অ্যান্থনি এলাঙ্গার সমতাসূচক গোলে জাপানের সঙ্গে ১-১ ড্র করে ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে সুইডেন। তবে ম্যাচ শেষে যখন সতীর্থরা যোগ্যতা অর্জনের আনন্দ উদযাপন করছিলেন, তখন এলাঙ্গা হতাশায় মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। কারণ, তিনি ভেবেছিলেন দলটি পরের রাউন্ডে উঠতে পারেনি। ‘এফ’ গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে থাকা জাপানের চেয়ে এক পয়েন্ট কম নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করে সুইডেন। তবে সেরা র্যাঙ্কধারী তৃতীয় স্থান অধিকারী দলগুলোর একটি হিসেবে তারা শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করে।
কিন্তু এলাঙ্গা মনে করেছিলেন, পরের রাউন্ডে যেতে হলে সুইডেনের জিততেই হবে। তাই ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি সতীর্থদের দ্বিতীয় গোলের জন্য তাগিদ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমনকি অতিরিক্ত চেষ্টার কারণে তার পায়ে টানও ধরে যায়। এ কারণে সতীর্থ আলেকজান্ডার ইসাকের কাছ থেকেও তাকে কড়া কথা শুনতে হয়।
ইসাক বলেন, ‘আমি তাকে একটু বকাঝকা করেছি। ম্যাচের শেষ দিকে সে বেশ হতাশ ছিল। তবে এখন বুঝতে পারছে, কেন এমনটা হয়েছিল।’ এলাঙ্গা জানান, সতীর্থরা তাকে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি জানতেনই না যে, এক পয়েন্ট পেলেই সুইডেনের পরের রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যাবে।
“আমি শুধু চিৎকার করে বলছিলাম, ‘চলো, আমরা আরও একটি গোলের জন্য যাই।’ শেষ দিকে আমার পায়ে টান ধরেছিল, কিন্তু তারপরও আমি দৌড়ানো থামাতে চাইনি,” এলাঙ্গা বলেন। তবে যোগ্যতা অর্জনের বিষয়টি না জানা একমাত্র এলাঙ্গাই ছিলেন না। বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে অভিষেক হওয়া সুইডেনের গোলরক্ষক জ্যাকব উইডেল জেটারস্ট্রমও স্বীকার করেছেন, তিনিও বিষয়টি বুঝতে পারেননি, ‘আমিও ঠিক ততটাই অজ্ঞ ছিলাম।’
এদিকে এলাঙ্গার এই বিভ্রান্তি নিয়ে হাসি চেপে রাখতে পারেননি সুইডেনের কোচ গ্রাহাম পটার। তিনি বলেন, ‘ওর জন্য বিষয়টি এর চেয়ে পরিষ্কার আর হতে পারত না। কিন্তু মনে হয় ওর মাথায় তখন অন্য কিছু চলছিল। ঈশ্বর ওকে আশীর্বাদ করুন। এই মুহূর্তে আমি ওকে খুব ভালোবাসি, কিন্তু সত্যিই অবাক হতে হয়েছে।’
অনিক/