কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে আইভরি কোস্ট। ঐতিহাসিক এই জয়ের নায়ক নিকোলাস পেপে বিশ্বাস করেন, ‘দ্য এলিফ্যান্টস’ খ্যাত আইভরি কোস্টের এই রূপকথার যাত্রা এখানেই থামবে না, বরং আরও বহুদূর যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে আইভরি কোস্টের হয়ে দুটি গোলই করেন ভিয়ারিয়াল ফরোয়ার্ড নিকোলাস পেপে।
পেপে বলেন, 'আইভরি কোস্টের প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পৌঁছাতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এই অর্জনের জন্য দলের সবাই কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং আমরা আমাদের পুরস্কার পেয়েছি।'
ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, 'আমরা নিজেদের কোনো সীমারেখায় বেঁধে রাখছি না। আমাদের দলে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু আমরা নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছি, তাই দেখা যাক সামনে কী হয়।'
গ্রুপ 'ই'-তে তিন ম্যাচ শেষে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করল আইভরি কোস্ট। সমান পয়েন্ট থাকলেও হেড-টু-হেড সমীকরণে তাদের টপকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জার্মানি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল আফ্রিকান পরাশক্তিরা, যদিও দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানির কাছে ২-১ ব্যবধানে হারতে হয়েছিল তাদের।
আগামী মঙ্গলবার ডালাসে শেষ বত্রিশের (রাউন্ড অব ৩২) মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামবে আইভরি কোস্ট। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে গ্রুপ 'আই'-এর রানার্সআপ দল-ফ্রান্স অথবা নরওয়ে।
কোচ এমার্স ফায়ে বলেন, 'আমরা সত্যিই খুব আনন্দিত। পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করার আগে আমরা এই ঐতিহাসিক জয়টি একটু উদযাপন করতে চাই এবং উপভোগ করতে চাই। মাঠে আমাদের সবকিছু নিখুঁত ছিল না, তবে আমরা কোয়ালিফাই করেছি এবং এই জয় দলের মনোবল অনেক বাড়িয়ে দিবে।'
উল্লেখ্য, ২০০৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা তিনটি বিশ্বকাপ খেললেও প্রতিবারই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল দলটিকে।
থিওটোনিয়াস/