যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না, যা মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের অংশীদার ও মিত্রদের স্বার্থবিরোধী হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাহরাইনের রাজধানী মানামায় উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
রুবিও বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে চাই এই আলোচনায় নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তে যেন উপসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের অংশীদার ও মিত্রদের স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনায় রাখা হয়। এই চুক্তির এমন কোনো অংশ নেই, যা অংশীদারদের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা বা সমৃদ্ধিকে ক্ষুণ্ন করবে। আজ আমার এখানে আসার মূল উদ্দেশ্য এটিই।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে শান্তি দেখতে চায়। আমরা এখন একটি নতুন ধাপে প্রবেশ করছি, আমরা আশা করি যা শান্তির পথ প্রশস্ত করবে। এটিই আমাদের সবার কাম্য। আমরা চাই এই অঞ্চল এমন একটি স্থানে পরিণত হোক, যেখানে মানুষ বোমা বা অস্ত্র তৈরির পরিবর্তে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেবে; অন্য দেশকে আক্রমণ করার পরিকল্পনার পরিবর্তে নিজেদের জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবে।’
রুবিও আশা প্রকাশ করেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি একটি ‘খুবই ইতিবাচক ফলাফল’ বয়ে আনবে। তিনি বলেন, তেহরান যদি নিজেদের জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা এমন একটি চুক্তি চাই, যা হবে ভালো, বাস্তবসম্মত, যাচাইযোগ্য এবং যার শর্তগুলো যথাযথভাবে মেনে চলা হবে।’
ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে কোনো ধরনের টোল বা ফি আদায় করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন রুবিও। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের নজির তৈরি হলে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথেও একই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়বে এবং এতে ‘সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি’ সৃষ্টি হতে পারে।
রুবিও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জলপথ কোনো একক রাষ্ট্রের মালিকানাধীন নয়। এটি বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার একটি মৌলিক নীতি। এই নীতি না থাকলে বিশ্বব্যাপী চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমরা মেনে নিই যে কোনো আন্তর্জাতিক জলপথ একটি দেশের ভূখণ্ডের কাছাকাছি হওয়ায় সেই দেশ সেখানে চলাচলের জন্য অর্থ আদায় করতে পারে, তাহলে এই ধারণা সংক্রামক রোগের মতো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।’ সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি