ভেনেজুয়েলায় ১৯ জুন আঘাত হানা জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জীবিতদের সন্ধানে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে।
এদিকে সরকারের ধীর ও অপর্যাপ্ত ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে গেলে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে বিক্ষোভ ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
জাতিসংঘের ত্রাণবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার জানান, বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেশের উত্তরাঞ্চলের বহু ভবন ধসে পড়ে।
রাজধানী কারাকাসের কাছের উপকূলীয় অঞ্চল লা গুয়াইরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শক্তিশালী কম্পনে সেখানে একের পর এক বহুতল ভবন ধসে পড়ে।
উদ্ধারকারী দলের নেতা নাদিওমার পোলাঙ্কো বলেন, জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এখন নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের দিকেই আমরা বেশি মনোযোগ দিচ্ছি।
অন্যদিকে, স্বজন, প্রতিবেশী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারী যন্ত্রপাতি ও সরকারি সহায়তার অভাব নিয়ে তারা হতাশা প্রকাশ করেন।
কারাকাসের একটি অভিজাত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শনে গেলে অন্তর্বর্তীকালীন নেতা দেলসি রদ্রিগেজকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। ধ্বংসস্তূপে আটকেপড়া স্বজনদের অপেক্ষায় থাকা মানুষজন স্লোগান দিয়ে বলেন, সরকার জনগণের জন্য কিছুই করছে না।
এএফপি জানায়, উদ্ধারকর্মীরা হাতুড়ি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ ভেঙে জীবিতদের সন্ধান করছেন এবং আটকে পড়াদের আর্তনাদ শোনার জন্য বারবার ‘সম্পূর্ণ নীরবতা’ বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন।
জাতিসংঘের টম ফ্লেচার বলেন, এটি অত্যন্ত জটিল একটি উদ্ধার অভিযান। মৃতের সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। পরবর্তী আফটারশক এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো এখনো উদ্ধারকাজের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওচা জানিয়েছে, জীবিতদের উদ্ধারে অন্তত ১৭টি দেশের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।
স্পেন, এল সালভাদর, সুইজারল্যান্ড, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ২৫০ সদস্যের একটি বিশেষ দুর্যোগ মোকাবিলা দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। দলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষ শনাক্তে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুরও রয়েছে।
জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সংস্থা যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের আগেই ভেনেজুয়েলার লাখো মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মৌলিক সেবার সংকটে ভুগছিলেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই জরুরি পরিস্থিতিকে আরও গভীর মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
২০১০ সালের জানুয়ারিতে হাইতিতে একই মাত্রার ভূমিকম্পে দুই লক্ষাধিক মানুষ এবং ২০০৫ সালের অক্টোবরে কাশ্মীরে প্রায় ৭৩ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
বিদেশিরাও নিহত
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৯ জন পর্তুগিজ, পাঁচজন স্প্যানিশ, দুজন ব্রাজিলীয়, দুজন চীনা এবং একজন ইতালীয়-ভেনেজুয়েলীয় নাগরিক।
তাদের নিজ নিজ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ৫৬ জন পর্তুগিজ এবং ১৩৩ জন স্প্যানিশ নাগরিক এখনও নিখোঁজ বা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
১৯০০ সালে উপকূলের বাইরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এটিই ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। দেশটির উত্তর উপকূল ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। তবে ১৯৯৭ সালের পর থেকে সেখানে আর কোনো বড় ভূমিকম্প হয়নি। সূত্র: এনডিটিভি
অমিয়/