বিশ্বকাপের ব্যবস্থাপনা ও দলের লজিস্টিকস নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইরানের অধিনায়ক মেহেদি তারেমি। মিশরের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ের পর তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, টুর্নামেন্টজুড়ে ইরানকে যেসব ভ্রমণ ও ব্যবস্থাপনার জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা একটি বিশ্বমানের প্রতিযোগিতার সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ম্যাচটি ব্যক্তিগতভাবেও হতাশাজনক ছিল তারেমির জন্য। শুরুতে একটি পেনাল্টি মিস করেন তিনি। পরে তার একটি হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শেষদিকে করা আরেকটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ায় নকআউট পর্বে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় ইরানের।
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয় ম্যাচটি। স্টেডিয়ামে কিছু দর্শককে প্রাক-বিপ্লব আমলের ইরানি পতাকা প্রদর্শন এবং ইরানের জাতীয় সঙ্গীতের সময় দুয়ো ধ্বনি দিতে দেখা যায়।
তিনি বলেন, ‘এখানে প্রতিটি সমস্যার সমাধান করার দায়িত্ব ফিফার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা শুরু থেকেই সেটা করতে পারেনি।’
তারেমির দাবি, প্রথম ম্যাচের পর ফিফা সভাপতি জান্নি ইনফান্তিনো ইরানের ড্রেসিংরুমে এসে দলকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ পর্যায়ে এসেও দলের লজিস্টিকস-সংশ্লিষ্ট কর্মীরা তাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি।
তারেমির ভাষ্যে, ‘কীভাবে সম্ভব যে আমাদের সবসময় টিজুয়ানায় যাতায়াত করতে হচ্ছে? আমরা মেক্সিকোর মানুষকে ভালোবাসি, টিজুয়ানাকে ভালোবাসি। তারা অত্যন্ত আন্তরিক। কিন্তু পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে একটি পেশাদার টুর্নামেন্টে এমন অব্যবস্থাপনা গ্রহণযোগ্য নয়।’
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারেমি বলেন, ‘কে আমাদের সাহায্য করতে চায়? যদি তারা আমাদের টুর্নামেন্ট থেকে বের করে দিতে চায়, তাহলে দিক। আমরা চলে যাব। কিন্তু এটা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়।’
গ্রুপ পর্বের অন্যান্য ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে ইরানের নকআউট পর্বে ওঠার ভাগ্য।