সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া নীলফামারী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোছা. আশিকা সুলতানাকে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মিরপুর মডেল থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আল মামুন হোসাইন।
আবেদনে বলা হয়, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগে জড়িতদের নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও ভেঙে দিতে এবং জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
সাবেক এ সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলায় করা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেন তার আইনজীবী মোকসেদুল হাসান। রিমান্ড আবেদন বাতিল করে আসামির জামিন চান তিনি।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আজিজুল হক দিদার জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের সম্পর্কে তথ্য জানতে আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে শুনানি করেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ১৯ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে একটি সাদা রঙের পিভিসি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গৌরব ও ঐতিহ্যের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ঢাকা মহানগর উত্তর’।
আশিকা সুলতানা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করাসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তার নেতৃত্বে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে জনমনে ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুর সাড়ে ১১ এর একটি বাসা থেকে আশিকা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এম এ জলিল/ এএফ