ঢাকা ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তেলিয়াপাড়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করেছে বিজিবি বিশ্বকাপের মঞ্চের পর সঞ্জয়–নোরার নতুন ধামাকা ‘চ্যাম্পিয়ান’ স্টার্টআপ গঠনের ১০টি মৌলিক নীতি সম্ভাব্য ফাইনালের পথ জেনে গেল আর্জেন্টিনা জমির বদলে ফ্ল্যাট পেলেও ১৫% কর: প্রত্যাহারের দাবি রেডার ফেনীতে চাল কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা ইউনিকো হসপিটালে ন্যাশনাল ওয়ার্কশপ অন ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্সিং অনুষ্ঠিত রূপায়ণ সিটি উত্তরা পরিদর্শন করলেন রিহ্যাব নেতারা জুলাইয়ে ৪ রাশির আর্থিক ভাগ্য উজ্জ্বল? কী বলছে প্রচলিত জ্যোতিষশাস্ত্র রাফিজ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি লাল্টু গ্রেপ্তার, উদ্ধার হত্যায় ব্যবহৃত রশি মাদারীপুরে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প, সেবা নিলেন দেড় হাজার রোগী ফেনীতে যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রবিউল হোসেন আর নেই হাতীবান্ধায় পুলিশ কর্মকর্তাদের কুপিয়ে পালাল আসামি হুমায়ুন কবীর বালুর হত্যাবার্ষিকীতে স্মরণসভা, বিচার বাস্তবায়নের দাবি বিশ্বকাপের লজিস্টিকস নিয়ে ক্ষুব্ধ তারেমি তিন পদে কর্মী খুঁজছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে রেস্তোরাঁয় রয়ে গেল শিশুসন্তান, ৬ ঘণ্টা পর ফিরে এল পাকিস্তানি পরিবার আমরা দেশের মানুষের জন্য খেলি: জিজো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: বাণিজ্যমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা হবে নকলমুক্ত: খন্দকার মারুফ সিঁথির ‘বসন্তের কোকিল’-এ অলংকারের নাচ বিবিসিসিআই-এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত মাদকাসক্তির কারণ ও প্রতিকার বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র গৃহশান্তি বজায় রাখতে বাংলাদেশে ওয়াটারএইডের ৪০ বছর, লোগো উন্মোচন দিয়ে উদ্‌যাপন শুরু সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় আসবে দেশের সব প্রতিবন্ধী শিশু: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে সমালোচকদের জবাব গার্সিয়ার নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল আছে, মূল্যস্ফীতি কমতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছি: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রামে পাঁচ শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
চট্টগ্রামে পাঁচ শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বিনামূল্যে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার পাঁচ শতাধিক মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ২৫ শিশুকে খতনা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের বিজি সেনের হাট উচ্চ বিদ্যালয়ে সেনেরহাট ইসলামি পাঠাগারের উদ্যোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এ সময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রিদুয়ানুল করিম ও লোহাগাড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক আসাদুল্লাহ ইসলামাবাদী উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়াও সেনেরহাট ইসলামী পাঠাগার ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দীন আজাদের সঞ্চালনায় ও ফাউন্ডেশনের সভাপতি আলহাজ শহীদুল হকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, বড়হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জুনাইদ চৌধুরী, বিজি সেনেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দীন ও বড়হাতিয়া মালপুকুরিয়া মিশকাতুল উলুম মাদরাসার সুপার মাওলানা নাছির উদ্দীনসহ প্রমুখ।

আরিফুল/খাদিজা রুমি/

তেলিয়াপাড়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করেছে বিজিবি

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
তেলিয়াপাড়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করেছে বিজিবি
ছবি: খবরের কাগজ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া সীমান্তে রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিকদের পুশইনের চেষ্টা চালায়। তবে সেই প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (২৭ জুন) ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে ৫৫ বিজিবির তেলিয়াপাড়া সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

৫৫ বিজিবি জানায়, ১৯৮২ নম্বর মেইন পিলার-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় কিছুসংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে রাতের অন্ধকারে সিকিউরিটি লাইট বন্ধ করে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।

খবর পেয়ে দায়িত্বরত বিজিবির টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করে। এ সময় স্থানীয় সীমান্তবাসীরাও বিজিবিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন বলে জানায় বিজিবি।

হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান জানান, এ ঘটনায় বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা বৈঠকের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কাজল সরকার/রিফাত/

জমির বদলে ফ্ল্যাট পেলেও ১৫% কর: প্রত্যাহারের দাবি রেডার

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
জমির বদলে ফ্ল্যাট পেলেও ১৫% কর: প্রত্যাহারের দাবি রেডার
ছবি: খবরের কাগজ

ডেভেলপারের কাছে জমি দিয়ে বিনিময়ে ফ্ল্যাট বা আর্থিক সুবিধা পেলেও তার ওপর ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে রাজশাহীর রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশন (রেডা)।

সংগঠনটির দাবি, প্রস্তাবিত এই কর কার্যকর হলে জমির মালিকরা যৌথ উন্নয়ন চুক্তিতে আগ্রহ হারাবেন, ফলে নতুন আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে এবং পুরো আবাসন খাত স্থবিরতার মুখে পড়বে।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে রাজশাহী নগরের একটি তিন তারকা হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন রেডার সাধারণ সম্পাদক আ স ম. মিজানুর রহমান কাজী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা রাজশাহীতে আবাসন ব্যবসা মূলত যৌথ উন্নয়ন (জয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট) মডেলের ওপর নির্ভরশীল। এ ব্যবস্থায় জমির মালিক ও ডেভেলপার যৌথ চুক্তির মাধ্যমে বহুতল ভবন নির্মাণ করেন এবং জমির মালিক নির্ধারিতসংখ্যক ফ্ল্যাট বা আর্থিক সুবিধা পান।’

তিনি বলেন, ‘নতুন অর্থবিলে প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, জমির মালিক ডেভেলপারের কাছ থেকে যে ফ্ল্যাট বা আর্থিক সুবিধা পাবেন, তার ওপর ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিতে হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো জমির মালিক যদি ১০ কোটি টাকা মূল্যের ১০টি ফ্ল্যাট পান, তাহলে তাকে প্রায় দেড় কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে সাইনিং মানি, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি এবং পরবর্তীতে বিক্রির ক্ষেত্রেও এই কর প্রযোজ্য হবে।’

তার ভাষ্য, এত বড় অঙ্কের কর পরিশোধের সক্ষমতা থাকলে অনেকেই ডেভেলপারের সঙ্গে যৌথ চুক্তিতে না গিয়ে নিজেরাই ভবন নির্মাণ করবেন। ফলে ডেভেলপারদের জন্য জমি সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়বে এবং নতুন প্রকল্প গ্রহণে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সম্প্রতি নতুন শুল্ক আরোপ এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি টন রড উৎপাদনে খরচ প্রায় ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা বেড়েছে। এর প্রভাব নির্মাণ ব্যয়ের ওপরও পড়েছে। রাজশাহীতে প্রতি বর্গফুট নির্মাণ ব্যয় প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত গেইনস ট্যাক্স ও লোকাল গভর্ন্যান্স ট্যাক্সের কারণে ফ্ল্যাট নিবন্ধনের ব্যয়ও প্রায় ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ফ্ল্যাট কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন রেডা নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আবাসন খাতের সঙ্গে ইস্পাত, সিমেন্ট, ইট, আসবাবপত্রসহ ২৬৯টি সহযোগী শিল্প প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। এই খাতে স্থবিরতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমানে দেশে আবাসন খাতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ সরাসরি এবং প্রায় দেড় কোটি মানুষ পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নতুন প্রকল্প কমে গেলে কর্মসংস্থানের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ সময় জমি হস্তান্তর, সাইনিং মানি এবং ফ্ল্যাট নিবন্ধনের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর ও ভ্যাট সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি মধ্যবিত্তের জন্য দীর্ঘমেয়াদি, স্বল্পসুদের বিশেষ গৃহঋণ চালুরও আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈসা ও রেডার সিনিয়র সহ-সভাপতি বলেন, ‘সরকার রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও আবাসন খাতে প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ কর অত্যন্ত বেশি। বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন, অন্যথায় জমির মালিকদের জন্য আবাসন প্রকল্পে অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়বে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- রেডার সভাপতি তৌফিকুর রহমান লাভলু, সহ-সভাপতি কবির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল বারী সওদাগর, অর্থ সম্পাদক এম.এম. সিহাব পারভেজ, পরিকল্পনা ও তথ্য সম্পাদক উজ্জ্বল কবির, দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ ও ক্রীড়া সম্পাদক মাকসুদুল ইসলাম সুমন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আখতারুল হুদা রুমেলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

রিফাত/

রাফিজ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি লাল্টু গ্রেপ্তার, উদ্ধার হত্যায় ব্যবহৃত রশি

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
রাফিজ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি লাল্টু গ্রেপ্তার, উদ্ধার হত্যায় ব্যবহৃত রশি
ছবি: খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় প্রবাসীর ১৫ বছর বয়সী ছেলে রাফিজ মিয়াকে অপহরণ করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান আসামি লাল্টু মিয়া (৪১) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশিও উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকালে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। এর আগে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নলিয়া গ্রামের জামালপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের কিশোর রাফিজ মিয়া একটি ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। রাত ১১টার দিকে তার দাদি আমেনা খাতুনের মোবাইল ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। ফোনের ওপার থেকে রাফিজের কান্নার শব্দ শোনানো হয় এবং তাকে ছেড়ে দিতে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রাফিজের বাবা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকায় পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে এই অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে রাফিজকে মোটরসাইকেলে করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয় এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে টাকা না পেয়ে ওই রাতেই গলায় রশি পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ অর্জুন খালে ফেলে দিয়েও তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে কয়েক দফা মুক্তিপণের টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা।

ঘটনার আট দিন পর, ১৩ জুন কুতুবপুরের লাল ব্রিজ মাঠ সংলগ্ন অর্জুন খালের পাশের একটি পুকুর থেকে রাফিজের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।

এর আগে ১০ জুন রাফিজের দাদি আমেনা খাতুন বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি যৌথ টিম কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গত ২৬ জুন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ী থেকে প্রধান পলাতক আসামি লাল্টু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে লাল্টু মিয়া হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং তার দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, "এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে আমরা প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো অপরাধীই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।"

মিজানুর রহমান/এসএন

মাদারীপুরে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প, সেবা নিলেন দেড় হাজার রোগী

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
মাদারীপুরে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প, সেবা নিলেন দেড় হাজার রোগী
ছবি: সংগৃহীত

চোখের ছানি আর অন্ধত্বের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি হতদরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু সেবা পৌঁছে দিতে দুইদিন ব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের হাজরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়। চোখের পাশাপাশি গাইনি ও মেডিসিন রোগীদেরও বিনামূল্যে দেয়া হয় স্বাস্থ্য সেবা।

সকাল থেকে সেবা নিতে ভীড় করেন বিভিন্ন বয়সের রোগীরা। পরিচালিত ক্যাম্পে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীদের চোখ পরীক্ষা, পরামর্শ, বিনামূল্যে ঔষধ ও চশমা বিতরণ করেন। এতে খুশি দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যার নিয়ে জর্জারিত অনেক রোগী। প্রাথমিক সমাধান পেয়ে উচ্ছ্বসিত বিভিন্ন এলাকার মানুষ। চরমুগরিয়া বন্দর পাট ব্যবসায়ী সমিতিরন উদ্যোগে ও শহরের প্লানেট হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী আলহাজ লোকমান হোসেন মোল্লার সহযোগিতায় আয়োজন করা হয় এমন মহতি কাজের। নিয়মিত এমন মহতি কাজের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান আয়োজক।

প্রত্যন্ত এলাকার হতদরিদ্র দেড় হাজার রোগী বিনামূল্যে দেয় হয় চোখের চিকিৎসা দেয়ার টার্গেট নেয়া হয়েছে। প্রথম দিনেই সেবা পেয়েছে অন্তত ৭০০-৮০০ মানুষ।। সেখান থেকে বাছাই করা হয়েছে অপারেশনের জন্য। এটি শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি নয়, বরং অন্ধকার জীবনকে আলোর পথে ফিরে আসার একটি মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন রাজধানী ঢাকার আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, গুরুতর রোগীদের রাজধানীতে বিনামূল্যে নিয়ে ফ্যাকো সার্জারিসহ অপারেশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

শহরের প্লানেট হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ও আয়োজক আলহাজ¦ লোকমান হোসেন মোল্লা বলেন, ‘মানুষের সেবা দেয়ার ব্রত নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় এমন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এটি কোন রাজনৈতিক প্রোগ্রাম নয়, অসহায় মানুষ যেন তাদের হারিয়ে যাওয়া চোখের আলো ফিরে পায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। মূলত এলাকাবাসী সহযোগিতা না করলে এটি কোনভাবেই এই বড় চক্ষু সেবা ক্যাম্প চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’  

মো: রফিকুল ইসলাম/এসএন

প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রবিউল হোসেন আর নেই

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রবিউল হোসেন আর নেই
রবিউল হোসেন । ছবি: সংগৃহীত

দেশের খ্যাতিমান চক্ষু বিশেষজ্ঞ, সমাজসেবক এবং চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক রবিউল হোসেন আর নেই।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন। তিনি দুই ছেলে, নাতি-নাতনি, আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপদেষ্টা এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অধ্যাপক রবিউল হোসেনের প্রথম জানাজা শনিবার এশার নামাজের পর চট্টগ্রামের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন রবিবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর মিরসরাই উপজেলার কাঠাছড়ায় জোহরের নামাজের পর তৃতীয় ও শেষ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

বাংলাদেশে চক্ষু চিকিৎসা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে অধ্যাপক রবিউল হোসেনের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। ১৯৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। তার উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ চক্ষুশিবিরের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ মানুষের চোখের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া স্কুলশিক্ষার্থীদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় আট লাখ শিক্ষার্থীর চোখ পরীক্ষা করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে ১৯৮৩ সালে তার প্রতিষ্ঠিত ১৩০ শয্যার চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম আধুনিক চক্ষু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। তার উদ্যোগেই সেখানে চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন অপটোমেট্রি কোর্স চালু হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অপথালমোলজি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও তিনি ছিলেন সুপরিচিত। এশিয়া প্যাসিফিক একাডেমি অব অপথালমোলজিতে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় জাতীয় কাউন্সিলর ও আঞ্চলিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের চেয়ারম্যান হিসেবেও আট বছর দায়িত্ব পালন করেন। চক্ষু চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য ও মানবকল্যাণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশ-বিদেশের নানা সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা. আহমেদুর রহমান ও ওয়াহিদুন্নেছা দম্পতির একমাত্র সন্তান অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন ১৯৬১ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে চক্ষুবিদ্যায় ডিপ্লোমা (ডিও) এবং এফআরসিএস (অপথালমোলজি) ডিগ্রি লাভ করেন।

এসএন/