কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দানবাক্স খুলে তিন ঘণ্টায় ১০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। সব টাকা গণনা করতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন মসজিদ কমিটি।
টাকার সঙ্গে পাওয়া গেছে স্বর্ণ, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রা। এছাড়া প্রতিদিন মসজিদে দানবাক্সের টাকাসহ গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগি, কবুতর, দুধ, ডিম এসব দান করে থাকেন।
শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এই পরিমাণ টাকা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন রুপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জের শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী হারেছী।
শনিবার সকাল ৭টা থেকে এক এক করে ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়। এরপর টাকাগুলো বস্তায় ভরে নিয়ে যাওয়া হয় মসজিদের দ্বিতীয় তলায়। সেখানে শুরু হয় গণনার কাজ। মাদরাসার ৩০০ ছাত্র-শিক্ষকসহ মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সহায়তায় টাকা গণনার কাজ চলছে।
এর আগে ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। তখন সর্বোচ্চ রেকর্ড এই পরিমাণ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এ ছাড়াও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রূপার অলংকার পাওয়া গিয়েছিল।
কিশোরগঞ্জ পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, ‘পাগলা মসজিদ ও ইসলামি কমপ্লেক্সের খরচ চালিয়ে দানের বাকি টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এ পর্যন্ত সরাসরি দানের ১১৪ কোটি টাকা ও অনলাইনে দানের ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা ব্যাংকে জমা আছে। এছাড়া মসজিদের দান করা বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে জমা আছে।’
ইতোমধ্যে এই মসজিদটি দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। শিগগিরই এই অর্থ দিয়ে নির্মিত হবে আন্তর্জাতিক মানের ইসলামিক কমপ্লেক্স।
তাসলিমা মিতু/তামান্না রুপা/