চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দিনদুপুরে প্রকাশ্যে সোহেল নামের এক যুবককে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি মো. গিয়াস উদ্দিনকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৭ জুন) ভোরে ঘটনার পাঁচ দিন পর সাতকানিয়া উপজেলার মধ্যম দুরদুরী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার গিয়াস উদ্দিন আনোয়ারার চাতরী ইউনিয়নের ডুমুরিয়া রুদুরা গ্রামের ময়নার বাড়ির আবদুস ছোবাহানের ছেলে। এর আগে, গত ২২ জুন দুপুরে আনোয়ারার দিপুমনি মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সোহেলের মায়ের সঙ্গে সুদের লেনদেন নিয়ে আসামি গিয়াস উদ্দিনের বিরোধ ছিল। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর গিয়াস উদ্দিনের কাছ থেকে মাসে ৫ হাজার টাকা মুনাফার শর্তে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন সোহেলের মা ছেনোয়ারা বেগম। এক মাসের মুনাফার টাকা পরিশোধ করতে না পারায় গিয়াস উদ্দিন ভুক্তভোগী সোহেল ও তার পরিবারকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
গত ২২ জুন বেলা ১১টার দিকে টাকা নিয়ে কথা বলার অজুহাতে গিয়াস উদ্দিন ও তার বোন কহিনুর বেগম ভুক্তভোগী সোহেল ও তার মাকে দিপুমনি মার্কেটের সামনে ডেকে নেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গিয়াস উদ্দিন ব্যাগে থাকা ধারালো ছুরি বের করে সোহেলের তলপেটে দুটি, ডান পায়ে দুটি এবং পিঠে চারটিসহ মোট আটটি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করেন। এ সময় মা ছেনোয়ারা বেগম বাধা দিতে গেলে তাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে তার ডান হাতের তালু মারাত্মক জখম হয়। আসামিরা এ সময় সোহেলের কাছে থাকা ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগীদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সোহেলের চাচা মো. বদিউল আলম বাদী হয়ে বুধবার (২৪ জুন) আনোয়ারা থানায় মামলা করেন। ঘটনার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার প্রধান আসামি গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আতিকুল হা-মীম/অন্তরা/