ঢাকা ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
যে ৩টি কাজে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন পানি খাইয়ে ছাগল ফুলিয়ে বিক্রির অভিযোগ, মালিককে খুঁজছে প্রশাসন স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান, ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু ফাইনালে যেতে যে পথ পাড়ি দিতে হবে স্পেনকে মহাখালীতে পাওনা টাকার বিরোধে হামলা, ছুরিকাঘাতে আহত ৩ তেলিয়াপাড়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করেছে বিজিবি বিশ্বকাপের মঞ্চের পর সঞ্জয়–নোরার নতুন ধামাকা ‘চ্যাম্পিয়ান’ স্টার্টআপ গঠনের ১০টি মৌলিক নীতি সম্ভাব্য ফাইনালের পথ জেনে গেল আর্জেন্টিনা জমির বদলে ফ্ল্যাট পেলেও ১৫% কর: প্রত্যাহারের দাবি রেডার ফেনীতে চাল কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা ইউনিকো হসপিটালে ন্যাশনাল ওয়ার্কশপ অন ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্সিং অনুষ্ঠিত রূপায়ণ সিটি উত্তরা পরিদর্শন করলেন রিহ্যাব নেতারা জুলাইয়ে ৪ রাশির আর্থিক ভাগ্য উজ্জ্বল? কী বলছে প্রচলিত জ্যোতিষশাস্ত্র রাফিজ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি লাল্টু গ্রেপ্তার, উদ্ধার হত্যায় ব্যবহৃত রশি মাদারীপুরে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প, সেবা নিলেন দেড় হাজার রোগী ফেনীতে যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রবিউল হোসেন আর নেই হাতীবান্ধায় পুলিশ কর্মকর্তাদের কুপিয়ে পালাল আসামি হুমায়ুন কবীর বালুর হত্যাবার্ষিকীতে স্মরণসভা, বিচার বাস্তবায়নের দাবি বিশ্বকাপের লজিস্টিকস নিয়ে ক্ষুব্ধ তারেমি তিন পদে কর্মী খুঁজছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে রেস্তোরাঁয় রয়ে গেল শিশুসন্তান, ৬ ঘণ্টা পর ফিরে এল পাকিস্তানি পরিবার আমরা দেশের মানুষের জন্য খেলি: জিজো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: বাণিজ্যমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা হবে নকলমুক্ত: খন্দকার মারুফ সিঁথির ‘বসন্তের কোকিল’-এ অলংকারের নাচ বিবিসিসিআই-এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত মাদকাসক্তির কারণ ও প্রতিকার বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র

হাকিমপুর ৫০ শয্যার হাসপাতালে পানিসংকট, খাবার সরবরাহ নিয়ে অসন্তোষ

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
হাকিমপুর ৫০ শয্যার হাসপাতালে পানিসংকট, খাবার সরবরাহ নিয়ে অসন্তোষ
ছবি: খবরের কাগজ

দিনাজপুরের হাকিমপুর ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশুদ্ধ পানির সংকট, জেনারেটর না থাকা এবং খাবার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

তারা বলছেন, এক মাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালের পানির ফিল্টার ও টিউবওয়েল বিকল থাকায় ভর্তি থাকা রোগীদের বিশুদ্ধ পানি বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতাল কার্যত অন্ধকারে ডুবে যায়।

হাসপাতাল ঘুরে এবং রোগী-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশুদ্ধ পানির সংকট সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে ভর্তি থাকা রোগীদের। বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্যান ও লাইট বন্ধ থাকে, ফলে গরমে ওয়ার্ডে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

মহিলা ওয়ার্ডে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি ৬৫ বছর বয়সী রাহেলা খাতুনের স্বামী বছির উদ্দিন বলেন, ’একমাত্র টিউবওয়েলটি নষ্ট। বাইরে থেকে বোতলের পানি কিনে খেতে হচ্ছে। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এটি বাড়তি কষ্ট।’

ওই ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী রোকেয়া বেগমের স্বামী আব্দুস সামাদ জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে গরমে টেকা যায় না। ফ্যান-লাইট বন্ধ হয়ে যায়। বাইরে গিয়ে বসে থাকতে হয়।

পুরুষ ওয়ার্ডের রোগী আ. হামিদের অভিযোগ, শুধু খাবার পানিই নয়, অনেক সময় সাধারণ পানির সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। এতে রোগীদের গোসল, টয়লেট ব্যবহার ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

হাসপাতালের খাবার নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে খাবার সরবরাহ করা হয় এবং খাবারের মানও সন্তোষজনক নয়। রোগীদের দাবি, সকালে নাশতা এবং দুপুর-রাতের খাবার সময়মতো পাওয়া যায় না।

২৩ নম্বর শয্যায় ভর্তি রোগীর স্বজন হালিমা বেগম বলেন, ’সকাল ১০টার পর নাশতা দেওয়া হয় এবং দুপুরের খাবার আসে অনেক দেরিতে।’

দেরিতে খাবার সরবরাহের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার অমিত কুমার ধলু বলেন, ’অনেকেই ফোনে অভিযোগ করেছেন। তবে আমরা ম্যানু অনুযায়ী খাবার হাসপাতালের বাবুর্চিকে দিই। সেখান থেকে সময়মতো না দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ী।’

হাসপাতালের বাবুর্চি হাফিজার রহমানের বলেন, ’বাজার সময়মতো না আসা এবং একজন বাবুর্চি অবসরে যাওয়ায় তাকে একাই রান্না করতে হয়। সেজন্য অনেক সময় খাবার সরবরাহে দেরি হয়। আরেকজন বাবুর্চি হলে কাজ অনেটা আগে করা যেতো।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন সমস্যাগুলো সম্পর্কে বলেন, আমি দেড় মাস আগে এখানে যোগদান করেছি। অর্থ বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হয়নি। তবে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা দ্রুত সচল করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলায় কিছু রিচার্জেবল লাইট স্থাপন করা হয়েছে। খাবারের মান ও সময়সূচি নিয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুদ্দুস খান/খাদিজা রুমি/ 

পানি খাইয়ে ছাগল ফুলিয়ে বিক্রির অভিযোগ, মালিককে খুঁজছে প্রশাসন

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
পানি খাইয়ে ছাগল ফুলিয়ে বিক্রির অভিযোগ, মালিককে খুঁজছে প্রশাসন
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ছাগলকে পাইপ দিয়ে অতিরিক্ত পানি খাইয়ে কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে অভিযুক্ত ছাগলের মালিক গা ঢাকা দিয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

বুধবার (২৪) জুন সকালে উপজেলার রূপসদী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর গা ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত ব্যবসায়ী চাঁন বাদশা।

তিনি ওই উপজেলার কড়ইকান্দি গ্রামের মো. সাবুদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনাকে অমানবিক উল্লেখ করে ছাগল মালিককে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৪ জুন) সকালে রূপসদী বাজারে বিক্রির জন্য একটি ছাগল নিয়ে আসেন চাঁন বাদশা। এ সময় ছাগলের ওজন বাড়ানোর জন্য পাইপ দিয়ে পানি খাওয়াতে থাকেন তিনি। এ ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে- চাঁন বাদশা তার দুই পায়ের মাঝখানে ছাগলটির মুখ চেপে ধরে আছেন। আরেকজন পাইপের মধ্যে পানি ঢালছেন।

এদিকে, ফেসবুকে ভিডিও ছড়ানোর পর গা ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত চাঁন বাদশা। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

তবে অভিযুক্ত চাঁন বাদশার ভাতিজা রাদেন জানান, গ্রাম থেকে ছাগল কিনে নিয়ে বাজারে বিক্রি করেন তার চাচা চাঁন বাদশা। মূলত কেনার বর মালিক বদলের কারণে ছাগল খাবার খেতে চায় না। এজন্য ছাগলকে রোগাক্রান্ত মনে হয়। যার কারণে পানি খাইয়ে মোটাতাজা করা হয় । তবে ওইদিন ভিডিওর কারণে আর ছাগলটি বিক্রি করা যায়নি। ছাগলটি বাড়িতেই আছে বলে জানান তিনি।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত চাঁন বাদশাকে সনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমান জানান, ছাগল মালিককে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

আজিজুল সঞ্চয়/এসএন

স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান, ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান, ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু
নিহত গরু ব্যবসায়ী মধু। ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার মালঞ্চি এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে মধু (৫৫) নামে এক গরু ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ, স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে তিনি রেললাইনে বসে মোবাইলে কথা বলার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেল ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত গরু ব্যবসায়ী মধু পাশের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা ইউসুফ আলীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী মরিয়ম বেগম জানান, শনিবার বিকেল ৪টার কিছু আগে ওই ব্যক্তি রেললাইনের পাশে তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তিনি জানান, স্ত্রীর সঙ্গে রাগারাগি করে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। তিনি হয়তো আর বাড়ি ফিরবেন না, বরং তার মরদেহই বাড়িতে যাবে। তখন মরিয়ম তাকে রাগ ভুলে বাড়ি ফিরে যেতে পরামর্শ দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৪টার দিকে ওই ব্যক্তি রেললাইনে বসে মোবাইলে কথা বলছিলেন। এ সময় লালমনিরহাট থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলের খোঁজখবর নিচ্ছে। এ বিষয়ে জিআরপি পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে।

কামাল মৃধা/রিফাত/

তেলিয়াপাড়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করেছে বিজিবি

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
তেলিয়াপাড়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করেছে বিজিবি
ছবি: খবরের কাগজ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া সীমান্তে রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিকদের পুশইনের চেষ্টা চালায়। তবে সেই প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (২৭ জুন) ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে ৫৫ বিজিবির তেলিয়াপাড়া সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

৫৫ বিজিবি জানায়, ১৯৮২ নম্বর মেইন পিলার-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় কিছুসংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে রাতের অন্ধকারে সিকিউরিটি লাইট বন্ধ করে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।

খবর পেয়ে দায়িত্বরত বিজিবির টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করে। এ সময় স্থানীয় সীমান্তবাসীরাও বিজিবিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন বলে জানায় বিজিবি।

হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান জানান, এ ঘটনায় বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা বৈঠকের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কাজল সরকার/রিফাত/

জমির বদলে ফ্ল্যাট পেলেও ১৫% কর: প্রত্যাহারের দাবি রেডার

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
জমির বদলে ফ্ল্যাট পেলেও ১৫% কর: প্রত্যাহারের দাবি রেডার
ছবি: খবরের কাগজ

ডেভেলপারের কাছে জমি দিয়ে বিনিময়ে ফ্ল্যাট বা আর্থিক সুবিধা পেলেও তার ওপর ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে রাজশাহীর রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশন (রেডা)।

সংগঠনটির দাবি, প্রস্তাবিত এই কর কার্যকর হলে জমির মালিকরা যৌথ উন্নয়ন চুক্তিতে আগ্রহ হারাবেন, ফলে নতুন আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে এবং পুরো আবাসন খাত স্থবিরতার মুখে পড়বে।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে রাজশাহী নগরের একটি তিন তারকা হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন রেডার সাধারণ সম্পাদক আ স ম. মিজানুর রহমান কাজী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা রাজশাহীতে আবাসন ব্যবসা মূলত যৌথ উন্নয়ন (জয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট) মডেলের ওপর নির্ভরশীল। এ ব্যবস্থায় জমির মালিক ও ডেভেলপার যৌথ চুক্তির মাধ্যমে বহুতল ভবন নির্মাণ করেন এবং জমির মালিক নির্ধারিতসংখ্যক ফ্ল্যাট বা আর্থিক সুবিধা পান।’

তিনি বলেন, ‘নতুন অর্থবিলে প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, জমির মালিক ডেভেলপারের কাছ থেকে যে ফ্ল্যাট বা আর্থিক সুবিধা পাবেন, তার ওপর ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিতে হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো জমির মালিক যদি ১০ কোটি টাকা মূল্যের ১০টি ফ্ল্যাট পান, তাহলে তাকে প্রায় দেড় কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে সাইনিং মানি, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি এবং পরবর্তীতে বিক্রির ক্ষেত্রেও এই কর প্রযোজ্য হবে।’

তার ভাষ্য, এত বড় অঙ্কের কর পরিশোধের সক্ষমতা থাকলে অনেকেই ডেভেলপারের সঙ্গে যৌথ চুক্তিতে না গিয়ে নিজেরাই ভবন নির্মাণ করবেন। ফলে ডেভেলপারদের জন্য জমি সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়বে এবং নতুন প্রকল্প গ্রহণে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সম্প্রতি নতুন শুল্ক আরোপ এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি টন রড উৎপাদনে খরচ প্রায় ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা বেড়েছে। এর প্রভাব নির্মাণ ব্যয়ের ওপরও পড়েছে। রাজশাহীতে প্রতি বর্গফুট নির্মাণ ব্যয় প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত গেইনস ট্যাক্স ও লোকাল গভর্ন্যান্স ট্যাক্সের কারণে ফ্ল্যাট নিবন্ধনের ব্যয়ও প্রায় ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ফ্ল্যাট কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন রেডা নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আবাসন খাতের সঙ্গে ইস্পাত, সিমেন্ট, ইট, আসবাবপত্রসহ ২৬৯টি সহযোগী শিল্প প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। এই খাতে স্থবিরতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমানে দেশে আবাসন খাতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ সরাসরি এবং প্রায় দেড় কোটি মানুষ পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নতুন প্রকল্প কমে গেলে কর্মসংস্থানের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ সময় জমি হস্তান্তর, সাইনিং মানি এবং ফ্ল্যাট নিবন্ধনের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর ও ভ্যাট সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি মধ্যবিত্তের জন্য দীর্ঘমেয়াদি, স্বল্পসুদের বিশেষ গৃহঋণ চালুরও আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈসা ও রেডার সিনিয়র সহ-সভাপতি বলেন, ‘সরকার রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও আবাসন খাতে প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ কর অত্যন্ত বেশি। বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন, অন্যথায় জমির মালিকদের জন্য আবাসন প্রকল্পে অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়বে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- রেডার সভাপতি তৌফিকুর রহমান লাভলু, সহ-সভাপতি কবির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল বারী সওদাগর, অর্থ সম্পাদক এম.এম. সিহাব পারভেজ, পরিকল্পনা ও তথ্য সম্পাদক উজ্জ্বল কবির, দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ ও ক্রীড়া সম্পাদক মাকসুদুল ইসলাম সুমন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আখতারুল হুদা রুমেলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

রিফাত/

রাফিজ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি লাল্টু গ্রেপ্তার, উদ্ধার হত্যায় ব্যবহৃত রশি

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
রাফিজ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি লাল্টু গ্রেপ্তার, উদ্ধার হত্যায় ব্যবহৃত রশি
ছবি: খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় প্রবাসীর ১৫ বছর বয়সী ছেলে রাফিজ মিয়াকে অপহরণ করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান আসামি লাল্টু মিয়া (৪১) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশিও উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকালে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। এর আগে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নলিয়া গ্রামের জামালপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের কিশোর রাফিজ মিয়া একটি ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। রাত ১১টার দিকে তার দাদি আমেনা খাতুনের মোবাইল ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। ফোনের ওপার থেকে রাফিজের কান্নার শব্দ শোনানো হয় এবং তাকে ছেড়ে দিতে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রাফিজের বাবা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকায় পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে এই অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে রাফিজকে মোটরসাইকেলে করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয় এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে টাকা না পেয়ে ওই রাতেই গলায় রশি পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ অর্জুন খালে ফেলে দিয়েও তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে কয়েক দফা মুক্তিপণের টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা।

ঘটনার আট দিন পর, ১৩ জুন কুতুবপুরের লাল ব্রিজ মাঠ সংলগ্ন অর্জুন খালের পাশের একটি পুকুর থেকে রাফিজের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।

এর আগে ১০ জুন রাফিজের দাদি আমেনা খাতুন বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি যৌথ টিম কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গত ২৬ জুন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ী থেকে প্রধান পলাতক আসামি লাল্টু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে লাল্টু মিয়া হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং তার দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, "এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে আমরা প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো অপরাধীই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।"

মিজানুর রহমান/এসএন