চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের অন্যতম নাটকীয় সমীকরণ তৈরি হয়েছে ‘এইচ’ গ্রুপে। এই গ্রুপ থেকে কারা নকআউটের টিকিট কাটবে সেটা ফয়সালা হবে শেষ রাউন্ডের দুই ম্যাচের পর। এই দুই ম্যাচের একটিতে মুখোমুখি হচ্ছে চমক দেখিয়ে চলা কেপ ভার্দে ও এশিয়ার দেশ সৌদি আরব। অন্যটিতে লড়বে প্রতিযোগিতার দুবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে ও এক আসরের শিরোপাধারী স্পেন। দুটি ম্যাচই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৬টায়।
এই দুই ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করবে ‘এইচ’ গ্রুপ থেকে কারা যাবে রাউন্ড অব ৩২-এ। কাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন থেমে যাবে গ্রুপ পর্বেই। স্পেন তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও বাকি তিন দলের সামনেও সুযোগ খোলা। ফলে এই গ্রুপে শেষ রাউন্ডের ম্যাচ দুটির আগে উত্তেজনা তুঙ্গে।
নিজেদের দুই ম্যাচে দুই ড্র করে চাপের মধ্যে আছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ উরুগুয়ে। কোচ মার্সেলো বিয়েলসার দল আক্রমণে সম্ভাবনা দেখালেও ডিফেন্সে ভুলের কারণে মূল্য দিতে হয়েছে। বিশেষ করে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ২-২ ড্র তাদের অবস্থান জটিল করে তুলেছে। অন্যদিকে ফেভারিট স্পেন নিজেদের প্রথম ম্যাচে হতাশ করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে সৌদিকে ৪-০ উড়িয়ে শক্তির জানান দিয়েছে।
শেষ গ্রুপ ম্যাচে স্পেন ও উরুগুয়ের জন্য কয়েকটি সমীকরণ সামনে এসেছে। এগুলো হলো–জয় পেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে স্পেন। ড্র করলেও লা রোজাদের নকআউটে খেলা অনেকটাই নিশ্চিত। উরুগুয়ে জিতলে সরাসরি নকআউটের টিকিটের পাবে। ড্র করলেও তৃতীয় সেরা হয়ে খেলার সুযোগ আসতে পারে ১৯৩০ ও ১৯৫০ আসরের চ্যাম্পিয়নদের। সেক্ষেত্রে কেপ ভার্দে-সৌদি ম্যাচের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে দলটিকে।
বর্তমানে গ্রুপে দুটি করে ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ২০১০ আসরের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। সমান ২ পয়েন্ট করে নিয়ে গোলগড়ে পরের দুই অবস্থানে যথাক্রমে উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে। সবার শেষে থাকা সৌদি আরবের পয়েন্ট মাত্র ১।
শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে উরুগুয়ের আর্জেন্টাইন কোচ মার্সেলো বিয়েলসা বলেছেন, ‘আমরা জানি সামনে কত বড় চ্যালেঞ্জ। স্পেন অসাধারণ একটি দল। কিন্তু উরুগুয়ে কখনো চাপকে ভয় পায় না। এই ম্যাচে আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই দলের চরিত্রই হলো লড়াই করা। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত আমরা বিশ্বাস রাখব। আমাদের ভাগ্য এখনো আমাদের হাতেই আছে।’
কোচের কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা, তবে একই সঙ্গে বাস্তবতাও পরিষ্কার। ভুলের কোনো জায়গা নেই। স্পেনের মতো বল দখলে দক্ষ ও আক্রমণাত্মক দলের বিপক্ষে ছোট ভুলও বড় শাস্তি ডেকে আনতে পারে। উরুগুয়ের অধিনায়ক জোশে মারিয়া গিমিনেজ ম্যাচটিকে দেখছেন ফাইনালের মতো করেই। তিনি বলেন, ‘এটাই সেই ম্যাচ, যেখানে আমাদের দেখাতে হবে আমরা কারা। উরুগুয়ের জার্সি পরে মাঠে নামা মানে দায়িত্ব নেওয়া।’
অধিনায়ক আরও যোগ করেন, ‘আমরা চাপ অনুভব করছি, কিন্তু এটিই ফুটবলের সৌন্দর্য। বড় মঞ্চে বড় দলগুলো নিজেদের প্রমাণ করে। এখন আমাদের সময়।’ স্পেন ডিফেন্ডার এমেরিক লোপোর্তো বলেছেন, ‘উরুগুয়ে আমাদের কঠিন পরীক্ষা নেবে। কিন্তু আমরা প্রস্তুত। নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে পারলে আমরা ভয় পাই না কাউকে।’
কেপ ভার্দের রূপকথা নাকি সৌদির প্রত্যাবর্তন?
এই বিশ্বকাপের অন্যতম চমক কেপ ভার্দে। দলটি নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য রুখে দেয়। এরপর উরুগুয়ের সঙ্গেও ২-২ ড্র করে। এখন শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়ার হাতছানি দলটির সামনে। কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা আত্মবিশ্বাসী। তার মতে, দল নিজেদের পরিচয় ও সাহসী ফুটবল দিয়েই এতদূর এসেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের সামনে জয় ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। দুইবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের সঙ্গে ১-১ ড্রয়ে আসর শুরু করলেও এশিয়ার দেশটি নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে। এই বড় হারটিই তাদের অনেকটা কোণঠাসা করে দিয়েছে। এ ম্যাচের আগে সমীকরণ এমন–কেপ ভার্দে জিতলেই নকআউটে খেলা নিশ্চিত। ড্র হলে অন্য ম্যাচের ফলের জন্য অপেক্ষা। আর সৌদি আরব জিতলে তাদেরও নকআউটে খেলার দারুণ সুযোগ থাকবে। সেটা গ্রুপের দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় দল হয়ে।
সবমিলিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপে এখনো কোনো কিছু নিশ্চিত নয়। স্পেন এগিয়ে থাকলেও উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে এবং সৌদি আরব তিন দলের সামনেই সুযোগ রয়েছে। একদিকে স্পেন-উরুগুয়ের হাইভোল্টেজ লড়াই, অন্যদিকে কেপ ভার্দের রূপকথা ধরে রাখার সংগ্রাম। সবমিলিয়ে এখন এবারের উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ রাতগুলোর একটি জন্য অপেক্ষা।