বাঁশখালীর গুনাগারী এলাকার ওয়াহিদুল ইসলাম নামে এক যুবক সহকর্মী বন্ধুবান্ধব ও ৭৩ জন শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশসহ প্রায় ৩৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, বাঁশখালী উপজেলার গুনাগরী এলাকার বাসিন্দা ওয়াহিদুল ইসলাম দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বন্ধুবান্ধব, শেয়ারহোল্ডার ও পাওনাদারদের নিয়ে ব্যবসা ও লেনদেন করার পর গত কিছুদিন ধরে প্রতারণার আশ্রয় নেন। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের বাহানা দিয়ে হঠাৎ লভ্যাংশ দেওয়া বন্ধ করে দেন। এনিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে পাওনাদাররা মুল টাকা ফেরৎ চান। এ নিয়ে শুরু হয় টানাপোড়েন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, একাধিক বৈঠক শেষে চলতি জুন মাসের ১০ তারিখ শেয়ারহোল্ডারদের সব টাকা পরিশোধ করার তারিখ দেওয়া হলেও টাকা পরিশোধ করেননি। সবশেষ ২৪ জুন টাকা দেওয়ার আশ্বাস এবং মালামালের গুদাম পরিদর্শনের কথা বলে পাওনাদারদের ঢাকায় নিলে গেলেও ওয়াহিদুল ইসলাম তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেনি। পরে এক বন্ধুর মোবাইলে রেল লাইনে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে বার্তা পাঠান। এর পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। লাপাত্তা হয়ে যায় ওয়াহিদুল ইসলাম।
এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের জিডি করা হলেও পাওনাদাররা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, ওয়াহিদুল ইসলাম নিজ থেকেই লুকিয়ে আছেন। অথবা বিদেশ পাড়ি জমিয়েছেন।
পাওনাদার গুনাগরীর শাফায়াত উল্লাহ, পুকুরিয়া চাঁনপুর এলাকার মোহাম্মদ এহসানুল হক ও চেচুরিয়া এলাকার আবু ছালেহ মুহাম্মদ ইশতিয়াক, জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে অধিক লাভের আশায় ব্যবসার কাজে টাকা বিনিয়োগ করেছি। সব লেনদেন ছিল তার হাতে। ১০ বছর সঠিকভাবে ব্যবসা করার পর সে এখন আমাদের টাকা না দিয়ে আত্মগোপন করেছে। সে কোথায় আছে, কিভাবে আছে তার পরিবার জানে।’
শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় বাঁশখালীর পুকুরিয়া চাঁনপুর এলাকায় করা ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে ওয়াহিদুল ইসলামের সন্ধান চান ভুক্তভোগীরা।
একই সঙ্গে ওয়াহিদুল ইসলাম যদি ইতোমধ্যেই বিদেশে না গিয়ে থাকে, তাহলে প্রতারণার মাধ্যমে যেন বিদেশ পাড়ি জমাতে না পারে- এ পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
ভুক্তভোগীরা জানান, যে কোনো ভাবেই আত্মগোপনে থাকা ওয়াহিদুল ইসলামের সন্ধান জরুরি। অন্যথায় আমাদের ৭৩টি পরিবার পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক জানান, এই বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে ঢাকায় এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হওয়ার বিষয় শুনেছি।
শফকত হোসাইন/তামান্না রুপা/