ডেভেলপারের কাছে জমি দিয়ে বিনিময়ে ফ্ল্যাট বা আর্থিক সুবিধা পেলেও তার ওপর ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে রাজশাহীর রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশন (রেডা)।
সংগঠনটির দাবি, প্রস্তাবিত এই কর কার্যকর হলে জমির মালিকরা যৌথ উন্নয়ন চুক্তিতে আগ্রহ হারাবেন, ফলে নতুন আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে এবং পুরো আবাসন খাত স্থবিরতার মুখে পড়বে।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে রাজশাহী নগরের একটি তিন তারকা হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন রেডার সাধারণ সম্পাদক আ স ম. মিজানুর রহমান কাজী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা রাজশাহীতে আবাসন ব্যবসা মূলত যৌথ উন্নয়ন (জয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট) মডেলের ওপর নির্ভরশীল। এ ব্যবস্থায় জমির মালিক ও ডেভেলপার যৌথ চুক্তির মাধ্যমে বহুতল ভবন নির্মাণ করেন এবং জমির মালিক নির্ধারিতসংখ্যক ফ্ল্যাট বা আর্থিক সুবিধা পান।’
তিনি বলেন, ‘নতুন অর্থবিলে প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, জমির মালিক ডেভেলপারের কাছ থেকে যে ফ্ল্যাট বা আর্থিক সুবিধা পাবেন, তার ওপর ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিতে হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো জমির মালিক যদি ১০ কোটি টাকা মূল্যের ১০টি ফ্ল্যাট পান, তাহলে তাকে প্রায় দেড় কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে সাইনিং মানি, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি এবং পরবর্তীতে বিক্রির ক্ষেত্রেও এই কর প্রযোজ্য হবে।’
তার ভাষ্য, এত বড় অঙ্কের কর পরিশোধের সক্ষমতা থাকলে অনেকেই ডেভেলপারের সঙ্গে যৌথ চুক্তিতে না গিয়ে নিজেরাই ভবন নির্মাণ করবেন। ফলে ডেভেলপারদের জন্য জমি সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়বে এবং নতুন প্রকল্প গ্রহণে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সম্প্রতি নতুন শুল্ক আরোপ এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি টন রড উৎপাদনে খরচ প্রায় ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা বেড়েছে। এর প্রভাব নির্মাণ ব্যয়ের ওপরও পড়েছে। রাজশাহীতে প্রতি বর্গফুট নির্মাণ ব্যয় প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত গেইনস ট্যাক্স ও লোকাল গভর্ন্যান্স ট্যাক্সের কারণে ফ্ল্যাট নিবন্ধনের ব্যয়ও প্রায় ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ফ্ল্যাট কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন রেডা নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আবাসন খাতের সঙ্গে ইস্পাত, সিমেন্ট, ইট, আসবাবপত্রসহ ২৬৯টি সহযোগী শিল্প প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। এই খাতে স্থবিরতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমানে দেশে আবাসন খাতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ সরাসরি এবং প্রায় দেড় কোটি মানুষ পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নতুন প্রকল্প কমে গেলে কর্মসংস্থানের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ সময় জমি হস্তান্তর, সাইনিং মানি এবং ফ্ল্যাট নিবন্ধনের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর ও ভ্যাট সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি মধ্যবিত্তের জন্য দীর্ঘমেয়াদি, স্বল্পসুদের বিশেষ গৃহঋণ চালুরও আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈসা ও রেডার সিনিয়র সহ-সভাপতি বলেন, ‘সরকার রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও আবাসন খাতে প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ কর অত্যন্ত বেশি। বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন, অন্যথায় জমির মালিকদের জন্য আবাসন প্রকল্পে অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়বে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- রেডার সভাপতি তৌফিকুর রহমান লাভলু, সহ-সভাপতি কবির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল বারী সওদাগর, অর্থ সম্পাদক এম.এম. সিহাব পারভেজ, পরিকল্পনা ও তথ্য সম্পাদক উজ্জ্বল কবির, দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ ও ক্রীড়া সম্পাদক মাকসুদুল ইসলাম সুমন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আখতারুল হুদা রুমেলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।
রিফাত/