দেশে বসবাসরত প্রায় ১৬ লাখ হরিজন জনগোষ্ঠীর মানবিক ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান স্থায়ী করা এবং বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে 'বাংলাদেশ হরিজন অধিকার আদায় সংগঠন'-এর প্রথম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ও সংবাদ সম্মেলন।
শুক্রবার (২৬ জুন) দিনব্যাপী ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (আইইবি)-এর সেমিনার কক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা ও থানার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই কাউন্সিল সম্পন্ন হয়।
কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে সুরেশ বাঁশফোড়কে সভাপতি, ওমর সিং হেলাকে সিনিয়র সহসভাপতি, প্রশান্ত হাঁড়িকে সাধারণ সম্পাদক এবং প্রান্ত বাঁশফোরকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে সংগঠনের নবনির্বাচিত সভাপতি সুরেশ বাঁশফোড় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধ, '৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং '২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
কাউন্সিল শেষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়৷ তখন সংগঠনের নতুন সভাপতি সুরেশ বাঁশফোড় বলেন, দুর্গন্ধ ও জীবাণু সংক্রমণের তীব্র ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে তারা চরম অবহেলার শিকার।
সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, কোনো সরকারই এই অস্পৃশ্যতাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে নির্মূলের পদক্ষেপ নেয়নি। বিগত ২১তম সংসদ অধিবেশনে উত্থাপিত বৈষম্য বিরোধ বিল-২০২২ আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পূর্ণ। এটি হরিজনদের স্বার্থবিরোধী ও তাদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন তারা।
লিখিত বক্তব্যে হরিজনদের বাসস্থান সংকট, মৌলিক ও মানবিক চাহিদা পূরণে ঘাটতি, বেকারত্ব, চাকরিচ্যুতি, উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণে পিছিয়ে পড়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে হরিজন জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারের কাছে ১০টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে- হরিজন জনগোষ্ঠীকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান; বৈষম্যকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করে স্বাধীন কমিশন এবং 'বৈষম্য বিলোপ বিশেষ ট্রাইব্যুনাল' গঠন; পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ন্যূনতম বেতন ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ; পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ না করা; সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে ঘোষিত ৮০ ভাগ জাত-হরিজন কোটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পূর্ণ বাস্তবায়ন করা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সভাপতি সীমা দত্ত এবং বাংলাদেশ মাইনরিটি রাইটস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উৎপল বিশ্বাস।
জয়ন্ত সাহা/এএফ