ইংল্যান্ড ফুটবল দলের বিশ্বকাপ শিবিরে অনুশীলনের পাশাপাশি জমে উঠেছে ভিন্ন এক লড়াই। মাঠের বাইরে ‘স্কাইজো, ‘উল্ফ’ ও ‘ইম্পোস্টার’ নামের বিভিন্ন খেলায় মেতে উঠে নিজেদের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় করছেন ফুটবলাররা।
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে বিশ্বকাপ বেসক্যাম্পে ইতোমধ্যে দুই সপ্তাহ পার করেছে থ্রি লায়ন্সরা। ফাইনালে উঠতে পারলে আরও কয়েক সপ্তাহ সেখানে থাকতে হবে দলটিকে। তাই অনুশীলনের বাইরে খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে সতেজ রাখার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন কোচ।
এর আগের টুর্নামেন্টগুলোতেও ইংল্যান্ড শিবিরে ‘উল্ফ’ খেলাটি জনপ্রিয় ছিল। তবে এবারের বিশ্বকাপে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ‘স্কাইজো’ ও ‘ইম্পোস্টার’।
তরুণ ফরোয়ার্ড মরগান রজার্স জানিয়েছেন, মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামই শিবিরে ‘স্কাইজো’ খেলাটি নিয়ে আসেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এটি সবার প্রিয় হয়ে ওঠে।
মূলত সংখ্যাভিত্তিক এই তাসের খেলায় খেলোয়াড়দের লক্ষ্য থাকে সবচেয়ে কম পয়েন্ট অর্জন করা। খেলোয়াড়রা ততক্ষণ পর্যন্ত কার্ড বদল ও সংগ্রহ করতে থাকেন, যতক্ষণ না কারও পয়েন্ট ১০০ ছাড়িয়ে যায়। এরপর যার পয়েন্ট সবচেয়ে কম থাকে, তিনিই বিজয়ী হন।
বিবিসি স্পোর্টসকে রজার্স বলেন, ‘জুড এই খেলাটি নিয়ে এসেছে। আমি আগে কখনো এটি দেখিনি, কিন্তু এখন আমরা প্রায় সবাই এটির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছি।’
তিনি আরও জানান, জর্ডান হেন্ডারসন, ড্যান বার্ন, অ্যান্থনি গর্ডন ও এলিয়ট অ্যান্ডারসনের সঙ্গে নিয়মিত এই খেলা খেলেন তিনি। আর সম্প্রতি এক খেলায় জয়ীও হয়েছেন রজার্স।’
শুধু তাসের খেলাই নয়, বাসে যাতায়াতের সময় ফুটবলাররা ‘ইম্পোস্টার’ গেমেও মেতে ওঠেন। এতে একটি অ্যাপের মাধ্যমে সবাইকে একটি গোপন শব্দ জানানো হয়, কেবল একজন বাদে বাকিদের কাজ হলো সেই ‘ইম্পোস্টার’কে শনাক্ত করা।
ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল জাতীয় দলে ‘ক্লাব সংস্কৃতি’ গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছেন। খেলোয়াড়দের জন্য বেসক্যাম্পে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরিরও চেষ্টা করছে দলীয় ম্যানেজমেন্ট। ফুটবলারদের মতে, এমন বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দলকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে।
পাপ্পু/তোফায়েল