ঢাকা ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
এক ম্যাচে নকআউটে ৫ দেশ, কেমন হবে সূচি? মিশরের সাথে ড্র করে টেবিলের তিনে ইরান নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বেলজিয়াম ৩৩ বছর পর জাকসু, ভিপি-জিএস ছাড়াই জাবির সিনেট অধিবেশন আজ আনারস দিবস: দুধ-আনারস এক সঙ্গে খাওয়া যাবে কি? গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বেঞ্চে থাকছেন মেসি হালান্ডদের বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ‘খুবই সহজ’: সোলবাকেন দলীয় রাজনীতি না করে মানুষের কল্যাণে কাজ করুন: ড.মঈন খান ইরানের ওপর হামলার জবাবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরি কত? প্রধান শিক্ষিকার ব্যাগে মিলল স্কুল ফিডিংয়ের ডিম-রুটি পাগলা মসজিদের সিন্দুক খুলে মিলল ৪৩ বস্তা টাকা এনসিপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, জেলা নেতাকে অপহরণের অভিযোগ শ‌নিবার কুড়িগ্রামের যে ২ উপজেলায় বিদ্যুৎ থাকবে না দেশের ৬ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত ময়মনসিংহে নির্যাতিতদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে র‌্যালি মাস্কের পর সর্বোচ্চ বেতনভোগী সিইও কলকাতার শঙ্খ মিত্র, বছরে আয় ১০ হাজার ১৬ কোটি মায়ের শেষকৃত্য শেষে দলে ফিরছেন দেশম বায়ুদূষণে শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার বাতাসের মান ‘সহনীয়’ মাদক: এক নীরব ঘাতক দেওয়ানগঞ্জে শ্রেণি পরিবর্তন করে মাটি উত্তোলন করায় ২ যুবকের কারাদণ্ড পুরান ঢাকায় তাজিয়া মিছিলে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত প্রথমার্ধ শেষে সমতায় ইরান ও মিশর মাঝরাতে কাটাবনের বহুতলভবনে আগুন, নিহত ২ চট্টগ্রামে গো-কার্ট মোটর রেসিং টুর্নামেন্টের উদ্বোধন জর্ডানের বিপক্ষে মেসি কেন শুরুর একাদশে নেই, জানালেন স্কালোনি সোনারগাঁয় ২ যুবকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউটের মহাযুদ্ধে মুখোমুখি মিশর ও ইরান পেকুয়ায় অস্ত্র ও কার্তুজসহ ২ জলদস্যু আটক সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে বনদস্যুদের গোলাগুলি, নিহত ১

২৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২৭ জুন ২০২৬, শনিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৪ মিনিট

আসর

৪.৪০ মিনিট

মাগরিব

৬.৫৩ মিনিট

এশা

৮.১৯ মিনিট

 

ফজর (২৮ জুন)

.৪৫মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পবিত্র আশুরা আজ

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
পবিত্র আশুরা আজ
ছবি: সংগৃহীত

আজ শুক্রবার পবিত্র আশুরা। সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শোকের আবহে দিনটি পালিত হচ্ছে। হিজরি মুহাররম মাসের দশম দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে এক অনন্য এবং তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সৃষ্টির শুরু থেকে নানা ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক এই দিনটি। তবে সব ছাড়িয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.) এর সপরিবারে শাহাদতবরণ বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কাছে এক চিরন্তন শোক ও ত্যাগের মহিমামর অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। 

বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও আজ নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার ও রোজা পালনের মধ্য দিয়ে দিনটি অতিবাহিত করছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, রমজানের পর মুহাররমের রোজাই সবচেয়ে উত্তম এবং আশুরার একটি রোজা পালনে বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয়। এই পবিত্র দিনে শিয়া সম্প্রদায় রাজধানীর পুরাণ ঢাকার হোসেনি দালান থেকে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের করে থাকে। 

ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তায়ালা এই ১০ মুহাররমের দিনেই আরশ, কুরসি, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। এই দিনেই প্রথম মানব হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয় এবং পরে দুনিয়ায় প্রেরণের পর এই দিনেই তার তাওবা কবুল করা হয়। এ ছাড়াও হজরত নূহ (আ.)-এর যুগের মহাপ্লাবনের পর তার কিস্তি জুদি পাহাড়ে ভেড়ে এবং হজরত মূসা (আ.)-এর নেতৃত্বে বনি ইসরাইলদের অত্যাচারী ফেরাউনের কবল থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি পাওয়ার মতো মহান সব ঘটনার সাক্ষী এই পবিত্র আশুরা।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত তাজিয়া মিছিলসহ বিভিন্ন শোক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন লালবাগ, ওয়ারী, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন বিভাগের ২৮টি ইমামবাড়া কর্তৃক মুহাররমের ১ তারিখ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি মিছিলের জন্য নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ পুলিশি পাহারা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আতশবাজি বা যেকোনো ধরনের পটকা ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির বাণী: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কারবালার প্রান্তরে শাহাদতবরণকারী সব শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী মানুষকে অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় এবং সত্য, সুন্দর ও আলোর পথ দেখায়। তিনি একটি সাম্য, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর সংহতি কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আপসহীন সংগ্রামকে স্মরণ করে বলেন, ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তিনি আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনা মানবজাতিকে শিখিয়েছে কীভাবে জুলুম, অন্যায় ও স্বৈরাচারের কাছে মাথা নত না করে সত্য ও ন্যায়ের আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হয়। এই অবিনাশী শিক্ষা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য এক অন্তহীন প্রেরণার উৎস ধারণ করে আছে।

২৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২৭ জুন ২০২৬, শনিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৪ মিনিট

আসর

৪.৪০ মিনিট

মাগরিব

৬.৫৩ মিনিট

এশা

৮.১৯ মিনিট

 

ফজর (২৮ জুন)

.৪৫মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মাদক: এক নীরব ঘাতক

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
মাদক: এক নীরব ঘাতক
ছবি: সংগৃহীত

একটি সুস্থ-সবল তরুণ, যার চোখে ছিল স্বপ্ন আর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। একদিন ‘শুধু একবার চেষ্টা করে দেখি’ এই কৌতূহল থেকে সে নেশার জগতে পা রাখল। কয়েক বছর পর সেই উজ্জ্বল মুখ পরিণত হলো এক জীবন্ত কঙ্কালে। মাদক এভাবেই নীরবে একটি প্রাণ, একটি পরিবার ও একটি গোটা সমাজকে গিলে খায়। প্রতিদিন অসংখ্য পরিবার এই অভিশাপে তাদের সবচেয়ে আদরের সন্তানকে হারাচ্ছে, অথচ একটুখানি সচেতনতাই হয়তো তাদের বাঁচিয়ে দিতে পারত।

আজ আমরা বিজ্ঞান ও ইসলাম উভয়ের আলোকে দেখব, কেন এই পথ থেকে দূরে থাকা আসলে জীবন-মরণের প্রশ্ন। আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান বলছে, মাদক সরাসরি মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ বা পুরস্কার-কেন্দ্রকে আক্রমণ করে। নেশাদ্রব্য মস্তিষ্কে কৃত্রিমভাবে ডোপামিন নামের রাসায়নিক প্লাবিত করে দেয়, যা সাময়িক সুখানুভূতি জাগায়। কিন্তু মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে ডোপামিন তৈরি করা কমিয়ে দেয়, ফলে নেশা ছাড়া মানুষ আর কোনো আনন্দই অনুভব করতে পারে না। এটিই আসক্তির মূল রহস্য। সময়ের সঙ্গে একই অনুভূতি পেতে আরও বেশি ডোজ লাগে, আর হঠাৎ বন্ধ করলে শুরু হয় অসহনীয় যন্ত্রণা।

মাদক শুধু মস্তিষ্ক নয়, পুরো শরীরকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে। এটি লিভার ও কিডনি অকেজো করে দেয়, হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে, ফুসফুস ধ্বংস করে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে ফেলে। একই সিরিঞ্জ ব্যবহারে ছড়ায় এইডস ও হেপাটাইটিসের মতো মারণ রোগ। মানসিকভাবে এটি জন্ম দেয় বিষণ্নতা, উদ্বেগ, স্মৃতিভ্রংশ এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, প্রতি বছর মাদক পৃথিবীজুড়ে লাখ লাখ তাজা প্রাণ কেড়ে নেয়। বিজ্ঞানের ভাষায় মাদকের একটিও উপকারী দিক নেই, আছে শুধু ধ্বংস।

আরও ভয়ংকর হলো, মাদক একটি ‘প্রবেশদ্বার’-এর মতো কাজ করে। গবেষণা বলছে, ছোট নেশা দিয়ে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে তা মানুষকে আরও কঠিন ও প্রাণঘাতী মাদকের দিকে টেনে নেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তরুণরা, কারণ এই বয়সে মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অংশটি তখনো পুরোপুরি পরিণত হয় না। ফলে একটি জাতির সম্ভাবনাময় প্রজন্ম অঙ্কুরেই ঝরে পড়ে। মাদক তাই কেবল ব্যক্তির রোগ নয়, এটি গোটা জাতির রক্তে ছড়িয়ে পড়া এক ধীর বিষ।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিজ্ঞান যা আজ আবিষ্কার করছে, ইসলাম তা ১৪০০ বছর আগেই ঘোষণা করেছে। আল্লাহতায়ালা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, হে ঈমানদাররা! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদি ও ভাগ্য নির্ণায়ক তীর এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা এগুলো থেকে বিরত থাকো, যাতে তোমরা সফল হও। (সুরা মায়িদা, ৯০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি সর্বজনীন নীতি দিয়ে গেছেন, ‘প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই মদ, আর প্রত্যেক মদই হারাম।’ (সহিহ মুসলিম)।

তিনি আরও বলেছেন, যে বস্তু বেশি খেলে নেশা হয়, তার সামান্য পরিমাণও হারাম (তিরমিজি, আবু দাউদ)। এই নীতির ভিত্তিতে ইসলামি আইনবিদরা ঐকমত্যে ঘোষণা করেছেন, ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ সব ধরনের মাদক ও নেশাদ্রব্য হারাম। কারণ এগুলো মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ বিবেক ও বুদ্ধি কেড়ে নেয়। আর বিবেক রক্ষা করা ইসলামের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।

যে সন্তানকে মা ১০ মাস গর্ভে ধারণ করেছেন, রাতের পর রাত জেগে বড় করেছেন, সেই সন্তান যখন নেশায় বুঁদ হয়ে টলতে টলতে ঘরে ফেরে, তখন মায়ের বুকটা কীভাবে ভেঙে যায়, তা ভাষায় বলা যায় না। নেশা কখনো একা একজনকে শেষ করে না; সঙ্গে নিয়ে ডোবায় গোটা পরিবারকে। স্ত্রী হারায় তার স্বামীকে, সন্তান হারায় তার বাবাকে, আর বৃদ্ধ মা-বাবা হারায় শেষ বয়সের একমাত্র অবলম্বন। যে হাত আল্লাহর সামনে সিজদার জন্য তৈরি হয়েছিল, সেই হাত একসময় কাঁপতে থাকে কেবল এক ছিলিম নেশার জন্য। ভাবুন, কিয়ামতের দিন এই অপচয় করা জীবনের হিসাব আমরা কী দিয়ে দেব? এই যুদ্ধে সবচেয়ে শক্ত ঢাল হলেন অভিভাবক।

প্রথমত, সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই আল্লাহভীতি ও নামাজের অভ্যাসে গড়ে তুলুন। কারণ, যে হৃদয়ে আল্লাহর ভয় বাসা বাঁধে, সেখানে নেশা সহজে ঢুকতে পারে না। দ্বিতীয়ত, সন্তানের বন্ধুবান্ধব ও সঙ্গ সম্পর্কে সজাগ থাকুন, কারণ অধিকাংশ আসক্তিরই সূচনা হয় খারাপ সঙ্গ থেকে। তৃতীয়ত, সন্তানের সঙ্গে বন্ধুর মতো সম্পর্ক রাখুন, যেন সে তার সমস্যা লুকিয়ে না রেখে নির্ভয়ে আপনাকে বলতে পারে। তাকে পর্যাপ্ত সময় ও ভালোবাসা দিন কারণ যে সন্তান ঘরে আদর ও মনোযোগ পায় না, সে প্রায়ই বাইরে নেশার মধ্যে মিথ্যা সান্ত্বনা খোঁজে।

আর কেউ যদি ইতোমধ্যে আসক্ত হয়ে পড়ে, তাকে ঘৃণা করে দূরে ঠেলে না দিয়ে চিকিৎসা ও সংশোধনের পথে ফিরিয়ে আনুন। সর্বোপরি, আল্লাহর কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দোয়া করুন। কারণ, হেদায়েত একমাত্র তারই হাতে। মাদক দুনিয়াতে ধ্বংস করে শরীর, আর আখিরাতে ডেকে আনে আল্লাহর অসন্তুষ্টি। বিজ্ঞান যাকে ‘নীরব ঘাতক’ বলে, শরিয়ত তাকে বলে ‘শয়তানের অপবিত্র কাজ’। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

আসমাউল হুসনা–আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
আসমাউল হুসনা–আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর বুকে এমন কিছু শব্দ আছে যেগুলো কেবল শব্দ নয়, সেগুলো হলো আলোর দরজা। ইসলামে সেই দরজাগুলোর নাম হলো আল্লাহর নাম। একজন মুসলমানের কাছে আল্লাহর নামগুলো মুখস্থ করার তালিকা নয়, বরং সেগুলো তার রবকে চেনার জানালা। প্রতিটি নাম যেন এক একটি আয়না, যাতে তাকালে আল্লাহর কোনো একটি গুণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 

আসমাউল হুসনা–এটি আরবি দুটি শব্দের সমন্বয়। আসমা অর্থ নামসমূহ, আর হুসনা অর্থ সবচেয়ে সুন্দর। দুটি মিলিয়ে অর্থ দাঁড়ায়, সুন্দরতম নামসমূহ। তবে এটি কারও সাধারণ নামের তালিকা নয়। এগুলো হলো মহান আল্লাহর গুণবাচক নাম, যে নামগুলো তার অসীম গুণ, শক্তি, দয়া ও মহিমাকে প্রকাশ করে। সহজ ভাষায় বললে, আল্লাহ কে, তিনি কেমন, তিনি কী করেন, তার স্বভাব কী–এসব কিছুর পরিচয় মেলে তার নামগুলোর মধ্যে। যেমন তিনি আর-রহমান, পরম দয়া-মায়াময়। তিনি আল-আলিম, সর্বজ্ঞ। তিনি আল-কারিম, মহাউদার। প্রতিটি নাম একটি পরিচয়পত্র।

কোরআনুল কারিমে চারটি স্থানে সরাসরি আসমাউল হুসনা শব্দটি এসেছে এবং এই নামগুলো ধরে আল্লাহকে ডাকতে বলা হয়েছে। এরশাদ হয়েছে, আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং সেই নামগুলোর মাধ্যমে তাকে ডাকো। (সুরা আল-আরাফ, ১৮০)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসমাউল হুসনার বিশেষ ফজিলতের কথা জানিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি বিখ্যাত হাদিস, নিশ্চয়ই আল্লাহর ৯৯টি নাম রয়েছে, এক কম একশ। যে ব্যক্তি এগুলো আহসা করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (বুখারি, ২৭৩৬; মুসলিম, ২৬৭৭)

এই হাদিসে আহসা শব্দটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে মনে করেন শুধু মুখস্থ করলেই হবে, কিন্তু আলেমরা বলেছেন এর তিনটি স্তর রয়েছে–প্রথমত, নামগুলো মুখস্থ করা এবং সংরক্ষণ করা। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি নামের অর্থ বোঝা এবং তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা। তৃতীয়ত, সেই নামগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা এবং দোয়ায় তাকে সেই নামে ডাকা।

একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখানে মাথায় আসতে পারে, আল্লাহর নাম কি শুধু ৯৯টি? আলেমরা বলেন, না, আল্লাহর নাম ৯৯-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হাদিসটি বলছে যে এই ৯৯টি নাম আহসা করলে জান্নাতের পুরস্কার আছে, কিন্তু এটি বলছে না যে তাঁর মোট নামের সংখ্যা ৯৯। বরং নবিজি (সা.)-এর একটি দোয়ায় এসেছে, হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি সেই নাম দিয়ে যা তুমি নিজের জন্য নির্ধারণ করেছ, অথবা তোমার কিতাবে নাজিল করেছ, অথবা তোমার কোনো সৃষ্টিকে শিখিয়েছ, অথবা তোমার গায়েবি জ্ঞানে রেখে দিয়েছ। (মুসনাদে আহমাদ)

বিপদে পড়লে মনে পড়বে তিনি আল-মুজিব, দোয়া শোনেন। একাকী লাগলে জানা যাবে তিনি আল-ওয়ালি, সর্বদা পাশে আছেন। পাপের বোঝা ভারী লাগলে স্মরণ হবে তিনি আল-গাফফার, বারবার ক্ষমা করেন। অন্যায়ের বিচার না পেলে সান্ত্বনা মিলবে তিনি আল-আদল, পরম ন্যায়বিচারক। রিজিকের চিন্তায় কাতর হলে মনে আসবে তিনি আর-রাজ্জাক, জীবিকাদাতা। সংক্ষেপে বললে, আসমাউল হুসনা হলো ঈমানের শিকড়। এই নামগুলো যত গভীরে গেঁথে যাবে, ততই একজন মানুষের মনে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, ভয়, আশা এবং নির্ভরশীলতা বাড়বে।

আল্লাহর ৯৯টি নামের বাংলা অর্থসহ তালিকা–১. আল্লাহ: যিনি সব উপাসনার যোগ্য একমাত্র সত্তা; ২. আর-রহমান: পরম দয়াময়; ৩. আর-রহিম: অতি দয়ালু; ৪. আল-মালিক: সার্বভৌম রাজ, মালিক; ৫. আল-কুদ্দুস: মহাপবিত্র; ৬. আস-সালাম: শান্তির উৎস; ৭. আল-মুমিন: নিরাপত্তাদানকারী; ৮. আল-মুহাইমিন: সংরক্ষক, তত্ত্বাবধায়ক; ৯. আল-আজিজ: মহাপরাক্রমশালী, অজেয়; ১০. আল-জাব্বার: মেরামতকারী, সবার ওপর প্রভু; ১১. আল-মুতাকাব্বির: সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী; ১২. আল-খালিক: সৃষ্টিকর্তা; ১৩. আল-বারিউ: উদ্ভাবক; ১৪. আল-মুসাওয়ির: রূপদানকারী; ১৫. আল-গাফফার: বারবার ক্ষমাকারী; ১৬. আল-কাহহার: সবার ওপর বিজয়ী; ১৭. আল-ওয়াহহাব: অকাতরে দানকারী; ১৮. আর-রাজ্জাক: জীবিকা প্রদানকারী; ১৯. আল-ফাত্তাহ: বিজয়দানকারী, রহস্য উন্মোচনকারী; ২০. আল-আলিম: সর্বজ্ঞ; ২১. আল-কাবিদ: সংকোচনকারী; ২২. আল-বাসিত: বিস্তারকারী; ২৩. আল-খাফিদ: অবনমনকারী; ২৪. আর-রাফি: উন্নতকারী, মর্যাদাদানকারী; ২৫. আল-মুইজ্জ: সম্মানদানকারী; ২৬. আল-মুজিল: অপমানকারী (পাপীদের); ২৭. আস-সামি: সর্বশ্রোতা; ২৮. আল-বাসির: সর্বদ্রষ্টা; ২৯. আল-হাকাম: সর্বোচ্চ বিচারক; ৩০. আল-আদল: পরিপূর্ণ ন্যায়বিচারক; ৩১. আল-লাতিফ: সূক্ষ্মদর্শী, অতি সদয়; ৩২. আল-খাবির: সব বিষয়ে সম্যক অবহিত; ৩৩. আল-হালিম: অতি সহিষ্ণু; ৩৪. আল-আজিম: মহামহিম; ৩৫. আল-গাফুর: মহাক্ষমাশীল; ৩৬. আশ-শাকুর: অতিশয় কৃতজ্ঞতা স্বীকারকারী; ৩৭. আল-আলি: সর্বোচ্চ, মহান; ৩৮. আল-কাবির: সর্বমহান; ৩৯. আল-হাফিজ: মহাসংরক্ষক; ৪০. আল-মুকিত: পালনকারী, শক্তিদাতা; ৪১. আল-হাসিব: হিসাব গ্রহণকারী; ৪২. আল-জালিল: প্রতাপশালী, মহিমান্বিত; ৪৩. আল-কারিম: মহাউদার, মহানুভব; ৪৪. আর-রাকিব: সর্বক্ষণ পর্যবেক্ষণকারী; ৪৫. আল-মুজিব: দোয়া কবুলকারী; ৪৬. আল-ওয়াসি: সর্বব্যাপী, অসীম; ৪৭. আল-হাকিম: পরম প্রজ্ঞাময়; ৪৮. আল-ওয়াদুদ: অতি প্রেমময়; ৪৯. আল-মাজিদ: মহাগৌরবময়; ৫০. আল-বাইস: পুনরুত্থানকারী; ৫১. আশ-শাহিদ: সর্বসাক্ষী; ৫২. আল-হাক্ক: চিরসত্য; ৫৩. আল-ওয়াকিল: কর্মবিধায়ক, ভরসার পাত্র; ৫৪. আল-কাওয়িয়্যু: অপ্রতিম শক্তিশালী; ৫৫. আল-মাতিন: দৃঢ়, অটল; ৫৬. আল-ওয়ালি: অভিভাবক, বন্ধু; ৫৭. আল-হামিদ: সর্বপ্রশংসিত; ৫৮. আল-মুহসি: সর্বগণনাকারী; ৫৯. আল-মুবদি: সূচনাকারী; ৬০. আল-মুঈদ: পুনরায় সৃষ্টিকারী; ৬১. আল-মুহয়ি: জীবনদানকারী; ৬২.
আল-মুমিত: মৃত্যুদানকারী; ৬৩. আল-হাইয়্যু: চিরজীবন্ত; ৬৪. আল-কাইয়্যুম: স্বনির্ভর, সবকিছুর ধারক; ৬৫. আল-ওয়াজিদ: সর্বসম্পন্ন; ৬৬. আল-মাজেদ: মহানুভব, মহামর্যাদাবান; ৬৭. আল-ওয়াহিদ: একক, অদ্বিতীয়; ৬৮. আল-আহাদ: একমাত্র, অবিভাজ্য; ৬৯. আস-সামাদ: অমুখাপেক্ষী, যার ওপর সবাই নির্ভরশীল; ৭০. আল-কাদির: সর্বশক্তিমান; ৭১. আল-মুকতাদির: পরম ক্ষমতাবান; ৭২. আল-মুকাদ্দিম: অগ্রবর্তীকারী; ৭৩. আল-মুআখখির: পশ্চাদবর্তীকারী; ৭৪. আল-আউয়াল: সর্বপ্রথম, যার আগে কিছু নেই; ৭৫. আল-আখির: সর্বশেষ, যার পরে কিছু নেই; ৭৬. আজ-জাহির: প্রকাশমান, সবার ওপরে; ৭৭. আল-বাতিন: অদৃশ্যের জ্ঞানী; ৭৮. আল-ওয়ালি: একচ্ছত্র শাসক; ৭৯. আল-মুতাআলি: সর্বোচ্চে বিরাজমান; ৮০. আল-বার্র: সব কল্যাণের উৎস; ৮১. আত-তাওয়াব: তওবা কবুলকারী; ৮২. আল-মুনতাকিম: প্রতিশোধ গ্রহণকারী (অবিচারের বিরুদ্ধে); ৮৩. আল-আফুউ: মার্জনাকারী, পাপ মুছে দেওয়া; ৮৪. আর-রাউফ: অতি স্নেহময়; ৮৫. মালিকুল মুলক: সার্বভৌম রাজ্যের মালিক; ৮৬. জুল-জালালি ওয়াল-ইকরাম: প্রতাপ ও সম্মানের অধিকারী; ৮৭. আল-মুকসিত: ন্যায়বিচারক, সুষম বণ্টনকারী; ৮৮. আল-জামি: একত্রকারী; ৮৯. আল-গানি: অমুখাপেক্ষী, স্বয়ংসম্পূর্ণ ধনী; ৯০. আল-মুগনি: ঐশ্বর্যদানকারী; ৯১. আল-মানি: বাধাদানকারী, রক্ষাকারী; ৯২. আদ-দার: ক্ষতির মালিক; ৯৩. আন-নাফি: উপকারদানকারী; ৯৪. আন-নুর: জ্যোতি, আলো; ৯৫. আল-হাদি: হিদায়াতদানকারী, পথপ্রদর্শক; ৯৬. আল-বাদি: অতুলনীয় সৃষ্টিকর্তা; ৯৭. আল-বাকি: চিরবিরাজমান; ৯৮. আল-ওয়ারিস: একমাত্র উত্তরাধিকারী; ৯৯. আর-রশিদ: সরল পথের প্রদর্শক; আস-সাবুর: মহাধৈর্যশীল। (বুখারি: ২৭৩৬; মুসলিম: ২৬৭৭; তিরমিজি: ৩৫০৭)

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

তিন মুসাফিরের গোপন আমলের শক্তি

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
তিন মুসাফিরের গোপন আমলের শক্তি
ছবি: সংগৃহীত

অনেক অনেক দিন আগের কথা। তিনজন মানুষ একসঙ্গে পথ চলছিল। তারা ছিল আলাদা স্বভাবের, আলাদা জীবনের মানুষ, কিন্তু সেদিন একই পথের সঙ্গী। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে এল, নামল মুষলধারে বৃষ্টি। ভিজে একাকার হওয়ার আগে তারা চারপাশে আশ্রয় খুঁজতে লাগল। অদূরে একটি পাহাড় চোখে পড়ল, আর পাহাড়ের গায়ে ছিল একটি গুহা। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে তিনজন দ্রুত সেই গুহায় ঢুকে পড়ল।

কিন্তু তারা তখনো জানত না, এই গুহাই হয়ে উঠবে তাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার জায়গা। হঠাৎ পাহাড়ের ওপর থেকে বিশাল একটি পাথর গড়িয়ে এল এবং ঠিক গুহার মুখের ওপর এসে আটকে গেল। এক নিমেষে বাইরের আলো নিভে গেল, বন্ধ হয়ে গেল বেরোনোর একমাত্র পথ। তিনজন মিলে অনেক চেষ্টা করল, কাঁধ দিয়ে ঠেলল, হাত দিয়ে চাপ দিল, কিন্তু পাথরটি একচুলও নড়ল না। তারা বুঝে গেল, এই পাথর সরানোর শক্তি মানুষের নেই। ঠিক তখন একজন বলল, ভাইয়েরা, আমাদের কাছে আর কোনো উপায় নেই, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া। চলো, আমরা প্রত্যেকে নিজের জীবনের এমন একটি ভালো কাজ স্মরণ করি, যেটা আমরা একমাত্র আল্লাহকে খুশি করার জন্য করেছিলাম, কোনো মানুষকে দেখানোর জন্য নয়। তারপর সেই কাজের অসিলায় আল্লাহর কাছে দোয়া করি। হয়তো তিনি আমাদের মুক্তি দেবেন। তিনজনই রাজি হলো। অন্ধকার সেই গুহায় তাদের কথা শোনার মতো আর কেউ ছিল না, কেবল আল্লাহ ছাড়া। সেখানে তারা একে একে নিজেদের গোপন আমলের কথা বলতে শুরু করল।

প্রথম মুসাফির: মা-বাবার সেবা করা

প্রথম ব্যক্তি দুই হাত তুলে বলল, হে আল্লাহ! আমার বৃদ্ধ মা-বাবা ছিলেন। প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমি তাদের জন্য দুধ নিয়ে যেতাম। আমার নিয়ম ছিল, মা-বাবার আগে আমি ঘরের আর কাউকে, এমনকি আমার সন্তানদেরও সেই দুধ দিতাম না। একদিন কাজে আমার অনেক দেরি হয়ে গেল। ঘরে ফিরে দেখি, তারা দুজনেই ঘুমিয়ে পড়েছেন।

আমি দুধের পাত্র হাতে নিয়ে তাদের মাথার পাশে দাঁড়িয়ে রইলাম। ঘুম ভাঙাতে মন চাইল না, তাদের আরাম নষ্ট করতে চাইলাম না। আবার তাদের আগে অন্য কাউকে দেওয়াও আমার নিয়মের বাইরে। তাই আমি পাত্র হাতে নিয়ে সারা রাত ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলাম। আমার ছোট সন্তানরা ক্ষুধায় কাঁদছিল আমার পায়ের কাছে, তবু আমি মা-বাবার ঘুম ভাঙাইনি। এভাবেই ভোর হয়ে গেল। হে আল্লাহ! আমি যদি এই কাজটি সত্যিই কেবল তোমার সন্তুষ্টির জন্য করে থাকি, তবে এই পাথরটি আমাদের কাছ থেকে একটু সরিয়ে দাও।

তার দোয়া শেষ হতেই পাথরটি একটু কেঁপে উঠল এবং সামান্য সরে গেল। আলোর সরু একটি রেখা ভেতরে এসে পড়ল, কিন্তু বেরোনোর মতো জায়গা তখনো হলো না।

দ্বিতীয় মুসাফির: পাপের দরজা থেকে ফিরে আসা

এবার দ্বিতীয় ব্যক্তি দোয়ার জন্য দাঁড়াল। সে বলল, হে আল্লাহ! আমার এক চাচাতো বোন ছিল। পৃথিবীতে তাকেই আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতাম। একসময় আমি তার দিকে পাপের ইচ্ছায় এগিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু সে রাজি হয়নি, আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল। এরপর একসময় তীব্র অভাব এসে তাকে চেপে ধরল। নিরুপায় হয়ে সে সাহায্য চাইতে আমার কাছে এল। আমি শর্ত দিলাম, সাহায্য পেতে হলে তাকে আমার ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করতে হবে। প্রয়োজনের কাছে হেরে গিয়ে সে রাজি হলো। আমি তার হাতে অর্থ তুলে দিলাম।

কিন্তু ঠিক সেই চূড়ান্ত মুহূর্তে, যখন পাপ একেবারে হাতের নাগালে, তখন সে কেঁপে উঠে বলল, আল্লাহকে ভয় করো। অন্যায়ভাবে এই সীমা লঙ্ঘন করো না। তার মুখে আল্লাহর নাম শুনে আমার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। আমি সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ালাম এবং সরে গেলাম। যাকে আমি সবচেয়ে বেশি চেয়েছিলাম, তাকে আমি ছেড়ে দিলাম শুধু তোমার ভয়ে। আর যে অর্থ দিয়েছিলাম, তা-ও ফেরত নিইনি। হে আল্লাহ! আমি যদি এই কাজটি সত্যিই কেবল তোমার ভয়ে ও সন্তুষ্টির জন্য করে থাকি, তবে এই পাথরটি আমাদের কাছ থেকে আরও একটু সরিয়ে দাও।

পাথরটি আবার নড়ে উঠল এবং আরও খানিকটা সরে গেল। ভেতরে আরও আলো এল, তবু পুরোপুরি বেরোনোর পথ হলো না।

তৃতীয় মুসাফির: আমানত ফেরত দেওয়া

সবশেষে তৃতীয় ব্যক্তি দোয়া করতে দাঁড়াল। সে বলল, হে আল্লাহ! একবার আমি কিছু শ্রমিককে দিয়ে কাজ করিয়েছিলাম। কাজ শেষে আমি সবাইকে তাদের মজুরি বুঝিয়ে দিলাম। কিন্তু তাদের মধ্যে একজন কোনো কারণে তার পাওনা না নিয়েই চলে গেল।

আমি তার সেই সামান্য পাওনা ফেলে রাখিনি। সেটাকে আমি ব্যবসায় খাটাতে শুরু করলাম। বছরের পর বছর সেই অল্প পুঁজি বাড়তে বাড়তে বিশাল সম্পদে রূপ নিল; গরু, ছাগল, উট আর রাখালেও ভরে গেল।

অনেক বছর পর সেই লোকটি একদিন ফিরে এসে তার পুরোনো পাওনা চাইল। আমি আঙুল দিয়ে পুরো পশুপাল দেখিয়ে বললাম, এই সবকিছুই তোমার। এগুলো তোমার সেই মজুরিরই ফসল। সে অবাক হয়ে বলল, আমার সঙ্গে ঠাট্টা করো না। আমি বললাম, না, আমি ঠাট্টা করছি না। সত্যিই এর পুরোটাই তোমার। এরপর সে সবকিছু নিয়ে চলে গেল, একটি পশুও রেখে গেল না। হে আল্লাহ! আমি যদি এই কাজটি সত্যিই কেবল তোমার সন্তুষ্টির জন্য করে থাকি, তবে বাকি যেটুকু পাথর আটকে আছে, তা-ও সরিয়ে দাও।

তার দোয়া শেষ হতেই পাথরটি সম্পূর্ণভাবে সরে গেল। গুহার মুখ খুলে গেল, আর তিনজন মুসাফির মুক্ত বাতাসে হেঁটে বেরিয়ে এল।

এই ঘটনাটি কোনো বানানো গল্প নয়। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি বর্ণনা করেছেন। হাদিসটি বুখারি ও মুসলিম উভয় গ্রন্থেই আছে। একবার তিনজন লোক পথ চলছিল। হঠাৎ বৃষ্টি নামলে তারা একটি পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিল। তখন পাহাড় থেকে একটি পাথর গড়িয়ে এসে গুহার মুখ বন্ধ করে দিল। তারা একে অপরকে বলল, তোমরা এমন নেক আমলের কথা ভাবো, যা তোমরা কেবল আল্লাহর জন্য করেছিলে; তারপর সেই আমলের অসিলায় আল্লাহর কাছে দোয়া করো, হয়তো তিনি পাথরটি সরিয়ে দেবেন। (বুখারি, ২২১৫, ৫৯৭৪; মুসলিম, ২৭৪৩)।

সেই তিনজন মুসাফির বৃষ্টি থেকে বাঁচতে গুহায় ঢুকেছিল। কিন্তু তাদের প্রকৃত মুক্তি এনে দিয়েছিল বৃষ্টি নয়, তাদের বুকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা সেই গোপন আমলগুলো। বছরের পর বছর তারা কাউকে না বলে, কোনো বাহবা না নিয়ে এই কাজগুলো করে গিয়েছিল। আর সেই নীরব আমলই বিপদের দিনে পাহাড়সমান পাথর সরিয়ে দিল।

আমাদের প্রত্যেকের জীবনেও একদিন কোনো না কোনো ‘গুহা’ আসে, কোনো বিপদ, কোনো অসহায় মুহূর্ত, যখন চারপাশের সব দরজা বন্ধ মনে হয়। সেদিন আমাদের কাছে দেখানোর জন্য কী আছে? মানুষকে দেখানো লোকদেখানো আমল সেদিন কাজে আসবে না। কাজে আসবে শুধু সেই আমল, যা আমরা নীরবে, কেবল আল্লাহর জন্য জমিয়ে রেখেছি। 

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক