কোনো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা চিহ্নিত করে তার কার্যকর সমাধান দেওয়ার লক্ষ্যেই একজন উদ্যোক্তা নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ শুরু করেন। এ নতুন ধরনের উদ্যোগকেই বলা হয় স্টার্টআপ। বিশ্বের অনেক সফল প্রতিষ্ঠান যেমন–ফেসবুক, উবার, বিকাশ এবং লিংকডইন মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিয়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।
প্রতিটি উদ্যোক্তারই স্বপ্ন থাকে তার উদ্যোগকে সফল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক সম্ভাবনাময় ব্যবসাও সঠিক পরিকল্পনা ও নীতির অভাবে টিকে থাকতে পারে না। তাই একটি স্টার্টআপকে দীর্ঘমেয়াদে সফল করতে হলে কিছু মৌলিক নীতি অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসার এসব নীতিই প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিকে শক্তিশালী করে, সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। নিচে একটি সফল স্টার্টআপ গড়ে তোলার জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নীতি তুলে ধরা হলো–
আইডিয়াকে বড় করতে হবে
উবারের কিন্তু নিজস্ব কোনো গাড়ি নেই, তবু তারা পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় রাইডশেয়ারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে ফেসবুক, ইউটিউবের নিজস্ব কনটেন্ট নেই, তবু তারা যোগাযোগ, সংবাদ কিংবা বিনোদনের অন্যতম বৃহৎ উৎস। একটি ছোট আইডিয়া থেকে একটি ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্ম হতে পারে।
আরো পড়ুন: চাপমুক্ত থাকার ৭টি কার্যকর উপায়
তবে এই ক্ষুদ্র ব্যবসাকে সফল করতে হলে সেই আইডিয়াকে বড় করতে হবে। উদ্যোক্তার দূরদৃষ্টি ও সঠিক পরিশ্রমই পারে ব্যবসাটিকে সামনে এগিয়ে নিতে।
সিস্টেম
ব্যবসা ক্ষুদ্র হলেও তাকে একটি সিস্টেমের মধ্য দিয়ে এগোতে হয়। কারণ যেকোনো ক্ষুদ্র ব্যবসা একটি সিস্টেমের মতোই যেখানে প্রতিটি অংশ এর সাফল্যের সঙ্গে জড়িত। এমন সিস্টেমে সবকিছুকে একসঙ্গে কাজ করতে হয়, তা কর্মচারীই হোক কিংবা রিসোর্সেস হোক না কেন। সিস্টেম যদি ঠিকমতো চলে তাহলে তাহলে ব্যবসার লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়।
দূরদৃষ্টি থাকতে হবে
আগামী ১০ বছর পর যুগের অবস্থা কেমন হবে, ভোক্তার কী কী দরকার হতে পারে, সেগুলো আবিষ্কারের জন্য একজন ব্যবসায়ীকে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন হতে হবে। ব্যবসা ক্ষুদ্র হলেও এর পেছনে যদি দূরদৃষ্টি থাকে তাহলে লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়ে যায়। দূরদৃষ্টি একজন ব্যবসায়ীকে দক্ষ করে তোলে।
ব্যবসা পরিবর্ধন করতে হবে
সফল হতে গেলে ব্যবসাকে পরিবর্ধনের আওতায় আনতে হবে। ভালোভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে একটি ক্ষুদ্র ব্যবসা ভবিষ্যতের বড় ব্যবসায় পরিণত হতে পারে। কাজেই ব্যবসা বড় করার স্বপ্ন দেখতে হবে। কারণ, সঠিক স্বপ্ন লক্ষ্য অর্জনের পথ অনেকটাই খুলে দেয়।
টেকসই
যেকোনো অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, যেকোনো বাজারে টিকে থাকার জন্য ব্যবসাটিকে টেকসই হতে হবে। মনে রাখবেন, স্বপ্নবাজরা ভিন্ন কোনো কাজ করে না, একই কাজ ভিন্ন আঙ্গিকে করে। আর এই ভিন্নতা ব্যবসায় টিকে থাকার জন্য আবশ্যক। ব্যবসায়িক কাজ ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলেই সাফল্যের কাঠি ছোঁয়া যায়।
অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধি প্রয়োজন
যেকোনো সফল ব্যবসায় অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধি প্রয়োজন। একটি ক্ষুদ্র ব্যবসা হলো একটি স্কুলের মতো যেখানে কর্মচারীরা হলো ছাত্র; যাদের লক্ষ্য কাজের মাধ্যমে নিজেদের বড় করে তোলা। অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধি হয়তো একদিনে সম্ভব নয়। তবে লেগে থাকলে ব্যবসায় অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধি হবেই।
উদ্দেশ্য
ব্যবসার উদ্যোক্তার যে উদ্দেশ্য ছিল তাই পূরণ করার লক্ষ্যে কাজ করবে ক্ষুদ্র ব্যবসাটি। যেকোনো পরিস্থিতিতে পিছিয়ে পড়লে হবে না। লক্ষ্যের পথে এগিয়ে যেতে হবে। একটি সফল ব্যবসার জন্য এই নির্দেশনা মেনে চলা খুবই জরুরি।
স্বতন্ত্রতা
একটি ব্যবসা কিন্তু তার মালিকের চেয়ে আলাদা একটি পরিচয়। একটি ব্যবসা তার নিজ পরিচয়ে পরিচিত হয়, মালিক শুধু তা চালনা করে থাকে। কাজেই মালিকের পরিচয় আর ব্যবসার পরিচয় দুটোকে কোনো সময় এক করে ফেলা উচিত নয়।
মুনাফা
ব্যবসার পেছনে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে আর তাই সেই উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে ব্যবসাটি কাজ করে যাবে। যত ঝড়ঝাপটাই আসুক না কেন, ব্যবসার অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য যেন ব্যাহত না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
মানদণ্ড
একটি ক্ষুদ্র ব্যবসা নিজের একটি মানদণ্ড তৈরি করে নেয়; যার বিপরীতে সে নিজের সাফল্য পরিমাপ করে থাকে। পুরোনো নয়, নতুন মানদণ্ডের ভিত্তিতেই ব্যবসার সাফল্য নিরূপণ করা উচিত। তাহলেই ব্যবসা তার কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য অর্জন করবে।
তারেক/