বর্তমান বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ফুটবল ব্যবস্থা বিশ্বসেরা প্রতিভা গড়ে তোলার জন্য প্রশংসিত হলেও, এর আড়ালে শিশুদের শোষণ, অবহেলা এবং নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে ইএসপিএনের দীর্ঘ অনুসন্ধানে।
শুক্রবার (২৬ জুন) প্রকাশিত এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের পর বছর ধরে আর্জেন্টিনার পেশাদার ফুটবলের প্রতিভা তৈরির ব্যবস্থার ওপর তদন্ত চালিয়েছে ইএসপিএন। এ সময় তারা হাজার হাজার পৃষ্ঠার নথি পর্যালোচনা করেছে, ১০০-রও বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছে এবং তরুণ ফুটবলারদের থাকার আবাসন- যেগুলো পেনসিওনেস নামে পরিচিত, সেগুলো পরিদর্শন করেছে।
২০১৮ সালে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ইন্ডেপেনদিয়েন্তে প্রকাশ করে যে, তাদের পেনসিওনে থাকা কয়েকজন শিশুকে অন্তত ছয়জন ব্যক্তি যৌন নিপীড়নের শিকার করেছে। এরপরই ইএসপিএন তাদের অনুসন্ধান শুরু করে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে হাজার হাজার শিশু নিজ বাড়ি থেকে শত শত মাইল দূরে বুয়েনস আইরেসে চলে আসে বিভিন্ন ক্লাবে অনুশীলনের জন্য। তবে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় হিসেবে তারা ক্লাব থেকে কোনো পারিশ্রমিক পায় না। তারা হয় ক্লাব পরিচালিত অভ্যন্তরীণ পেনসিওনে থাকে, নয়তো নিজেদের উদ্যোগে থাকার জায়গা খুঁজে নিতে বাধ্য হয়।
অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, বৃহত্তর বুয়েনস আইরেস এলাকায় অসংখ্য বেসরকারি বা বহিরাগত পেনসিওন রয়েছে, যেগুলো কোনো ক্লাব পরিচালনা করে না। এসব বোর্ডিং হাউস স্থানীয় বা জাতীয় সরকার কিংবা আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) কোনো কর্তৃপক্ষেরই তদারকির আওতায় নেই।
দেশের শত শত পেশাদার ক্লাবের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এএফএর কাছে একাধিকবার মন্তব্য চাইলেও তারা ইএসপিএনের অনুরোধের কোনো জবাব দেয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থায় থাকা শিশুদের কেউ কেউ যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার পাশাপাশি চাঁদাবাজি, অনাহার এবং অমানবিক ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।
অনিক/