭. আল-হামিদ: সর্বপ্রশংসিত; ৫৮. আল-মুহসি: সর্বগণনাকারী; ৫৯. আল-মুবদি: সূচনাকারী; ৬০. আল-মুঈদ: পুনরায় সৃষ্টিকারী; ৬১. আল-মুহয়ি: জীবনদানকারী; ৬২.
আল-মুমিত: মৃত্যুদানকারী; ৬৩. আল-হাইয়্যু: চিরজীবন্ত; ৬৪. আল-কাইয়্যুম: স্বনির্ভর, সবকিছুর ধারক; ৬৫. আল-ওয়াজিদ: সর্বসম্পন্ন; ৬৬. আল-মাজেদ: মহানুভব, মহামর্যাদাবান; ৬৭. আল-ওয়াহিদ: একক, অদ্বিতীয়; ৬৮. আল-আহাদ: একমাত্র, অবিভাজ্য; ৬৯. আস-সামাদ: অমুখাপেক্ষী, যার ওপর সবাই নির্ভরশীল; ৭০. আল-কাদির: সর্বশক্তিমান; ৭১. আল-মুকতাদির: পরম ক্ষমতাবান; ৭২. আল-মুকাদ্দিম: অগ্রবর্তীকারী; ৭৩. আল-মুআখখির: পশ্চাদবর্তীকারী; ৭৪. আল-আউয়াল: সর্বপ্রথম, যার আগে কিছু নেই; ৭৫. আল-আখির: সর্বশেষ, যার পরে কিছু নেই; ৭৬. আজ-জাহির: প্রকাশমান, সবার ওপরে; ৭৭. আল-বাতিন: অদৃশ্যের জ্ঞানী; ৭৮. আল-ওয়ালি: একচ্ছত্র শাসক; ৭৯. আল-মুতাআলি: সর্বোচ্চে বিরাজমান; ৮০. আল-বার্র: সব কল্যাণের উৎস; ৮১. আত-তাওয়াব: তওবা কবুলকারী; ৮২. আল-মুনতাকিম: প্রতিশোধ গ্রহণকারী (অবিচারের বিরুদ্ধে); ৮৩. আল-আফুউ: মার্জনাকারী, পাপ মুছে দেওয়া; ৮৪. আর-রাউফ: অতি স্নেহময়; ৮৫. মালিকুল মুলক: সার্বভৌম রাজ্যের মালিক; ৮৬. জুল-জালালি ওয়াল-ইকরাম: প্রতাপ ও সম্মানের অধিকারী; ৮৭. আল-মুকসিত: ন্যায়বিচারক, সুষম বণ্টনকারী; ৮৮. আল-জামি: একত্রকারী; ৮৯. আল-গানি: অমুখাপেক্ষী, স্বয়ংসম্পূর্ণ ধনী; ৯০. আল-মুগনি: ঐশ্বর্যদানকারী; ৯১. আল-মানি: বাধাদানকারী, রক্ষাকারী; ৯২. আদ-দার: ক্ষতির মালিক; ৯৩. আন-নাফি: উপকারদানকারী; ৯৪. আন-নুর: জ্যোতি, আলো; ৯৫. আল-হাদি: হিদায়াতদানকারী, পথপ্রদর্শক; ৯৬. আল-বাদি: অতুলনীয় সৃষ্টিকর্তা; ৯৭. আল-বাকি: চিরবিরাজমান; ৯৮. আল-ওয়ারিস: একমাত্র উত্তরাধিকারী; ৯৯. আর-রশিদ: সরল পথের প্রদর্শক; আস-সাবুর: মহাধৈর্যশীল। (বুখারি: ২৭৩৬; মুসলিম: ২৬৭৭; তিরমিজি: ৩৫০৭)

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

তিন মুসাফিরের গোপন আমলের শক্তি

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
তিন মুসাফিরের গোপন আমলের শক্তি
ছবি: সংগৃহীত

অনেক অনেক দিন আগের কথা। তিনজন মানুষ একসঙ্গে পথ চলছিল। তারা ছিল আলাদা স্বভাবের, আলাদা জীবনের মানুষ, কিন্তু সেদিন একই পথের সঙ্গী। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে এল, নামল মুষলধারে বৃষ্টি। ভিজে একাকার হওয়ার আগে তারা চারপাশে আশ্রয় খুঁজতে লাগল। অদূরে একটি পাহাড় চোখে পড়ল, আর পাহাড়ের গায়ে ছিল একটি গুহা। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে তিনজন দ্রুত সেই গুহায় ঢুকে পড়ল।

কিন্তু তারা তখনো জানত না, এই গুহাই হয়ে উঠবে তাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার জায়গা। হঠাৎ পাহাড়ের ওপর থেকে বিশাল একটি পাথর গড়িয়ে এল এবং ঠিক গুহার মুখের ওপর এসে আটকে গেল। এক নিমেষে বাইরের আলো নিভে গেল, বন্ধ হয়ে গেল বেরোনোর একমাত্র পথ। তিনজন মিলে অনেক চেষ্টা করল, কাঁধ দিয়ে ঠেলল, হাত দিয়ে চাপ দিল, কিন্তু পাথরটি একচুলও নড়ল না। তারা বুঝে গেল, এই পাথর সরানোর শক্তি মানুষের নেই। ঠিক তখন একজন বলল, ভাইয়েরা, আমাদের কাছে আর কোনো উপায় নেই, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া। চলো, আমরা প্রত্যেকে নিজের জীবনের এমন একটি ভালো কাজ স্মরণ করি, যেটা আমরা একমাত্র আল্লাহকে খুশি করার জন্য করেছিলাম, কোনো মানুষকে দেখানোর জন্য নয়। তারপর সেই কাজের অসিলায় আল্লাহর কাছে দোয়া করি। হয়তো তিনি আমাদের মুক্তি দেবেন। তিনজনই রাজি হলো। অন্ধকার সেই গুহায় তাদের কথা শোনার মতো আর কেউ ছিল না, কেবল আল্লাহ ছাড়া। সেখানে তারা একে একে নিজেদের গোপন আমলের কথা বলতে শুরু করল।

প্রথম মুসাফির: মা-বাবার সেবা করা

প্রথম ব্যক্তি দুই হাত তুলে বলল, হে আল্লাহ! আমার বৃদ্ধ মা-বাবা ছিলেন। প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমি তাদের জন্য দুধ নিয়ে যেতাম। আমার নিয়ম ছিল, মা-বাবার আগে আমি ঘরের আর কাউকে, এমনকি আমার সন্তানদেরও সেই দুধ দিতাম না। একদিন কাজে আমার অনেক দেরি হয়ে গেল। ঘরে ফিরে দেখি, তারা দুজনেই ঘুমিয়ে পড়েছেন।

আমি দুধের পাত্র হাতে নিয়ে তাদের মাথার পাশে দাঁড়িয়ে রইলাম। ঘুম ভাঙাতে মন চাইল না, তাদের আরাম নষ্ট করতে চাইলাম না। আবার তাদের আগে অন্য কাউকে দেওয়াও আমার নিয়মের বাইরে। তাই আমি পাত্র হাতে নিয়ে সারা রাত ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলাম। আমার ছোট সন্তানরা ক্ষুধায় কাঁদছিল আমার পায়ের কাছে, তবু আমি মা-বাবার ঘুম ভাঙাইনি। এভাবেই ভোর হয়ে গেল। হে আল্লাহ! আমি যদি এই কাজটি সত্যিই কেবল তোমার সন্তুষ্টির জন্য করে থাকি, তবে এই পাথরটি আমাদের কাছ থেকে একটু সরিয়ে দাও।

তার দোয়া শেষ হতেই পাথরটি একটু কেঁপে উঠল এবং সামান্য সরে গেল। আলোর সরু একটি রেখা ভেতরে এসে পড়ল, কিন্তু বেরোনোর মতো জায়গা তখনো হলো না।

দ্বিতীয় মুসাফির: পাপের দরজা থেকে ফিরে আসা

এবার দ্বিতীয় ব্যক্তি দোয়ার জন্য দাঁড়াল। সে বলল, হে আল্লাহ! আমার এক চাচাতো বোন ছিল। পৃথিবীতে তাকেই আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতাম। একসময় আমি তার দিকে পাপের ইচ্ছায় এগিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু সে রাজি হয়নি, আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল। এরপর একসময় তীব্র অভাব এসে তাকে চেপে ধরল। নিরুপায় হয়ে সে সাহায্য চাইতে আমার কাছে এল। আমি শর্ত দিলাম, সাহায্য পেতে হলে তাকে আমার ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করতে হবে। প্রয়োজনের কাছে হেরে গিয়ে সে রাজি হলো। আমি তার হাতে অর্থ তুলে দিলাম।

কিন্তু ঠিক সেই চূড়ান্ত মুহূর্তে, যখন পাপ একেবারে হাতের নাগালে, তখন সে কেঁপে উঠে বলল, আল্লাহকে ভয় করো। অন্যায়ভাবে এই সীমা লঙ্ঘন করো না। তার মুখে আল্লাহর নাম শুনে আমার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। আমি সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ালাম এবং সরে গেলাম। যাকে আমি সবচেয়ে বেশি চেয়েছিলাম, তাকে আমি ছেড়ে দিলাম শুধু তোমার ভয়ে। আর যে অর্থ দিয়েছিলাম, তা-ও ফেরত নিইনি। হে আল্লাহ! আমি যদি এই কাজটি সত্যিই কেবল তোমার ভয়ে ও সন্তুষ্টির জন্য করে থাকি, তবে এই পাথরটি আমাদের কাছ থেকে আরও একটু সরিয়ে দাও।

পাথরটি আবার নড়ে উঠল এবং আরও খানিকটা সরে গেল। ভেতরে আরও আলো এল, তবু পুরোপুরি বেরোনোর পথ হলো না।

তৃতীয় মুসাফির: আমানত ফেরত দেওয়া

সবশেষে তৃতীয় ব্যক্তি দোয়া করতে দাঁড়াল। সে বলল, হে আল্লাহ! একবার আমি কিছু শ্রমিককে দিয়ে কাজ করিয়েছিলাম। কাজ শেষে আমি সবাইকে তাদের মজুরি বুঝিয়ে দিলাম। কিন্তু তাদের মধ্যে একজন কোনো কারণে তার পাওনা না নিয়েই চলে গেল।

আমি তার সেই সামান্য পাওনা ফেলে রাখিনি। সেটাকে আমি ব্যবসায় খাটাতে শুরু করলাম। বছরের পর বছর সেই অল্প পুঁজি বাড়তে বাড়তে বিশাল সম্পদে রূপ নিল; গরু, ছাগল, উট আর রাখালেও ভরে গেল।

অনেক বছর পর সেই লোকটি একদিন ফিরে এসে তার পুরোনো পাওনা চাইল। আমি আঙুল দিয়ে পুরো পশুপাল দেখিয়ে বললাম, এই সবকিছুই তোমার। এগুলো তোমার সেই মজুরিরই ফসল। সে অবাক হয়ে বলল, আমার সঙ্গে ঠাট্টা করো না। আমি বললাম, না, আমি ঠাট্টা করছি না। সত্যিই এর পুরোটাই তোমার। এরপর সে সবকিছু নিয়ে চলে গেল, একটি পশুও রেখে গেল না। হে আল্লাহ! আমি যদি এই কাজটি সত্যিই কেবল তোমার সন্তুষ্টির জন্য করে থাকি, তবে বাকি যেটুকু পাথর আটকে আছে, তা-ও সরিয়ে দাও।

তার দোয়া শেষ হতেই পাথরটি সম্পূর্ণভাবে সরে গেল। গুহার মুখ খুলে গেল, আর তিনজন মুসাফির মুক্ত বাতাসে হেঁটে বেরিয়ে এল।

এই ঘটনাটি কোনো বানানো গল্প নয়। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি বর্ণনা করেছেন। হাদিসটি বুখারি ও মুসলিম উভয় গ্রন্থেই আছে। একবার তিনজন লোক পথ চলছিল। হঠাৎ বৃষ্টি নামলে তারা একটি পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিল। তখন পাহাড় থেকে একটি পাথর গড়িয়ে এসে গুহার মুখ বন্ধ করে দিল। তারা একে অপরকে বলল, তোমরা এমন নেক আমলের কথা ভাবো, যা তোমরা কেবল আল্লাহর জন্য করেছিলে; তারপর সেই আমলের অসিলায় আল্লাহর কাছে দোয়া করো, হয়তো তিনি পাথরটি সরিয়ে দেবেন। (বুখারি, ২২১৫, ৫৯৭৪; মুসলিম, ২৭৪৩)।

সেই তিনজন মুসাফির বৃষ্টি থেকে বাঁচতে গুহায় ঢুকেছিল। কিন্তু তাদের প্রকৃত মুক্তি এনে দিয়েছিল বৃষ্টি নয়, তাদের বুকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা সেই গোপন আমলগুলো। বছরের পর বছর তারা কাউকে না বলে, কোনো বাহবা না নিয়ে এই কাজগুলো করে গিয়েছিল। আর সেই নীরব আমলই বিপদের দিনে পাহাড়সমান পাথর সরিয়ে দিল।

আমাদের প্রত্যেকের জীবনেও একদিন কোনো না কোনো ‘গুহা’ আসে, কোনো বিপদ, কোনো অসহায় মুহূর্ত, যখন চারপাশের সব দরজা বন্ধ মনে হয়। সেদিন আমাদের কাছে দেখানোর জন্য কী আছে? মানুষকে দেখানো লোকদেখানো আমল সেদিন কাজে আসবে না। কাজে আসবে শুধু সেই আমল, যা আমরা নীরবে, কেবল আল্লাহর জন্য জমিয়ে রেখেছি। 

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

একজন ক্লান্ত মানুষের জন্য আশ্বাসের বাণীটি কী জানেন?

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
একজন ক্লান্ত মানুষের জন্য আশ্বাসের বাণীটি কী জানেন?
পাপের কারণে কখনো আল্লাহর রহমত থেকে হতাশ হতে নেই। ছবি: সংগৃহীত

মানুষ মাত্রই ভুলের আবর্তে বন্দি অনুশোচনা আর হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত মানুষের বুকে আশার আলো জ্বালাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের শুনিয়েছেন এক অনন্য হাদিসে কুদসি যেখানে স্বয়ং আল্লাহতায়ালা মানবজাতিকে পরম মমতায় সম্বোধন করে এক চিরন্তন ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছেন আল্লাহর ক্ষমার এই মহিমান্বিত রূপটি তিনটি স্তরে বিন্যস্ত:

প্রথমত, আল্লাহ মানুষকে আশ্বস্ত করেছেন যে, অতীতে সে যত বড় অপরাধই করুক না কেন, যখনই সে মন থেকে আল্লাহকে ডাকবে এবং আন্তরিকভাবে তাঁর দয়া ক্ষমার আশা রাখবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন বান্দার অতীতের মন্দ আমল বা তার সামাজিক অবস্থান কেমন ছিল, মহান আল্লাহ তার কোনো পরোয়া করেন না

দ্বিতীয়ত, মানুষের পাপের পরিমাণ যদি কল্পনাতীতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে মহাকাশের মেঘমালা বা আকাশ পর্যন্তও পৌঁছে যায়, আর সেই চূড়ায় দাঁড়িয়েও যদি বান্দা অহংকার ভেঙে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চায়, তবে পরম দয়ালু আল্লাহ তার সমস্ত পাপ মোচন করে দেন আল্লাহর অসীম দয়ার সাগরে মানুষের পর্বতসম পাপও এক নিমেষে মিলিয়ে যায়

তৃতীয়ত, এই ক্ষমার সবচেয়ে বড় শর্ত চমকপ্রদ দিকটি হলো: তাওহিদ বা একত্ববাদ একজন মানুষ যদি পৃথিবীভর্তি পাপের বোঝা নিয়ে আল্লাহর সামনে হাজির হয়, কিন্তু জীবনে কখনো আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক (শিরক) না করে থাকে, তবে আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুত ন্যায়বিচার দয়ার খাতিরে ঠিক সমপরিমাণ, অর্থাৎ পৃথিবীভর্তি ক্ষমা নিয়ে বান্দার দিকে এগিয়ে আসেন

এই হাদিস আমাদের কেবল ক্ষমার আশাই দেখায় না, বরং মানুষের মনস্তাত্ত্বিক মুক্তি দেয় এটি আমাদের শেখায় যে, পাপের কারণে কখনো আল্লাহর রহমত থেকে হতাশ হতে নেই তবে এই ক্ষমার চাবিকাঠি হলোশিরকমুক্ত জীবন অর্থাৎ, সব অপরাধের ক্ষমা মিলতে পারে, যদি অন্তরে আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাস অবিচল থাকে

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

ফেরাউনের লাশ পচেনি কেন জানেন?

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
ফেরাউনের লাশ পচেনি কেন জানেন?
অহংকারী এই শাসকের করুণ পরিণতি ঘটেছিল পবিত্র আশুরার দিনে।ছবি: সংগৃহীত

আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে লোহিত সাগরের উত্তাল তরঙ্গে ডুবে মৃত্যুর সময় প্রতাপশালী ফেরাউন যখন বুঝতে পেরেছিল তার মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে, তখন সে বাঁচতে চেয়েছিল। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছিল। কিন্তু আজাব চলে আসার পর সেই তওবা আর কবুল হয়নি। অহংকারী এই শাসকের করুণ পরিণতি ঘটেছিল পবিত্র আশুরার দিনে। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, সাগরে ডুবে মরলেও তার লাশ পচে যায়নি, সাগরের তিমি বা মাছেরা তা স্পর্শও করেনি। কেন জানেন?

কারণ, মহাবিশ্বের স্রষ্টা স্বয়ং ঘোষণা করেছিলেন, আজ আমি তোমার দেহ রক্ষা করব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাকো। (সুরা ইউনুস, ৯২)। আল্লাহর সেই বাণী আজ বিজ্ঞানের যুগে এসেও এক জীবন্ত সত্য হিসেবে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৮৯৮ সালে মিসরের রাজাদের উপত্যকা (কিংস ভ্যালি) থেকে বিজ্ঞানী লোরেট ফেরাউনের মমি করা লাশটি উদ্ধার করেন। এরপর ১৯০৭ সালে প্রখ্যাত গবেষক স্যার গ্রাফটিন এলিট স্মিথ যখন এই মমির ওপর থেকে প্রাচীন পট্টিগুলো অপসারণ করেন, তখন একটি বিস্ময়কর জিনিস দেখতে পান। লাশটির ওপর লবণের একটি স্পষ্ট স্তর জমাট বেঁধে ছিল! এটি প্রমাণ করে, এই ব্যক্তিটি কোনো সাধারণ বিছানায় মারা যায়নি, বরং লবণাক্ত সাগরের পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছিল।

হজরত মূসা (আ.)-এর যুগে মিসরের সম্রাট বা ‘ফেরাউন’ ছিল দ্বিতীয় রামাসিস অথবা তার পুত্র মারনেপতাহ। নিজেকে ঈশ্বর দাবি করা এই অহংকারী রাজা মরেও আজ বিশ্ববাসীর কাছে এক শিক্ষণীয় ট্র্যাজেডির নাম। বর্তমানে কায়রো জাদুঘরে একটি সাধারণ কাচের বাক্সে তাঁর লাশ রাখা আছে, যা আজ ৩ হাজার বছর ধরে মানুষকে মনে করিয়ে দিচ্ছে—অহংকারের শেষ পরিণতি কতটা ভয়ানক।

ফেরাউনের এই পতন আমাদের আরও একটি বড় সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়। সুরা যিলযালে আল্লাহ বলেছেন, মানুষ দুনিয়াতে অণু পরিমাণ ভালো বা মন্দ কাজ করলে, পরকালে তা দেখতে পাবে। আমাদের প্রতিটি মুহূর্তের কথা ও কাজ গোপনে বা প্রকাশ্যে কমপক্ষে পাঁচটি জায়গায় রেকর্ড হচ্ছে—স্বয়ং আল্লাহর কাছে, আসমানে, জমিনে এবং আমাদের কাঁধে থাকা ফেরেশতাদের আমলনামায়। ফেরাউন ভেবেছিল তার ক্ষমতার দাপটে সে পার পেয়ে যাবে, কিন্তু আল্লাহর হাত থেকে সে রেহাই পায়নি।

সিনাই উপদ্বীপের যে সাগরতীরে ফেরাউনের লাশ ভেসে উঠেছিল, আজ মানুষ তাকে ‘জাবালে ফেরাউন’ বা ফেরাউন পর্বত নামে চেনে। এই নিদর্শনগুলো আমাদের জন্য নিছক কোনো গল্প নয়। যান্ত্রিক জীবনের মোহে পড়ে আমরা যেন আমাদের রবের কথা ভুলে না যাই। শয়তানের প্রলোভনে কোনো ভুল বা পাপ হয়ে গেলে, ফেরাউনের মতো শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে, এখনই আমাদের তওবা করা উচিত। পবিত্র আশুরার এই দিনে আসুন আমরা অহংকার মুক্ত জীবন গড়ার এবং আল্লাহর পথে ফিরে আসার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক