বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই বাংলাদেশজুড়ে শুরু হয় এক বিশেষ উৎসব। আর সেই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। প্রিয় দলের খেলা ঘিরে রাত জেগে টিভি পর্দার সামনে বসে থাকেন হাজারো ফুটবলপ্রেমী। বুধবার মধ্যরাতও ছিল তেমনই এক আবেগঘন রাত। ব্রাজিলের দাপুটে জয় আর নকআউট পর্ব নিশ্চিত হওয়ার আনন্দে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন সমর্থকরা।
ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, বিভিন্ন আবাসিক হল এবং ক্যাম্পাসের খোলা প্রাঙ্গণগুলোয় শুরু হয় আনন্দ-উল্লাস। মধ্যরাতের নীরবতা ভেঙে চারদিকে শোনা যায় জয়ধ্বনি, করতালি আর স্লোগান। হলুদ-সবুজ জার্সি গায়ে এবং ব্রাজিলের পতাকা হাতে শিক্ষার্থীরা উদযাপনে অংশ নেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে মুহূর্তগুলো ধারণ করেন, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
টিএসসিতে খেলা দেখতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্রাজিল সমর্থক রায়হান ইসলাম বলেন, ‘ভিনিসিউস আজ অসাধারণ খেলেছে। দল হিসেবেও ব্রাজিল বেশ ছন্দে আছে। এভাবে খেলতে পারলে শিরোপার লড়াইয়ে তারা অনেক দূর যাবে।’
আরেক শিক্ষার্থী তানজিম আহমেদ বলেন, ‘বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ব্রাজিলকে নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। আজকের জয় সেই প্রত্যাশাকে আরও শক্তিশালী করেছে। আশা করছি, এবার ট্রফিটা ব্রাজিলের হাতেই উঠবে।’
বিশ্বকাপ ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে টিএসসি ও আশপাশের এলাকাগুলোয় উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ম্যাচে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
যদিও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্প্রতি বহিরাগতদের প্রবেশ ও যানবাহন চলাচলে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তবুও খেলা ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন সিদ্ধান্তে মন্তব্য করতে না চাইলেও ব্রাজিলের জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন আজিমপুর থেকে খেলা দেখতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি মূলত জার্মানির সমর্থক। তবে ভালো ফুটবলের প্রতি আলাদা টান আছে। আজ ব্রাজিলকে বেশ গোছানো ফুটবল খেলতে দেখলাম। তাই খেলা দেখে ভালোই লেগেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘সি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ভিনিসিউস জুনিয়রের জোড়া গোল ও ম্যাথুস কুনহার এক গোলে সহজ জয় তুলে নেয় সেলেসাওরা। ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের আধিপত্য দেখাতে থাকে ব্রাজিল। সপ্তম মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন ভিনিসিউস জুনিয়র। এরপর ২২তম মিনিটে আরেকটি চমৎকার গোল করে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার অব্যাহত রাখে ব্রাজিল। বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণভাগে আধিপত্য ধরে রেখে ম্যাচের শেষ দিকে আরও একটি গোল যোগ করেন ম্যাথুস কুনহা। তার গোলে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের। তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হিসেবেই নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় তারা।
বিশ্বকাপের প্রতিটি ধাপ যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা। তাছাড়া ব্রাজিলের এই জয় শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, বরং সমর্থক থেকে শুরু করে অন্যদের মনে নতুন করে শিরোপা জয়ের আশা জাগিয়ে তুলেছে। এখন শেষ ষোলোর মঞ্চে ব্রাজিলের নতুন চ্যালেঞ্জের অপেক্ষা। আর সেই অপেক্ষাকে ঘিরে বাংলাদেশের লাখো ব্রাজিলভক্তও প্রস্তুত হচ্ছেন নতুন এক উৎসবের জন্য।