চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র সুজাতপুর বাজারে ফুটপাত দখলের মহোৎসব চলছে। ইজারার দোহাই দিয়ে ফুটপাতে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বাজার কমিটির বিরুদ্ধে। এতে জনদুর্ভোগ চরম আকারে পৌঁছালেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে সুজাতপুর বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের ভেতরের প্রধান সড়ক ও দুই পাশের ফুটপাতজুড়ে সারি সারি অস্থায়ী দোকান। এতে মূল সড়ক এতটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে যে, একটি রিকশা বা ভ্যান দাঁড়ালেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে চলন্ত যানবাহনের মাঝ দিয়েই চলাচল করছেন।
ফুটপাতে বসা এক বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি সড়কে দোকান বসাতে তাদের প্রতিদিন টাকা দিতে হয়। বাজার কমিটি ‘জুয়েল' নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে নিয়মিত এই অর্থ সংগ্রহ করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন বাজার ইজারা দেওয়া হলেও সরকারি সড়ক বা ফুটপাত কি সেই ইজারার আওতাভুক্ত? ফুটপাত জনসাধারণের চলাচলের স্থান হলেও সেখানে বসার বিনিময়ে অর্থ আদায়কে অনেকেই সরাসরি চাঁদাবাজি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, মাঝে মাঝে উপজেলা প্রশাসন বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হলেও তা কেবল নামমাত্র জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। অভিযানের কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
স্থানীয়দের মতে, স্থায়ী সমাধান না করে দায়সারা অভিযান প্রশাসনের কার্যকারিতাকেই এখন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সুজাতপুর বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীদের দাবি, দ্রুত এই ফুটপাত বাণিজ্য বন্ধ করে যানজটমুক্ত বাজার নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রের গুরুত্ব হারানোর পাশাপাশি জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
সুজাতপুর বাজার বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সজিব পাটোয়ারী বলেন, ‘বাজারের পাশেই একটি সরকারি পুকুর রয়েছে। পুকুরটি লিজ না নেওয়া পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে পরামর্শ করেই সেখানে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বাজারের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দোকান বসলে বাজারের পরিবেশ নষ্ট হয় এবং শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। সে কারণেই নির্দিষ্ট স্থানে ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো বসতে দেওয়া হয়েছে।’
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি এ বিষয়ে বলেন, সুজাতপুর বাজারের মূল সড়কের পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। সড়কের পাশে দোকান থাকায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। তাই সরকারি জায়গায় স্থায়ী দোকান নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে বাজার কমিটি ও ব্যবসায়ীদের অনুরোধের পর শর্তসাপেক্ষে সাময়িক সময়ের জন্য শুধুমাত্র ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়।
শর্ত ছিল, কোনো স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। কিন্তু তারা সেই শর্ত অমান্য করে বাঁশের খুঁটি গেড়ে স্থায়ী দোকান নির্মাণ করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
শাহাদাত/খাদিজা রুমি/