দিনাজপুরের হাকিমপুর ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশুদ্ধ পানির সংকট, জেনারেটর না থাকা এবং খাবার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
তারা বলছেন, এক মাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালের পানির ফিল্টার ও টিউবওয়েল বিকল থাকায় ভর্তি থাকা রোগীদের বিশুদ্ধ পানি বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতাল কার্যত অন্ধকারে ডুবে যায়।
হাসপাতাল ঘুরে এবং রোগী-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশুদ্ধ পানির সংকট সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে ভর্তি থাকা রোগীদের। বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্যান ও লাইট বন্ধ থাকে, ফলে গরমে ওয়ার্ডে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
মহিলা ওয়ার্ডে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি ৬৫ বছর বয়সী রাহেলা খাতুনের স্বামী বছির উদ্দিন বলেন, ’একমাত্র টিউবওয়েলটি নষ্ট। বাইরে থেকে বোতলের পানি কিনে খেতে হচ্ছে। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এটি বাড়তি কষ্ট।’
ওই ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী রোকেয়া বেগমের স্বামী আব্দুস সামাদ জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে গরমে টেকা যায় না। ফ্যান-লাইট বন্ধ হয়ে যায়। বাইরে গিয়ে বসে থাকতে হয়।
পুরুষ ওয়ার্ডের রোগী আ. হামিদের অভিযোগ, শুধু খাবার পানিই নয়, অনেক সময় সাধারণ পানির সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। এতে রোগীদের গোসল, টয়লেট ব্যবহার ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
হাসপাতালের খাবার নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে খাবার সরবরাহ করা হয় এবং খাবারের মানও সন্তোষজনক নয়। রোগীদের দাবি, সকালে নাশতা এবং দুপুর-রাতের খাবার সময়মতো পাওয়া যায় না।
২৩ নম্বর শয্যায় ভর্তি রোগীর স্বজন হালিমা বেগম বলেন, ’সকাল ১০টার পর নাশতা দেওয়া হয় এবং দুপুরের খাবার আসে অনেক দেরিতে।’
দেরিতে খাবার সরবরাহের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার অমিত কুমার ধলু বলেন, ’অনেকেই ফোনে অভিযোগ করেছেন। তবে আমরা ম্যানু অনুযায়ী খাবার হাসপাতালের বাবুর্চিকে দিই। সেখান থেকে সময়মতো না দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ী।’
হাসপাতালের বাবুর্চি হাফিজার রহমানের বলেন, ’বাজার সময়মতো না আসা এবং একজন বাবুর্চি অবসরে যাওয়ায় তাকে একাই রান্না করতে হয়। সেজন্য অনেক সময় খাবার সরবরাহে দেরি হয়। আরেকজন বাবুর্চি হলে কাজ অনেটা আগে করা যেতো।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন সমস্যাগুলো সম্পর্কে বলেন, আমি দেড় মাস আগে এখানে যোগদান করেছি। অর্থ বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হয়নি। তবে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা দ্রুত সচল করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলায় কিছু রিচার্জেবল লাইট স্থাপন করা হয়েছে। খাবারের মান ও সময়সূচি নিয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুদ্দুস খান/খাদিজা রুমি/